ধ্বনি ও বর্ণমালা
আজকে আমরা আলোচনা করব ধ্বনি ও বর্ণ , ধনী ও বর্ণ কাকে বলে । ধ্বনি কত প্রকার ও কি কি সেটা নিয়ে আজকে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো তোমাদের সামনে ।
ধনী ও বর্ণ নিয়ে আলোচনার করার আগে আমরা কিছু উদহারন নিয়ে নিবো।
উদাহরণ:- ১) শন শন করে বাতাস বইছে।
২) কুল কুল করে নদী বইছে।
৩) শো শো শব্দে বানের জল ঢুকছে।
ওপরের উদাহরণগুলি দেখে তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ যে সবকিছুর মধ্যে ধনী সৃষ্টি হয়েছে প্রাকৃতিক কারণে। কিন্তু মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে আলাদা হয়, তারা বিভিন্ন রকম ধনী সৃষ্টি করতে পারে এই বিভিন্ন ধ্বনির সৃষ্টির মূলে রয়েছে তাদের বিশেষ ধরনের বাগযন্ত্র ।
এবার নিশ্চয়ই তোমাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে স্যার মানুষের বাগযন্ত্র কেমন সেটা দেখতে কেমন ?
বাকযন্ত্র :- জিহবা, তালু ,দাঁত, মূর্ধা, অষ্ঠ এবং কন্ঠ -- এই ক- টি নিয়ে মানুষের বাদযন্ত্র।' বাক' শব্দটি হল কথা বা অনেকগুলি ধনির সমষ্টি। মানুষ বাকযন্ত্রের সাহায্যে নানা ধরনের ধনী ও আওয়াজ সৃষ্টি করতে পারে । অর্থাৎ - ফুসফুস থেকে বাতাস কণ্ঠনালীর ভেতর দিয়ে এসে মুখ গহবর থেকে বের হয়ে ধ্বনির সৃষ্টি হয় । সুতরাং ধ্বনীর প্রধান উপকরণ হলো বায়ু এবং বাকযন্ত্র বা ষড়যন্ত্র । তোমাদের বোঝার সুবিদার্থে নীচে একটি ছবি দেওয়া হয়েছে!
ধ্বনি :
মানুষের বাগযন্ত্রের সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করতে উচ্চারিত অর্থবহ শব্দ ও আওয়াজ কে ধ্বনী বলে।
যেমন : ওই দেখ আকাশে মেঘ করেছে। এই উদহারন এর মাধ্যেমে আমরা আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করছি।
কিন্তু একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ বা শব্দ কে । অথবা মোটর সাইকেল এর আওয়াজ কেও আমরা ধ্বনী বলতে পারবো না। কারণ একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনে মা বুঝে যাবে যে বাচ্চা টা দূধ খেতে চাইছে। কিন্তু সঙ্গায় বলেছে মানুষের বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবহ আওয়াজ কে ধ্বনী বলে। সুতরাং কোন গাড়ির আওয়াজ কিংবা বাচ্চার গোঙানির আওয়াজ কে ধ্বনী বলতে পারবো না কারণ এতে কোন মনের ভাব বা অর্থ বোঝাচ্ছে না।তাই ধ্বনি নয়।
ধ্বনির প্রকার :-ধনী দুই প্রকার যথা ১)স্বরধ্বনি ও ২)ব্যঞ্জনধ্বনি।
স্বরধ্বনি :- অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা --- এই সাতটি স্বরধ্বনি আমরা উচ্চারণ করি এই স্বরধ্বনিগুলি অন্য কোন ধোনের সাহায্য ছাড়া উচ্চারণ করা যায়। কারণ এদের করতে কোন বাধা পায় না।
