প্রশ্ন:- গঠনমূলক মূল্যায়ন কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলোচনা করুন।
ভূমিকা: - কোনো কাজ চলাকালে কাজের নীতি, উৎকর্ষতা ও অগ্রগতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা ইত্যাদি বিচারে যে মূল্যায়ন করা হয় তাকে Formative মূল্যায়ন বলে। শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। শিক্ষা প্রক্রিয়ায় পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীর অগ্রগতি সম্পর্কীয় তথ্যসংগ্রহে Formative মূল্যায়ন ব্যবহার করা হয়। এই মূল্যায়নের প্রধান উদ্দেশ্য হল পাঠদান চলাকালীন শিক্ষক ও ছাত্র উভয়কেই সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে নিরবচ্ছিন্ন তথ্য সরবরাহ করা। একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সে কতটা সফল হয়েছে, কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে, কী পরিমাণে সংশোধনের প্রয়োজন সে সম্পর্কে Feedback দেয় অন্যদিকে শিক্ষার পাঠপদ্ধতির সংশোধন এবং শিক্ষার্থীদের সংশোধনমূলক পাঠদানের প্রয়োজন কিনা সে সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করে অর্থাৎ 'Feedback' দেয়।
Formative Evaluation:- কোনো কাজ চলাকালে কাজের নীতি, উৎকর্ষতা ও অগ্রগতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা ইত্যাদি বিচারে যে মূল্যায়ন করা হয় তাকে Formative মূল্যায়ন বলে।
কর্মচলাকালীন মূল্যায়নের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Formative Evaluation): মূল্যায়নের বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ-কর্মচলাকালীন
১. ধারাবাহিক প্রক্রিয়া:- যতদিন কার্যক্রম চলে অর্থাৎ শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো একটি বিশেষ কোর্সে যতদিন পাঠদান প্রক্রিয়া চলে ততদিন এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলতে থাকে অর্থাৎ এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
২. অংশভিত্তিক মূল্যায়ন:- শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ধরনের বিষয়সূচিকে ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করে নিয়ে প্রতিটি ক্ষুদ্রতর অংশের মূল্যায়ন করা হয়।
৩. নিয়মিত পাঠগ্রহণ উপযোগী:- যে সব শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠগ্রহণ করে তাদের ক্ষেত্রে এই মূল্যায়ন অত্যন্ত উপযোগী।
৪. মনোবিজ্ঞান সম্মত:- এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি অনুসন্ধানমূলক, নমনীয়, বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান সম্মত।
৫.ত্রুটিমুক্তপাঠক্রম রচনা:- এই মূল্যায়নের উদ্দেশ্য হল ত্রুটিমুক্ত পাঠক্রম রচনা করা।
৬. সময় সাপেক্ষ:- সময় অপেক্ষাকৃত অনেক কম লাগে এবং বিশেষ কোনো আযোজনের প্রয়োজন নেই, শিক্ষক নিজেই ব্যবস্থা করে নিতে পারেন।
কর্মচলাকালীন মূল্যায়নের সুবিধা-
১. শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করা:- শিক্ষার্থীদের বিষয়গত দুর্বলতা সহজেই জানা সম্ভব হয় এবং সেই অনুযায়ী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সংশোধনী পাঠের ব্যবস্থা করতে পারেন।
২. শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা যাচাই করণ:- শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কী ধরনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে অর্থাৎ এর উদ্দেশ্য কী সেই সম্পর্কে যাচাই করা হয়।
৩. সংশোধন মূলক প্রক্রিয়া:- এই মূল্যায়ন হলো একটি সংশোধক মূলক প্রক্রিয়া। যার ফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই মূল্যায়নের ফলে যে ফিডব্যাক পাওয়া যায় তা থেকে শিক্ষক নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ পান।
৪. ব্যক্তিগত বৈষম্য অনুযায়ী নজর দেওয়া:- শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বৈষম্য অনুযায়ী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নজর রাখতে পারেন।
৫. শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ:- শিক্ষক শিক্ষার্থী সম্পর্ক অতি নিবিড় হয় এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সঠিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতে পারেন।
