Ticker

100/recent/ticker-posts

Translate

একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে বিবেকানন্দের মূল্যায়ন করুন।?

প্রশ্ন :- একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে বিবেকানন্দের মূল্যায়ন করুন।? 

ভূমিকা:- "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। নবজাগরণের পুরোহিত ছিলেন বিবেকানন্দ। উনবিংশ শতাব্দীতে ভারতের যেসব মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটে এবং যাদের মেধা ও ব্যক্তিত্ব ভারতের জাতীয় জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে, স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে অন্যতম। 

স্বামী বিবেকানন্দের জীবনাদর্শন:- শৈর্যবীর্যের অদ্বৈতবাদের সনাতন ধর্মের মূর্ত প্রতীক সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে ১২ই জানুয়ারি কলকাতা শিমুলিয়ার বিখ্যাত দত্ত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হলেন হাইকোর্টের বিখ্যাত এটুনি বিশ্বনাথ দত্ত। মাতা ধর্মপ্রানা ভুবনেশ্বরী দেবী। স্বামীজি ছোটবেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সংস্পর্শে আসেন। এরপর তার মধ্যে আত্মাধিক চেতনার বিকাশ ঘটে। তার লিখিত গ্রন্থ গুলি হল- রাজযোগ, ভক্তিযোগ, কর্মযোগ, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, পরিব্রাজক প্রভৃতি। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দের ৪ এ জুলাই ওই মহাজীবনের মহাপ্রায়ন ঘটে ।

শিক্ষা দর্শন:- ভারতবাসীর মধ্যে তিনি মুক্তির মহান আদর্শ প্রচার করেন। প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। দার্শনিক হিসেবে ভাববাদী হলেও তার শিক্ষা দর্শন কেবলমাত্র অত ইন্দ্রিয় জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, শিক্ষার বাস্তব দিক কেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মানব জীবনের মূল লক্ষ্য হলো ব্রহ্মকে উপলব্ধি করা এবং উপযুক্ত শিক্ষার দাঁড়ায় ব্রহ্মকে উপলব্ধি করা সম্ভব। তার মতে আমাদের জাতীয় জীবনের মূল ভিত্তি হল ধর্ম ও অত্যাধিকতা। 

 *"Education is the meanifestation of perfection alreading in man" শিক্ষা হল অন্তর্নিহিত শ্রদ্ধার প্রকাশ যা মানুষের মধ্যেই বর্তমান , মানুষের মধ্যে যে সম্পূর্ণতা বিদ্যমান তা শিক্ষার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়, শিক্ষার মধ্য দিয়ে আত্মবোধের বিজ্ঞান ঘটে। 

শিক্ষার লক্ষ্য:- মানুষের মধ্যে মুহূর্তের প্রকাশ হলো শিক্ষা।Education is the meanifestation of perfection alreading in man"  জ্ঞান মানুষের অন্তরের বিষয়। মানুষের ভেতরের যে সৃজন প্রতিভা রয়েছে তাকে বিকশিত করে তোলায় হল সকল শিক্ষার লক্ষ্য।। যে বৃদ্ধি বা বিকাশের ফলশ্রুতি হিসেবে ব্যক্তির মনুষত্বের অধিকারী হবে, সেই বৃদ্ধি বা বিকাশ হবে শিক্ষার চরম লক্ষ্য। শিক্ষাক্ষেত্রে যেসব লক্ষ্যগুলি রয়েছে সেগুলি নিম্নরূপ-

১. চরিত্র গঠন:- স্বামী বিবেকানন্দ তার শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠন করা একটি অন্যতম লক্ষ্য। তিনি মনে করেন শিক্ষার মধ্য দিয়ে চরিত্র গঠন করা যায়। 

২. অত্যাধিক বিকাশ:- শিক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীর অত্যাধিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব বলেই তিনি মনে করতেন। 

৩. মানব কল্যাণ:- বাস্তব জীবনে চলার জন্য এবং ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার জন্য একজন শিশুর মানব কল্যাণ ঘটানো। 

৪. আত্মবোধ জাগরণ:- একজন মানুষ এবং ভারতের নাগরিক হিসেবে একজন শিশুর আত্মবোধ জাগিয়ে তোলা শিক্ষার অন্যতম লক্ষ। 

