Ticker

100/recent/ticker-posts

Translate

 প্রশ্ন মানসিক সুস্বাস্থ্যের সাধারণ লক্ষণ গুলি লেখ।

ভূমিকা :- স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। প্রতিটি মানুষের যেমন দৈহিক স্বাস্থ্য আছে তেমনি মনেরও স্বাস্থ্য আছে। শরীর ভাল না থাকলে আমরা মনের দিক থেকে অসুস্থ হযে পড়ি এবং মানসিক ভাবে ভেঙ্গেপড়ি,যার বহিঃ প্রকাশ ঘটে আমাদের আচরণের মাধ্যমে। বাস্তব জীবনে ইতিবাচক আবেগীয় অবস্থা এবং মানসিক তৃপ্তি লাভের মধ্যে দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব হয়। আর প্রজনন স্বাস্থ্য হচ্ছে মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থোর একটি অংশ বিশেষ। মায়ের গর্ত থেকে শুরু করে একটি শিশুর শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও প্রৌঢ়জীবন বিকাশের প্রতিটি স্তরেই প্রজনন স্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িত। সুস্থ, স্বাভাবিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ জীবনের জন্য প্রতিটি মানুষেরই প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান থাকতে হবে। আমাদের দেশে মানসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে তাই প্রতিটি মানুষের মানসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষা সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক।

মানসিক স্বাস্থ্য:- শরীর ও মনের দিক থেকে সুপ্ত অবস্থা ও পরিবেশের সাথে সুপ্ত সংগতি বিধান করাকে মানসিক স্বাস্থ্য বলে।

    মানুষের সকল আচরণই উদ্দেশ্যমূখী। এ উদ্দেশ্যমুখী আচরণের মূলে আছে কতগুলো চাহিদা। মানুষ তার বাস্তব জীবনের সকল সমস্যা মেনে নিয়ে তার চাহিদাগুলো সম্পন্ন করতে পারে। তাতে তার মানসিক তৃপ্তি লাভ হয়। পরিবেশের সাথে সংগতি রেখে মনের জটিল প্রক্রিয়া গুলোকে সহজ পথে পরিচালিত করতে পারাই মানসিক স্বাস্থ্য।

মানসিক স্বাস্থ্যের লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য:- মানুষ যে কোনো সময় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। শরীরের সাথে মনের একটি আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে। শরীর ভাল না থাকলে মনও ভাল থাকেনা। পরিবেশের বিভিন্ন উৎীপকের সঙ্গে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলে আমাদের মন কখনো কখনো উৎফুল্ল এবং কখনো দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই সবসময় মানসিক দিক থেকে পুরোপুরি সুপ্ত মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পন্ন বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণ গুলো হলো

১। শারীরিক ও বৃদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ:- শরীর ভাল না থাকলে মনও ভাল থাকেনা। তাই মনকে ভাল রাখতে হলে অবশ্যই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। অন্যদিকে চার পাশের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য চিন্তা করার ক্ষমতা, যুক্তি প্রয়োগ ও বিচার করার ক্ষমতা থাকা আবশ্যক।

২। আত্মনিশ্বান: ব্যক্তির দৃঢ় চিত্ত ও আত্মবিশ্বাসী হওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের একটি অন্যতম বৈশিষ্টা।

৩। পরিস্থিতি মানিয়ে চলা:-  মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারী বাক্তিরা জীবনে কোথাও পিদসা হয়না। তারা খুব দৃঢ় চিত্তের হয়। মানসিক শক্তির কারণে তারা যে কোনো পরিবেশ মোকাবেলা করতে পারে।

৪। পরিপূর্ণ আত্মতৃষ্ণি:-  মানসিক স্বাস্থোর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আত্মতৃপ্তি। ব্যক্তির পরিপূর্ণ আত্মতৃপ্তিই হলো মানসিক স্বাস্থ্যের একটি লক্ষণ।

৫। নিজের চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতা:-- মানসিক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ব্যক্তি তার চাহিদার মাত্রা সম্পর্কে সব সময় সচেতনথাকে। অবাস্তব চাহিদা সৃষ্টি করে সে অসুখী হতে চায়না।

৬। আত্মমূল্যায়ন ক্ষমতার অধিকারী:-  মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারীরা সব সময় নিজের আত্মমূল্যায়ন করতে পারে অর্থাৎ তারা নিজেকে মূল্যায়ন করতে পারে।

 উপসংহার:- অবশেষে উপরিক্ত আলোচনার থেকে বলা যেতে পারে যে একজন মানসিক স্বাস্থ্য সুপ্ত ব্যক্তি সুস্বাস্থ্যের অধিকার ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলতে পারে।। আইন একজন সুস্বাস্থ্য স্বাস্ত্যবান বাক্তি ব্যর্থতা, হতাশা কি দূর করে সরিয়ে রেখে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী মানসিক শক্তি ব্যবহার করে মানসিক চাপকে ন্যূনতম পর্যায়ে রেখে লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যায়।

প্রশ্ন- মানসিক প্রতিবন্ধকতা অর্থ লেখ। মানসিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করো।

ভূমিকা- mental retardation বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বা মানসিক প্রতিবন্ধী সংজ্ঞা (Definit) কোনো ব্যক্তি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বা স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন বলতে আমরা কী বুঝি? বৃদ্ধিপ্রতিবন্ধী হল, জীবনের শুরু থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক দৌর্বল্য, বাড়ন্ত বয়সে বুদ্ধি বিকাশের ধীরগতি, শিক্ষা গ্রহণে অক্ষমতা এবং সামাজিক ও আচরণগত সামঞ্জস্যতা সাধনের অভাব।