৬. অল্প সময় ও শ্রম সাশ্রয়:- যেহেতু বিষয়কে ছোটো ছোটো অংশে ভাগ করে নিয়ে মূল্যায়ন করা হয় তাই এই মূল্যায়নে সময়, ব্যায়, পরিশ্রম অনেক কম হয়।
৭. অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া:- এই মূল্যায়ন অভ্যন্তরীণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অযথা ভীতির সৃষ্টি করে না।
কর্মচলাকালীন মূল্যায়নের অসুবিধা (Disadvantages of Formative Evaluation) : -
১. পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের জন্য উপযোগী নয়:- এই মূল্যায়ন কি ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নেওয়া হয়। ফলে এ মূল্যায়ন পিছিয়ে পড়া ছেলেমেযেদের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে না।
২. নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা কম:- এই মূল্যায়নের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা কম।
৩. অধিক তথ্য সংগ্রহ:- এই মূল্যায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অনেক সময় দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে তারা শিক্ষার জনে ব্যাহত হয়।
৪. বিজ্ঞানসম্মত নয়:- এই মূল্যায়ন হলো অমানবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এই মূল্যায়ন কোন বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি নয়।
৫. ধারাবাহিক প্রক্রিয়া:- এই মূল্যায়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
৬. ব্যক্তি কেন্দ্রিক:- এই মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যক্তি কেন্দ্রিক ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৭. কাজের গুরুত্ব কম:- এই মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে কাজ করার সুযোগ কম পায়। দলগত কাজের ওপর গুরুত্ব কম দেওয়া হয়।
৮. শিক্ষক কেন্দ্রিক:- এই মূল্যায়ন শুধুমাত্র শিক্ষক নির্মিত। মূল্যায়ন শিক্ষক কেন্দ্রিকতার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশ্ন:- সামষ্টিক মূল্যায়ন? সামষ্টিক মূল্যায়নের বৈশিষ্ট্য? সামষ্টিক মূল্যায়নের সুবিধা ও অসুবিধা?
ভূমিকা:- একটা নির্দিষ্ট সময়ের শেষে শিক্ষণ উদ্দেশ্যগুলি কী পরিমাণে অর্জিত হয়েছে সে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহকে কার্যসমাপ্তিতে (Summative) মূল্যায়ন বলে। কোনো কোর্স সমাপ্তিতে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত শিখন সামর্থ্যগুলি কী পরিমাণে অর্জনে সক্ষম হয়েছে তা নির্ণয় করে গ্রেড নির্ধারণে এইপ্রকার মূল্যায়ন ব্যবহার করা হয়। কোর্স সমাপ্তিতে বা দীর্ঘ সময়ের পর এই মূল্যায়ন ব্যবহার করা হয়।
Summative Evaluation:- একটা নির্দিষ্ট সময়ের শেষে শিক্ষণ উদ্দেশ্যগুলি কী পরিমাণে অর্জিত হয়েছে সে সম্পর্কিত তথ্যসংগ্রহকে কার্যসমাপ্তিতে (Summative) মূল্যায়ন বলে।
চূড়ান্ত মূল্যায়নের বৈশিষ্ট্য:-
১. নিয়মাবদ্ধ কার্যক্রম:- চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন নিয়মাবদ্ধ কার্যক্রম।
২. শিক্ষাকার্যক্রম নির্ণয় :- কোন শিক্ষাকার্যক্রম কতটা সফল হয়েছে তা নির্ণয় করাই হল এই মূল্যায়নের উদ্দেশ্য।
৩. একত্রে মুল্যায়ন প্রদান:- সেমিস্টারের শেষে বা একবছর পরে (বাৎসরিক পরীক্ষা) বা কয়েকটি একককে নিয়ে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
৪. পরিমাণ ও গুণগত মান বিচারকরন:- এই মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিমাণগত ও গুণগত উভয় ধরনের মূল্যায়ন করা হয়। যেমন শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য রযেছে পরিমাণগত মূল্যায়ন আবার আগ্রহ, প্রবণতা, দলগত কাজে অংশগ্রহণ ইত্যাদি মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত মূল্যায়ন ব্যবহার করা যায়।
৫. অন্যান্য পাঠ্যক্রম কার্যাবলীর ক্ষেত্রে কার্যকরী:- পাঠক্রমিক কার্যাবলি ছাড়া যে কোনো সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মূল্যয়ন কার্যকরী।
৬. পরিকল্পনার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন:- পরিকল্পনা ছাড়া এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে।