৫. শারীরিক বিকাশ:- শুধুমাত্র জ্ঞানের বিকাশ থাকলেই নয় এর সাথে সাথে শারীরিক বিকাশও খুব জরুরী। আর শিক্ষার মাধ্যমে আর শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শারীরিক বিকাশ ঘটানো শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। 

৬. সর্বজনীন ভাতৃত্ববোধের বিকাশ:- এই শিক্ষার মাধ্যমে সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব বিকাশ ঘটানো যায়  এটি শিক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ। 

৭. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার সমন্বয়:- প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য  শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে থাকে। 

পাঠ্যক্রম:- সশস্ত্র যুক্তিবাদী সন্ন্যাসী বিবেকানন্দের বিভিন্ন বক্তব্য ও মন্তব্য থেকে তার নির্দেশিত পাঠ্যক্রম বিষয়ে জানা যায়। তার মতে সামাজিক চাহিদা, জাতীয় সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করেই গঠিত হবে পাঠ্যক্রম। স্বামীজীর নির্দেশিত পাঠ্যক্রমে যেসব বিষয়গুলি থাকবে সেসব বিষয়গুলি হলো নিম্নরূপ-

১. আধ্যাত্মিক বিকাশ:- সামাজিক পাঠ্যক্রমে আধ্যাত্মিক বিকাশ সহায়ক পাঠ্যসূচি হিসেবে কাজ করে। 

২. মাতৃভাষা:- স্বামীজি শিক্ষার পাঠ্যক্রম হবে মাতৃভাষায়। তাই তিনি মাতৃভাষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতেন, কারণ মাতৃভাষা হলো একটি সহজ সরল ভাষা। 

৩. সংস্কৃত:- পাঠ্যক্রমের সস্কৃত বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। 

৪. শিল্প বিকাশ:-শিল্প বিকাশের দ্বারা শিক্ষার্থীর বিভিন্ন শিল্প ও হস্তশিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে থাকে। শিল্পের বিকাশ সহায়ক পাঠ্যসূচি হিসেবে কাজ করে।

৫. বৃত্তিমূলক শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্ব প্রদান:-কর্মযোগী সন্ন্যাসে বিবেকানন্দ প্রযুক্তি বিদ্যা সংক্রান্ত শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন কারিগরি শিক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থী স্বনির্ভর হতে পারে তাই জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে হলে কারিগরি শিক্ষা তথা শিল্পা উন্নয়নের শিক্ষা একান্তভাব প্রয়োজন। কারিগরি শিক্ষায় ভবিষ্যৎ করার শিক্ষা। 

৬. বিজ্ঞান সমৃদ্ধ:-আধুনিক বিজ্ঞান সমৃদ্ধ পাঠ্য সূচি। 

৭. প্রথাগত শিক্ষা:-প্রথাগত শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয় গুলি হলো যেমন - ইতিহাস, ভূগোল, প্রভৃতি তাই তিনি প্রথাগত শিক্ষা গুরুত্ব দিয়েছেন।

শিক্ষণ পদ্ধতি:- স্বামী বিবেকানন্দের যেসব শিক্ষা পদ্ধতিগুলিকে অবলম্বন করা হয় সেগুলি হল 

১. শিখন পদ্ধতির ক্ষেত্রে স্বামীরে ছিলেন স্বয়ং শিক্ষার পক্ষপাতী। 

২. তিনি শিক্ষার মেডিটেশন এবং কনসার্ট্রেশন এর উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। 

৩. স্বামীজির শিখন পদ্ধতির ক্ষেত্রে মুক্ত বস্তুর মাধ্যমে শিক্ষণের পর অমর্ত্য বস্তুর মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেছেন। 

৪. সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ শিক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষকের নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রতি সজাগ থাকতে বলেছেন।

নারী শিক্ষা:- নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্রহ্মঙ্গ সন্ন্যাসী বলেছেন যে পরিবারে বাদ দিয়েছেন নারীদের কোন শিক্ষা নেই এবং যেখানে তারা দুঃখের মধ্যে বসবাস করে সেই পরিবার বা দেশের উন্নয়নের আশা নেই।। সেই কারণে প্রথমে তুলে ধরতে হবে সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ ভারতীয় নারীদের ব্যথা বেদনা দুর্দশা ব্যথিত হয়ে নারী শিক্ষা নারী মুক্তির জন্য দেশবাসীর সজাগ হতে পরামর্শ দিয়েছেন নারী শিক্ষার বিকাশই হলো দেশের অগ্রগতির অন্যতম সোপান। 

* নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল স্বামীজীর কথাই"ওয়ান ইন্ডিয়া টু নট ফরগেট দা আইডিয়াল অফ ওমেন ফুড সিদ্ধা সাবিত্রী এন্ড তমায়ান্তি" আজ আমাদের ভুললে চলবে না সীতা সাবিত্রী দমন এর কথা বললে চলবে না তাদের আদর্শের কথা মহত্বের কথা নারীত্বের কথা।

শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা:- শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বামীজীর যেসব ভূমিকা গুলি রয়েছে সেগুলো 

১. শিশুপালন:- স্বামীজি বলেছেন নারী শিক্ষার মধ্য দিয়ে শিশু পালন করা খুবই সম্ভব।। কারণ শুধুমাত্র নারীরাই পারে শিশুদের লালন পালন করতে। 

২. রন্ধন বিদ্যা:-স্বামীজি শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের ব্রাহ্মণ বিদ্যার উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। 

৩. নির্বিকতা ও চরিত্র বিষয়ক শিক্ষা। 

৪. ধ্যান করা, সেলাই করা। 

৫. পূজার জন্য করা পুরান অধ্যায়ন প্রগতি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া। 

৬. বেলুড় মঠ গঠন করা। 

৭. গ্রাম নিয়ে গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন। 

মানুষ গড়ার শিক্ষা:- শিক্ষা প্রকৃতি শিল্পী শিক্ষা মূলক জীবনব্যাপী সার্থক সংহতি বিধানের প্রক্রিয়া। ব্যক্তি ও সমাজের সঠিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা। তাই শিক্ষা সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকা প্রয়োজন। এই প্রয়োজন সার্থক করার জন্য স্বামী বিবেকানন্দ মানুষ হওয়ার কথা শিক্ষার কথা বলেছেন। 

মানুষ গড়ার শিক্ষার বৈশিষ্ট্য:-

১। প্রকৃত শিক্ষা:- মানুষ হওয়ায় শিক্ষার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রকৃত শিক্ষা। এই শিক্ষার মূলত কৃত্রিম হত্যা বর্জিত।

২. প্রকৃতিশীল ভাবনার উম্নেস:- এই শিক্ষা ব্যক্তির মধ্যে আধুনিক প্রগিতিশীল ভাবনার উন্মেষ ঘটিয়ে থাকে। 

৩. মূল্যবোধ জাগরণ:- মানুষ হওয়ার শিক্ষার বৈশিষ্ট্য হলো সকল ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করা।

৪. আদর্শ মানুষ তৈরি:- এই শিক্ষা ব্যক্তিকে আদর্শ ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

গণশিক্ষা (Mass education): বিবেকানন্দের লক্ষ্যছিল জাতীয় পুনর্জাগরণ এবং এই কারণে গণশিক্ষার প্রসার ঘটানো একান্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করতেন। তাঁর মতে, জনগণের শিক্ষা ছাড়া প্রত্যাশিত আর্থসামাজিক পরিবর্তন আসতে পারে না। তিনি বলেন যে, দেশের পশ্চাদপদতার মূল কারণ হল দারিদ্রদ্র্য, অশিক্ষা ও অজ্ঞতা। তাই তিনি মন্তব্য করেন, "Education is the sole remedy for improving the condition of the poor of the country."

