প্রশ্ন 1. বৈদিক যুগে শিক্ষার লক্ষ্য, পাঠক্রম ও পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনা করুন।
Ans:-বৈদিক শিক্ষার লক্ষ্য:- প্রাচীন কাল থেকেই ভারতের সভ্যতা সমন্বয় ধর্মী আর্থ ঋষি নিজেকে ক্ষুদ্রগম্ভীর মধ্যে
আবদ্ধ না রেখে বিশ্বমানবকে বলেছেন "অমৃতস্য পুত্রাঃ"। এই উপলব্ধি থেকেই সমন্বয়ের মনোভাবের জন্ম নিয়েছিল। প্রাচীন ভারতের সভ্যতা ও সংস্কৃতি ধর্মকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। আর্য ঋষিরা উপলব্ধি করেছিলেন যে, পরমাত্মা অবিনশ্বর হলেও জীবাত্মা নশ্বর। তখন শিক্ষা ধর্মের সঙ্গে গভীর ভাবে যুক্ত ছিল। আর্য ঋষিরা মনে করতেন যে, আত্ম-জ্ঞান ও আত্মাপলব্ধি ই হচ্ছে শিক্ষার চরম লক্ষ্য। 'আত্মনাং বিদ্ধি' নিজেকে জানবার মধ্য দিয়েই সত্যোপলব্ধির সাধনা আর্য ঋষিরা করে গিয়েছেন। হিন্দু দর্শন ও ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার মতে, শিক্ষার লক্ষ্যহল আত্মোপলব্ধি (Self realization) ও আত্মবিকাশ (Self developnet)। জ্ঞানার্জনের শেষ নেই। শিক্ষার শেষ নেই যাবজ্জীবন অধীতে বিপ্রঃ।" পরম ব্রহ্মকে জানবার অতীন্দ্রীয় বাসনা থেকেই ভারতীয় আর্য ঋষিরা একসময় বলেছিলেন "ভূমৈব সুখ্যং, নাচ্ছে সুখমস্তি।" বিদ্যাই মানুষকে মুক্তির সন্ধান দেয়। সা বিদ্যা যা বিমুক্ত যে।" আর্য ঋষিরা জাগতিক সুখকে জীবনের চরম বলে মনে করেন নি। "যেনাহং নামুতাস্যাম কিমহং তেন কুম। জ্ঞান অর্জন করবার পরিবর্তে চরিত্র গঠন। ব্যাক্তিত্ব বিকাশ ও আত্মোপলব্ধি ছিল প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার আদর্শ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার শেষ কথা ছিল আত্মার মুক্তি। পরাবিদ্যা ও অপাবিদ্যার মধ্য দিয়েই ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা বিকশিত হয়েছিল। ব্রহ্মবিদ্যা বা অধ্যাত্ম বিদ্যা-ই. পরবিদ্যা; আর যাবতীয় শিল্প বিজ্ঞান কলা ইত্যাদি লৌকিক বিদ্যা হল অপরাবিদ্যা। ব্রাহ্মণা শিক্ষা চেয়েছিল দুই ধরনের শিক্ষার যুগপৎ বিকাশ ঘটাতে। পরাবিদ্যা শিক্ষার শেষ কথা হলেও অপরাবিদ্যা ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছিল।
বৈদিক শিক্ষার পাঠক্রম:- বৈদিক শিক্ষায় ব্যাপক পাঠক্রম ছিল না। পরে পাঠক্রমের মধ্যে নানাবিধ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা
হয়। ব্রাহ্মণ্য যুগে বর্ণভেদে শিক্ষার তারতম্য সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন বর্ণের উপযোগী বৃত্তি শিক্ষা পাঠক্রমে স্থান পায়। ৪টি বেদ (ঋক, সাম, যজু, অধর্ব), ৬টি বেদাঙ্গ (ছন্দ, ব্যাকরণ, শিক্ষা অর্থাৎ ধ্বনিবিজ্ঞান, নিরুক্ত, কল্প ও জ্যোতিষশাত্র), উনিষদ, আরণ্যক ও ব্রাহ্মণ পাঠক্রমের অন্তগত ছিল। ব্রাহ্মণদের আচরণবিধি পালনের জন্য সূত্র ও দার্শনিক জনের জন্য বেদান্ত ও পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পাঠক্রমের মধ্যে ইতিহাস, পুরাণ, ব্যকরণ, অস্ত্রবিদ্যা, রাশি (গণিত), ভূতবিদ্যা, সর্পবিদ্যা, নক্ষত্র বিদ্যা, একায়ন (নীতিশাস্ত্র), ব্রহ্মবিদ্যা, বাক্যাবাকা (তর্কপান্ত) ইত্যাদি বিষয়ও স্থান পেয়েছিল।
শিক্ষাদান পদ্ধতি: ব্রাহ্মণ্য শিক্ষায় মৌখিক পদ্ধতি সর্বাধিক স্থান পেয়েছিল। তবে শুরু অনেক সময় শিষ্যের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষাদান করতেন। বেদ শিক্ষাগ্রহণে অনেক সময় লাগত। সাধারণত শ্রাবণ পূর্ণিমাতে শিক্ষারম্ভ হত। অমাবস্যা-পূর্ণিমা, ঝড়-বৃষ্টি, ধর্মানুষ্ঠান প্রভৃতি কারণে শিক্ষাদান বন্ধ থাকত। গুরু শিষ্যের মধ্যে মধুর সম্পর্ক থাকলে ও শিক্ষার শাস্তিদানের ব্যবস্থা ছিল। শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে, খেতে না দিয়ে, ঠান্ডা জলে স্নান করতে দিয়ে শাস্তি দেওয়া হত, দৈহিক শান্তিদানের ব্যবস্থা ছিল না।-
চরম অবস্থার মধ্যে গুরুগৃহ থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হত। প্রতি বছর ৪ ১/২ থেকে ৬ মাস শিক্ষাদান চলত পরে এই সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণ্য শিক্ষায় ব্যাক্তি কেন্দ্রিক শিক্ষার প্রাধান্য থাকলেও গুরু সমষ্টিগত শিক্ষা ও দিতেন। গুরুর মৌখিক শিক্ষা থেকে শিক্ষার্থীরা আবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করত। শুরু মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তি ও বিচার স্থান পেত। গুরু ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন বিষয় বুঝিয়ে দিতেন। শিক্ষা পদ্ধতিতে স্মৃতি ও মেধাশক্তির বিশেষ গুরুত্ব ছিল। শ্রবণ-মনন- নিদিধ্যাসনের মাধ্যমে শিক্ষাদান হত।
শ্রবণ:- গুরু যা বলেন তা মন দিয়ে শোনা।
মনন:- গভীর ভাবে চিন্তা করা।
নিদিধ্যাসন:- একাগ্র ভাবে ধ্যান করে সত্যকে উপলব্ধি করা।
প্রশ্ন: জাতীয় শিক্ষানীতির মূল বিচার্য বিষয়গুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।
(Discuss key issues in the National Education Policy.)