আমেরিকান এসোসিয়েশন অন মেন্টাল ডেফিসিয়েন্সি American Association on Mental Deficiency (AAMD), ১৯৫৯ সালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার বিষয়ক পরিভাষা ও শ্রেণীকরণ সম্বলিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। এতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার একটি সংজ্ঞাও দেয়া হয়। ঐ সংজ্ঞাটি ১৯৬১ সালে সংশোধন করে নিম্নলিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়

"বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা বলতে সাধারণত গড় মানের চেয়ে কম বুদ্ধি নির্দেশ করে যা বাড়ন্ত বয়সে সূচিত হয় এবং এই অবস্থানটি আচরণের অক্ষমতার সাথে সম্পর্ক যুক্ত (Herber, 1961-p-3)।" এর প্রায় বারো বছর পরে AAMD প্রদত্ত পুনঃ শোধিত সংজ্ঞাটি এরকম

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা বলতে সাধারণত গড় বৃদ্ধির চেয়ে সুষ্পষ্টভাবে কম বৃদ্ধি অভিযোজনমূলক আচরণের স্বপ্নতার সাথে সংযুক্ত থাকে এবা অবস্থাটি বিকাশমূলক পর্যায়ে বা বাড়ন্ত বয়সে প্রকাশ পায় (Gronaman, 1983-p-5)"। পারলিক আম ১০১-৪৭০, The individuals with Disabilities Education Act (IDEA) 1990-সনে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার সংজ্ঞা দেয় Mental retardation means significantly sub average general intellectual functioning existing concurrently with deficits in adaptive behaviour and manifested during the developmental period that adversely affects a childs educational Performance


সংজ্ঞানুসারে প্রতিবন্ধিতার অর্থ- সাধারণ জ্ঞানীয়/বৌদ্ধিক কার্যাবলী তাৎপর্যপূর্ণভাবে গড় মানের চেয়ে (নিচে অবস্থা) কম বা উপযোজনশীল আচরণের স্বল্পতার সাথে সংযুক্ত থাকে এবং বিক লক পর্যায়ে হয় যা কি না শিশুর শিক্ষাকার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।


মানসিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের জন্য নির্দিষ্ট বিদ্যালয় কিংবা সাধারণ সমন্বিত বিদ্যালয় যেখানেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হোক না কেন, এদের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষকদের নিম্নলিখিত পাঠ্যক্রমিক পরিবর্তনগুলো মেনে চলতে হবে।

১. শ্রেণীকক্ষে শুধু মৌখিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করলে তা শিশুর পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। বরঞ্চ শিক্ষণীয় বিষয়বস্তুকে যতো বেশি সম্ভব বাস্তব উদাহরণ ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দিতে হবে। যেমন শিক্ষক যখন পড়াবেন, 'আ' আমটি আমি খাব পেড়ে।

তখন বাস্তবে অভিনয় করে তাকে দেখাতে হবে অজগর সাপ (এখানে যে কোনো সাপ) কীভাবে তেড়ে আসে এবং গাছ থেকে কীভাবে আম পেড়ে খাওয়া হয়। এর জন্য কৃত্রিম সাপ এবং কৃত্রিমভাবে গাছে স্কুলে-থাকা আম ইত্যাদি শিক্ষোপকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

২. শিশু যে সকল শব্দের সঙ্গে পরিচিত কেবল সেই শব্দগুলোকে শিক্ষাদানকালে শিক্ষক ব্যবহার করবেন। হঠাৎ করে নতুন শব্দের ব্যবহারে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের পক্ষে শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু বোধগম্যতার বাইরে থেকে যাবে। শিক্ষক নতুন শব্দ ব্যবহার করতে চাইলে পূর্বেই বাস্তব উদাহরণের সহায়তায় এবং বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ক্রমাগত অনুশীলনের মাধ্যমে শিশুকে ঐ নতুন শব্দটির অর্থ ও তার ব্যবহার সম্বন্ধে ধারণা দেবেন।

৩. শিক্ষাদানকালে যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষণ সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। উপকরণগুলো উজ্জ্বল রঙের এবং অল্পদামের হওয়াই বাঞ্ছনীয়।


৪. শিক্ষক কর্ম বিশ্লেষণ (Task analysis) পদ্ধতিতে প্রতিটি শিক্ষণীয় বিষয়কে ছোটো ছোটো পরিমাপযোগ্যা এককে ভাগ করে শিক্ষার্থীর সামনে পর্যায়ক্রমে উপস্থিত করবেন। কী ধরনের বিষয়বস্তু শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে শিক্ষক সামনের সারি থেকে পেছনের সারির একক বা বিপরীতক্রমে শিক্ষার্থীকে বিষয়বস্তু শেখাতে পারেন।

৫. শিক্ষাদানকালে শিক্ষক শিশুর পরিবেশে পরিচিত অভিজ্ঞতা দিয়েই শিক্ষাদান শুরু করবেন। একটি শিক্ষনীয় দক্ষতা শিশু অর্জন করার পরও বারবার উক্ত দক্ষতাটিকে শিশুকে দিয়ে অনুশীলন করাতে হবে।

৬. বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখবার ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। তাই এদেরকে একটানা বেশি সময় ধরে কোনো বিষয়ে শিক্ষাদান করলে তা কার্যকর হয় না।

৭. অন্যান্য সাধারণ শিশুদের ন্যায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের খেলার মাধ্যমে শিক্ষাদান করলে তা বেশি কার্যকর হয়। কোনো কিছু লিখতে দিলে ছবি অআঁকা, রঙ করা ইত্যাদির মাধ্যমে বিষয়ের জ্ঞানকে প্রকাশ করার সুযোগ বেশি করে তৈরি করে দিতে হবে। হাত ও চোখের ক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য কাঁচি দিয়ে কাগজ কাটা, আঠা দিয়ে কাগজ জুড়ে দেয়া, কাগজের ফুল বা খেলনা বানানো ইত্যাদি দক্ষতা শিশুকে শেখানো যেতে পারে।