➨➨ যে সকল ধনী অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজেই পূর্ণ ও স্পষ্ট রূপে উচ্চারিত হতে পারে তাদের স্বরধ্বনি বলে।
**স্বরবর্ণ বা ধ্বনিকে দুই দিক থেকে শ্রেণীবিভক্ত করা যায় উচ্চারণ স্থান অনুসারে ও উচ্চারণ প্রকৃতি রীতি অনুসারে**
উচ্চারণস্থান রীতি অনুসারে:-
(১) কণ্ঠ-স্বর :-অ , আ—এই দুটি স্বরধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠ, তাই এদের কণ্ঠ-স্বর বলা হয়।
(২) তালব্য-স্বর :-ই, ঈ—এই দুটি স্বরধ্বনির উচ্চারণস্থান তালু। তাই এদের তালব্য-স্বর বলা হয়।
(৩) ওষ্ঠ-স্বর : -উ, ঊ—এই স্বরধ্বনি দুটির উচ্চারণস্থান ওষ্ঠ, তাই এদের ওষ্ঠ-স্বর বলা হয়।
(৪) কণ্ঠ-তালব্য-স্বর :- এ, ঐ, এ্যা-এই তিনটি স্বরধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠ ও তালু, তাই এদের কণ্ঠ- তালব্য-স্বর বলা হয়।
(৫) কণ্ঠৌষ্ঠ্য-স্বর-:- ও, ঔ—এই দুটি স্বরধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠ ও ওষ্ঠ, তাই এদের কণ্ঠৌষ্ঠ্য-স্বর বলা হয়।
উচ্চারণ রীতি বা প্রকৃতি অনুসারে:-
(১)হ্রস্বস্বর:- যে সকল স্বরধ্বনি বা বর্ণ উচ্চারণ করতে কম সময় লাগে অর্থাৎ শ্বাসবায়ু কম ব্যবহৃত হয় তাদের বলে হ্রস্বস্বর। অ, ই, উ—এই তিনটি স্বরধ্বনি হ্রস্বস্বর।
(২) দীর্ঘস্বর : যে সকল স্বরধ্বনি বা বর্ণ উচ্চারণ করার সময় অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে অর্থাৎ শ্বাসবায়ু বেশি ব্যবহার করা হয় তাদের বলা হয় দীর্ঘস্বর। বাংলায় আ, ঈ, উ, অ্যা, ঐ, ও, ঔ—এই সাতটি স্বরধ্বনিকে বলা হয় । সংস্কৃত রীতি অনুসারে দীর্ঘস্বরকে পু-মাত্রা ধরা হয়।
(৩) প্লুতস্বর : 'প্লুত' শব্দের অর্থ টানা | অনেক সময় স্বরধ্বনিকে টেনে টেনে উচ্চারণ করা হয়। বিশেষ করে রোদনে, গানে, আহ্বানে স্বরধ্বনিকে টেনে উচ্চারণ করার রীতিকে প্রতস্বর বলে। সেই জন্য মুতস্বর সব সময় - অধিক হয়।
যথা : কী হে-এ-এ-এ ('এ' ধ্বনিকে টেনে উচ্চারণ করা), কীগো-ও-ও ('ও' ধ্বনিকে টেনে উচ্চারণ করা)।
(৪) যৌগিক স্বর :- দুটি ভিন্ন স্বরধ্বনির সমবায়ে যে স্বরধ্বনি গড়ে ওঠে অর্থাৎ উচ্চারিত হয় তাকে বলা হয় যৌগিক স্বর বা সন্ধাক্ষর। ঐ (ও+ই), ঔ
(৫) অনুনাসিক স্বর :-স্বরধ্বনিকে উচ্চারণের সময় নাকের মধ্য দিয়ে বাতাস নির্গত করে যখন স্বরের নাসিক্য রূপ প্রকাশ করা হয় তখন তাকে অনুনাসিক স্বর বলে। বাংলা স্বরধ্বনির অনুনাসিক স্বর বোঝাতে চন্দ্রবিন্দু () ব্যবহার করা হয়।