ভূমিকা: ১৯৮৫ খ্রীঃ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৯৮৬ খ্রীঃ ২১ শে এপ্রিল একটি জাতীয় শিক্ষানীতি প্রকাশিত হয়। বারোটি অধ্যায় সমন্ধিত এই শিক্ষানীতির প্রথম ও শেষ অধ্যায় বাদে বাকি দশটি অধ্যায়ে ভারতের শিক্ষার গতি প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই শিক্ষানীতির প্রধান বিষয়গুলি হল—
১) শিক্ষার উপাদান ও ভূমিকা: শিক্ষা হল সকলের জন্য। শিক্ষা হল সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের মূল।
২) জাতীয় ব্যবস্থায় শিক্ষা: একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর সুযোগ থাকবে।
৩) সাম্যের জন্য শিক্ষা: জাতীয় শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হল সাম্যের জন্য শিক্ষা। যারা এতদিন শিক্ষার সুযোগ পায়নি তাদের শিক্ষা দিয়ে বৈষম্যের অবসান ঘটানো। তপশিলী জাতি ও উপজাতি, সংখ্যালঘু, মহিলা, বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
৪) বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপুনর্গঠন:
(i) প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে সঠিক ও যৌথভাবে রূপায়িত করা হবে।
(ii) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়মুখী রাখা।
(iii) অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সারা ভারতে 432 টি জেলায় একটি করে মডেল স্কুল বা নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপিত করতে হবে।
(iv) কারিগরি শিক্ষার একটি অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চল এ শিক্ষার্থীদের আবাদ সঞ্চালনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
(v) মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসার ঘটাতে হবে।
(vi) ডিগ্রিকে চাকরি থেকে বিচ্ছেদ ঘটানোর সূচনা হবে।
৫) সর্বস্তরের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি:- সর্বস্তরের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য গতানুগতিকতা অবসান ঘটিয়ে আধুনিকতার উপর জোর দেওয়া হবে।
৬) শিক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয়করণ:- শিক্ষার জন্য প্রয়োজন সুযোগ গঠিত নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, একই সঙ্গে নব উদ্ভাবন ও সৃষ্টি মূলক কর্মের স্বাধীনতা, শিক্ষার গুণগত ও ধারাগত পর্যায়ে প্রচলিত ব্যবস্থার মধ্যে শৃঙ্খলা বিধানের ব্যবস্থা চালু করা।
৭) শিক্ষার বিষয়বস্তু ও শিক্ষা প্রক্রিয়ার পুনঃবিন্যাস:- শিক্ষার বিষয় সূচি ও পদ্ধতির সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিষয় সমূহ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মূল্যবোধের শিক্ষকের শক্তিশালী করতে হবে। টিত্রী ভাষার সূত্র অনুসরণ করতে হবে। শিক্ষ প্রযুক্তির ব্যবস্থার, অংক ও বিভাজন শিক্ষা, দৈহিক শিক্ষা ও খেলাধুলা ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
৮) শিক্ষক:- শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদার বৃদ্ধি করার দিকে নজর দিতে হবে। শিক্ষকদের নিয়োগ পদ্ধতি, বেতন ও চাকরি শর্তাবলী সংস্কার সাধন করতে হবে।
৯) শিক্ষা পরিচালনা:- জাতীয় স্তরে শিক্ষা পরিচালক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে রাজ্য স্তরে SABE গঠিত হয়।
১০) আর্থিক সংস্থান:- ধীরে ধীরে শিক্ষার জন্য অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করে অষ্টম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্প এই বরাদ্দ যাদের ছয় শতাংশ ছাড়িয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ভারতের শিক্ষার ইতিহাসে একগরিষ্ঠ পদক্ষেপ এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।
তফশিলি জাতি ও উপজাতির শিক্ষা: গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে উৎসাহিত করা হবে। চর্মকার, হরিজন পরিবারের ছেলেমেয়েদের ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তি দেওয়া হবে। তফশিলি ছাত্রছাত্রীদের জন্য জেলা সদরে ছাত্রাবাস নির্মাণ, আদিবাসী অঞ্চলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, বৃত্তি শিক্ষার ব্যবস্থা, নিজস্ব সংস্কৃতির রক্ষণ প্রভৃতিকে বাস্তবায়িত করা।
