Ticker

100/recent/ticker-posts

Translate

 প্রশ্ন- শিক্ষামনোবিজ্ঞান বলতে কী বোঝায়? শিক্ষামনোবিজ্ঞানের আধুনিক প্রবনতার ক্ষেত্র প্রসঙ্গে আলোচনা করুন।

মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে একটি অন্যতম হলো শিক্ষা মনোবিদ্যা এডুকেশনাল সাইকোলজি শিক্ষার্থীর শিখন পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা করে সুতরাং বলা যায় মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন তথ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগমূলক শিক্ষা মনোবিদ্যা যেখানে মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন নীতি তথ্যসূত্র শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় বিভিন্ন শিক্ষা মনোবিজ্ঞান সম্পর্কে নানান মত পোষণ করেছেন।


মনোবিদ ক্লোর মতে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান হলো ব্যক্তির জন্ম থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতার বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করা।


মনোবিদ পিল বলেছেন এডুকেশনাল সাইকোলজি ইজ দ্যা সাইন্স অফ এডুকেশন।

সুতরাং সার্বিক ভাবে বলা যায় শিক্ষা মনোবিজ্ঞান হলো ব্যক্তির শিক্ষাকালীন আচরণ অনুশীলন করা এবং শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতির উন্নতি ঘটানো যদিও আধুনিককালে শিক্ষা মনোবিদ্যার ধারণাটি আরও বিস্তৃত রূপলাভ করেছে।

উত্তরঃ- (Definition of Educational Psychology)


শিক্ষা ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের প্রয়োগের ফলে যে সব নতুন নতুন তত্ত্ব ও তথা পাওয়া যায় তাই নিয়ে গড়ে উঠেছে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান। শিশুর সামনে শিক্ষণীয় বিষয়গুলি কোনো প্রকারে তুলে ধরলেই তারা তা গ্রহণ করে না। কীভাবে শিক্ষা দিলে অর্থাৎ কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে শিশুমন তা সাগ্রহে প্রহণ করবে, কে কোন বিষয় কতটুকু নিতে পারবে, শিশুমন কী প্রতিক্রিয়া করে, শিক্ষার বিষয়ে তার আগ্রহ, উদ্দীপনায় সামর্থ্য ও প্রবণতা কতটুকু, এই সমস্তই শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের বিচার্য বিষয়। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের বিভিও ধরনের সংজ্ঞা দিয়েছেন সধবলভাবে শিক্ষা মনোবিজ্ঞজন হল্যে মনোবিদ্যার প্রয়োগমূলক সেই শাখা যা মানুষের বা বাক্তির শিক্ষাকালীন আচরণকে অনুশীলন করে থাকে মনোবিদ সি এইচ জাভ (CH. Judd) বলেন, "শিক্ষন মনোবিজ্ঞান হলো সেই বিজ্ঞান যা ব্যক্তির জীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিকাশের বিভিন্ন স্তরে যে পরিবর্তন ঘটে তার বর্ণনা এবং ব্যাখ্যা করে থাকে 11.ducational Psychology may be detined as the science which describes and explaines the changes that take place In individuals, as they pass through various stages of development from birth to maturity) মনোবিদ কোলেসনিক (W B. Kolesnik) শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের স্বরূপ আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, 'শিক্ষা প্রক্রিয়াকে সঠিক ব্যাখ্যা ও উন্নতি সাধন করতে পারে মনোবিজ্ঞানের যে সব তত্ত্ব ও নীতি সেগুলির অনুশীলনই হলো শিক্ষা মনোবিজ্ঞান (Educational Psychology is the study of those facts and principles of Phycholog) which help to explain and improve the process of education.)। একইভাবে মনোবিদ Skinner (২০১৫)-এর মতে শিক্ষামনোবিজ্ঞান হলো মনোবিজ্ঞানের সেই শাখা যা শিখন এবং শিক্ষণ নিয়ে অনুশীলন করে (Educational psychology is that branch of psychology which deals with teaching and learning):


