প্রশ্ন: ফ্রয়বেল একটি শিক্ষাগত পরীক্ষা করেছিলেন, যা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছিল- বাক্যটি যথার্থতা বিচার করো। ?
ভূমিকা :-ফ্রয়েবেল শিক্ষাক্ষেত্রে যে নতুন ধারণার কথা বলেন তা কিন্ডারগার্টেন নামে পরিচিত। ত। কিন্ডারগার্টেন কিন্ডারগার্টেন একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ হল শিশু উদ্যান (children's garden) জিনি বিশ্বাস করতেন যে বিদ্যালয় হল একটি উদ্যান, শিক্ষক হলেন মালি, আর শিক্ষার্থীরা হল চারাগাছ। বাগানের মালিং নায়ে শিক্ষক ও চারাগাছের ন্যায় শিক্ষার্থীদের বড় হয়ে ওঠার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করেন।
শিক্ষা হল সুন্দর পবিত্র জীবনের উপলব্ধি। তাই মহান এই দার্শনিক তার শিক্ষাদর্শনের মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীকে সুন্দর এবং পবিত্র করে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। তাঁর শিক্ষাদর্শন আজও প্রাসঙ্গিক ও কার্যকারী। জার্মানির একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে শিশুশিক্ষা নিয়ে গবেষণা করে তিনি এমন একটি শিক্ষাপদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন যার জনপ্রিয়তা আজও বিশ্বজনীন। তাঁর এই শিক্ষাপদ্ধতি বিশ্বব্যাপী সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। শিক্ষায় তাঁর অবদান নানাবিধ। শিক্ষাক্ষেত্রে ফ্রয়েবেলের অবদান নিয়ে আলোচনা করা হল-
(1) শিশুশিক্ষার ওপর গুরুত্ব প্রদান (Giving importance on childeducation):- শিক্ষাক্ষেত্রে ফ্রয়েবেল-এর অবদান আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আসে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাপদ্ধতির কথা। শৈশবকালীন শিক্ষার গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তার কথা তিনিই সর্বপ্রথম গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। সেইজন্যই তাঁর সৃষ্ট কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় ( Kindergarten School) আজ সর্বত্র বিরাজমান। এই বিদ্যালয় পৃথিবীর সব দেশে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি শিক্ষাকে বিজ্ঞানসম্মত করে তুলেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে শিশুর গুরুত্ব সম্পর্কে প্রথম আলোকপাত করে রুশো (Rousseau), কিন্তু রুশোর চিন্তাধারাকে দার্শনিক তত্ত্বের আলোকে ব্যাখ্যা করেন ফ্রয়েবেল।
(ⅱ) সক্রিয়তার প্রতি গুরুত্ব প্রদান (Giving importance an activity):- ফ্রয়েবেল শিক্ষাক্ষেত্রে শিশুদের সক্রিয়তার ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি শিক্ষাব্যবস্থাতেই শিশুসক্রিয়তাকে গুরুত্ব সহকারে বিচার-বিবেচনা করা হয়। পেস্তালজি (Pesstalozzi) যেমন শিক্ষাক্ষেত্রে আত্মসক্রিয়তার কথা বলেছেন ঠিক তেমনই ফ্রয়েবেল (Froebel) ও শিক্ষাক্ষেত্রে শিশু সক্রিয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিচার-বিবেচনা করেছেন এবং তাঁর এই চিন্তাভাবনা পরবর্তী শিক্ষাপদ্ধতিকে আরও উন্নত করে তুলেছে।
(iii) স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্ত শিক্ষা (Natural and sponteneous education):- ফ্রয়েবেল শিশুশিক্ষাকে স্বাভাবিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত করতে চেয়েছেন। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন কৃত্রিমতাকে বর্জন করতে চেয়েছেন। তাই শিক্ষাপদ্ধতিতে খেলা, মাটি, হাতের কাজ, গল্প বলা প্রভৃতির মাধ্যমে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা দানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয় হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় যেখানে শিশু সুন্দরভাবে তার শিক্ষা অর্জন করতে পারেন।
(iv) খেলাভিত্তিক শিক্ষা (Playway method):- ফ্রয়েবেল-এর শিক্ষাক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল খেলাভিত্তিক শিক্ষা। খেলার মাধ্যমে তিনি শিশুর জন্য স্বাভাবিক এবং সহজাত শিক্ষাপদ্ধতি প্রয়োগ করেন। শিশুশিক্ষায় খেলার গুরুত্ব তিনি অনুধাবন করেন এবং খেলার মাধ্যমে কার্যকারীভাবে শিশুদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা তিনি করেন।
(v) মনস্তাত্তিক ভিত্তি (Psychological bases):- ফ্রয়েবেল-এর শিক্ষাতত্ত্ব মনস্তত্ত্ব নির্ভর। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে শিশুর আবেগ এবং প্রবণতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তাই তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে শিশুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আবেগ এবং প্রবণতাকে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন।
(vi) ইন্দ্রিয় পরিমার্জন (Teaching of sense organ):- ফ্রয়েবেল-এর আর-একটি বিশেষ অবদান হল ইন্দ্রিয় পরিমার্জনের ধারণা। তিনি শিক্ষার্থীদের ইন্দ্রিয় পরিমার্জনের জন্য বিভিন্ন প্রকার উপহার এবং বৃত্তির আয়োজন করেছিলেন। তিনি মনে করতেন ইন্দ্রিয় এ পরিমার্জিত হলে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অনেক কার্যকারীভাবে অর্জন করতে সক্ষম হবে।
(vii) সামাজিকতার গুরুত্ব বৃদ্ধি (Increasing importance of socialisation):- ফ্রয়েবেল শিক্ষার্থীদের জন্য নানা প্রকার যৌথ এবং দলগত কর্মের আয়োজন করেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা এবং সহমর্মিতাবোধ গড়ে ওঠে। ফলস্বরূপ তারা ভবিষ্যতের উপযোগী নাগরিক হিসেবে পরিপূর্ণতা পায়।
সুতরাং, শিক্ষাক্ষেত্রে ফ্রয়েবেল-এর অবদান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাকে আধুনিক রূপ দিতে তাঁর শিক্ষাদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you