প্রশ্ন: সামাজিক সচলনতা বলতে কি বুঝায়? শিক্ষার সঙ্গে সামাজিক সচলতার সম্পর্ক বর্ণনা করুন। 18Mark
ভূমিকা:- সামাজিক সচলনতা বলতে ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিসমষ্টিও
সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি স্তর থেকে অন্য কোনো স্তরে স্থান পরিবর্তন করাকে বোঝায়।
এটা হল এক ধরণের সামাজিক মর্যাদার পরিবর্তন। সমাজতত্ত্বে আলোচনায় সামাজিক সচলতা বলতে
সামাজিক কাঠামোর মধ্যেই একটি সামাজিক স্তর বা অবস্থা থেকে অন্য একটি স্তর বা অবস্থায়
উপনীত হওয়াকে বোঝায়।
সামাজিক বিচলন বা
Social Mobility:- ব্যক্তি যখন সামাজিক স্তরবিন্যাসের
একটি স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থান পরিবর্তন করে, তখন এই প্রক্রিয়াকে সামাজিক বিচলন বা
Social Mobility বলে।
সামাজিক সচলতা :- এটি এক সামাজিক অবস্থান থেকে অন্য সামাজিক
অবস্থানে ব্যক্তি বা পরিবারের স্থানান্তর; যা অনুভূমিক (একই স্তরে) বা উল্লম্ব (উচ্চ
বা নিম্ন স্তরে) হতে পারে। এর দুটি প্রধান রূপ-
উল্লম্ব সচলতা: নিম্ন স্তর থেকে উচ্চ স্তরে (ঊর্ধ্বমুখী)
বা উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে (নিম্নমুখী) পরিবর্তন।
অনুভূমিক সচলতা: একই সামাজিক স্তরের মধ্যে পেশা বা স্থানের
পরিবর্তন।
অধ্যাপক সরোকিন -এর মতে , নিজের চেষ্টায় কোন ব্যক্তি যদি তার এবং
তার দলের সামাজিক ও মর্যাদার পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়, তাহলে সেই পরিবর্তিত সামাজিক
স্তরই হল সামাজিক সচলতার উদাহরণ।
Bernard
Barber (1057) বলেছেন, Social mobility as the movement, etter upwarded between
higher or lower classes, or more precisaly, movement between one role and
another that is evaluated as either higher or lower " অর্থাৎ, সামাজিক বিচলনকে
"উচ্চ বা নিম্ন শ্রেণির মধ্যে উর্ধ্বমুখী বা নিম্নগামী বা আরও স্পষ্টভাবে, একটি
অপেক্ষাকৃত পূর্ণ সময়ের কার্যকরীভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ভূমিকা এবং অন্যটির মধ্যে
চলন, যা উক বা নিম্ন হিসেবে মূল্যায়ন করা হয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।।
❏ অতএব, এটা বলা যেতে পারে যে সামাজিক বিচলন
একটি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজে এক অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানে চলে যায়। সামাজিক
বিচলন বলতে একটি ব্যক্তি বা বাক্তিদের একটি গোষ্ঠীর সামাজিক ভূমিকা এবং সামাজিক অবস্থানের
পরিবর্তনগুলিকে বোঝায়।
শিক্ষার সঙ্গে সামাজিক সচলতার
সম্পর্ক:-শিক্ষার সঙ্গে
সামাজিক সম্পর্ক সামাজিক সচলতার ক্ষেত্রে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
শিক্ষাকে বাদ দিয়ে কখনও সামাজিক বিচলনীয়তার কথা ভাবা যায় না। তাই সামাজিক বিচলনীয়তা
বা সচলতার ক্ষেত্রে শিক্ষার ভূমিকা হল নিম্নরূপ।
1. দক্ষতা ও জ্ঞানের বিকাশ: - শিক্ষা মানুষকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা
প্রদান করে, যা তাদের উৎপাদনশীল করে তোলে এবং উন্নত পেশা অর্জনে সহায়তা করে।
2.কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি:- শিক্ষাগত
যোগ্যতা থাকলে ভালো চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, ফলে আয় ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি
পায়, যা ঊর্ধ্বমুখী সচলতাকে ত্বরান্বিত করে।
3.সামাজিক বৈষম্য হ্রাস:- শিক্ষা
সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে, যা দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিতদেরও
সামাজিক সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে সাহায্য করে এবং দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে পারে।
4. সচেতনতা ও ক্ষমতায়ন:- শিক্ষা