যথাঃ চান (চ্ + আ + দ), আঁধার আঁধার), ইঁদুর (ইনু), দাঁত (দ+ আ + ত্) ইত্যাদি।
ব্যঞ্জনধ্বনি :- ক খ্ গ্ ঘ্ ঙ চ ছ জ ঝ ট ঠ ড ঢ ত থ দ ধ ন প্ ফ ব্ ভ্ ম র ল শ স হ ড় ঢ -- এই ত্রিশটি হল ব্যঞ্জনধ্বনি আমরা উচ্চারণ করি। এগুলি উচ্চারণের শ্বাসবায়ু মুখগহবরের ভেতরে বাধা পায়। তাই এই সময় আমরা স্বরধ্বনির সাহায্য নিই।
➨➨ যে সমস্ত ধনী স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া স্পষ্ট উচ্চারণ করা যায় না সেগুলি হল ব্যঞ্জনধ্বনি।
ধ্বনী চোখে দেখা যায় না, কানে শোনা যায় মাত্র। মনে রাখবে ধ্বনি ৩৭ টি।
**ব্যঞ্জনবর্ণ বা ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুদিক থেকে শ্রেণীবিভাগ করা যায় উচ্চারণ স্থান অনুসারে এবং উচ্চারণ রীতি বা প্রভৃতি অনুসারে**
উচ্চারণ স্থান অনুসারে:-
(১) কণ্ঠ-ব্যঞ্জন ধ্বনী:- ক, খ, গ, ঘ, ঙ্, হ – এই ব্যঞ্জনধ্বনি বা বর্ণগুলির উচ্চারণস্থান মূলত কণ্ঠ ও জিহ্বামূল। এগুলি উচ্চারণ করার সময় জিহ্বার মূল বা গোড়ার দিকটা কন্ঠের দিকের তালুর কোমল অংশকে স্পর্শ করে। তাই এদেরকে বলা হয় কণ্ঠ-ব্যঞ্জন বা জিহ্বামূলীয় ব্যঞ্জন।
(২) তালব্য-ব্যঞ্জন ধ্বনী:-চ্, ছ, জ, ৠ, ঞ, য, য়, শ—এই ব্যঞ্জনধ্বনি বা বর্ণগুলির উচ্চারণস্থান মূলত তালু ও জিহ্বার মধ্যভাগ। অর্থাৎ, এগুলি উচ্চারণ করার সময় জিহ্বার মাঝখানটি তালুর সম্মুখ বা কঠিন অংশকে স্পর্শ করে। তাই এদের তালব্য-ব্যঞ্জন বলা হয়।
(৩) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন ধ্বনী: ট, ঠ, ড, ঢ, ন, র, ষ -- এই ব্যঞ্জনধ্বনি বা বর্ণগুলির উচ্চারণস্থান মূলত মূর্ধা ও জিহ্বার অগ্রভাগ। অর্থাৎ, এগুলি উচ্চারণ করার সময় জিহ্বার অগ্রভাগ উলটিয়ে তালুর পশ্চাতে মূর্ধাকে স্পর্শ করে। তাই এদের বলা হয় মূর্ধন্য-ব্যল্গুন। অনেকে 'র'-কে দন্ত্যমূলীয় বলেছেন কিন্তু বাংলার উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ মূর্ধাকে স্পর্শ করেই স্পষ্ট উচ্চারিত হয়। আর স্বরবর্ণের অন্তর্ভুক্ত 'খ'-এর উচ্চারণস্থান কিন্তু মূর্ধ।
(৪) দন্ত ব্যঞ্জন ধ্বনী:- ত, থ ,দ ,ধ ,ন ,ল ,স – এই বানধ্বনি বা বর্ণগুলির উচ্চারণস্থান মূলত দস্ত ও জিহ্বার অগ্রভাগ। অর্থাৎ, এগুলি উচ্চারণ করার সময় জিহ্বার অগ্রভাগ প্রসারিত করে উপরের পাটির দাঁতের পিছন দিকে নীচের অংশকে স্পর্শ করে। তাই এদের দন্ত-ব্যঞ্জন ধ্বনী বলা হয়।
(৫) ওষ্ঠ- ব্যঞ্জন ধ্বনী:- প, ফ, ব, ভ, ম এই ব্যঞ্জনধ্বনি বা বর্ণগুলির উচ্চারণস্থান মূলত ওষ্ঠ ও অধর। অর্থাৎ, এগুলি উচ্চারণ করার সময় উপরের ঠোঁট (ওষ্ঠ) নীচের ঠোঁটকে (অধর) স্পর্শ করে। তাই এদের বলা হয় ওষ্ঠ ব্যঞ্জন।
