চুয়ে পড়া নীতি (Trickle-down theory) বলতে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ধারণা বোঝায়, তবে প্রধানত এটি অর্থনীতিতে বোঝায় যে, ধনীদের সুবিধা দিলে সেই সুবিধা চুইয়ে নিচে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে; আর শিক্ষায় বোঝায়, এলিট শ্রেণীকে শিক্ষা দিলে তা ধীরে ধীরে সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে (যেমন মেকলের শিক্ষানীতি)। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে সুবিধা উপর থেকে নিচের দিকে ধাপে ধাপে প্রবাহিত হয়।
অর্থনীতিতে (Trickle-Down Economics):
মূল ধারণা: ধনী ব্যক্তি বা বড় কর্পোরেশনগুলোকে কর ছাড় বা অন্যান্য সুবিধা দিলে তারা সেই অর্থ বিনিয়োগ করবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির উন্নতি ঘটাবে, যার সুবিধা শেষ পর্যন্ত দরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের কাছে পৌঁছাবে।
প্রবক্তা: এই তত্ত্বের একটি রূপকে জন মেনার্ড কেইনস-এর ধারণার বিপরীতে দেখা হয়, যদিও এটি "ট্রিকল ডাউন" নামে পরিচিত।
শিক্ষায় (Downward Filtration Theory of Education):
মূল ধারণা: ব্রিটিশ আমলে লর্ড মেকলে প্রবর্তিত এই নীতি অনুযায়ী, সমাজের উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সীমিত সংখ্যক মানুষকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করা হবে, এবং সেই শিক্ষিত ব্যক্তিরা অন্যদের মধ্যে জ্ঞান ছড়িয়ে দেবেন, অর্থাৎ শিক্ষা চুইয়ে পড়বে।
উদ্দেশ্য: এটি ছিল ভারতীয়দের মধ্যে 'রক্তে ও বর্ণে' ভারতীয় কিন্তু 'মননে ও মতামতে' ইংরেজ তৈরি করার একটি কৌশল, যা ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে।
অন্যান্য ক্ষেত্রে:
পদার্থবিদ্যায়: Principle of Least Action (সর্বনিম্ন কর্মের নীতি) এর সাথেও এর মিল আছে, যেখানে কোনো প্রক্রিয়া সবচেয়ে কম শক্তি বা কাজের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
সামাজিক প্রেক্ষাপটে: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে, যেখানে কিছু ব্যক্তি প্রতিবাদের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে।
সুতরাং, 'চুয়ে পড়া নীতি' বলতে বোঝায় কোনো সুবিধা বা প্রভাব উপর থেকে নিচে, একটি স্তর থেকে পরবর্তী স্তরে ধীরে ধীরে প্রবাহিত হওয়া।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you