৭. সর্বজনীন অভীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:- এই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রচনাধর্মী, সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী, অভিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী, নৈর্ব্যক্তিক যে কোনো ধরনের অভীক্ষা ব্যবহার করা যেতে পারে।
৮. নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতার গুরুত্ব প্রদান:- এই মূল্যায়নের কৌশল সমূহ নির্ভরযোগ্য, যথার্থ ও নৈর্ব্যক্তিক না। প্রক্রিয়াটি সফল হবে না।
৯. মূল্যায়নের পরবর্তী স্তবে গ্রেড প্রদান:- এই মূল্যায়নের পরে নম্বর বা গ্রেড দেওয়া হয়।
সুবিধা:-
১. একবার অভীক্ষা পত্র তৈরি:- কোর্সের শেষে চুড়ান্ত মূল্যায়ন হয় তাই শিক্ষকদের একবার অভীক্ষাপত্র তৈরি করলেই চলে।
২. নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক মূল্যায়ণ:- সঠিক সময়ের মধ্যে পাঠ্যক্রম শেষ করতে হয়।
৩. পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অধিক সময়:- শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পায়।
৪. শিক্ষার্থীর সামগ্রিক ধারনা জানা সহজ:- কোনো বিষয়ের পাঠ্যক্রমের সমগ্র অংশের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় ফলে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ধারণা কতটা হয়েছে তা জানা সম্ভব হয়।
৫. যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা বেশি:- এই মূল্যায়নের প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা, যথার্থতা ও নৈর্ব্যক্তিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
৬. তুলনা করা: - অনেক বেশি শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে মূল্যায়ন করা যায়। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলনা করা সম্ভব।
৭. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মান সম্পর্কে ধারনা:- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মান সম্বন্ধে ধারণা করা যায়।
সমষ্টিগত মূল্যায়নের অসুবিধা:-
১. সমগ্র পাঠের উপর গুরুত্ব প্রদান:- চূড়ান্ত মূল্যায়ন একই সঙ্গে সমগ্র পাঠের উপর হয় বলে শিক্ষার্থীদের উপর অনেক বেশি চাপ পড়ে।
২. সমস্ত বিষয়ের উপর গুরুত্ব প্রদান:- চূড়ান্ত মূল্যায়ন একসঙ্গে সমগ্র কোর্সের সব বিষয়গুলির উপর করা হয়, তাই প্রক্রিয়াটি জটিল এবং শেষ করতে বেশি সময় লাগে।
৩. সামগ্রিক মূল্যায়ন করা অসম্ভব:- সামগ্রিক মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রতিটি অংশের খুঁটিনাটি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না।
৪. শিক্ষার্থীর দুর্বল দিকগুলি অচিহ্নিত করন:- এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক পাওয়া যায় না ফলে দুর্বল অংশ শনাক্ত করতে অসুবিধা হয়।
৫. সংশোধন এর সুযোগ কম:- মূল্যায়নে যদি ত্রুটি থাকে তার সংশোধন করার সুযোগ আসে অপর একটি চূড়ান্ত মূল্যায়ন করার সময়।
৬. অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী:- মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনেকবেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে তাই এই প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ, ব্যয় সাপেক্ষ এবং এর প্রশাসনিক কাজও অনেক বেশি।
৭. অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কাজে ব্যস্ত থাকা:- এই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেককে ব্যস্ত থাকতে হয়। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সুবিধা, অসুবিধা থাকা সত্বেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সার্থক করে তুলতে হলে চুড়ান্ত মূল্যায়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তাই শিক্ষার সকল স্তরে চূড়ান্ত মূল্যায়ন ব্যবস্থা রযেছে।
উপসংহার:- সুতরাং মূল্যায়নের জন্য যে তিন ধরনের মূল্যায়ন আলোচিত হল গঠনমূলক মূল্যায়ন, দুর্বলতা নির্ণায়ক মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত মূল্যায়ন সবগুলিই শিক্ষা-শিখন প্রক্রিয়ার উন্নতিকল্পে প্রযোজন রয়েছে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দ্বারা কেবলমাত্র শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয় তাই নয়, এর দ্বারা শিক্ষক, পাঠ্যক্রমেরও মূল্যায়ন করা সম্ভব।
