Ticker

100/recent/ticker-posts

Translate

 স্বাধীনতা-উত্তরকালে ভারতে শিক্ষক শিক্ষার (Teacher Education) বিকাশ ছিল দ্রুত এবং কাঠামোগত। ১৯৪৮-৪৯ সালের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন কমিশন (কোঠারি কমিশন), জাতীয় শিক্ষানীতি (১৯৮৬, ২০২০) এবং NCTE-র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আরও পেশাদার, গুণগত এবং প্রযুক্তি-নির্ভর করে তোলা হয়েছে। প্রাক-সার্ভিস (BT/B.Ed) ও ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে এই ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধন করা হয়েছে।স্বাধীনতা-উত্তরকালে শিক্ষক শিক্ষার বিকাশের প্রধান দিকগুলি:প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও উন্নয়ন: স্বাধীন ভারতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বুঝে প্রচুর সংখ্যক ট্রেনিং কলেজ ও শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়। ১৯৫০ সালে বড়োদাতে প্রথম 'ট্রেনিং কলেজ কনফারেন্স' অনুষ্ঠিত হয়।কমিশন ও নীতির প্রভাব:বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন (১৯৪৮-৪৯): শিক্ষক প্রশিক্ষণকে 'শিক্ষক শিক্ষা' (Teacher Education) নামে নতুন নামকরণ করে এর গুণগত মান উন্নয়নের সুপারিশ করে।মাধ্যমিক শিক্ষা কমিশন (১৯৫২-৫৩): মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেয়।কোঠারি কমিশন (১৯৬৪-৬৬): শিক্ষক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কারের পরামর্শ দেয়।NCTE প্রতিষ্ঠা (১৯৭৩/১৯৯৩): শিক্ষক শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠ্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মাবলী তৈরির জন্য ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (NCTE) গঠন করা হয়।শিক্ষক শিক্ষার আধুনিকীকরণ:শিক্ষক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল লার্নিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা (Inclusive Education): বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (TET): শিক্ষকদের মান যাচাই করতে TET ও NCTE-র নিয়মাবলী কঠোর করা হয়েছে।জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০: শিক্ষক শিক্ষার আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছে, যেমন—৪ বছরের সমন্বিত বি.এড (Integrated B.Ed) কোর্স, প্রশিক্ষণের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি এবং গবেষণামূলক শিক্ষার ওপর জোর।সামগ্রিকভাবে, স্বাধীনতার পর শিক্ষক শিক্ষা শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণের বিষয় না হয়ে পেশাগত উন্নয়নের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতে পরিণত হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