ব্যক্তির মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা তাদের সামাজিক বাধা অতিক্রম করতে
ও নিজেদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে উদ্বুদ্ধ করে।
5. ডিজিটাল যুগে প্রাসঙ্গিকতা:- ডিজিটাল
শিক্ষার সুযোগ থাকলে ব্যক্তি ডিজিটাল অর্থনীতিতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, যা
আধুনিক সমাজে সচলতার জন্য অপরিহার্য।
6.দক্ষতা ও কর্মসংস্থান:- শিক্ষা
মানুষকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করে, যা শিল্পায়িত সমাজে কর্মসংস্থানের
সুযোগ বাড়ায় এবং উচ্চ আয় ও মর্যাদার পেশা পেতে সাহায্য করে, যা সরাসরি সচলতার কারণ।
7. সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি:- উচ্চ
শিক্ষা ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান ও সম্মান বৃদ্ধি করে, যা পরিবার ও ব্যক্তির সামগ্রিক
সামাজিক স্তরে উন্নীত করে।
8. সুযোগের সমতা: - শিক্ষা সুবিধাবঞ্চিতদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক
বৈষম্য কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে এবং দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে পারে, বিশেষত যখন সকলের
জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ থাকে।
8. সাংস্কৃতিক ও সামাজিক
মূলধন:- শিক্ষা শুধু পেশাগত নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূলধনও
তৈরি করে, যা নতুন সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং সুযোগের দরজা খুলে দেয়।
9. সামাজিক সচলতা বৃদ্ধিতে
সাহায্য :- শিক্ষা সামাজিক
কঠোরতা সামাজিক কু-সংস্কার সামাজিক স্তরবিন্যাস ইত্যাদিকে ধ্বংস করে দেয়। এছাড়া শিক্ষা
সমাজের মানুষের জন্মগত ও জাতিগত বৈষম্যকে দূরীভূত করে সামাজিক সচলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য
করে থাকে।
10. সামাজিক বিচলনীয়তা সৃষ্টি:-
শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, মানসিকতা
ও জীবনাদর্শের পরিবর্তন হয়, যার দ্বারা সামাজিক বিচলনীয়তা সৃষ্টি হয়।
11. সঠিক পথে পরিচালিত :- শিক্ষা উচ্চ সামাজিক মানমর্যাদা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যক্তির মধ্যে বিভিন্ন শক্তি, সামর্থ ও ক্ষমতার বিকাশসাধনে সাহায্য করে থাকে এবং সামাজিক সচলতাকে সঠিক পথে পরিচালিত ভয়ে থাকে।
12. জনগণের মধ্যে সামাজিক
সচেতনতা জাগিয়ে তুলা:- শিক্ষা একটি দেশের বিভিন্ন পশ্চাদবর্তীতাকে দূর করে তাকে উন্নতির দিকে এগিয়ে
যেতে সাহায্য করে। এটা জনগণের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন
করে।
13. ব্যক্তির আচার আচরণ
পরিবর্তন:- শিক্ষা হল সামাজিক বিচলনের চালিকাশক্তি-শিক্ষাই
পারে ব্যক্তির আচার আচরণ, রীতিনীতি, পারস্পরিক আন্তসম্পর্ক ও জীবনধারার মধ্যে পরিবর্তন
আনয়ন করতে। আর এর ফলে স্লামাজিক বিচলনীয়তার বা সচলতার সৃষ্টি হয়।
14. উৎপাদনশীল কাজ শেখানো
: - শিক্ষা শিক্ষার্থীদের অধিক পরিমাণে ব্যবহারিক
এবং উৎপাদনশীল কাজ শেখানোর মাধ্যমে সামাজিক সচলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কেননা একমাত্র
শিক্ষিত সামর্থযুক্ত শিক্ষার্থীরাই ওপরে যাবে এবং অন্যদিকে মানসিক ও শক্তি সামর্থের
দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী নীচে নেমে যাবে।
15. ব্যক্তিকে অন্ধকার থেকে
আলোয় নিয়ে আসে:- শিক্ষা ব্যক্তিকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসে।
অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল, স্পর্শকাতরতা থেকে মুক্তি, পরিশ্রমী ও সক্রিয় সামাজিক ব্যক্তিতে
পরিণত পরিবর্তন সাধিত হয়। বৃষ্টিতে শিক্ষা। যার ফলে ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক আর এই সামাজিক
পরিবর্তনের দ্বারাই সামাজিক সচলতার সৃষ্টি হয়।


0 মন্তব্যসমূহ
Thank you