মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার উদ্দেশ্য :- Mark -4
ভূমিকা:- মাতৃভাষার শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের সহজ ও পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান দান, তাদের চিন্তা ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া, ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তোলা এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও কার্যকর করা, যা তাদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। এটি শিক্ষার্থীদের কঠিন বিষয়গুলো সহজে বুঝতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে।
প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ:-
সহজ ও পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানার্জন:- মাতৃভাষায় শিখলে শিশুরা কোনো ভাষাগত জটিলতা ছাড়াই বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করতে পারে, যা শিক্ষাকে সহজ ও সম্পূর্ণ করে তোলে।
চিন্তা ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা:- মাতৃভাষা শিশুর নিজস্ব ভাষা হওয়ায় সে মুক্তভাবে চিন্তা করতে ও নিজেকে প্রকাশ করতে পারে, যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
সাংস্কৃতিক ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের বিকাশ:- এটি শিশুর ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিচয়ের অংশ; এর মাধ্যমে সে তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করতে শেখে।
ভিত্তি স্থাপন:- মাতৃভাষায় শেখা জ্ঞান ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনের ভিত্তি মজবুত করে।
মানসিক ও সামাজিক বিকাশ:- এটি শিশুর সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে।
অনুপ্রেরণা ও আগ্রহ সৃষ্টি:- মাতৃভাষা শিক্ষার মাধ্যমে শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং শিশুরা নতুন কিছু শিখতে অনুপ্রাণিত হয়।
উপসংহার :- শিক্ষাবিদদের মতে, মাতৃভাষা হলো " শিক্ষার মাতৃদুগ্ধ" (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি অনুসারে), যা শিশুর পুষ্টির মতো অপরিহার্য। ইউনেস্কোর মতো সংস্থাগুলোও প্রাথমিক শিক্ষা মাতৃভাষার ভিত্তিতে হওয়াকে সমর্থন করে, যা শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি ও মান নিশ্চিত করে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you