৮. শিশু যাতে পর্যায়ক্রমে এবং সুসংবদ্ধভাবে বিভিন্ন কাজ করতে পারে তার জন্য শিশুকে দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষণীয় দক্ষতাগুলোকে যতোটা সম্ভব সহজ ও সরলভাবে শিশুর সামনে উপস্থিত করতে হবে। শিশু যাতে একক বা দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় কাজ করতে পারে এবং শিক্ষকের সঙ্গে ও নিজেদের মধ্যে মৌখিক ভাষার মাধ্যমে যোগাযোগ গড়ে তুলতে ও মনোভাব প্রকাশ করতে পারে তার জান্য সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।

৯. শিশু যাতে সাধারণভাবে জীবন-যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলোকে অর্জন করতে এবং বিভিন্ন কর্ম পরিবেশে সেগুলোকে ব্যবহার করতে পারে তার জন্য শিশুকে সহায়তা করতে হবে। এ ছাড়াও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়মিত পরামর্শদান ও বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ দেয়া অত্যন্ত জরুরি।

১০. সাধারণ বিদ্যালয়ে সমন্বিত শিক্ষায় মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুতে শিক্ষকের নিকটে এবং সামনের সারিতে বসাতে হবে। শিশুর প্রতিটি সঠিক উত্তর বা প্রদর্শিত কর্মদক্ষতাকে তাৎক্ষণিক পুরস্কৃত করতে হবে।

১১. প্রতিবন্ধী শিশুর পিতা-মাতার সঙ্গে শিক্ষককে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং পিতামাতাকে শিশুর বিকাশ, পরিচর্যা, শিক্ষা ও পুনর্বাসন সম্বন্ধে নিয়মিত পরামর্শদান করতে হবে।


বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানে যুক্ত প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষিকাকে হতে হবে বুদ্ধিদীপ্ত, সৃজনশীল, ধৈর্য্যশীল, অধ্যবসায়ী এক নিরলস গবেষক। তার গবেষণার ক্ষেত্র শিল্পমনস্তত্ত্ব, গবেষণার বিষয় মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু এবং গবেষণাগার হল শিশুর চারিদিকের সমাজ এবং বিদ্যালয়। যে-সকল নাক্তি নিরন্তর গবেষণাতে আগ্রহী নন, তারা অপারগ। কারণ কোনো সুজন বৃদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর প্রতিবন্ধকতার কারণ, প্রকৃতি, প্রতিবক্তিতাজনিত সমস্যা বা সামাজিক পারিবারিক প্রেক্ষাপট এক নয়। সুতরাং একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর ক্ষেত্রে যে নিয়ম নীতি সুফল দেয় তা অন্যের ক্ষেত্রে একেবারেই নাও প্রযোজ্য হতে পরে।

প্রশ্ন- মনোযোগের বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ণায়ক গুলি কিকি। মনোযোগের আধুনিক মতবাদ গুলি লেখ।

ভূমিকা:- মনোযোগের নির্ধারক (Determinants of Attention) মনোযোগ একটি নির্বাচনধর্মী প্রক্রিয়া। যে শর্তগুলি মনোযোগের বস্তু নির্বাচনে সহায়তা করে সেইগুলিকেই সাধারণভাবে মনোযোগের নির্ধারক বলা হয়ে থাকে। সাধারণত মনোযোগের দু প্রকার নির্ধারক দেখা যায়

(১) বস্তুগত নির্ধারক (Material or Objective Determinants)

(2) বাক্তিগত নির্ধারক (Personal or Subjective Determinants) বস্তু বা উদ্দীপকের কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্য যখন আমরা মনোযোগী হই (1) বস্তুগত নির্ধারক (Material or Objective Determinarits) তখন সেগুলিকে বলা হয় বস্তুগত নির্ধারক। এই বস্তুগত নির্ধারকগুলি নিম্নরূপ-

(1) তীব্রতা (Intensity)। সবচেয়ে তীব্র উদ্দীপক আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। যেমন তীব্র আলো, গাঢ় রং, প্রচণ্ড শব্দ ইত্যাদি। অর্থাৎ বস্তু তার হিসাব উদ্দীপনার তীব্রতার দরুন মনোযোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

(ii) বিস্তৃতি (Extensity) উদ্দীপকের বিস্তৃতির জন্যও আমরা কোনো বস্তুর প্রতি মনোযোগী হই। যেমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ যা অস্বাভাবিক ক্ষুদ্র বস্তুর প্রতি আমরা মনোযোগী হই।

(i) পুনরাবৃতি (Repitition) কম তীব্র উদ্দীপকও বার বার পুনরাবৃত্তির ফলে ক্ষীণ কান্নার আওয়াজও বার বার মনোযোগের কারণ হতে পারে। যেমনপুনরাবৃত্তির জন্য মনোযোগী হতে বাধ্য করে।

(iv) অভিনবত্ব (Novelty): অভিনবত্ব বস্তুর একটি নিজস্ব ধর্ম। তাই অভিনব কোনো বিষয় আমাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করে। যেমন-অভিনব পোশাক পরিহিত কোনো ব্যক্তির প্রতি আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই মনোযোগ দিয়ে থাকি।

(v) গতিশীলতা (Movement) স্থির বস্তুর চেয়ে গতিশীল বস্তু আমাদের দৃষ্টি বেশি আকর্ষণ করে। হাঁটতে হটিতে কোনো বালক যদি হঠাৎ দৌড়োতে শুরু করে তাহলে তার প্রতি আমরা বিশেষভাবে আকৃষ্ট হই।