ক
৪। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা: প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সলো শিক্ষার ব্যবস্থা, ছাত্রাবাস তৈরি, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণে উৎসাহিত করা প্রভৃতি কল্যাণকর কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে।
৫। বয়স্ক শিক্ষা: ১৪ থেকে ৩৪ বছর বয়স্কদের নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা আশু কর্তব্য। এজন্য গ্রামাঞ্চলে শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, পুস্তক প্রকাশনা, রেডিও, দূরদর্শন ও সিনেমার মত গণমাধ্যমের ব্যবহার প্রভৃতির সুপারিশ করা হয়।
৬। প্রাথমিক শিক্ষা: ১৪ বছর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে ভর্তি এবং পাঠ সমাপ্তিকরণ, এবং পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের অনুন্নয়ন ব্যবস্থা বাতিল-এই দুটি বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এজন্য প্রতি বিদ্যালয়ে দুটি শ্রেণি কক্ষ, দুজন শিক্ষক (একজন পুরুষ ও একজন নারী), মসিফলক, চার্ট, মানচিত্র, শিক্ষার অন্যান্য সরঞ্জাম, খেলাধূলার সামগ্রী এসবের ব্যবস্থাপনার সুপারিশ করা হয়।
৭। মাধ্যমিক শিক্ষা: এই স্তরে অতি বিবেচনা করে পাঠ্যক্রম রচনা করতে হবে যেন বিজ্ঞান, মানবীয় বিষয়, সমাজবিজ্ঞান, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক চেতনা বৃদ্ধির সহায়ক বিষয় পাঠ্যক্রমে সংযোজিত হয়।
৮। নবোদয় বিদ্যালয়: প্রতিভাবান শিশুদের জন্য খরচের কথা না ভেবে উন্নতমানের শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। এই উদ্দেশ্যে সারা দেশে নির্দিষ্ট আদর্শে নবোদয় নামাঙ্কিত বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তির পরীক্ষা দিয়ে নবোদয় বিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। এই বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১২ দশ শ্রেণি পর্যন্ত পঠন পাঠন চলবে। ৭ম বা ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় বা আঞ্চলিক ভাষায় এবং ৮ম ও ৯ম শ্রেণি শিক্ষার মাধ্যম হবে হিন্দি বা ইংরাজি। নবোদয় বিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান ও বৃত্তি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। প্রতি শ্রেণিতে দুটি বিভাগ থাকবে। প্রতি বিভাগে ৪০ জনের বেশী শিক্ষার্থী থাকবে না। বিদ্যালয়গুলি কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরিচালনাধীন থাকবে। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে যাওয়ার খরচ, বেশভূষা, খাওয়া, বইপত্র ইত্যাদির সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে।
৯। বৃত্তিমুখী শিক্ষা: বৃত্তি শিক্ষার কর্মসূচী রূপায়ণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তি শিক্ষার কেন্দ্র খোলা হবে। শিল্প শিক্ষণকেন্দ্রগুলিকে বৃত্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। বৃত্তি শিক্ষাকে উৎসাহদানের জন্য সরকার কর্মদান নীতির পুর্নবিবেচনা করবেন।
১০। উচ্চ শিক্ষাঃ নতুন কলেজ না খুলে বর্তমান কলেজগুলিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, স্ব-শাসিত কলেজ স্থাপন, উচ্চ শিক্ষায় গবেষণাকে উৎসাহিত করা প্রভৃতির সুপারিশ করা হয়।
১১। মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষাকে আরও বেশি জনমুখী করে তোলার জন্য মুঃ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার প্রস্তাবটি উল্লেখযোগ্য। এই প্রসঙ্গে বলা হয় যে ইতিমধ্যে স্থাপিত ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুস্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়নে সার্বিক প্রযত্ব গ্রহণ করতে হবে।
১২। চাকুরি ডিগ্রীতে বিচ্ছেদ: প্রস্তাব করা হয় কারিগরী, আইন ও চিকিৎসার মতো বিষয় ছাড়া চাকুরীর ক্ষেত্রে ডিগ্রীকে অবশ্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করা হবে না। চাকুরিদাতারা প্রয়োজন অনুসারে নিজেরাই পরীক্ষার ব্যবসা করে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবে।
