Ticker

100/recent/ticker-posts

Translate

প্রশ্ন- নৈর্ব্যক্তিকতা কি ?

 প্রশ্ন- নৈর্ব্যক্তিকতা কি ?

ভূমিকা :- শিক্ষক অভীক্ষা প্রস্তুত করে শিক্ষার্থীর সাফল্য পরিমাপ করেন। কিন্তু অভীক্ষার প্রয়োগের সময় শিক্ষকের ব্যক্তিগত ভালোবাসা বা ভালোলাগা বা খারাপ লাগার কারণে শিক্ষার্থীর সাফল্য পরিমাপ ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকেই। তা সঠিক মূল্যায়নে যথেষ্ট বাধার সৃষ্টি করে এবং ফলাফলও সেই কারণে ত্রুটিপূর্ণ হয়। তাই আদর্শ অভীক্ষা নিরূপণে এই ব্যক্তিগত প্রভাবই যথেষ্ট ত্রুটির সৃষ্টি করে থাকে। একেই ব্যক্তিগত প্রভাবক (subjectivity) বলে। অভীক্ষাটিতে যথার্থতা, নির্ভরযোগ্যতা নির্ণয়োর সময় যেমন সতর্কতা নেওয়া হয় তেমনই অভীক্ষার নৈর্ব্যক্তিকতা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে নজর দেওয়া একান্তই জরুরি।

সংজ্ঞা : - যে বৈশিষ্ট্যের জন্য কোনো অভীক্ষা বাক্তি নিরপেক্ষ বা নৈর্ব্যক্তিক হয়ে ওঠে সেই বৈশিষ্ট্যকে নৈর্ব্যক্তিকতা বলা হয়।

 নৈর্ব্যক্তিকতার বৈশিষ্ট্য (Characteristics of objectives) নৈর্ব্যক্তিকতার বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

 i) প্রতিটি উপাদান নৈর্ব্যক্তিক হলেই অভীক্ষাটি নৈর্ব্যক্তিক হবে।

(ii) প্রতিটি উপাদান বা প্রশ্ন প্রস্তুত করার সময় সঠিক উদ্দেশ্য নির্বাচন করতে হবে।

(iii) নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষার উপাদানগুলিকে বিভিন্ন মানসিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা উচিত। যেমন— স্মৃতি, প্রকাশ করার ক্ষমতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, যুক্তি প্রদান ক্ষমতা ইত্যাদি।

(iv) প্রতিটি উপাদানের জন্য নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষায় স্পষ্ট নির্দেশনা রাখতে হবে।

(v), উদ্দেশ্যভিত্তিক উপাদান বা প্রশ্ন নির্বাচন করতে হবে।

Vi ) প্রতিটি উপাদানের মান নির্দিষ্ট হবে এবং পূর্ণমান বা শূন্য দ্বারা নির্ধারিত হবে। যদি উত্তর সঠিক বা ভুল হয় কোনো আংশিক মান প্রদান করা যাবে না।

(vii) নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষা পুনঃপ্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

(viii) উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্দেশিকা স্পষ্ট হতে হবে যাতে সকল পরীক্ষকই সকল উত্তরপত্রের ক্ষেত্রে একই বিচারমান রাখতে পারেন।

(ix) নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার উপাদানগুলিকে যথেষ্ট পরিকল্পনা ও পরিমার্জনের দ্বারা নির্বাচন করতে হবে যাতে স্থান, কাল ও পাত্রের প্রভাব মুক্ত হয়।

(x) নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষার উপাদান নির্বাচনের কোনো সূচক না থাকায় কিছু গঠনগত নিয়ম অনুসরণ করে তা করতে হবে।

নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষা গঠনের নীতি (Principles of construction of objective test) :-

(i) নৈর্বান্তিক অভীক্ষায় উদ্দেশ্যগুলি খুবই সুস্পষ্টভাবে নির্বাচন করতে হবে যাতে কোনো উদ্দেশ্য অন্য উদ্দেশ্যের সঙ্গে মিশে না যায়।

(ii) সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য অনুযায়ী অভীক্ষা উপাদানের প্রতিটির ক্ষেত্রে পৃথক তালিকা বা Question Bank তৈরি করা দরকার।

(iii) বানান ভুল, ভাষার ধরন বা বাক্যগঠন ইত্যাদি বিষয়ধর্মী কোনো প্রকার প্রভাব না রাখার চেষ্টা করতেই হবে।