(vi) পরিবর্তন (Change) উদ্দীপকের মধ্যে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। শান্ত পরিবেশে কেউ উচ্চস্বরে কথা বলে উঠলে আমরা তার প্রতি মনোযোগী হই।

(vii) স্থায়িত্ব (Duration) উদ্দীপকের স্থায়িত্বের উপরও আমাদের মনোযোগ নির্ভর করে। যেমন কোনো গান যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে তাহলে তার প্রতি আমরা মনোযোগী হই।

(viii) অবস্থিতি (Position): কোনো বস্তুর বিশেষ অবস্থানও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। খবরের কাগজের ভিতরের পাতাগুলি থেকে আমরা প্রথম পাতার উপরই বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকি।

(ix) বিচ্ছিন্নতা (Isolation) একটি বস্তুকে যদি অন্যান্য বস্তু থেকে পৃথক করে রাখা হয় তাহলে সেটির প্রতি আমাদের নজর পড়ে। অর্থাৎ কোনো বিচ্ছিন্ন বস্তু আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

মনোযোগের আধুনিক মতবাদ।

মনোযোগ কথার অর্থ হল মনকে একান্তারাবে যুক্ত করা। সাধারণতঃ মনোনিবেশ কথাটির সমার্থক হিসেবে ব্যবহার কয়ে থাকি। অর্থাৎ, মনোযোগ বলতে, কোন বস্তু সম্পর্কে একান্তাবে সচেতন হওয়াকে যুক্তি। কিন্তু শুধুমাত্র সচেতনাত মনোযোগ নয়। আধুনিক মনোবিদগণ প্রত্যেকেই মনোযোগের ক্রিয়াশীলতার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তবে তাঁরা তার সচেতনতার দিকতে উপেক্ষা করেননি। মনোবিদ ম্যাণ্ডুপাল (McDougall)। বলেন, 'যে মানসিক সক্রিয়য়া আমাদের প্রত্যাক্ষণের উপর প্রভাব বিস্তার করে, তাই হল মনোযোগ। মনোবিদ সীগউট (Stout) একই ভাবে মনোযোগের সংজ্ঞা দিয়েছেন, মানুষের জ্ঞানমূলক প্রক্রিয়ার পেছনে যে মানসিক সক্রিয়ায়া কাজ করে, তাই মনোযোগ (Attention is conation determining cognition)। এই মানসিক সক্রিয়তা (Conation) যত বেশী হবে মনোযোগও তত তীব্র হবে। এই ধরনের বন্ধু সংজ্ঞা মন্যেবিদগণ নিয়েছেন। কিন্তু এই সংজ্ঞা থেকে তার প্রকৃত রূপ সম্পর্কে আমাদের ধারণা হয় না। তা ছাড়া, লক্ষ্য করা গেছে, কোন সংজ্ঞার মধ্যেই মনোযোগ প্রক্রিয়ার সব বৈশিষ্টাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সুতরাং, এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হলে তার বৈশিষ্ট্যগুলি বিশ্লেষণ করা দরকার।


মনযোগের বৈশিষ্ট্য। Characteristics of Attention):-এক। আধুনিক মনোবিদগণ এ বিষয়ে একমত যে, মনোযোগ (Attention) মনের একটি কেন্দ্রানুর প্রক্রিয়া (Central process) অর্থাৎ, এই প্রক্রিয়ার ফলে উদ্দিষ্ট বস্তু আমাদের চেতনার কেন্দ্রস্থলে অবচেতন মন চেতনার ক্ষেত্র চেতনার কেন্দ্র

প্রশ্ন প্রেষণা প্রসঙ্গে আত্মপ্রতিষ্ঠা তত্ত্বটি আলোচনা করো।

উত্তরঃ- ম্যাসলোর প্রেষণার তত্ত্ব (Maslow's Theory of Motivation) মনোবিদ ম্যাসলো বলেছেন মানুষ তার চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে একটি নির্দিষ্ট ক্রমে। চাহিদা একটি নির্দিষ্ট ক্রমিক স্তরে সজ্জিত থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি জ্বরের চাহিদা পূরণ না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই বাক্তি সেই স্তরের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে। পূরণ হলে পরবর্তী উচ্চস্তরের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে।

এবার আমরা ম্যাসলো যে চাহিদাগুলি উল্লেখ করেছেন সেগুলি আলোচনা করব।

ম্যাসলোর তত্ত্বে উল্লেখিত চাহিদাগুলিকে দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়-

অভাবজনিত চাহিদা (Deficiency need) এই চাহিদাগুলি পূরণ না হলে মানুষের শারীরবৃত্তীয় যা জৈবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এই চাহিদা তৈরি হলে মানুষ সেই চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে এবং চাহিদা পূরণ হলে আর কাজটি করতে প্রেষণা যোষ করে না। অর্থাৎ, এই ধরনের চাহিদা সীমিত। ম্যাসলোর তত্ত্বের প্রথম চারটি চাহিদা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত শারীরবৃত্তীয় চাহিদা, নিরাপত্তার চাহিদা, অন্তর্ভুক্তির চাহিদা ও আন্তশ্রদ্ধার


বৃদ্ধিজনিত চাহিদা (Growth of meta need): এই চাহিদাগুলির ব্যক্তি অপরিসীম অর্থাৎ, এই চাহিদাগুলি একবার পূরণ হলেও কাজটি করার প্রেষণা থেমে যায় না, বরং এটি আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেমন-জানার চাহিদা (need to understand)। এই চাহিদার কোনো সীমা নেই এবং এটি ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ম্যাসলোর তত্ত্বের শেষ তিনটি চাহিদা এই শ্রেণিভুক্ত-আনের চাহিদা, নান্দনিক চাহিদা ও আত্মপ্রকাশের চাহিদা।

