Ticker

100/recent/ticker-posts

Translate

ভাষা ও ব্যাকরণ

                    ভাষা ও বাংলা ব্যাকরণ


My Website link Click here  My YouTube channel link Click here
By Paritosh Singha 

ভাষা:-

সৃষ্টির কোনো এক মহেন্দ্রক্ষণে পৃথিবীতে জীব ও জীবজগৎ সৃষ্টি হয়েছে। সেই জীবগুলির মধ্যে থেকে মানুষের আবির্ভাব হয়েছে। এই মানুষ একসময় ছিল অরণ্যচারী। এইসব আদিম মানুষেরা কথা বলতে পারত না। আকারে-ইঙ্গিতে, নানা অঙ্গভঙ্গি করে, ইশারায় তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। তারপর অনেক অনেক বছর পর মানুষের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল ধ্বনি বা শব্দ। তারপর সেই শব্দ জুড়ে জুড়ে তৈরি হল ভাষা ।

👉একমাত্র আমরা মানুষই শুধু কথা বলতে পারি। ময়না, টিয়া, কাকাতুয়া শুধু শেখানো বুলি আওড়াতে পারে অথচ আমরা যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ কথা বলতে পারি। এই কথা বলার মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করি। মনের ভাব প্রকাশের উপযোগী কথাই হল ভাষা ।




সংজ্ঞা:-মনের ভাব প্রকাশের জন্য মুখের উচ্চারিত কথা হল ভাষা।

নে রাখা দরকার, মুখের সব ধ্বনিই ভাষা নয়। যেমন – শিশুর কান্না, পাগলের এলোমেলো চিৎকার ভাষা নয়। যে ধ্বনিগুলি ভাবের প্রতীক সেগুলিই ভাষা।

 যেমন --রাহুল সানন্দাকে বলল, আজ বিদ্যালয়ে যাবে ? সানন্দা বলল, অবশ্যই যাব, আজ আমাদের বাংলা পরীক্ষা।

রাহুল ও সানন্দা কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করেছে। এই ভাব প্রকাশের উপায়ই হল ভাষা।

মাতৃভাষা :-

শিশু মায়ের কোলে শুয়ে তার মায়ের ভাষাতেই প্রথম কথা বলতে শেখে, তাই সেটাই তার মাতৃভাষা। মা হল শিশুর প্রথম শিক্ষাদাত্রী।

পৃথিবীতে এক এক জনগোষ্ঠী এক এক ভাষায় কথা বলে। পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, ত্রিপুরা প্রভৃতি জায়গায় যে জনগোষ্ঠী বাস করে, তাদের বাঙালি বলে। তাই আমরা বাঙালি। আমাদের মাতৃভাষা হল বাংলা। অনুরূপভাবে অসমীয়াদের মাতৃভাষা অসমীয়া, ওড়িয়াদের মাতৃভাষা ওড়িয়া, মারাঠিদের মাতৃভাষা মারাঠি, তামিলদের মাতৃভাষা তামিল, ইংরেজদের মাতৃভাষা ইংরেজি, জার্মানদের মাতৃভাষা জার্মানি ইত্যাদি।

সংজ্ঞা:-

নিজের জাতির ভাষা অর্থাৎ মাতৃভূমির ভাষাকেই মাতৃভাষা বলে।

এই বিশাল পৃথিবীতে নানা দেশে নানা জাতি বাস করে। ভিন্ন ভিন্ন জাতি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলে। আমাদের ভারতবর্ষও বহু ভাষাভাষীর দেশ। ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, রীতি-নীতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, চেহারার বৈশিষ্ট্যও তাদের বিচিত্র। তবু সবাই মিলে আমরা এক জাতি। কবি তাই গেয়েছেন –

নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান।”

বাংলা ভাষা

কবি গান গেয়ে বলেছেন –

“মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা ।

বাঙালির মাতৃভাষা হল বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষা। বাংলা ভাষার জননী সংস্কৃত। সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন হয়ে এগিয়ে চলতে চলতে বিভিন্ন রূপের মধ্যে দিয়ে বদলাতে বদলাতে বাংলা ভাষা প্রায় হাজার বছর আগে তার নিজের রূপ পায়। অনেক বড়ো কবি, সাহিত্যিক বাংলায় সাহিত্য রচনা করে তাকে বিকশিত ও সমৃদ্ধ করেছেন। প্রাচীন ও মধ্যযুগে বাংলায় অনেক কাব্য রচিত হয়েছে। আধুনিক যুগে মধুসূদন, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, নজরুল, বিভূতিভূষণ, তারাশংকর প্রমুখ লেখকেরা বাংলা ভাষাকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলা ভাষা তাই আজ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ, সমৃদ্ধশালী ভাষারূপে সম্মানিত।

