Ticker

100/recent/ticker-posts

Translate

সহ পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী কি? সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর গুরুত্ব ও প্রকারভেদ আলোচনা কর!

 সহ পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী কি? সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর গুরুত্ব ও প্রকারভেদ আলোচনা কর!

ভূমিকা:- পাঠ্যক্রম হলে শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী হলো শিক্ষার শিক্ষার্থীর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই পাঠ্যক্রম বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বাইরে হয়ে থাকে। এবং এই পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গিক বিকাশ সম্ভব হয়।

সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী:- শিক্ষার্থীর যথাযথ সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য শ্রেণিকক্ষের বাইরে ও শ্রেণীকক্ষের ভিতর প্রথাগত বিদ্যালয়ে ছাড়া শিক্ষার্থীরা যেসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে, সেসব কর্মসূচি কে বলা হয় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী।

পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর গুরুত্ব:- সহ -পাঠ্যক্রম কার্যাবলীর গুরুত্ব গুলি হল

১. দৈহিক বিকাশ :- সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দৈহিক বিকাশ ঘটে। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, ব্রতচারী, এন. সি. সি. প্রভৃতি সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দৈহিক বিকাশ ঘটে। বলিষ্ঠ দেহ, বলিষ্ঠ মনের আধার হয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মে অনুপ্রেরণা যোগায়, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসম্পাদন করে। সুতরাৎ দৈহিক বিকাশের ক্ষেত্রে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির গুরুত্ব অসীম।

২. মানসিক বিকাশ :-  গল্প ও কবিতা প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, অভিনয়, বিতর্ক, ম্যাগাজিন প্রকাশনা প্রভৃতি বিষয়গুলি সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি হিসেবে শিক্ষালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এই সকল বিষয়গুলিতে অংশগ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটে। মানসিক তৃপ্তি তাদের জ্ঞানের স্পৃহাকে বৃদ্ধি করে। তাই মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। 

৩. সামাজিক বিকাশ  :- গল্পঃ ও শিক্ষালয়ে সমাজসেবামূলক কার্যাবলি যেমন- সাক্ষরতা কর্মসূচি, দূষণ মুক্ত পরিবেশ গঠনের কার্যাবলি, বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যরক্ষা কর্মসূচি, বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায়ের কর্মসূচি প্রভৃতির ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এই সমস্ত কার্যে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক গুণের বিকাশ ঘটে। এই গুলির মাধ্যমে তারা একদিকে সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয় অপরদিকে সহযোগিতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি গুণের অধিকারী হয়। সুতরাং, সামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির গুরুত্ব অনেক।

৪. প্রাক্ষোভিক বিকাল : - মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে যথার্থ প্রাক্ষোভিক বিকাশের প্রয়োজন। শিক্ষালয়ে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির মধ্যে কয়েকটি যেমন- অভিনয়, সাহিত্যচর্চা, সংগীত, নৃত্যানুষ্ঠান প্রভৃতি প্রাক্ষোধিক বিকাশের সহায়ক। এগুলি অনুশীলনের মাধ্যমে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থাকে অন্যদিকে যথার্থ প্রাক্ষোভিক বিকাশে মানসিক সাম্য বজায় থাকে। সুতরাং, প্রাক্ষোভিক বিকাশের ক্ষেত্রে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির অবদান অসীম।

 ৫. শৃঙ্খলার বিকাশ :- সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলিতে অংশগ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়ে ওঠে। শৃঙ্খলা আর নিয়মনিষ্ঠার বাঁধনে গড়ে ওঠে বলিষ্ঠ সমাজ, শক্তিশালী দেশ। সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলিতে শিক্ষার্থীদের কতকগুলি নিয়ম পালন করতে হয়, ফলে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধের জাগরণ। ঘটে। এই জাগরণ শিক্ষার্থীদের উন্নত মানবিক গুণের অধিকারী করে তোলে।