প্রশ্নঃ- শিক্ষামনোবিজ্ঞানের আধুনিক প্রবনতার ক্ষেত্র প্রসঙ্গে আলোচনা করুন।


উত্তরঃ- (Modern trends in Educational Psychology)। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই দেখা যাচ্ছে শিক্ষা মনোবিদ্যা বিষয়টির দ্রুত উন্নয়ন ঘটেছে, শিক্ষণ শিখন পরিস্থিতিরও আমূল পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। এই সময় মনঃসমীক্ষণ, মনোবিদার সমগ্রতাবাদ এবা শিক্ষায় পরিমাপ এই তিনটি উপাদান বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। শিশুর শিক্ষার সক্ষমতার ক্ষেত্রে তার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা ও তার প্রভাব, অন্তর্দৃষ্টি ও বোধগমাতা এবং বৃদ্ধি অভীক্ষার ব্যবহার পর্যায়ক্রমে মনঃসমীক্ষক, সমপ্রতাবাদ এবং শিক্ষার পরিমাপ বা মূল্যায়ন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ১০১০-এর দশকে শিক্ষামনোবিদ্যার নীতিগুলি শ্রেণি-শিখনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ শুরু হয়, ব্যাপকভাবে গবেষণা কার্য শুরু হয়; শিশুর শিখন মডেল (Teaching-Learning model) আবিষ্কৃত হয়। শিশুর শিক্ষার জন্য তার আগ্রহ, বাক্তিত্ব, চাহিদা, বুদ্ধি প্রভৃতি পরিমাপের উপর গুরুত্ব দিয়ে বিস্তাবিত পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়। B. F Skinner. Piaget, Bruner প্রমুখ মনোবিজ্ঞানীদের পরীক্ষালও তত্ত্ব, মডেল যেমন educational technology, programmed instruction, computerised instruction, instructional design এবং জ্ঞানমূলক বিকাশের স্পষ্ট ব্যাখ্যা আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ করে শিক্ষা-মনোবিদ্যার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। নিম্নে মনোবিদ্যার আধুনিক প্রবণতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যকে উল্লেখ করা হলো-


(১) শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য বা প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী নির্দেশনামূলক কার্যকারিতাকে ফলপ্রসূ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীর শক্তি, সামর্থ্য, প্রবণতা অনুযায়ী শিক্ষণ- পদ্ধতিমুখী (Process oriented) দৃষ্টিভঙ্গিও গ্রহণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ পদ্ধতি-বিজ্ঞানকে উন্নত করার লক্ষ্যে আধুনিক মনোবিদ্যা নিরন্তর গবেষণা করে চলেছে শিক্ষণ মডেলের (teaching mudel) উপর গুরুত্ব আরোপ করছে।


(ii) শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও আত্মধারণা গঠনের উপর আধুনিক শিক্ষা মনোবিদ্যা জোর দেয়। বাক্তিত্বের বিভিন্ন সংলক্ষণ (traits) যা সরাসরি শিখন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে এবং আত্মবিকাশ আত্মউপর্শক ও আধ্যধারণা পঠনে সহায়ক হয়।


(ii) আধুনিক মনোবিদগণ যাক্তির মনোভাব, সংগতিবিধান, প্রাক্ষোতিক সাম্য, লিঙ্গগত মনোভাব প্রভৃতি নিয়ে আচরণগত মডেল (behavioural model) গঠন করার উপর বিশেষভাবে জোর দেন। শিক্ষার্থীর আচরণ কোনো বিশেষ পরিবেশ পরিস্থিতিতে কীভাবে পরিবর্তিত হয় তার গাণিতিক বিচার বিশ্লেষণের উপর আধুনিক মনোবিদ্যা জোর দেয়।

(iv) বাক্তির আর্থ সামাজিক অবস্থা হক্তির তোষণাকে তীভাবে প্রভাবিত করে এবং তার শিক্ষায় পারদর্শিতাকে নিয়ন্ত্রণ করে সে সম্পরে নিরন্তর গবেষণা চলছে।


(১) আধুনিক শিক্ষা মনোবিদ্যা শিক্ষারীর শুধুমাত্র কার্ড, আগ্রহ প্রবণতা নিয়েই আলোচনা করে না, শিক্ষার্থীর মূল্যবোধ ও নৈতিক বিকাশ ঘটানো নিয়েও চিন্তিত। সুষ্ঠু সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা ও মূলবোধের অবক্ষয় থেকে সমাজকে রক্ষা করতে আধুনিক শিক্ষা মমোরিমা। প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে।


(vi) শিক্ষা-মনোবিদ্যার আধুনিক প্রবণতার অন্যতম দিক হধ্যে শিক্ষার্থীর জ্ঞানমূলক কার্যকারিতার (cognitive functioning) উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা, শিক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তন, মনন ও সক্রিয়তার মাধ্যমে বিষয়বস্তু সম্পর্কে উপলব্ধি লাভ করা। কৌতূহলের নিবৃত্তি ঘটানো যাকে আমরা গঠনবাদ icontructivism) নামে অভিহিত করেছি।


