9- আধুনিক সময়েও শিক্ষার ভাববাদী লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ কেন।
উত্তর- ভাববাদ শিক্ষার তাত্ত্বিক ও প্রায়োগ উভয় দিকের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ভাববাদী শিক্ষা দার্শনিকরা মনে করেন শিক্ষার প্রধান লক্ষ্যহল আত্ম উপলব্ধি (Self Realization) করা। শিক্ষা শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় মানুষের জন্য নয়। সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে, তবেই সমাজের উন্নতি হবে। ভাববাদী শিক্ষাদর্শন ব্যক্তির বিকাশের সাথে সাথে সমাজের কল্যাণের উপর সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে শিক্ষার লক্ষ্যহবে এই চরম আদর্শকে (Absolute Ideal) লাভকরা। যে আদর্শ হল স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নীতি সম্পন্ন। তাই ভাববাদীদের মতে শিক্ষার লক্ষাগুলি হল ভাববাদ ও শিক্ষার লক্ষ্য। ভাববাদ শিক্ষার তাত্ত্বিক ও প্রায়োগ উভয় দিকের উপর প্রভাব বিস্তার করে। P
ভাববামী শিক্ষা দার্শনিকরা মনে করেন শিক্ষার প্রধান লক্ষ্যহল আত্ম উপলব্ধি (Self Realization) করা। শিক্ষা শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় মানুষের জন্য নয়। সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে, তবেই সমাজের উন্নতি হবে। ভাববাদী শিক্ষাদর্শন ব্যক্তির বিকাশের সাথে সাথে সমাজের কল্যাণের উপর সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে শিক্ষার লক্ষ্যহবে এই চরম আদর্শকে (Absolute ideall লাভ করা। যে আদর্শ হল স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নীতি সম্পন্ন। তাই ভাববাদীদের মতে শিক্ষার লক্ষ্যগুলি হল-
উন্নতি- মানুষ উন্নত কৃষ্টির ষ্টো। কৃষ্টির উন্নতি সাধন শিক্ষার বারাই সম্ভব। গণত আদর্শ গঠন সম্পর্কে কয়েকটি দিকের উল্লেখ করা হলো-
1. আত্মাপলব্ধি-শুদ্ধ জ্ঞান, ভক্তি ও কর্মের দ্বারা এই আত্মউপলব্ধি হয়ে থাকে।
2 ব্যক্তিত্বের উন্নতি সাধন মানুষের জীবন দুর্লভ ও মূল্যবান। এটি ঈশ্বরের সৃষ্টি। তাই ব্যক্তির আত্মবিকাশ সাধনই হল প্রধান কর্তব্য।
3 সার্বজনীন শিক্ষা প্রত্যেকটা মানুষই ঈশ্বরের সন্তান। তাই সমাজের প্রত্যেকটা মানুষের জন্য শিক্ষা চাই। তবেই সমাজের উন্নতি সম্ভব।-
নৈতিক বোধের উন্মেষ নৈতিক বোধ আমাদের ভালো-মন্দ বিচার করতে শেখায়। শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর মধ্যে নৈতিক চেতনা সৃষ্টি করতে হবে। যাতে তারা খারাপ বিষয় ত্যাগ করে ভালোবিষয় গ্রহণ করতে পারে।
৪. সুজনশক্তির বিকাশ-কোন জীবই পরিবেশকে নিষ্ক্রিয় ভাবে গ্রহণ করেনা। মানুষ তার প্রয়োজনে পরিবেশকে নিজের সৃজনীশক্তি দিয়ে পরিবর্তিত করতে পারে। তাই নতুন আবিষ্কার ও সুজনীশক্তির বিকাশ হল শিক্ষার প্রধান লক্ষা।
6. কৃষ্টির
10- শিক্ষার গণতান্ত্রিক আদর্শ সম্পর্কে চীকা লিখুন। Write a note on democratic ideals of education.