১৩। ভাষা: ভাষার ক্ষেত্রে ১৯৬৮ সালের প্রস্তাবিত নীতিকেই রূপায়িত করা হবে। অর্থাৎ ত্রিভাষা সূত্রই চালু থাকবে।
১৪। বিজ্ঞান শিক্ষা: পাঠ্যক্রম সংগঠন এমনভাবে করতে হবে যা শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান সচেতন ও অনুসন্ধিৎসু করে তোলে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়গুলি বাধ্যতামূলক হবে। বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যবহারিক জ্ঞান সরবরাহের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
১৫। মূল্যায়ন: পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে মূল্যায়ন ব্যবথার প্রচলনকে স্বীকার করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবগুলি নিম্নরূপ: পরীক্ষা হবে নৈর্ব্যন্তিক, মুখস্থ জ্ঞানের প্রতি কম গুরুত্ব, সেমিস্টার প্রথা চালু, নম্বরের পরিবর্তে গ্রেড প্রথা চালু, শিক্ষণ পদ্ধতির আধুনিকীকরণ, বহিঃ পরীক্ষার প্রাধান্য কমিয়ে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব প্রদান ইত্যাদি।
১৬। শিক্ষক: শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও দায়িত্ববোধের সৃষ্টি করা, নিয়োগ পখতি নিরূপণ, প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীরা যাতে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হতে পারেন সেজন্য বেতন ও চাকুরির শর্তকে আকর্ষণীয় করে তোলা, শিক্ষকদের আচরণবিধি প্রণয়ন প্রভৃতি বিষয়ে জাতীয় শিক্ষানীতিতে সুপারিশ করা হয়।
১৭। ভবিষ্যৎ: ভারতীয় শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা থেকে গেছে। সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দিক নির্দেশনা না রেখে জাতীয় শিক্ষানীতিতে শুধুমাত্র মজবুত শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
প্রশ্ন বয়স্ক শিক্ষা বলতে কী বোঝো? বয়স্ক শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য গুলি কি? 2+10
উত্তর:- আধুনিককালে প্রথাবহির্ভূত শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ হল বয়স্ক শিক্ষা। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বয়স্ক বলতে এখানে ১৪-৩৫-এর মধ্যবর্তী বয়সের বয়স্ক ব্যক্তিদের কথা বোঝানো হয়েছে। ভারতবর্ষ সহ পৃথিবীর অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এমন অনেক লোক আছে যারা নিরক্ষর। লিখতে পড়তে জানে না। প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ পায়নি। জ্ঞানের এদের কাছে রুদ্ধ। আবার পৃথিবীতে এমন অনেক লোক আছে যারা বিদ্যালয়ে বাধ্য হয়ে বা স্বেচ্ছায় সামান্যতম শিক্ষালাভ করে আর অগ্রসর হতে পারেনি।
কিন্তু গ্রামীণ উচ্চশিক্ষা সম্বন্ধে কমিশনের সুপারিশ খণ্ডিত করে Rural Higher Education Committee গ্রামীণ উচ্চশিক্ষার জন্য একটি স্থায়ী কমিটি গড়ার প্রস্তাব করেন। ১৯৫৬ সালে গঠিত হয় উপদেষ্টা চরিত্রের National Council of Rural Higher Education। এই কাউন্সিল গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলে কয়েকটি নির্দিষ্ট
এরা পরবর্তীকালে কলকারখানায়, খেত-খামারের কাজে নিযুক্ত হয়েছে। সুযোগের অভাবে এদের অর্জিত বিদ্যা অকেজো হয়ে গেছে। অর্থাৎ তারা সব কিছু ভুলে গেছে। এরা প্রায় নিরক্ষরের পর্যায়ে নেমে গেছে। অথচ সামান্য নির্দেশনা বা পরামর্শ দিলে বা সামান্য অনুশীলনের সুযোগ পেলে এরা নিজের চেষ্টায় অনেক কিছু জেনে নিতে পারবে। এই সমস্ত নিরক্ষর বা স্বল্প শিক্ষিত বয়স্কদের শিক্ষাদানের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে শিক্ষাকর্মসূচি গৃহীত হয়েছে তা বয়স্ক শিক্ষা নামে পরিচিত।
প্রিয়াংশু
পৃষ্ঠা 36
স্বপ্ন তোমার শিক্ষা
শিক্ষাবিজ্ঞান P.G. SUGGESTION NOTES
Earnest Barker-এর মতে, বয়স্ক শিক্ষা হল এমন এক শিক্ষা যা আংশিক সময়ের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, যে শিক্ষা যুগ্যভাবে সম্পন্ন হয়। যাতে একজন জীবিকা নির্বাহের সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনা করতে পারে।
বয়স্ক শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য গুলি কি?
বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করেছিলেন যে, গণতন্ত্রের ভিতকে দৃঢ় করতে ভারতের সব জনগণকে শিক্ষার আলো দেখাতে হবে। স্বাধীনতার পরে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে মোহনলাল সাক্সেনার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি যেসকল লক্ষ্যের কথা বলেছে তা হল
(১) আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা:- বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কাজের মাধ্যমে স্বনির্ভর করে তোলা এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।
(২) কুসংস্কার দূর করা বয়স্কশিক্ষার মাধ্যমে তাদের মনের বিভিন্ন অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করা।
(৩) পরিবার পরিকল্পনা শিক্ষা: পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।
(৪) দৈহিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে শিক্ষাদান: সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য বিশেষ শিক্ষাদান আবশ্যিক
(৫) সহযোগিতার মনোভাব গঠন বয়স্ক শিক্ষার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাব গঠন করা।
(৬) গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব গঠন। গণতন্ত্রের প্রতি বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রদ্ধাশীল মনোভাব গঠন করা এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।
(৭) 3R: পঠন (Reading), লিখন (Writing) ও সাধারণ গণিতের (Arithmetic) (3R) উপর অধিক জ্ঞান লাভে উৎসাহিত করা।
(৮) হস্তশিল্পে দক্ষতা অর্জন হস্তশিল্পে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বয়স্ক ব্যক্তির অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো।
(৯) শিক্ষার গতিশীলতা বজায়। শিক্ষাকে গতিশীল রাখতে গ্রন্থাগার, বিতর্ক সভা, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন শিক্ষা কমিটিগুলোর সাহায্য নিতে হবে।
(১০) সহযোগী মনোভাব তৈরি শিক্ষার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগী মনোভাব তৈরি হবে। সহযোগী জ্ঞানই গ্রহণীয় ও বর্জনীয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়। স্বর্গের পথ আলোকিত করে।
(১১) ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া: ভারতের ইতিহাস, ভুগোল, কৃষি, বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব গঠন করা।
(১২) সংস্কৃতির উন্নয়ন বয়স্ক ব্যক্তিদের গান, আবৃত্তি, নৃত্য, নাটক প্রভৃতির মাধ্যমে আনন্দ দেওয়া ও সংস্কৃতির উন্নয়ন। ঘটানো।
(১৩) নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ বয়স্ক ব্যক্তিদের বিভিন্ন আলোচনা, পড়া ও লেখার মাধ্যমে নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। প্রশ্ন ইসলামী শিক্ষার লক্ষ্য, ভর সমূহ এবং পাঠক্রম বর্ণনা করুন। for 4
13.- কোঠারি কমিশন প্রস্তাবিত শিক্ষায় 10+2+3 ধরনের বিভাজন ব্যাখ্যা করো। ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এর সাফল্য বিচার করো।
উত্তর-শিক্ষা কমিশন তাদের প্রতিবেদনে এই অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, যে-কোনে May দেশের শিক্ষার মান নির্ভর করে মূলত ৪টি বিষয়ের উপর। শিক্ষার মান নির্ণায়ক এ ঐ স্তরগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক, (২) মোট শিক্ষাকাল এবং প্রত্যেকটি স্তরের জনা নির্দিষ্ট শিক্ষাকাল, (৩) শিক্ষার আনুষঙ্গিক অন্যান্য অত্যাবশাক সহায়ক উপাদান যেমন, শিক্ষক, শিক্ষণ পদ্ধতি, পাঠক্রম, মূল্যায়ন ব্যবস্থা ইত্যাদি (৪) প্রাপ্ত সুযোগসুবিধার পূর্ণ ব্যবহার। শিক্ষার মানের এই নির্ণায়ক বৈশিষ্ট্যগুলি পরস্পর নির্ভরশীল।