উল্লেখ্য যে, একমাত্র এই ব্যানগুলিকেই বিশুদ্ধ ওষ্ঠ-ব্যান বলা হয়।"
উচ্চারণ রীতি বা প্রকৃতি অনুসারে:-
(১) স্পর্শ ব্যঞ্জন ধ্বনী:- 'ক্' থেকে 'মূ' পর্যন্ত এই পঁচিশটি ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণ করার সময় জিভ মুখের ভিতর কর, তালু, মুর্ধা, দস্তুকে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় কিংবা উপর ও নীচের ঠোটের পরস্পরের স্পর্শে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয়য় স্পর্শ / স্পষ্ট-ব্যঞ্জন ধ্বনী।
(২) নাসিক্যব্যঞ্জন ধ্বনী:- বর্গের পথম কর্ণগুলি ($. এ. মূর্ধন্য. ন. ম) উচ্চারণ করার সময় শ্বাসবায়ু কেবল মুখের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে না নাকের মধ্য দিয়েও নির্গত হয়। ফলে নাসিকা গহ্বরের দেয়ালে ঘর্ষিত হয়ে একটি অনুনাসিক অনুরণন সৃষ্টি করে। তাই এদের নাসিক্যব্যঞ্জন ধ্বনী বলা হয়।
(৩) উম্মব্যঞ্জন ধ্বনী :- ' উষ্ম' শব্দের অর্থ 'শ্বাস'। শ্বাস প্রবাহের উপর ভিত্তি করে যে ধ্বনিগুলির উচ্চারণ প্রলম্বিত করতে পারা যায় তাদের বলা হয় উচ্চ ব্যকুন। আসলে যতক্ষণ শ্বাস থাকে ততক্ষণ এগুলির উচ্চারণ প্রলম্বিত করতে পারা যায়।
যথাঃ শ ব স. হ—এই চারটি বাল্বনকে উম্ম-ব্যঞ্জন বলে।
এদের প্রলম্বিত উচ্চারণ : ই--শ, হু-স্-স্, আ-হ-হ্।
(8) ঘৃষ্ট -ব্যঞ্জন ধ্বনী:- চ, ছ, জ, ঝ- এই চারটি ব্যান উচ্চারণ করার সময় প্রথমে স্পর্শ করনি এবং পরে উষ্মধ্বনি উভয়ের মিশ্রণে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় ঘৃষ্ট -ব্যঞ্জন । আসলে স্পর্শধ্বনি ও উষ্মধ্বনির মধ্যে ঘর্ষণে ঘৃষ্ট -ব্যঞ্জন সষ্ট হয়।
(c) শিস ধ্বনিজাত -ব্যঞ্জন ধ্বনী:- - শ, ষ, স্-এরা উচ্চারণের সময় শিস্ দেওয়ার মতো উচ্চারিত হয় বলে এদের শিস্ ধ্বনিজাত- ব্যঞ্জন ধ্বনী:বলা হয়।
(৬) কম্পনধ্বনিজাত -ব্যঞ্জন ধ্বনী: 'র'-ব্যঞ্জনটি উচ্চারণ করার সময় জিভকে কাঁপিয়ে উচ্চারণ করা হয়। ফলে এর উচ্চারণে কম্পন-ধ্বনির সৃষ্টি হয়। তাই একে কম্পন ধ্বনিজাত-ব্যঞ্জন বলা হয়।
(৭) পার্শ্বিক-ব্যঞ্জন ধ্বনী:- ল- ব্যঞ্জন টি উচ্চারণ করার সময় জিভের আগা দন্তমূল স্পর্শ করে থাকে এবং জিভের সু-পাশ দিয়ে বায়ু নির্গত হয়। তাই একে পার্শ্বিক -ব্যঞ্জন ধ্বনী: বলে।
(৮)তাড়ন ধ্বনিজাত ব্যঞ্জন :- ড, ঢ - - এই দুটি ব্যঞ্জন উচ্চারণ করার সময় জিভের সম্মুখভাগ তালুদেশকে আঘাত করে অর্থাৎ তাড়িত করে। ফলে জিভটি তাড়নজাত ধ্বনি সৃষ্টি করে। তাই এদের তাড়ন ধ্বনিজাত ব্যঞ্জন বলা হয়।