(২৬) উদ্বেগ, মানসিক চাপ একজন ব্যাক্তির সুস্থ ও স্বাভাবিক সংগতিবিধানে জীরূপ প্রভাব ফেলে এবং কীভাবে এই উদ্বেগ ও মানসিক চাপকে অতিক্রম করা যায় আধুনিক শিক্ষা- মনোবিদ্যার এটি একটি অন্যতম আলোচ্য বিষয়।


(viii) মানব সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা- মনোবিজ্ঞানও তার গবেষণাকার্যকে প্রকৃত বিস্তৃত করেছে। নিজস্ব পরীক্ষাপারের উন্নয়ন, শিক্ষায় যন্ত্রের ব্যবহার, ভাষা পরীক্ষাগার, আবিষ্কার, তথা এবং যোগাযোগ, কারিগরিবিদর প্রভৃতি আজ শিক্ষামনোবিদার অন্যতম অনুশীলন সামগ্রী হিসবে পরিগণিত হয়েছে।


প্রশ্ন- শিক্ষামনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব বিচার করুন। শিক্ষামনোবিজ্ঞানের পরীক্ষা পদ্ধতিটি প্রয়োগ সহ আলোচনা করুন।


Bets(Significance of Educational Psychology) শিক্ষার সঙ্গে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক, শিক্ষা- মনোবিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও পরিধি বিষয়ক আলোচনা থেকে শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের তাৎপর্য তথা গুরুত্ব সম্বন্তে প্রাথমিক কিছু ধারণা পাওয়া যায় কিন্তু সাধারণভাবে অধিকাংশ মানুষ মনে করেন শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শুধুমাত্র শিক্ষক ও শিক্ষাতত্ত্বের চাত্রছাত্রীদের পাঠ্য একটি বিষয় মাত্র শিক্ষকদেরও এক আশ মান করেন শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের নীতি ও সুত্রগুলি সত্যি সত্যিই শিক্ষণ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায় না এবং তাঁরা সেই চেষ্টাও করেন না। এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের ভাৎপর্য বিশেষভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।


শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও সাফল্যের ক্ষেত্রে। কিন্তু তা ছাড়াও অন্য অনেকের কাছে, যেমন শিক্ষার প্রশাসক, অভিভাবক, নীতিনির্ধারক ইত্যাদির জন্যও শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলির পরিচিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য সকলের বেলায় গুরুত্ব সমান বা একপ্রকার নয়। সেই কারণে তা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে আসে শিক্ষকদের প্রসঙ্গ।


প্রশ্নঃ শিক্ষা-মনোবিজ্ঞান শিক্ষণকে তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক উভয় দিক থেকে সাহায্য করে।


উত্তর: (ক) তাত্ত্বিক দিক।


(1) ব্যক্তির বিকাশ সম্পর্কীয় তথা (Information about developmen of individual) শৈশব, বাল্যকাল এবং বয়ঃসন্ধিক্ষণ জীবন বিকাশের এই স্তরগুলি শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণের সময়। বিকাশের এই স্তরগুলির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে জীবন বিকাশের এই স্তরগুলির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান না থাকলে শিক্ষার অন্যত লক্ষ্য-শিক্ষার্থীর সুষ্ঠু বিকাশে সাহায্য করা তাঁর অর্থাৎ শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব নয়।


(2) শ্রেণিকক্ষের শিখন সম্পর্কে জ্ঞান (Knowledge about classroom learning) শিক্ষা মনস্তত্ত্ব থেকে সাধারণভাবে শিখন প্রক্রিয়া এবং বিশেষভাবে শ্রেণি শিখনে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যাবলি, শিখনের নীতি ও বৈশিষ্টং, শিখনের বিভিন্ন মতবাদ, শিখনের উপাদান ইত্যাদি সবচ শিক্ষা মনস্তত্ত্ব থেকে আমরা আনতে পারি।


(১) ব্যক্তিগত পার্থক্য (Individual difference) শিক্ষার্থীর মধ্যে বাক্তিগ একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, ব্যাক্তিগত পার্থক্যের কারণ, বাক্তিগত পার্থক্যকে ভিত্তি করে শিক্ষার্থী শিক্ষা পরিকল্পনা রচনা, শিক্ষার্থীর সহজাত সম্ভাবনাগুলির পূর্ণ বিকাশের জন্য অনুকু পরিবেশ সম্পর্কিত তথ্যাদি সবই শিক্ষা-মনোবিদ্যায় আলোচিত হয়। এ সবই শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যান্ত জরুরি।