শারীরবৃত্তীয় চাহিদা (Physiological need): এই চাহিদাগুলি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজন, যেমন-খানা, আলে, বাতাস, জল, ঘুম ইত্যাদি। যে ব্যক্তির এই চাহিদাগুলি পূরণ হয় না, তার জন্য চাহিদা সৃষ্টি হবে না। এই ধরনের চাহিদা পূরণের জন্যই বিদালয়ে mid-day meal-এর ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা, বাথরুমের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়।

নিরাপত্তার চাহিদা (Safety need) শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণের পর এই চাহিদা সৃষ্টি হয়। যেমন-সুরক্ষা, ভয় বা উদবেগ থেকে মুক্তি, সংহতি, সুস্পষ্টতা ইত্যাদির চাহিদা। যদি কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায় বা কোনো শিক্ষকের ক্লাসে যেতে ভয় পায় তাহলে বুঝতে হবে তার নিরাপত্তার চাহিদা বিঘ্নিত হচ্ছে।

অন্তর্ভুক্তির চাহিদা (Love & Belongingness need) পূর্বের চাহিদাগুলি পূরণ হবার পর এই চাহিদা সৃষ্টি হয়। মানুষ স্বাভাবিকভাবে সমাজবদ্ধ জীব, তাই সে দলবদ্ধভাবে বা তার পরিবারের সঙ্গে থাকতে চায় ও ভাদের ভালোবাসা পেতে চায়। এই চাহিনাগুলি হল অন্তর্ভুক্তির চাহিদা।

বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীরা পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে ও সময় কাটাতে চায়। এটাই স্বাভাবিক, না হলে বুঝতে হবে পূর্ণের চাহিদা পূরণে কোনো সমস্যা রয়েছে।

আত্ম্যশ্রদ্ধার চাহিদা (Self-esteem need) এ চাহিদার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের সম্বন্ধে সচেতন হয়, অর্থাৎ, আত্মমর্যাদার চাহিদা তৈরি হ সে চায় অন্যরা তাকে শ্রদ্ধা করুক বা গুরুত্ব দিক। সেজন্য সে নিজের যোগাতা অনুসারে এমন ধরনের আচরণ করে যাতে অন্যরা তাকে সম্ভ্রম দেখায় বা সম্মান করে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে দিলে এই ধরনের চাহিদা পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

জনের চাহিদা (Cognitive need or need to understand) সমস্যা সমাধানের কিংবা নতুন কিছু করার চাহিদার পরিতৃপ্তি ঘটে। এই স্তরের চাহিদার মাধ্যমে মানুষের জানায়, কৌতূহল নিবৃত্তির, কোনো বিদ্যালয়ে এই ধরনের চাহিনার সৃষ্টি ও তা পুরণ করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও অন্যান্য বই, খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন ইত্যাদি পড়ার প্রবণতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায়। সুতরাং, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই স্তরের চাহিদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে অনেক সময় 'known need' ও বলে।

নান্দনিক চাহিদা (Aesthetic need)। এটি হল সৌন্দর্থবোধের ও সৌন্দর্যভোগের চাহিদা।


আত্মপ্রকাশের চাহিদা (Self-actualization need) ম্যাসলোর মত অনুসারে এটি মানুষের সর্বোচ্চ স্তরের চাহিদা। প্রতিটি মানুষের কিছু সক্ষমতা ও দুর্বলতা রয়েছে। এগুলি বুঝে মানুষ যখন নিজেকে প্রকাশ করতে চায় তখন বুঝতে হবে তার মধ্যে আত্মপ্রকাশের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো মানুষ যা হতে চায় তা হবার চাহিদা অর্থাৎ পরিপূর্ণ হবার চাহিদাকে বলে আত্মপ্রকাশের চাহিদা। এই ধরনের চাহিদার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারদর্শিতার প্রেষণ তৈরি হয়।

প্রশ্ন:-  বুদ্ধির সম্পাদনী অভিক্ষা।

উত্তরঃ কার্যসম্পাদনী অভীক্ষাও এক ধরনের ভাষাবিহীন অভীক্ষা। তবে ভাষাবিহীন অভীক্ষার সঙ্গে এর কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কার্যসম্পাদনী অভীক্ষায় হাতে কলমে বাস্তবে কাজ করতে হয় এবং তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। ভাষাবিহীন সব অভীক্ষায় হাতে-কলমে কাজ না করলেও হয়। কার্যসম্পাদনী অভীক্ষা ব্যক্তিকে দৈহিক দিক থেকে সক্রিয় করে। অর্থাৎ, যে অভীক্ষার দ্বারা ব্যক্তির ব্যাবহারিক কার্যধারার মূল্যায়নের মাধ্যমে বুদ্ধির পরিমাপ করা হয়, তাকে কার্যসম্পাদনী অভীক্ষা বলা হয়। এই ধরনের অভীক্ষার বৈশিষ্ট্যসমূহ হল-

কার্যসম্পাদনী অভীক্ষা ব্যক্তির বৃদ্ধি পরিমাপের যে ধরনের অভীক্ষায় বাক্তিকে হাতে-কলমে কাজ করানো হয় এবং কাজের দক্ষতার বিচারে বুদ্ধির পরিমাপ করা হয়, তাকে কার্যসম্পাদনী বৃদ্ধির অভীক্ষা বলা হয়।

(১) এটি এক ধরনের ভাষাবিহীন অভীক্ষা।

(ii) এই ধরনের অভীক্ষায় বাস্তব বিষয়ে হাতে কলমে কাজ করতে দেওয়া হয়।

(iii) এই অভীক্ষায় ব্যবহৃত পদগুলিকে কাঠিন্যের ক্রম অনুসারে স্থাপন করা হয়।

(iv) এই ধরনের অভীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

(v) এই ধরনের অভীক্ষার মূল্যায়নকে সংখ্যামান দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