(৯) অর্ধস্বরদ্যোতক-ব্যঞ্জন : অন্তঃস্থ-'য'-এর সংস্কৃত অনুগামী উচ্চারণ হল 'ইঅ' (y) ও অন্তঃস্থ 'ব'-এর উচ্চারণ "উঅ' (w)। দেখা যাচ্ছে—এদের উচ্চারণ স্বরধ্বনিগত কিন্তু অবস্থান ব্যঞ্জনে। তাই এদের অর্ধস্বরদ্যোতক-ব্যঞ্জন বলা হয়।
(১০) অল্পপ্রাণ-ব্যঞ্জন ধ্বনী: 'প্রাণ' শব্দের অর্থ হল 'শ্বাসবায়ু'। যে সকল ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণে ও হালকাভাবে নির্গত হয় তাদের বলা হয় অল্পপ্রাণ-ব্যঞ্জন। প্রত্যেক বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণগুলি অল্পপ্রাণ।
যথা ক্, গ: চ্, জ্; ট্, ড: ত্, দ: প, ব।
(১১) মহাপ্রাণ-ব্যঞ্জন ধ্বনী:- 'প্রাণ' শব্দের অর্থ হল 'শ্বাসবায়ু। যে সকল ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু বেশি পরিমাণে ও জোরে নির্গত হয় তাদের বলে মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন। প্রত্যেক বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণগুলিকে মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা, খৃ,ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ,ফ, ভ।
প্রকৃতপক্ষে অল্পপ্রাণ ধ্বনির সঙ্গে 'হ্' ধ্বনি যুক্ত করলেই মহাপ্রাণ ধ্বনির সৃষ্টি হয়।
যথাঃ কৃ + হস্ গ্ চ্ + জ + হ> ৠ ইত্যাদি।
(১২) অঘোষ - ব্যঞ্জন ধ্বনী:- 'ঘোষ' শব্দের অর্থ হল 'ধ্বনি-গাম্ভীর্য'। যে সকল ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় কণ্ঠস্বর মৃদু ও গাম্ভীর্যহীন হয় তাদের বলা হয় অঘোষ-ব্যঞ্জন। প্রত্যেক বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণগুলি অঘোষ-ব্যঞ্জন ধ্বনী।
যথা : ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ।
(১৩) ঘোষ-ব্যঞ্জন ধ্বনী : 'ঘোষ' শব্দের অর্থ হল 'ধ্বনি-গাম্ভীর্য। যে সকল ব্যঞ্জনের উচ্চারণে স্বরতন্ত্রীর ধ্বনিতে গাম্ভীর্য প্রকাশ পায় তাদের বলা হয় ঘোষ-ব্যঞ্জন। প্রত্যেক বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বর্ণগুলি ঘোষ-ব্যঞ্জন ধ্বনী।
যথা : গ, ঘ, ঙ, ; জ,ঝ , ড, ঢ, ধ,ন, ব, ভ, ম।
বর্ণ
আমরা জানবো যে বর্ণ কি বর্ণ কাকে বলে:-
ধ্বনির জন্য নির্দিষ্ট চিহ্ন বা লিখিত রূপ আছে; আর এই লিখিত রূপটি আমাদের সমাজের স্বীকৃত এবং প্রচলিত। দূরের লোক কে বা কোন অনুপস্থিত লোককে আমাদের মনের কথা প্রকাশ করতে ধনীর লিখিত চিন্হ বা ব্যবহার করি। সুতরাং বলা যায় যে, ✍️ধনের লিখিত রূপ হল বর্ণ। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর ধারণা বর্ণ ও অক্ষর এক। কিন্তু অক্ষর হল স্বতন্ত্র। শব্দ বাপ বদ হলো অক্ষরে সমষ্টি। যেকোনো শব্দ বা বদ উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ুর মাঝে মাঝে মন্দীভূত হয় অর্থাৎ উচ্চারণ প্রবাহ যেন একটু স্লথ হয়ে এবং ছেদ পড়ে। আসলে এক থেকে আরেক ছেদ পর্যন্ত উচ্চারিত ধ্বনি বা ধনী সমষ্টিকে বলা হয় অক্ষর। যেমন—'জনম' (ন/ম) শব্দটিতে তিনটি ছেন বা কোক কিন্তু জন্ম (জন্ম) শব্দটিতে দুটি ছেদ বা ঝোঁক আছে। 'জন' ধ্বনি নিয়ে একটি ছেদ, আবার 'ম'-কে নিয়ে একটি জেল কেন তিনটি কিন্তু ছেদ দুটি)। বস্তুত, 'জনম' শব্দটিতে তিনটি ছেদ বা ঝোঁক আছে, তবে বর্ণের সংখ্যা তিনটি। মনে রাখতে হবে একটি ধ্বনি বা বর্ণকে নিয়ে একটি অক্ষর হতে পারে, আবার যুগ্মব্যঞ্জনকে নিয়েও একটি অক্ষর হতে পারে। তাই 'জন্ম' শব্দটিতে তিনটি বর্ণ, কিন্তু দুটি ছেদ বা ঝোঁক আছে বলে এখানে ঝোঁকের ভিত্তিতে দুটি অক্ষর। একটি শব্দের যতটুকু ধ্বনি একবারে বা এক ঝোঁকে উচ্চারিত হয় তাকেই অক্ষর বলা হয়। আর অক্ষরের উচ্চারণ মানের একককে বলে মাত্রা।
➨➨ ✍️আমরা আমাদের মনের ভাব লিখিত আকারে প্রকাশ করতে ধ্বনীর যে চিহ্নগুলি ব্যবহার করি সেগুলি হল বর্ণ।
বর্ণ কয় প্রকার ও কি কি ?
বর্ণ দুই প্রকার যথা স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ।
স্বরবর্ণ :- অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ --- এই এগারোটি চিহ্ন বা বর্ণকে স্বরবর্ণ বলা হয়।
👉যে সকল চিহ্নের সাহায্যে স্বরধ্বনিগুলিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়, সেগুলিকে স্বরবর্ণ বলে।
লেখার সময় 'অ' ছাড়া সমস্ত স্বরবর্ণ বাঞ্ছনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে 'কার' অর্থাৎ চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেমন --
* বর্তমানে ' ৯' বর্ণটির কোনো ব্যবহার নেই। এখন আমরা এগারোটি স্বরবর্ণ ব্যবহার করি।
ব্যঞ্জনবর্ণ: - স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া ক, খ, গ, ঘ ইত্যাদি চল্লিশটি বর্ণের লিখিত রূপ দেওয়া যায় না।যেমন—ক্ + অ = ক. ক্ + আ = কা। তাই ক থেকে চন্দ্রবিন্দু চল্লিশটি বর্ণ হল ব্যঞ্জনবর্ণ। *👉 যে চিহ্নগুলির দ্বারা ব্যঞ্জনধ্বনিগুলিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়, সেগুলিকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে।
স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের তালিকা 👇
ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা ৫১ টি।
Click here to Download buttion



0 মন্তব্যসমূহ
Thank you