(6) মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান (Knowledge about mental health) শিক্ষা শিখন প্রক্রিয়ার সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষক শিক্ষার্থীর মানসিক সু-স্বাস্থ্য। মানসিক স্বাস্থ্য কী, কীভাবে মানসিক সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া যায়, কী কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে, মানসিক অসুস্থতার প্ররিরেখ এবং প্রতিকারের জন্য কী ধরণের প্রয়োজন প্রভৃতি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য শিক্ষা মনস্তত্বে আলোচল করা হয়। শিক্ষা মনস্তত্ব হাপর্কে আান শিক্ষকতে এ বিষয়ে গচেরন করে তোলে এবং অনেক জৌশলের সম্মান দেহ, যার সাহায্যে শিক্ষক তাঁর ভর্তাবে সম্পাদন করার দক্ষতা অরবি করেন।


(7) শিক্ষার উদ্দেশ্য দ্বিতকরণ (Framing educational objectives)। শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্থিরকরণে শিক্ষ্য মনোবিদ্যার বিশেষ ভূমিকা লক্ষ করা যায়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর চাহিদা ও সামর্থ্যের পরিবর্তন ঘটে। চাহিদা ও সামর্থ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে শিক্ষার উদ্দেশ্য স্থির করলে তা নৈর্ব্যক্তিক ও বাস্তব হয়। রাক্তির চাহিদা ও সামর্থ্য সম্পর্কে তথ্য শিক্ষা মনস্তত্ব থেকে সংগ্রহ করা যায়।


(৪) পাঠক্রম গঠন (Framing Curriculum) বিভিন্ন বয়সের জন্য পাঠক্রম রানার ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান বিশেষভাবে প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের চায়িদা ও তার পূরণ শিক্ষার্থীদের বিকাশের প্রকৃতি, শিখন প্রক্রিয়া, সামাজিক চাহিদা ইত্যাদি সবই পাঠক্রম রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমান পাঠক্রম রচনায় বাক্তিগত ও সামাজিক চাহিদার এমনভাবে সমন্বয় ঘটানো হয় যাতে বিদ্যালয় থেকে সামাজিক পরিষেশে সর্বাপেক্ষা অধিক সঞ্চালন ঘটে।


(9) শিক্ষণ ও শিখনের ফলে পরিবর্তনের পরিমাপ (Measuring change due to teaching-learning): শিক্ষণ ও শিখনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে পরিবর্তন ঘটে তার পরিমাণে মনস্তাত্ত্বিক অরীক্ষার ব্যবহার বর্তমানে খুবই প্রচলিত। অভীক্ষন প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পারদর্শিতা সম্পর্কে তথ্য অবগত হন যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের তার ফিডব্যাকের কাজ করে।


(10) গবেষণা (Research) শিক্ষার্থীদের আচরণ এবা পারদর্শিতার উপর প্রভাব সৃষ্টিকারী উপাদানসমূহ নির্দিষ্টকরণে গবেষণা করা হয়। এই গবেষণার জন্য বিভিন্ন কৌশল প্রস্তুতকরণে শিক্ষা মনোবিদ্যা বিশেষভাবে সাহায্য করে।


(11) বাতিক্রমী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা (Special education for exceptional children) প্রতিবন্ধী সমেত ব্যতিক্রমী। প্রতিভাবান ও পিছিয়ে পড়া। শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্টকরণে এবং তাদের জন্য বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনে শিক্ষামনোবিদয় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।


(12) ধনাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন (Development of positive attitude): শিক্ষা, শিক্ষালয় এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের প্রতি ধনায্যক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের পক্ষেই বিশেষ প্রয়োজন। এই ধনাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে শিক্ষামনোবিদ্যা বিশেষভাবে সাহায্য করে।


(খ) শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষা-মনোবিদ্যার ব্যাবহারিক প্রয়োগ (Role of Educational Psychology in practical aspect of Education):