এগুলিই হল কার্যসম্পাদনী অভীক্ষার বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সাভারণত বাক্তির বৌদ্ধিক ক্ষমতাকে নির্ণয় করার জন্য বা পরিমাপ করার জন্য। ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের অভীক্ষার বিভিন্ন ভাগ রয়েছে। যেমন-

প্রশ্ন :- সাফল্য লাভের প্রেষণা।

ভূমিকা:-- স্বাভাবিকভাবেই এটা দেখা যায় কোন শিক্ষার্থী অন্যদের থেকে বেশি পরিশ্রম করছে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য সাফল্য লাভের এইযে চাহিদা কি বলা হয় সাফল্য লাভের প্রেষণা প্রত্যেকের মধ্যেই কমবেশি এই প্রেষণা থাকে। যাদের এই প্রেষণা বেশি তারা কঠিন কাজকে শেষ করতে বা কাজের মানকে উন্নত করতে খুব গুরুত্ব দেয়। ম্যাকক্লিলান্ড এই প্রেষণাকে গাণিতিক আকারে প্রকাশ করেছেন ।

এখানে সাফল্যলাভের প্রেষণা দিক (Acheivement motive)

1. লক্ষ্যের সম্মুখীন হওয়ার প্রবণতা (Tendency to approach achievement goall

2. ব্যর্থতা এড়িয়ে যাবার প্রবণতা:-  (ব্যর্থতা এড়ানোর প্রবণতা) অর্থাৎ, যে ব্যক্তির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবার প্রবণতা বেশি এবং ব্যর্থতা এড়িয়ে যাবার প্রবণতা কম তার সাফল্যের প্রেষণা বেশি।

যে ব্যক্তির এই প্রেষণা বেশি সে জীবনে সাফল্য পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। এই ধরনের প্রেষণাসম্পন্ন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে পারে। এরা তুলনামূলক কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কাজ পছন্দ করে।  তাদের কাজের মূল্যায়নও করে। এরা কাজ করার সঙ্গে সঙ্গেই ফললাভের আশা অনেকসময় করে না অর্থাৎ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা মনে রেখেও কাজ করে।


McClelland & Winter (1969) এবং Hoyenga & Hoyenga (1984) এঁদের মত অনুসারে সাফল্যলাভের প্রেষণা যে ব্যক্তিদের বেশি থাকে তাদের নিম্নলিখিত বৈশিষ্টাগুলি দেখা যায়-

(i) এরা সেই সমস্ত কাজকেই পছন্দ করে যেগুলি মাঝারি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক (rmoderately challenging) এবং যেগুলিতে বাক্তি সাফল্যলাভপ্রত্যাশা (promisesuccesss) করে। এজন্য এই ধরনের বাক্তিরা খুব সহজ কাজ পছন্দ করে না,কারণ এ ধরনের কাজ তাদের সাফল্য লাভের চাহিনাকে পূরণ করে না। আবার খুব কঠিন কাজও এরা পছন্দ করে না, কারণ সেগুলিতে তাদের সাফল্যের প্রত্যাশা কম থাকে। অর্থাৎ, এবা বাস্তবসম্মতভাবে কাজ বাছাই করে।

(ii) এই ধরনের ব্যক্তিরা সেই ধরনের কাজ পছন্দ করে, যেখানে তাদের পারদর্শিতা অন্যের সঙ্গে তুলনা করা যাবে। অর্থাৎ, তারা তাদের কাজের ফিডব্যাক পেতে পছন্দ করে।

প্রশ্ন- মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সনাক্তকরণ।

ভূমিকা :-  কোন শিশুর বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী বা মানসিক প্রতিবন্ধী কিনা তা জানার জন্য যেমন শিশুর বুদ্ধাপ্ত পরিমাণ করা উচিত তেমনই শিশুর আচরণ তার বয়সোপযোগী কিনা তাও নির্ণয় করা দরকার। শিশুর বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য যেমন যেকোনো একটি আদর্শ বুদ্ধির অতিক্ষা। অভীক্ষা ব্যবহার করা যায়। তবে শিশুর মধ্যে নিম্নলিখিত কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট দেখা গেলে প্রাথমিকভাবে শিশুকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়

1) বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরা তার সমবয়সী অন্যান্য শিশুদের তুলনায় শিক্ষণের ব্যাপারে যথেষ্ট পিছিয়ে থাকে।

2)এই সকল শিশুরা কোনো বিষয়ে অধিক সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।

3) কোনো নির্দেশ দিলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরা সহজে বুঝতে পারে না।

4) শিশুর হাঁটা, বসা, কথা বলা প্রভৃতি শারীরিক বিকাশগুলো বয়সের তুলনায় পিছিয়ে যায়।

 5)শিশুকে মলমূত্র ত্যাগের প্রশিক্ষণ দিতে সমস্যা হয়।এই সকল শিশুকে একই বিষয়ে বার বার নির্দেশ দিতে হয়।

6) কোনো বিমূর্ত বিষয়ে ধারণা দিলে বৌদ্ধিক দুর্বল শিশুরা সহজে তা বুঝতে পারে না।এই সকল শিশুকে কোনো বিষয়ের ধারণা দিতে হলে বার বার বিষয়টিকে মূর্ত বস্তুর সহায়তায় শিক্ষা দিতে হবে।

7)কোনো একটি বিষয়ের প্রশিক্ষণ দিতে শিশুকে বিষয়টি ছোটো ছোটো পর্যায়ে ভাগ করে শিক্ষা দিতে হবে।এই সকল অক্ষম শিশুরা কোনো সুক্ষ্ম কাজ করতে পারে না।