স্কুলগুলি মেধাসম্পন্ন শিক্ষা কমিশন সারা দেশের জন্য বিদ্যালয় স্তরের জন্য যে শিক্ষার কাঠামো সুপারিশ করেছেন তা হল নিম্নরূপ
1. প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষা (Pre-School Education): এক থেকে তিন বছর।
2. প্রাক-প্রাথমিক স্তর (Pre-Primary Education): তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা। নার্সারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা হবে এই জুরে। পাঁচ থেকে ছয় বছরের জন্য শিশু শ্রেণি বা Infant Class
3.7 বা ৪ বছরের প্রাথমিক শিক্ষন (Primary education): প্রাথমিক শিক্ষার দুটি ভর থাকবে-
(a) নিম্ন প্রাথমিক শিক্ষা (Lower Primary): চার বা পাঁচ বছরের জন্য হবে নিম্ন প্রাথমিক শিক্ষাস্তর বিদ্যার্থীদের বয়স হয় থেকে আগে থেকে নাম নথিভুক্তকরণ (Pre-registration) প্রথা প্রাথমিক স্তরে চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিশুর বাড়ি থেকে। মাইলের মধ্যে নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং। থেকে ও মাইলের মধ্যে থাকবে উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক ভরের পর 2/3 বছরের বৃত্তিশিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
(b) উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষা (Higher Primary) 2 বা 3 বছরের জন্য হবে উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষান্তর। পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণি বা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বয়স হবে।। থেকে।4 বছর।
3. মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর (Secondary Stage): কোঠারি কমিশনের মতে এই ভরে দুটি ভাগ থাকবে।
(a)নিম্ন মাধ্যমিক (Lower Secondary: 2 বা 3 বছরের হবে। কমিশন বলেছেন, নবম ও দশম শ্রেণি অথবা অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষা হবে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের অন্তর্গত। শিক্ষার্থীর বয়স হবে।4 থেকে 16 বছর।
(১) উচ্চমাধ্যমিক স্তর (Higher Secondary): 2 বছরের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সাধারণ শিক্ষা (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি)-Higher Secondary Stage of two years of General Education, শিক্ষার্থীর বয়স হবে 16-18 বছর।
4. উচ্চশিক্ষান্তর (Higher for Education (স্নাতক) স্তর। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে-
D ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় এর সাফল্য কোঠারি কমিশন শিক্ষার সার্থক রূপায়ণ ও উদ্দেশ্যসাধনের জন্য যে সমস্ত বিষয়গুলি উল্লেখ করেছেন সেগুলি হল
(ক)
তিন বছরের প্রথম ডিগ্রি
(b) তারপর দুই বছরের
স্বপ্ন তোমার শিক্ষা ভারতীয় শিক্ষা কমিশনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতম শিক্ষা এবং বৃত্তি ও কারিগরি শিক্ষার সমস্ত দিক (আইন ও চিকিৎসা বাদে) নিয়ে অনুসন্ধান করে শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নের সুপারিশ করা। সামগ্রিক দৃষ্টিতে শিক্ষা সংক্রান্ত নানা সমস্যাকে বিচার করে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ণয় করা হয়েছে।