(1) শৃঙ্খলার সমস্যা (Problem of discipline)দন শ্রেণি শিক্ষণে ছাত্র শৃঙ্খলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তা ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়মকানুন অনুসরণ করা বিশেষ প্রয়োজন। প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থায় এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান ছিল। বর্তমান শিক্ষা মনোবিদগণ এই ব্যবস্থার বিরোধী। তাঁরা বলেন, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। যে শিক্ষক কঠোর শাস্তি দেন এবং তিনি যে বিষয়ে পাঠদান করেন উভয়ের প্রতিই শিক্ষার্থীদের অবাঞ্ছিত মনোভাব তৈরি হয় যা শিক্ষা-শিখনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমান শিক্ষা-মনোবিদগণের মতে, শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনবোধে লঘু শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, তবে তাও মনস্তত্ত্ব সম্মত হওয়া উচিত। ছাত্রের প্রকৃতি বুঝতে হবে, কী কারণে সে বিশৃঙ্খল আচরণ করছে তা অনুসন্ধান করার পরেই শান্তির প্রকৃতি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয়তা উপলতিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


(2) শিক্ষা প্রদীপনের ব্যবহার (Uses of teaching aids)। পঠনপাঠনে শিক্ষা প্রদীপন ব্যবহারের সুফল শিক্ষা- মনোবিদ্যার গবেষণায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। শিল্প প্রদীপনের ব্যবহার একদিকে যেমন শিক্ষার্থীর দ্রুত বিষয় আয়ত্তকরণে এবং ধারণা গঠনে সাহায্য করে, অন্যদিকে তেমনি বিষয়কে দীর্ঘ সময়ের জন্য মনে রাখতে সাহায্য করে।


(3) গণতান্ত্রিক প্রশাসন (Democratic administration) প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক প্রশাসন উৎকৃষ্ট বলে সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক প্রশাসনই কাম্য, বিশেষ করে আমাদের দেশে, যেখানে শিক্ষার ভিত্তি হল গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক প্রশাসনে সকলের সঙ্গে বসে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মনস্তত্ত্বের ভাষায় গণতান্ত্রিক প্রশাসনে সকলেরই অহংবোধ তৃপ্ত হয়। ফলে কেউ নিজেকে বা নিজেদের অবহেলিত বলে মনে করে না। সকলেই তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করে।


(4) সময়তালিকা (Time table) বিজ্ঞানসম্মত সময়তালিকা প্রণয়নে মনস্তত্ত্বের জ্ঞান বিশেষভাবে সাহায্য করে। সময়তালিকায় কোন বিষয়ের পর কোন বিষয় রাখলে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষমতা সর্বোচ্চভাবে প্রয়োগ করতে পারে এবং পশ্চাৎমুখী প্রতিরোধ ন্যূনতম হয় কখন টিফিন দিবে মানসিক ক্লান্তির অপনয়ন সম্ভব ইত্যাদি বিষয়ে জান শিক্ষা-মনোবিদ্যার নিকট আমরা পাই। আর এই জ্ঞান সময়জালিকা প্রশ্নতের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজন।


(2) পরীক্ষণ পদ্ধতি (Experimental Method) কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে কোনো মানসিক প্রক্রি পর্যবেক্ষন করার পদ্ধতিকে বলা হয় পরীক্ষণ পদ্ধতি। অর্থাৎ পরীক্ষণ হল সেই অবস্থায় পর্যবেক্ষণ যা পূর্ব থেকেই তৈরি করে রাখা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত অবস্থার মধ্যে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট মানসিক প্রতিবার অন্তদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। শিক্ষামনোবিজ্ঞানে এই পরী প্রয়োগের সাধারণ নিয়মগুলি হল...


(1) বিভিন্ন চলের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়। এক্ষেত্রে যে অবস্থাগুলির মধ্যে কোনো একটি মানসিক অবস্থাকে পরীক্ষক পর্যবেক্ষণ করেন সেগুলি পরীক্ষকের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে। তিনি পূর্ববর্তী অবস্থাগুলির মধ্যে কেবলমাত্র একটি অবস্থার পরিবর্তন ঘটান ও অন্যান্য অবস্থাগুলিকে অপরিবর্তিত রেখে আর ফলাফল লক্ষ করেন। যে অবস্থাটির পরিবর্তন ঘটিয়ে ফলাফলের তারতম্য লক্ষ করা হয় তাকে পরীক্ষার নিরপেক্ষ চল (Independent variable) বলা হয় এবং অবস্থাটির পরিবর্তনের ফলে বাক্তির প্রতিক্রিয়ার যে পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় সাপেক্ষ চল Dependent variable)। নিরপেক্ষ চলের পরিবর্তন ঘটলে সাপেক্ষ চলেরও পরিবর্তন ঘটবে।