উত্তর- প্রাচীন গ্রিসের নগর-রাষ্ট্রগুলি ছিল গণতন্ত্রের ধারণার উৎসস্থল। গণতন্ত্রের গ্রিক প্রতিশব্দের অর্থ ছিল এমন এক শাসনব্যবস্থা, যেখানে জনগণ শাসনকার্য চালাত। ভারতে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ১৫০০ অব্দে মানুষের সৌভ্রাতৃত্ব বোধই ছিল আর্য গণতন্ত্রের ভিত্তি।
ব্যুৎপত্তিগত ভাবে গণতন্ত্র Democracy শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে ডিমোস এবং 'ক্রেটিয়া। প্রথমটির অর্থ জনগণ এবং দ্বিতীয় শব্দটির অর্থ ক্ষমতা। অতএব গণতন্ত্র হলো জনগণের ক্ষমতা। কিন্তু আধুনিক যুগে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সামাজিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে বোঝায় না, বরং একটি নির্দিষ্ট জীবনধারাকে বোঝায়। প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদ্য এবং সমাজের জন্য সদস্যদের সঙ্গে তার স্বেচ্ছায় জীবন ভাগ করে নেওয়ার প্রতি বিশ্বাস রেখেই গণতন্ত্রের ধারণা গড়ে উঠেছে।
এন্যায়:-শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায় বলতে বোঝায় প্রতিটি ব্যক্তি শিক্ষার মাধ্যমে উন্নয়ন, বিকাশ ও প্রগতির সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। এর ফলে সে আমাদের সংবিধানে গৃহীত ধারণাসমূহের মূল নীতিগুলিকে অনুধাবন করতে পারবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ন্যায় দানের জন্য দেশের যে কোনও নাগরিকের সন্তানদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বার উন্মুক্ত রাখতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অবস্থান, সমাজ, জাতি, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনও রকম বৈষম্য করা চলবে না।
শিক্ষাক্ষেত্রে মুক্তি বা স্বাধীনতা প্রাচীন শিক্ষাবিদ পেভালৎসি শিক্ষার লক্ষাহিসেবে নির্ভরতা থেকে মুক্তি এবং আত্মনির্ভরতা অর্জনের কথাই বুঝিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন মানুষকে মুক্ত করা প্রয়োজন এবং শিক্ষায় উদ্দীপনা জোগানোর মাধ্যমে তার মধ্যে স্বনির্ভরতার বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট পরিমাণে শিক্ষাগত স্বাধীনতা দিতে হবে। বাইরের যে সমস্ত প্রভাব তাদের সভ্যদর্শন বা সত্যবাদিতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে সেগুলি থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে হবে। শিক্ষা কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের তাদের স্বাধীনতাকে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্য: শিশুর অন্তনিহিত ক্ষমতা বা সামর্থ্যের সার্বিক বিকাশ ঘটানোর জন্য তাকে যথেষ্ট পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া আবশ্যিক। এই উদ্দেশপূরণের জন্য শিক্ষাগত সুযোগ-সুবিধার সমতা অতান্ত প্রয়োজন। ব্যক্তিগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাগত বিকাশের জন্য পরিবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ সামাজিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে প্রত্যেকের শিক্ষার গুণগত মানের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ১৯৬৬ সালের শিক্ষা কমিশন যথাযথ ভাবেই উল্লেখ করেছে। শিক্ষার অন্যতম সামাজিক লক্ষ্যহলো অনগ্রসর বা পশ্চাদপদ শ্রেণি বা ব্যক্তিদের অবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো।
ট্রেশিক্ষাক্ষেত্রে সৌভ্রাতৃত্ব বোধ বা মৈত্রী কোনও দেশের প্রতিটি ব্যক্তি একই জাতীয়তার অংশীদার। এই অর্থে তারা সকলেই পরস্পরের ভাই বা বোন। তাই তাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা লিঙ্গের ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। সৌভ্রাতৃত্ব বোধ জনগণের মধ্যে সংহতি বা সমন্বয় গড়ে তোলে।
এ সর্বজনীন সৌভ্রাতৃত্ব গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে এর মৌলিক তাৎপর্য বর্তমান। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং এমনকি অ-শিক্ষক কর্মীবৃন্দের মধ্যে ভালোবাসা, সহানুভূতি, বোঝাপড়া এবং স্বজন বোধের বন্ধন থাকা প্রয়েজন। শিক্ষার মাধ্যমে দেশের ভাবী নাগরিকদের মধ্যে আমরা বোধ এবং জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you