একমিশনের বিচার্য বিষয় ছিল দেশের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা। তাই স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের সুপারিশসমূহ বহু ব্যাপক। কোঠারি কমিশনই প্রথম শিক্ষা কমিশন যেখানে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। আর প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে।
গতানুগতিক প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে বুনিয়াদি শিক্ষার সমন্বয়ের যে চেষ্টা চলছিল, কমিশন বুনিয়াদি শিক্ষার কর্মকেন্দ্রিকতাকে স্বীকৃতি দিয়ে একটিমাত্র শিক্ষাপদ্ধতির কথা বলেছেন। এর ফলে প্রচলিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুপান্তর সহজ হবে। আর প্রাথমিক স্তরে পুথিকেন্দ্রিক শিক্ষার একঘেয়েমি থেকে বিদ্যার্থী মুক্তি পাবে।
মাধ্যমিক ভরে শিক্ষাকাল একবছর বাড়িয়ে।২ বছরের করার কথা বলা হয়েছে। দশ বছরের শিক্ষা শেষে বহিঃ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। একাদশ শ্রেণি থেকে বিশেষীকরণের (Specialization) সুযোগ থাকবে।
প্রচলিত বহুমুখী শিক্ষায় আষ্টম শ্রেণির শিক্ষাশেষে বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থার বিরূপ সমালোচনা অনেক হয়েছে। এই Early specialization-এর যৌক্তিকতা নিয়ে শিক্ষাবিদগণ সংশয় প্রকাশ করেছেন। দশম শ্রেণির শিক্ষা শেষে বিদ্যার্থীদের একটা বিরাট অংশ বৃত্তিশিক্ষার দিকে যাবে। যারা উচ্চশিক্ষা পেতে চায় তারা একাদশ শ্রেণির বিশেষীকরণের সুযোগ নেবে। এ হাড়া উচ্চতর মাধ্যমিক স্তরে সাতটি শাখা বিভাগের প্রয়োজনীয়তা শিক্ষা কমিশন স্বীকার করেননি। একাদশ শ্রেণিতে বিদ্যার্থী পাঠক্রমের নির্ধারিত বিষয়সমূহ থেকে তিনটি বিষয় গ্রহণ করবে। পূর্বের শাখা বিভাগে নমনীয়তার অভাব ছিল। মিত্র বিষয় নেওয়ার সুযোগ ছিল না। কমিশন প্রস্তাবিত শিক্ষাব্যবস্থায় উচ্চতর মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের বিষয় নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা কমিশন শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে বলেন। মেধাবী ছাত্রদের জন্য অগ্রবর্তী শিক্ষার (Advanced education) ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের ডিগ্রি কোর্স হবে চার বছরের। কমিশন Advanced Course-এর ব্যবস্থা স্কুল স্তর থেকেই প্রবর্তনের সুপারিশ করেন। একই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে অগ্রবর্তী ও সাধারণ শিক্ষামানের কথা এর পূর্বে কোনো কমিশন সুপারিশ করেননি।
একোঠারি কমিশনের সুপারিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে শিক্ষার প্রতি স্তরে বৃত্তি ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগদানের ব্যবস্থা। বহিঃ পরীক্ষার পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ যেসব সুপারিশ করেছেন, তার ফলে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের বিরাট সুযোগ রয়েছে। 2023 এ ছাড়া, সবাই যাতে শিক্ষার সমান সুযোগ পায়, সেজন্য কমিশন কমন স্কুলের সুপারিশ করেছেন। কমন স্কুলে ধনী-দরিদ্র সবাই শিক্ষার একই সুযোগ পাবে।
গতানুগতিক শিক্ষাধারাকে পরিত্যাগ করে কমিশন নতুন শিক্ষার লক্ষোর কথা বলেন শিক্ষার্থীর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, সমাজসেবা, সহিযুতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস প্রভৃতি গুণাবলির বিকাশসাধনের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you