Education for all সকলের জন্য শিক্ষা? অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা (Inclusive Education)
ভূমিকা :-"এডুকেশন ফর অল" বা সবার জন্য শিক্ষা—এই কথাটির মধ্যেই অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ধারণাটি লুকিয়ে রয়েছে। এই শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার এবং এই অধিকার থেকে কেউ কাউকে বঞ্চিত করতে পারে না। প্রত্যেক শিশু তার আগ্রহ, ক্ষমতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কোনো বাধা ছাড়াই শিক্ষা গ্রহণ করবে, এই আদর্শকে সামনে রেখেই অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।
সহজ কথায়, যে শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের দৈহিক, মানসিক, সামাজিক বা লিঙ্গগত ভেদাভেদকে গুরুত্ব না দিয়ে সবাইকে একই ছাদের তলায় এনে শিক্ষা দেওয়া হয়, তাকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বলে।
উদ্দেশ্য:- অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হলো:
সবার জন্য শিক্ষা: শারীরিক সমস্যা, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একত্রে সবার জন্য শিক্ষার আয়োজন করা।
হীনমন্যতা দূরীকরণ: পিছিয়ে পড়া বা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মনের হীনমন্যতা দূর করে শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসা।
চাহিদা পূরণ: সমস্ত ধরনের শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত চাহিদা পূরণ করা।
সামাজিক বিকাশ: সবাইকে একত্রে শিক্ষার সুযোগ দিয়ে সামাজিক মেলবন্ধন ও বিকাশ ঘটানো।
স্বাবলম্বী করে তোলা: শিক্ষার্থীদের নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সক্ষম করে তোলা।
সামাজিক ন্যায়বিচার: প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
সর্বাঙ্গীন বিকাশ: শিক্ষার্থীদের অন্তর্নিহিত সুপ্ত সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলা এবং সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো।
আত্মবিশ্বাস গঠন: শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মশ্রদ্ধা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা।
প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য :-
১. অংশগ্রহণ: যেকোনো ধরনের বৈশিষ্ট্যের শিক্ষার্থী এখানে অংশগ্রহণ করতে পারে।
২. বিপরীত ধারণা: এটি পৃথকীকরণের নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত; এখানে সবাইকে একত্রে শিক্ষার কথা বলা হয়।
৩. মনোবিজ্ঞান সম্মত: শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রবণতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে এটি একটি মনোবিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি।
৪. নমনীয়তা: সবার শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে এই পদ্ধতিতে নমনীয়তার নীতি অনুসরণ করা হয়।
৫. সমান সুযোগ ও সাম্যতা: সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ ও সামাজিক সাম্যতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
৬. কার্যক্রম: এটি কেবল একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি নিরন্তর কার্যক্রম।
প্রকারভেদ :- অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
আংশিক অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: যখন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে রাখা হয়, তবে প্রয়োজনে বিশেষ শিক্ষকের মাধ্যমে আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়।
সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: যখন কোনো পৃথক ব্যবস্থা না রেখে সব ধরনের শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিকক্ষে একত্রে শিক্ষা দেওয়া হয়।
অসুবিধা
প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব: এই শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক পাওয়া কঠিন।
শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত: শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় এটি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
হীনমন্যতা ও ভীতি: শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী এই ব্যবস্থায় যোগ দিতে দ্বিধা বোধ করে।
উপযুক্ত পরিবেশের অভাব: অনেক বিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার উপযোগী পরিকাঠামো বা পরিবেশ নেই।
সচেতনতার অভাব: অভিভাবক বা সমাজের উদাসীনতার কারণে এই কর্মসূচি অনেক সময় সফল হয় না।
পিতা-মাতার ভূমিকা:-অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাকে সফল করতে অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
অবজ্ঞা না করা: অক্ষম শিক্ষার্থীদের অবজ্ঞার চোখে না দেখে তাদের সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া।
আত্মবিশ্বাস জাগানো:- সন্তানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
সঠিক পরামর্শ: বাস্তব জীবনের সমস্যা মোকাবিলায় সন্তানদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া।
অনুশীলনের সুযোগ: বাড়িতে পড়াশোনা ও অনুশীলনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।
সচেতনতা: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তানদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন থাকা ও তা পূরণ করা।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you