৬. আত্মবিশ্বাসের জাগরণ :- শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে বিশেষ মানসিক ক্ষমতা থাকে। ওই মানসিক ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে সহ-পাঠ্যক্রমের বিষয় নির্বাচন করে শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিলে তার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ পারদর্শিতা পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ সাফল্যের জন্য শিক্ষার্থীর আত্মপ্রত্যয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সুতরাং আত্মবিশ্বাস জাগরণের ক্ষেত্রে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

৭. বৃত্তিমূলক প্রস্তুতি :- কিছু কিছু বৃত্তিমূলক কার্যাবলি সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির অন্তর্ভুঙ্গ থাকে, যেগুলির অনুশীলন ভারী জীবনে জীবিকা অর্জনে শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে সহায়তা করে। সুতরাং, শিক্ষার্থীর যার যে দিকে প্রবণতা, সেই প্রবণতা অনুযায়ী বৃত্তি নির্বাচন করে শিক্ষালয়ে বিদ্যাদানের ব্যবস্থা করলে শিক্ষা ফলপ্রসূ হয়।

৮. একঘেয়েমি থেকে মুক্তি:- শিক্ষালনের গতানুগতিকতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমি আসে, পাঠ্যক্রম তাদের কাছে বোকাস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। এই একঘেয়েমি থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে। সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি। সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির বৈচিত্র্য শিক্ষার্থীদের বাঁধাধরা ছক থেকে মুক্তি দিয়ে তাদের প্রাণবন্ত করে তোলে, তারা মনোযোগী হয়, ফলে আশানুরূপ সাফল্য পাওয়া যায়। তাই গতানুগতিক শিক্ষাধারায় একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দিতে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির দান অসীম।

৯.শিক্ষক-শিক্ষার্থীবন্ধন:-   শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধন যত মধুর হয়, শিক্ষা প্রক্রিয়া তত ফলপ্রসু হয়। সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির মাধ্যমে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী পরস্পর পরস্পরের আরও ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পায়। এই ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে, যেখানে শিক্ষক শুধু দাতা এবং শিক্ষার্থী শুধু গ্রহীতা নয়, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, ‘Friend, Philosoper and Guide। সুতরাং, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হলে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

১০. অবসরযাপনের প্রস্তুতি :-  সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির অনুশীলনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবসরযাপনের পথ তৈরি হয়। অবসরকাল যদি যথাযথভাবে ব্যবহারের সুযোগ কারও না থাকে,তাহলে জীবনে তার হতাশা আসে, নিজের কাছে নিজেকে বোঝা মনে হয়, অপরের কাছেও হয়ে ওঠে অবাঞ্ছিত। তাই অবসরজীবন যাপনের জন্য সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির গুরুত্ব অসীম।

সহ - পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর প্রকারভেদ:- 

১.শারীরিক কার্যাবলি:-  বৈজ্ঞানিক বিধিনিষেধ মেনে যে সমস্ত কার্যাবলিতে দেহ সঞ্চালন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেই সমস্ত কার্যাবলি হল শারীরিক কার্যাবলি। শারীরিক কার্যাবলির অন্তর্গত নানা প্রকারের খেলাধুলা হল- -ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, ব্যায়াম প্রভৃতি। এই সমস্ত কার্যাবলির। মাধ্যমে একদিকে যেমন দৈহিক বৃদ্ধি, বিকাশ ঘটে, অপরদিকে মানসিক বিকাশও ঘটে। সুস্থ দেহ, সুস্থ মনের অধিকারী হয়ে শিক্ষার্থীকে বৌদ্ধিক কার্যসম্পাদনে সহায়তা করে। 

২.শিক্ষামূলক কার্যাবলি :- শিক্ষামূলক কার্যাবলি শিক্ষামূলক বিবিধ বিষয়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পিরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনে সহায়তা করে। অনেক সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি আছে যেগুলিতে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে বৌদ্ধিক বিকাশের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য পেয়ে থাকে। যেমন—সাহিত্য সভা, বিতর্ক সভা, রচনা প্রতিযোগিতা, ম্যাগাজিন প্রকাশনা প্রভৃতি) সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তাশক্তির ও যুক্তিশক্তির বিকাশ ঘটে।। 