কর্মচলাকালীন মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত মূল্যায়নের পাথর্ব্য
কর্মচলাকালীন মূল্যায়ন :-
(1) পাঠদান চলাকালীন তার বিচারকরণ হল গঠনমূলক মূল্যায়নের কাজ।
(2) পাঠদান কর্মসূচির সংস্কারের অবকাশ আছে কিনা তা বিচার করাই হল গঠনমূলক মূল্যায়ন।
(3) এই মূল্যায়নের প্রাসঙ্গিক ব্যক্তি সকল হলে যারা কর্মসূচি পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।
(4) মূল্যায়নকারী পাঠদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং কর্মসূচিকে আরো উন্নত করতে সচেষ্ট হতে পারেন।
(5) এই মূল্যায়ন হল বিচারমূলক অর্থাৎ এর উদ্দেশ্য হল শিক্ষা-শিখন প্রক্রিয়ার গুণগত মান নির্ধারণ।
(6) দৈনন্দিন অগ্রগতির পরিমাপই হল গঠনগত মূল্যায়ন। যেমন-পাঠ্যাংশের উপর পরীক্ষা, ক্যুইজ, গৃহকাজ, শ্রেণিকাজ ইত্যাদি।
(7) শ্রেণিকক্ষে সব ধরনের আচরণ যেমন বৌদ্ধিক, অনুভুতিমূলক ও মনসঞ্চালন-মূলক আচরণ ইত্যাদির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
(৪) নম্বরদান ও বিচারকরণ NRT ও CRT উভয় ব্যবহার করা হয়।
(9) শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাকের সুয়োগ রয়েছে ফলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও দুর্বলতা নির্ণয়ের সহায়ক।
(10) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একক পরীক্ষা, অ-প্রথাগত পরীক্ষা পাঠদান, কালে প্রশ্নকরা, গৃহকাজ, পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি যেকোনো কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে।
(11) শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ অনেক বেশি।
(12) মূলত অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন।
(13) শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক নিবিড় হয়।
(14) ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
(15) অভীক্ষাপদের কাঠিন্যমান যিনি মূল্যায়ন করছেন তার উপর শিক্ষার্থীদের মানের উপর নির্ভর করে।
চূড়ান্ত বা অন্তিম মূল্যায়ন :-
(1) পাঠদান কর্মসূচির শেষে পাঠদানের কার্যকারিতা বিচারকরণ হল চূড়ান্ত মূল্যায়নের কাজ।
(2) পরিকল্পিত পাঠদানকে সমর্থন এবং তাকে গ্রহণ করা যায় কিনা তা বিচারের জন্য তথ্য সংগ্রহই হল চূড়ান্ত মূল্যায়নের উদ্দেশ্য।
(3) এই মূল্যায়নের প্রাসঙ্গিক ব্যক্তি সকল হলেন পরিকল্পিত পাঠ্যসূচির ভোক্তা (Consumer)।
(4) মূল্যায়নকারী পাঠদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন না কিন্তু তাঁরা ওই কর্মসূচির কার্যকারিতা বিচার করেন।
(5) এই মূল্যায়ন হল বিকল্পমূলক অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের শিখনে উন্নতি এবং শিক্ষকের পাঠদানে উন্নতি ঘটানো হল এই মূল্যায়নের প্রধান উদ্দেশ্য।
(6) শিক্ষাবর্ষব্যাপী নির্দিষ্ট কর্মসূচির শেষে ওই কর্মসূচির উদ্দেশ্যের সার্থকতা প্রতিপন্ন করাই হল চূড়ান্ত মূল্যায়ন। বিদ্যালয়ের ত্রৈমাসিক পরীক্ষা, ষান্মাসিক পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা, বোর্ড পরীক্ষা ইত্যাদি হল চূড়ান্ত মূল্যায়ন।
(7) প্রধানত বৌদ্ধিক আচরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মাঝে মাঝে মনসঞ্চালনমূলক আচরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হলেও অনুভুতিমূলক আচরণের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্ব দেওয়া হল।
(৪) নম্বরদানের ক্ষেত্রে প্রধানত NRT ব্যবহার করা হয় তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে CRT ব্যবহার করা যেতে পারে।
(9) শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাকের সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম ফলে তাদের দক্ষতা ও দুর্বলতা নির্ণয়ে অপেক্ষাকৃত কম সহায়ক।
(10) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কৌশল হিসাবে প্রধানত পারদর্শিতার অভীক্ষা ব্যবহার করা হয়।
(11) শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম।
(12) মূলত বহির্মূল্যায়ন তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও করা যেতে পারে।
(13) শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ নেই।
(14) ধারাবাহিক প্রক্রিয়া নয়।
(15) অভীক্ষা পদের কাঠিন্যমান গড় পড়তা 35% থেকে 75% পর্যন্ত বিস্তৃত।
