প্রশ্ন- যথার্থতার সংজ্ঞা দিন ?
ভূমিকা:- কোনো
অভীক্ষা ব্যক্তির যে মানসিক বা শিক্ষাগত বৈশিষ্ট্যকে পরিমাপের জন্য প্রস্তুত করা
হয়েছে, অভীক্ষাটি কতটা নিখুঁত ও সার্থকভাবে তা পরিমাপে সক্ষম হচ্ছে তার মাত্রাই
হল অভীক্ষাটির যথার্থতা (Validity)।
অর্থাৎ,
ভৌতবিজ্ঞানের একটি পারদর্শিতার অভীক্ষা যে মাত্রায় বা যতটা নির্ভুলভাবে
শিক্ষার্থীর ভৌতবিজ্ঞানের জ্ঞান পরিমাপে সক্ষম, তাকেই বলা হবে অভীক্ষাটির যথার্থতা
এবং যে সূচক দ্বারা এই মাত্রা প্রকাশ করা হয় তাকে যথার্থতার সূচক (Index of
Validity) বলে।
অভীক্ষাটির যথার্থতা (Validity)।:- কোনো
অভীক্ষা যতটা সার্থকভাবে ও নির্ভুলভাবে অভীষ্ট গুণকে পরিমাপ করতে পারে বা সক্ষম
হয় তাই হল অভীক্ষাটির যথার্থতা।
Cronbach বলেন –
“ validity is the extent to which it measures, what it perparts to measure”
অর্থাৎ- যথার্থতা বলতে উদ্দেশ্য পরিমাপের সেই সীমাকে বোঝায় যে সীমা পর্যন্ত অভীক্ষা
বা পরিমাপকটি উদ্দেশ্য পরিমাপের সক্ষম।
Validity co-efficient :-
রাশি বিজ্ঞানে সহ সম্পর্ক কৌশল এর মাধ্যমে সাধারণত অভিক্ষার যথার্থতা নির্ণয় করা
হয়। সাধারণত অভিক্ষার সঙ্গে কোন নির্ণয়কের (criterion )সহসম্পর্ক নির্ণয় করা
হয়ে থাকে। একে Validity co-efficient বলে।
যথার্থতার
প্রকারভেদ):- শিক্ষাগত ও মনোজ্ঞানিক অভীক্ষার ক্ষেত্রে মূলত ৫ প্রকারের জয়
নির্ণয় করা হয়ে থাকে যার নিম্ন ছকের দ্বারা প্রকাশ করা হলো
Type of Validity
১. বিষয়বস্তুনির্ভর যথার্থতা
(Content Validity):- কোন অভিক্ষার বিষয়বস্তু নির্ভর যথার্থতা বলতে বোঝায়, সেই
অভিক্ষাটি কতটা ব্যাপকহারে বিষয়বস্তুর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্খিত আচরণগত
উদ্দেশ্যগুলিকে পরিমাপের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছে।
২. বহিঃনির্ণায়ক নির্ভর যথার্থতা
(Criterion-related Validity) : বহিঃনির্ণায়ক নির্ভর
যথার্থতার একটি সংজ্ঞা इ-“Criterion-related validity refers to the extent to
which test performance is related to some other valued measure of performance.”
অর্থাৎ, এই যথার্থতা নির্ণয় করার জন্য কোনো একটি নির্ণায়ক বা জ্ঞাত অভীক্ষার
ফলাফলের সঙ্গে বিবেচ্য অভীক্ষার ফলাফলের তুলনা করা হয়। গাণিতিক উপায়ে এই
যথার্থতা নির্ণয় করা যায় ও সাংখ্যমান সূচক দ্বারা প্রকাশ করা যায়। এই যথার্থতা
দুই ধরনের হয়ে থাকে—
(A) সহ-অবস্থানমূলক
যথার্থতা (Concurrent Validity) এবং (B) সম্ভাব্যতামূলক যথার্থতা (Predictive
Validity) |
(A) সহ-অবস্থানমূলক যথার্থতা
(Concurrent Validity) :- কোনো অভীক্ষার সহ-অবস্থানমূলক যথার্থতা বলতে বোঝায়, অভীক্ষাটির
পরিমাপ প্রচলিত অন্য কোনো অভীক্ষার পরিমাপের সঙ্গে কতটা সামস্যপূর্ণ।
(B) সম্ভাব্যতামূলক যথার্থতা
(Predictive Validity) :- কোনো অভীক্ষা কতটা সার্থকভাবে কোনো
শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সফলতার সম্ভাব্যতা পরিমাপ করতে পারে তাকে অভিক্ষাটির
সম্ভাব্যতামূলক যথার্থতা বলে।
👉 অভীক্ষার পরিমাপ যে মাত্রায় ভবিষ্যতের পারদর্শিতার সঠিক পরিমাপ
চলতে পারে তাই হলো অভিক্ষা বা পরিমাপকের সম্ভাবনামূলক যথার্থতা।
৩. সংগঠনগত যথার্থতা (Construct
Validity) : - কোনো অভীক্ষার সংগঠনগত যথার্থতা বলতে বোঝায় অভীক্ষাটির প্রাপ্ত
ফলাফল কতটা সার্থকভাবে কোনো বিশেষ মনোবৈজ্ঞানিক সংগঠনের তাৎপর্য নির্ণয়ে সহায়ক।
অর্থাৎ, Construct Validity may be defined as the extent to which test
performance can be interpreted in terms of certain psychological constructs.”
,👉 কোনো বস্তু বা ঘটনাকে সংজ্ঞা দিতে, ব্যাখ্যা করতে বা মন্তব্য
করতে ব্যক্তির মনের মধ্যে যে ভাবনা তৈরি হয় তাকেই সংগঠন (Construct) বলে।
৪. আপাত যথার্থতা (Face Validity) :-
শিক্ষামনোবিদগণের মতে, “Face validity is
the extent that the test appears to measure what is to be measured.” কিছু কিছু
ক্ষেত্রে কোনো অভীক্ষার যথার্থতা নির্ণয়ে অভীক্ষাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা করা
হয় না। সেক্ষেত্রে গতানুগতিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অভীক্ষাপত্রটি আপাতভাবে বা
উপরিগতভাবে বিচারকরণের মাধ্যমে অভীক্ষার যথার্থতা নির্ণয় করা হয়। একেই আপাত
যথার্থতা (Face Validity) বলে ।
👉 কোনো অভীক্ষার উপর বর্ণিত যথার্থতা সম্পর্কে বিশদ বিশ্লেষণের
পূর্বে অভীক্ষার যথার্থতা সম্পর্কে ধারণাকে আপাত যথার্থতা বলা হয়। অভীক্ষাকে দেখে
যথার্থ বলে বোধ হচ্ছে কিনা তাকেই বলে আপাত যথার্থতা। |
৫. উপাদানমূলক যথার্থতা (Factorial
Validity) :- শিক্ষামনোবিদগণের মতে
“Factorial Validity is the extent of correlation of the different factors with
the whole test” অর্থাৎ, কোনো অভীক্ষার বিভিন্ন উপাদানগুলি নিজেদের মধ্যে ও সমগ্র
অভীক্ষার সলো কতটা সম্পর্কযুক্ততার মাত্রাই হল উপাদানমূলক যথার্থতা।


0 মন্তব্যসমূহ
Thank you