8). এই ধরনের শিশুরা বয়সোচিত সামাজিক আচরণ প্রদর্শন করতে পারে না।

9). বৌদ্ধিক দুর্বল শিশুরা সমবয়সী বন্ধুদের সাথে উপযুক্ত মেলামেশায় অক্ষম।

10) বয়সের তুলনায় এই সকল শিশুদের ভাষার বিকাশ কম হয়।

11)এরা দেরিতে কথা বলতে শেখে।

12)প্রাত্যহিক জীবনের বয়সোপযোগী কাজকর্ম করতে এদের অসুবিধা হয়।

13) শিশুর সমস্যাসমূহ ১৮ বছর বয়সের পূর্বেই প্রকাশ পায়


প্রশ্ন:-  মনযোগের নির্ণায়ক।

উত্তরঃ মনোযোগের নির্ধারক (Determinants of Attention) মনোযোগ একটি নির্বাচনধর্মী প্রক্রিয়া। যে শর্তগুলি মনোযোগের বস্তু নির্বাচনে সহায়তা করে সেইগুলিকেই সাধারণভাবে মনোযোগের নির্ধারক বলা হয়ে থাকে। সাধারণত মনোযোগের দু-প্রকার নির্ধারক দেখা যায়-

(1) বস্তুগত নির্ধারক (Material or Objective Determinants) ও

(2) ব্যক্তিগত নির্ধারক (Personal or Subjective Determinants)

1) বস্তুগত নির্ধারক (Material or Objective Determinants)। বস্তু বা উদ্দীপকের কোনো বৈশিষ্টোর জন্য যখন আমরা মনোযোগী হই তখন সেগুলিকে বলা হয় বস্তুগত নির্ধারক। এই বস্তুগত নির্ধারকগুলি নিম্নরূপ

(2) তীব্রতা (Intensity)। সবচেয়ে তীব্র উদ্দীপক আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। যেমন-তীব্র আলো, গাঢ় রং, প্রচণ্ড শব্দ ইতাদি। অর্থাৎ বস্তু তার উদ্দীপনার তীব্রতার দরুন মনোযোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

(3) বিস্তৃতি (Extensity) উদ্দীপকের বিস্তৃতির জন্যও আমরা কোনো বস্তুর প্রতি মনোযোগী হই। যেমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ বা অস্বাভাবিক ক্ষুদ্র বস্তুর প্রতি আমরা মনোযোগী হই।

(ii) পুনরাবৃত্তি (Repitition) কম তীব্র উদ্দীপকও বার বার পুনরাবৃত্তির ফলে মনোযোগের কারণ হতে পারে। যেমন ক্ষীণ কান্নার আওয়াজও বার বার পুনরাবৃত্তির জন্য মনোযোগী হতে বাধ্য করে।

(iv) অভিনবত্ব (Novelty) অভিনবত্ব বস্তুর একটি নিজস্ব ধর্ম। তাই অভিনব কোনো বিষয় আমাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করে। যেমন-অভিনব পোশাক পরিহিত কোনো বাক্তির প্রতি আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই মনোযোগ দিয়ে থাকি।

(v) গতিশীলতা (Movement)। স্থির বস্তুর চেয়ে গতিশীল বস্তু আমাদের দৃষ্টি বেশি আকর্ষণ করে। হাঁটতে হাঁটতে কোনো বালক যদি হঠাৎ দৌড়োতে শুরু করে তাহলে তার প্রতি আমরা বিশেষভাবে আকৃষ্ট হই।

(2) ব্যক্তিগত নির্ধারক (Personal or Subjective Determinants): বস্তু বা উদ্দীপকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছাড়াও আমাদের মানসিক অবস্থা এবং চাহিদাও মনোযোগের বস্তু নির্বাচনে সহায়তা করে। যে মানসিক অবস্থাগুলি মনোযোগের নির্ধারক হিসাবে কাজ করে সেগুলিকে বলা হয় ব্যক্তিগত নির্ধারক। এই ব্যক্তিগত নিধারকগুলি হল.


(1) আগ্রহ (Interest): আগ্রহ মনোযোগের প্রধান নির্ধারক। যেসব বিষয়ে আমাদের আগ্রহ আছে আমরা সেগুলির প্রতি মনোযোগী হই। যাদের খেলার প্রতি আগ্রহ আছে তারা সংবাদপত্রের খেলার পৃষ্ঠর প্রতিই আগে মনোযোগ দেয়।

(2) প্রবৃত্তি (Instincts) আমরা খাদ্যবস্তুর প্রতি মনোযোগী হই। প্রবৃত্তির তাড়নায় আমরা বিশেষ কোনো বস্তুর প্রতি মনোযোগ দিতে বাধ্য হই। যেমন- খিদের তাড়নায়

(3) প্রদোষ (Emotion) বিশেষ প্রাক্ষোভিক অবস্থা কোনো বস্তুর প্রতি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। যেমন- ভয়ে দৌড়ে পালানোর সময় কোনো নিরাপদ জায়গা আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

(4) মনঃপ্রকৃতি (Temperament) বিভিন্ন মনঃপ্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য বা মেজাজগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যক্তি বিভিন্ন বস্তুর প্রতি মনোযোগ দেয়। যারা ধার্মিক তারা ধর্মীয় আলোচনা, ধর্মীয় পুস্তক বা ধর্মস্থানের প্রতি মনোযোগী হয়। আবার যারা অল্পেই উত্তেজিত হয়, তারা বিশেষভাবে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বস্তুগুলির প্রতিই আকৃষ্ট হয়।