ব্যাকরণ :-

ভাষা দিয়েই মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করে। ভাষার এই প্রকাশের মধ্যে একটা নিয়ম আছে। প্রকাশভঙ্গি যথাযথ না হলে, শব্দ ঠিকমতো সাজানো না হলে বক্তব্য ঠিকমতো প্রকাশ পায় না। ব্যাকরণই ভাষাকে সঠিক বলতে, লিখতে ও পড়তে শেখায়। আর যে বইয়ে এই নিয়মগুলি লেখা থাকে, তাকে ব্যাকরণ বই  বলে।

সংজ্ঞা:-

যে বই পড়লে ভাষা নির্ভুলভাবে পড়তে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মগুলি শিখতে পারি, তাকে ব্যাকরণ বলে।

প্রায় প্রত্যেক ভাষারই নিজস্ব ব্যাকরণ আছে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আমাদের বাংলা ভাষারও নিজস্ব ব্যাকরণ আছে। তবে ব্যাকরণের অনেক আগে ভাষার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা ভাষার বয়স প্রায় এক হাজার বছর পুরানো, সেখানে ব্যাকরণ মাত্র দুশো বছর আগে লেখা হয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার কী জানো ? প্রথম বাংলা

ব্যাকরণ রোমান হরফে মূদ্রিত হয়েছিল। ১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দে পোর্তুগিজ পাদরি মনো এল্ দ্য আসসুম্পসাম রোমান হরফে সর্বপ্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন। এরপর ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড বাংলা হরফে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন। রাজা রামমোহন রায় ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে বাঙালিদের মধ্যে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।

সংজ্ঞা:-

যে বই পড়লে বাংলা ভাষা নির্ভুলভাবে পড়তে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মগুলি শিখতে পারি, তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।

এক নজরে চোঁখ বুলিয়ে দেখে নিন:-

è মনের ভাব প্রকাশের জন্য মুখের উচ্চারিত কথা হল ভাষা। → নিজের জাতির ভাষা অর্থাৎ মাতৃভূমির ভাষাকেই মাতৃভাষা বলে।

বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা।

è যে বই পড়লে ভাষা নির্ভুলভাবে পড়তে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মগুলি শিখতে পারি, তাকে ব্যাকরণ বলে।

১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দে পোর্তুগিজ পাদরি মনো এল দ্য আসসুম্পসাম রোমান হরফে সর্বপ্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।

→ ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড বাংলা হরফে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।

è রাজা রামমোহন রায় ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে বাঙালিদের মধ্যে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন। → যে বই পড়লে বাংলা ভাষা নির্ভুলভাবে পড়তে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মগুলি শিখতে পারি, তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।

 

হাতে কলমে

Ø নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

[ক] ভাষা কাকে বলে ?

[খ] মাতৃভাষা কাকে বলে ?

[গ] তোমার জানা কয়েকটি ভাষার নাম লেখো।

[ধ] ব্যাকরণ কাকে বলে ?

[6] বাংলা ব্যাকরণ কাকে বলে ?

২ এক কথায় উত্তর দাও :

[ক] বাংলা ভাষা কাদের মাতৃভাষা ?

[খ] আমরা কোন্ ভাষায় কথা বলি ?

[গ] শিশুর প্রথম শিক্ষাদাত্রী কে ?

[ঘ] বাংলা ভাষার আনুমানিক বয়স কত ?

৩ বুঝে উত্তর লেখো :

[ক] আদিম যুগের মানুষ কীভাবে মনের ভাব প্রকাশ করত ?

[খ] ব্যাকরণ শেখার প্রয়োজনীয়তা কী

৪ ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো :

[ক] কথা বলার ক্ষমতা একমাত্র [ গাছপালার / জীবজন্তুর / মানুষের ] ।

[খ] পৃথিবীতে ভাষা আছে [ একরকম / দশরকম / অসংখ্য ] ।

[গ] বাঙালির মাতৃভাষা [ বাংলা / ওড়িয়া / ইংরেজি ]।

[ঘ] বাংলা ভাষা নির্ভুলভাবে শিখতে দরকার [ বাংলা বই / বাংলা ব্যাকরণ]।

[ঙ] বাংলা হরফে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ বই লেখা হয় [ ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে / ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে / ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ]।

[চ] রোমান হরফে সর্বপ্রথম বাংলা ব্যাকরণ বই লেখেন [ রাজা রামমোহন রায় / ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড / মনো এল দা আসসুম্পসাম ]।

৫ যেটি সঠিক তার পাশে / চিহ্ন এবং যেটি ভুল তার পাশে X চিহ্ন বসাও :

[ক] পশুপাখি মানুষের মতো সাজিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। [খ] পৃথিবীতে বিভিন্ন ভাষার মানুষ বাস করে।

[গ] মুখের সব ধ্বনিই ভাষা নয়। [ঘ] বাংলা ভাষার জননী ইংরেজি।

[ঙ] ভাষার অনেক আগে ব্যাকরণের সৃষ্টি হয়েছে। [চ] বাংলা হরফে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড প্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।

 PDF download link 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