(iv) একটি উপাদানের বা পদের অনুরূপ একাধিক প্রশ্ন রাখা যাবে না।

(v) সমধর্মী প্রশ্নগুলি একই জায়গায় রাখা উচিত।

(vi) বিষয় বিবৃতি যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

(vii) অনুমান করে উত্তর সন্ধানের চেষ্টার সুযোগ পরিহার করতে হবে।

(viii) অভীক্ষা উপাদানের গঠনের সময় উত্তর সংকেত থাকবে না।

(ix) অভীক্ষা উপাদানের ভাষা পরীক্ষার্থীর বোধগম্য হওয়া উচিত।

নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষার সুবিধা (Advantages of Objective Tests) :

(১) নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষা নির্ভরযোগ্য:- নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষা হল একটি নির্ভরযোগ্য। নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষায় যেসব প্রশ্ন থাকে তার নির্দিষ্ট এবং একটি মাত্র উত্তর থাকে। ফলে নম্বরদান ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত হয়। পরীক্ষকের ব্যক্তিগত খেয়াল, ভালো-লাগা, মন্দ-লাগা, মেজাজ প্রভৃতি নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।।

(২) নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষা যথার্থতা :- বিভিন্নভাবে যথার্থতা নির্ণয়ের পরই এই অভীক্ষা ব্যবহার করা হয়। সুন্দর হস্তাক্ষর, ভাষা জ্ঞান, রচনাশৈলী প্রভৃতি এই অভীক্ষায় বিবেচিত হয় না। অভীক্ষার প্রশ্ন সমগ্র পাঠ্যসূচি ভিত্তি করে প্রস্তুত হয় বলে এই পরীক্ষার যথার্থতা অপেক্ষাকৃত বেশি।

(৩) ব্যক্তিগত পার্থক্য পরিমাণ :- নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষা নিখুঁতভাবে ব্যক্তিগত পার্থক্য পরিমাণে সক্ষম। নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষায় সর্বজনীন মান, বিচ্যুতি ইত্যাদি থাকার ফলে দলের মধ্যে পরীক্ষার্থীর স্থান খুব সহজেই নির্ণয় করা যায়।

(৪) ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত :- নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত।

(৫)নম্বর দেওয়া খুবই সহজ :- এই পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়া খুবই সোজা। যে কেউ নম্বর দিতে পারে এবং এতে সময়ও খুব কম লাগে। কাজেই উত্তরপত্র দেখা এবং নম্বরদানে এর পরিমিততা লক্ষণীয়।

    এই ধরনের অভীক্ষা “Note Book, Suggestion’ প্রভৃতির অভিশাপ অনেকাংশে দূর করতে সক্ষম।

নৈর্বক্তিক অভীক্ষার অসুবিধা (Disadvantages of Objective Tests)

(১)সুসংগঠিতভাবে বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ না থাকা :- নৈর্ব্যাক্তিক অভীক্ষার প্রধান ত্রুটি হল সুসংগঠিতভাবে বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ এখানে নেই। যুক্তি এবং কার্যকারণকে ভিত্তি করে বক্তব্য উপস্থাপনের অবকাশ থাকে না। স্বকীয় চিন্তাধারা, মৌলিক রচনা, স্বাধীনভাবে বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ এই পরীক্ষা পদ্ধতিতে অনুপস্থিত।

 (২)প্রশ্নপত্র রচনা করা কঠিন কাজ :- নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষার প্রশ্নপত্র রচনা কঠিন কাজ। পরিশ্রমসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। প্রশ্নপত্র রচনার জন্য যথেষ্ট অভিজ্ঞতার প্রয়োজন।

(৩) গভীর জ্ঞান বৃদ্ধি না হওয়া:- এখানে উত্তর খুব সংক্ষিপ্ত বলে অসদুপায় অবলম্বনের যথেষ্ট সুযোগ আছে। উত্তর খুব সংক্ষিপ্ত থাকায় শিক্ষার্থীর গভীর জ্ঞান বৃদ্ধি হয় না।

(৪) প্রশ্নোত্তরে অনুমানের প্রভাব :- এখানে প্রশ্নোত্তরে অনুমানের প্রভাব (guessing effect) যথেষ্ট। সঠিক উত্তর জানা না থাকলেও শুধু আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে উত্তর দিলে কোনো কোনো সময় তা ঠিক হয়ে যায়। তাই Prof. Sandiford বলেছেন, “The examiner cannot tell when knowledge stops and guessing begins." অর্থাৎ পরীক্ষক বলতে পারেন না জ্ঞান কোথায় শেষ হয়েছে এবং অনুমান কখন শুরু হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