বিবেকানন্দ লোকশিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং লোকশিক্ষার মাধ্যমে হিসেবে যাত্রা, কবিগান, কীর্তন প্রভৃতির পুনরুজ্জীবনের কথা বলেন। তিনি মনে করতেন লোকশিক্ষার জন্য ঘরে ঘরে গীতার পাঠ শুরু করতে হবে। লোকশিক্ষাকে তিনি তাই জাতির সব সমস্যার সমাধান বলে মনে করতেন।

স্বাস্থ্যশিক্ষা (Health education):- প্রকৃত শিক্ষা হল দেহ-মনের সুষম বিকাশ। মনের মূলভিত্তি হল দেহ। একমাত্র সুস্থ দেহে সুস্থ মন থাকতে পারে এবং সুস্থ দেহ সুস্থ মন, সুষম ব্যক্তিত্ব গড়তে সাহায্য করে। তাই বিবেকানন্দ রোগমুক্ত সুস্থ দেহ গঠনের জন্য খেলাধুলা ও শরীরচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, শরীরম মাধ্যম ধর্ম সাধনম। তাই তিনি গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলা শ্রেষ্ঠতর বলে অভিহিত করেছেন।

এই কেন্দ্রীকরণের ক্ষমতা যার যত বেশি, তার ধারণ ক্ষমতা তত বেশি। তাই তিনি মনঃসংযোগ বা মনের কেন্দ্রীকরণকে জ্ঞানের প্রকাশদ্বার বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যোগই একমাত্র মনকে কেন্দ্রীভূত করতে পারে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত গুণাবলির বিকাশ ঘটে। তাঁর মতে, "There is only method by which to attend knowledge that is called concentration" তিনি শিক্ষায় সংযম, ব্রহ্মহ্মচর্য, শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রভৃতির ওপর জোর দেন। এ ছাড়া তিনি স্বয়ংশিক্ষা ও মনোবিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাপদ্ধতির ওপর জোর দেন। 2023

শিক্ষাপদ্ধতি (Method of education):- বিবেকানন্দ শিক্ষায় মনের কেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এর মাধ্যমে মনঃসংযোগ আসে এবং শিক্ষা সহজ হয়।

শিক্ষকের ভূমিকা (Role of teacher):- বিবেকানন্দ শিক্ষায় শিক্ষকের গুরুত্বকে অস্বীকার করেননি। তাঁর মতে, গুরুর সাক্ষাৎ সংস্পর্শ ছাড়া কোনোরূপ শিক্ষা হতে পারে না। তিনি প্রাচীন গুরুকুল ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনের কথা বলেছেন। মানুষের মন হল যাবতীয় জ্ঞানের মূল উৎস। শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত জ্ঞান প্রকাশের জন্য কেবল অনুভাবনের প্রয়োজন। শিক্ষকের কাজ হবে ইতিবাচক অনুভাবন দ্বারা শিক্ষার্থীর জ্ঞানভাণ্ডারের দ্বার উন্মোচন করা। এক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে মূর্ত দৃষ্টান্তস্থাপনের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেবেন। শিক্ষক শিক্ষার্থীর ওপর কোনো বিষয় জোর করে চাপিয়ে দেবেন না।

স্ত্রীশিক্ষা (Women education):- বিবেকানন্দ নারীশিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন কারণ মেয়েরা শিক্ষিত না হলে একটি জাতি সংগঠিত হতে পারেনা। তিনি বলেন ভারতীয় নারীর সব সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ হল শিক্ষা।

সমাজসেবা ও শিক্ষা (Social service and education):- স্বামীজি বলেছেন সমাজসেবার আদর্শে শিক্ষার্থীদের উদ্‌বুদ্ধ ও নিয়োজিত করতে হবে। তাদের মধ্যে সেরার মনোভাব না তৈরি হলে শিক্ষা অসমাপ্ত থাকে। তাঁর এই মানবিক ভাবনা সঞ্জীবনী মন্ত্রের মতো কাজ করেছিল ও জনগণের মধ্যে এক জাতীয়তাবোধের জন্ম দিয়েছিল।

উপসংহার (Conclusion):- নিঃসন্দেহে বিবেকানন্দ ছিলেন ভারতবর্ষের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। উপনিবেশিক ভারতবর্ষে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে জাতিগঠনের প্রাথমিক শর্ত হল জাতীয় শিক্ষা ও জনশিক্ষা। তিনি শিক্ষার যে লক্ষণগুলির কথা বলেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আধ্যাত্মিকতা, চরিত্রগঠন, মনুষ্যত্বলাভ ও আত্মনির্ভরতা। তাঁর মতে, শিক্ষার মূলমন্ত্র হল- ব্রহ্মচর্য, শ্রদ্ধা ও আত্মবিশ্বাস।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