প্রশ্ন :- Atkinson's প্রদত্ত প্রেষণার সাফল্য লাভের তত্ত্বটি আলোচনা করুন।

ভূমিকা :-  C. McClelland David (1953) এবং Atkinson W. John (1958) মনে করেন যে সাফল্যলাভের জন্য বাক্তি মাত্রেই একটা চাহিদার প্রয়োজন হয়। আর এই সাফল্যলাভের চাহিদার মাত্রার তীব্রতা অনুযায়ী সে সমস্ত সমস্যা এবং বাধা বিপত্তিকে চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে। এ তত্ত্ব অনুযায়ী পারদর্শিতামূলক প্রেরণার শক্তির পার্থক্যজনিত কারণে একজন মানুষ অপর একজনের থেকে পৃথক হয়। পারদর্শিতা বা সাফল্যলাভের ক্ষেত্রে এই প্রেষণা শক্তির পার্থক্য যেটা কোনো ব্যক্তির বিকাশকে বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অতি শৈশবকাল থেকেই সাফল্যলাভের চাহিদা জন্মায়। এটি বাড়ির মধ্যে নিয়মানুবর্তিতার উপর নির্ভরশীল। পিতামাতার প্রত্যাশা এবং সঠিক নির্দেশ একটি শিশুর জীবনে উচ্চাকাঙ্ক্ষার (high achievement) জন্য চাহিদার বিকাশ ঘটায়। অর্থাৎ, যার মধ্যে সাফল্যলাভের আকাঙ্ক্ষা যত বেশি মাত্রায় জাগিয়ে তোলা যাবে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি হবে।

(১) মহান ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রেষিত হওয়া এবং সিদ্ধিলাভের বিষয়টি বর্ণনা করার মাধ্যমে একজন শিক্ষক প্রেষণার গুরুত্বটি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন। অর্থাৎ বিখ্যাত ব্যক্তিদের পদান্ত অনুসরণ করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রেষিত করতে হবে।

(২) শিক্ষক শিশুদের উৎসাহ প্রদান, বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্মে তৎপরতার মাধ্যমে সাফল্যলাভের প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করবেন।

(৩) বাস্তবসম্মত সাফল্যলাভের প্রেষণাগুলিকে বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেবেন।

(৪) নতুন প্রেষণা যেগুলি শিক্ষার্থীদের আত্মভাবমূর্তিকে আরও বেশি স্বচ্ছ করে এবং যা তাদের মধ্যে বিদ্যমান সেগুলিকেও আরো বেশি উন্নত করতে হবে ঐ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বাস জাগানোর চেষ্টা করতে হবে

(৫) শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্ম পাঠ অভ্যাসের বিকাশঘটিরতে হবে।

(৬) নির্দিষ্ট সময় অন্তর শিক্ষকের উচিত শিক্ষার্থীদের আত্ম মূল্যায়নে উৎসাহিত করা।

প্রশ্ন- বিস্মৃতির কারণসমূহ।

ভূমিকা :- আমাদের ভুলে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ বর্তমান। যে অবস্থাগুলি স্মৃতির সহায়ক, সেগুলির অভাবই বিস্মৃতির কারণ। যেমন-উদ্দীপক যদি তীব্র, সুস্পষ্ট, নির্দিষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী, সাম্প্রতিক ও পুনরাবৃত্ত হয় এবং তা আমাদের মনোযোগ ও আগ্রহ সৃষ্টি করে, অর্থবোধক হয়, আকর্ষণীয় হয় এবং কোনো কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ হয়। যেহেতু এই অবস্থাগুলি স্মৃতির সহায়ক সুতরাং, এই অবস্থাগুলির অভাব ঘটলে বিস্মৃতির সম্ভবনা থাকে। উদ্দীপকের এইসব বিভিন্ন অবস্থা ছাড়াও আর যেসব কারণে বিস্মৃতি ঘটে সেগুলি নিম্নরূপ

(i) বিষয়বস্তুর বৈশিষ্ট্য:-  কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় যেসব বিষয়বস্তু শিখতে দেরি হয়, সেগুলির বিষয়বস্তুর তাড়াতাড়ি বিস্মৃতি ঘটে।

(ii) ত্রুটিপূর্ণ শিখন:-  কোনো বিষয় শেখার ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকলে বা বোঝার ভুল থাকলে সেই বিষয়বস্তুর বিস্মৃতি তাড়াতাড়ি ঘটে।

(iii) আলোচনার অভাব:-  কোনো বিষয়ে শিখন ঘটার পর তা যদি আর কোনো দিন আলোচনা না হয় তাহলে বিষয়টি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী ভুলে যায়।

(iv) পশ্চাদমুখী প্রতিরোধ:- শিক্ষার্থী যদি একটি বিষয় শেখার পর পরই অপর একটি বিষয় শিখতে যায় তাহলে দ্বিতীয় বিষয়টি শিখতে শুরু করার কিছুক্ষণ পর দেখা যায় যে, সে প্রথম বিষয়টির খানিকটা ভুলে গেছে। কারণ দ্বিতীয় বিষয়টি প্রথম বিষয়টি মনে রাখার ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে এবং পেছন থেকে এসে প্রথম বিষয়টি ভুলিয়ে দিচ্ছে। এই জাতীয় প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় পশ্চামুখী প্রতিরোধ।

(v) মস্তিষ্কে আঘাত দুর্ঘটনা:- খেলাধুলা, বিস্ফোরণ বা অন্য কোনো কারণে মস্তিতে আঘাত লাগলে মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে বিস্মৃতি ঘটে।

(vi) অবদমন: অনেক সময় মনে করার অনিচ্ছা থেকেই বিস্মৃতি আসে। অর্থাৎ আমরা কিছু ভুলতে চাই বলেই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলে যাই। একে বলা হয় অবদমন। অবদমন মনকে বেদনাদায়ক ও অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে রক্ষা করে।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