৩. আত্মপ্রকাশমূলক কার্যাবলি : - মানুষ সকলের সামনে নিজেকে তুলে ধরতে অর্থাৎ, আত্মপ্রকাশ করতে চায়। সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির সঙ্গে এমন কিছু বিষয় সংযুক্ত থাকে যেগুলি আত্মপ্রকাশের [ সহায়ক। আত্মপ্রকাশের চাহিদার পরিতৃপ্তির মাধ্যমে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ ঘটে। শিক্ষালয়গুলিতে আত্মপ্রকাশমূলক কার্যাবলি (Self expressional activities) যেমন—বৃক্ষরোপণ উৎসব, বিদ্যালয় উদ্যান, ব্রতচারী, সংগ্রহশালা প্রস্তুতি, স্কাউট প্রভৃতির ব্যবস্থা করা হয়। এই সমস্ত কার্যাবলির মাধ্যমে বৌদ্ধিক বিকাশও ঘটে।

৪. প্রশাসনিক কার্যাবলি : -বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী ভাবী দিনের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে তো মানুষকে প্রশাসনমূলক দায়িত্ব, সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই শিক্ষার্থীদের কিছু প্রশাসনিক কার্যাবলির কর্মধারার অভিজ্ঞাতা দান করে তাদের ভাবী জীবনের পথ তৈরি করে দেওয়া কর্তব্য। 

৫. সৃজনাত্মক কার্যাবলি :-  শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষ মানসিক ক্ষমতা (Special mental ability) থাকে। সেই বিশেষ মানসিক ক্ষমতার সম্মান নিয়ে তাদের সুপ্ত প্রতিভার স্ফুরণ ঘটানো বিদ্যালয়গুলির কর্তব্য। তাই বিদ্যালয়ে এমন কিছু কর্মসুচি গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় যেগুলির অনুশীলনে শিক্ষার্থীদের সৃজনাত্মক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। বিদ্যালয়ে অনুশীলনযোগ্য সৃজনাত্মক কার্যাবলি যেমন— - অভিনয়, নৃত্য, সংগীত, গল্প ও কবিতা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রভৃতি। 

৬.সামাজিক কার্যাবলি :- মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের মধ্যেই তার জন্ম, সমাজের মধ্যেই তার বৃদ্ধি ও বিকাশ। শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হল বৌদ্ধিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো। সামাজিক কার্যাবলির মাধ্যমে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা লাভে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা। বিদ্যালয়ে সমাজসেবামূলক কার্যাবলি যেমন স্বাক্ষরতা কর্মসূচি, পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি, বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষার কর্মসূচি। 

৭.সাংস্কৃতিক কার্যাবলি : - বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে যেমন— বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অতীত ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মনীষীদের জন্মমৃত্যু উদযাপন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান প্রভৃতি। 

৮. অবসরজীবনযাপন মূলক কার্যাবলি :-  অবসরজীবনে যাতে একঘেয়েমির শিকার হতে না হয়, এ জীবন যাতে পীড়াদায়ক না হয়, যথোপযুক্তভাবে জীবনযাপন করা যায় সেদিকে লক্ষ রাখা বাঞ্ছনীয়। অবসর কালের নির্ঘণ্ট বিজ্ঞানসম্মত হওয়া উচিত। সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির মাধ্যমে অবসরজীবনযাপনের পন্থা খুঁজে পাওয়া যায়। 

৯. প্রাক্ষোভিক বিকাশমূলক কার্যাবলি :- প্রক্ষোভিক সংগতিবিধানে মানুষের চলার পথ সহজ হয়। সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলিতে যেমন—সাহিত্য, নৃত্য, সংগীত, অভিনয় প্রভৃতি কতকগুলি বিষয় আছে যেগুলি অনুশীলন করলে প্রাক্ষোভিক দিকের বিকাশ ঘটে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরিবেশে, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