| কর্মচলাকালীন মূল্যায়ন | চূড়ান্ত বা অন্তিম মূল্যায়ন |
(1) পাঠদান চলাকালীন তার বিচারকরণ হল গঠনমূলক মূল্যায়নের কাজ। (2) পাঠদান কর্মসূচির সংস্কারের অবকাশ আছে কিনা তা বিচার করাই হল গঠনমূলক মূল্যায়ন। (3) এই মূল্যায়নের প্রাসঙ্গিক ব্যক্তি সকল হলে যারা কর্মসূচি পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। (4) মূল্যায়নকারী পাঠদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং কর্মসূচিকে আরো উন্নত করতে সচেষ্ট হতে পারেন। (5) এই মূল্যায়ন হল বিচারমূলক অর্থাৎ এর উদ্দেশ্য হল শিক্ষা-শিখন প্রক্রিয়ার গুণগত মান নির্ধারণ। (6) দৈনন্দিন অগ্রগতির পরিমাপই হল গঠনগত মূল্যায়ন। যেমন-পাঠ্যাংশের উপর পরীক্ষা, ক্যুইজ, গৃহকাজ, শ্রেণিকাজ ইত্যাদি। (7) শ্রেণিকক্ষে সব ধরনের আচরণ যেমন বৌদ্ধিক, অনুভুতিমূলক ও মনসঞ্চালন-মূলক আচরণ ইত্যাদির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। (৪) নম্বরদান ও বিচারকরণ NRT ও CRT উভয় ব্যবহার করা হয়। (9) শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাকের সুয়োগ রয়েছে ফলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও দুর্বলতা নির্ণয়ের সহায়ক। (10) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একক পরীক্ষা, অ-প্রথাগত পরীক্ষা পাঠদান, কালে প্রশ্নকরা, গৃহকাজ, পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি যেকোনো কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে। (11) শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ অনেক বেশি। (12) মূলত অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন। (13) শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক নিবিড় হয়। (14) ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। (15) অভীক্ষাপদের কাঠিন্যমান যিনি মূল্যায়ন করছেন তার উপর শিক্ষার্থীদের মানের উপর নির্ভর করে। | (1) পাঠদান কর্মসূচির শেষে পাঠদানের কার্যকারিতা বিচারকরণ হল চূড়ান্ত মূল্যায়নের কাজ। (2) পরিকল্পিত পাঠদানকে সমর্থন এবং তাকে গ্রহণ করা যায় কিনা তা বিচারের জন্য তথ্য সংগ্রহই হল চূড়ান্ত মূল্যায়নের উদ্দেশ্য। (3) এই মূল্যায়নের প্রাসঙ্গিক ব্যক্তি সকল হলেন পরিকল্পিত পাঠ্যসূচির ভোক্তা (Consumer)। (4) মূল্যায়নকারী পাঠদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন না কিন্তু তাঁরা ওই কর্মসূচির কার্যকারিতা বিচার করেন। (5) এই মূল্যায়ন হল বিকল্পমূলক অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের শিখনে উন্নতি এবং শিক্ষকের পাঠদানে উন্নতি ঘটানো হল এই মূল্যায়নের প্রধান উদ্দেশ্য। (6) শিক্ষাবর্ষব্যাপী নির্দিষ্ট কর্মসূচির শেষে ওই কর্মসূচির উদ্দেশ্যের সার্থকতা প্রতিপন্ন করাই হল চূড়ান্ত মূল্যায়ন। বিদ্যালয়ের ত্রৈমাসিক পরীক্ষা, ষান্মাসিক পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা, বোর্ড পরীক্ষা ইত্যাদি হল চূড়ান্ত মূল্যায়ন। (7) প্রধানত বৌদ্ধিক আচরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মাঝে মাঝে মনসঞ্চালনমূলক আচরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হলেও অনুভুতিমূলক আচরণের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্ব দেওয়া হল। (৪) নম্বরদানের ক্ষেত্রে প্রধানত NRT ব্যবহার করা হয় তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে CRT ব্যবহার করা যেতে পারে। (9) শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাকের সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম ফলে তাদের দক্ষতা ও দুর্বলতা নির্ণয়ে অপেক্ষাকৃত কম সহায়ক। (10) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কৌশল হিসাবে প্রধানত পারদর্শিতার অভীক্ষা ব্যবহার করা হয়। (11) শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ অপেক্ষাকৃত কম। (12) মূলত বহির্মূল্যায়ন তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও করা যেতে পারে। (13) শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ নেই। (14) ধারাবাহিক প্রক্রিয়া নয়। (15) অভীক্ষা পদের কাঠিন্যমান গড় পড়তা 35% থেকে 75% পর্যন্ত বিস্তৃত। |


0 মন্তব্যসমূহ
Thank you