(1) পর্যবেক্ষক নির্বাচন। পরীক্ষণকার্যে দুজন পর্যবেক্ষক প্রয়োজন। একজন পরীক্ষক (Experimentar) এবং দ্বিতীয়জন হল পরীক্ষার্থী (Subject) অর্থাৎ যার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরীক্ষক সুনিয়ন্ত্রিতভাবে সৃষ্ট এক কৃত্রিম পরিবেশে পরীক্ষার্থীর উপর একটি উদ্দীপও প্রয়োগ করেন ও তার প্রতিক্রিয়ার বাহ্যিক প্রকাশ পর্যবেক্ষণ করেন। আর পরীক্ষার্থী অন্তর্দর্শনের সাহায্যে নিজের মানসিক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। পরীক্ষক পরীক্ষার্থীর অন্তর্দর্শনের এবং নিজের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরীক্ষণ কার্যের ফলাফল নির্গত করেন।


(iii) পরীক্ষার্থী নির্বাচন । পরীক্ষণের সময় অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর প্রকৃতি পরিবর্তন করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী গ্রহণ করা হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি পরীক্ষার্থীর দল গ্রহণ করা হয়। এক্ষের এই দলের উপর কিছুদিন উদ্দীপক প্রয়োগ না করে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং তুলনামূলক আলোচনা দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই ধরনের পরীক্ষণ পদ্ধতিকে বলা হয় একই দলের উপর পরীক্ষণ (Single group technique)। আমার একই পরীক্ষার জন্য দুটি সমান ক্ষমতাসম্পন্ন দল নির্বাচন করা হয়। তাদের একটির উপর উদ্দীপক প্রয়োগ করা হয় এবং অপরটির উপর উদ্দীপক প্রয়েপ না করে স্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে রেখে তাদের প্রগতির হার তুলনা করা যায়। যে দলের উপর উদ্দীপক প্রয়োগ করা হয় তাকে বলা হয় পরীক্ষামূলক দল (Experimental group) এবা অপর দলটিকে বলা হয় নিয়ন্ত্রিত দল (Controlled group)। এইভাবে দুটি দল নিয়ে পরীক্ষণের পদ্ধতিকে বলা হয় সমদল অনুশীলন পদ্ধতি (Parallel group technique)। এই পদ্ধতির আর একটু উন্নত সংস্করণ হল পরিবর্তিত দলের পদ্ধতি (Rotation group technique) এক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে দুটি দলকেই একবার পরীক্ষামূলক দল ও নিয়ন্ত্রিত দলের ভূমিকা গ্রহণ করতে হয়।


প্রশ্ন- শিক্ষামনোবিজ্ঞান এবং শিক্ষা উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করুন।


উত্তরঃ- (Relation between Education and Psychology): আমরা শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের স্বরূপ আলোচনা করেছি, আমরা শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুও আলোচনা করেছি। সেখানে দেখেছি শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান এই দুটি বিষয়ের মধ্যে শুধুমাত্র নিবিড় সম্পর্ক আছে তাই নয়, উভয় বিষয় পরস্পরের সঙ্গে অলঙ্গিভাবে জড়িত। মানব সন্তানকে সুন্দর এবং সার্থক আচরণে অভ্যস্ত করাই হলো শিক্ষাতত্ত্বের উদ্দেশ্য। শিক্ষাতত্ত্ব হলো আচরণের প্রয়োগমূলক দিক আর মনোবিজ্ঞান হলো মানুষের আচরণ সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান। আচরণের মৌলিক সূত্র আবিষ্কার করে মনোবিজ্ঞান আর শিক্ষাতত্ত্ব নতুন আচরণ সৃষ্টি করতে মনোবিজ্ঞানের আবিষ্কৃত এই নীতি-তত্ত্ব ব্যবহার করে থাকে। যাই হোক শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও বিষয়বস্তুকে আরও সুস্পষ্ট করতে শিক্ষাবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিকে চিহ্নিত। করে আমরা এখানে আলোচনা করবো


(১) শিক্ষার লক্ষ্য ও মনোবিজ্ঞান। শিক্ষাতত্ত্ব বা শিক্ষাদর্শন শিক্ষার লক্ষ্য ঠিক করে থাকে। শিক্ষার্থী কীভাবে এই সব লক্ষা বা উদ্দেশ্যকে গ্রহণ করবে তা মনোবিজ্ঞানই আলোচনা করে থাকে। দার্শনিক চিন্তাপ্রসূত আদর্শগুলি মানবমনের মৌলিক নীতিগুলিকে লঙ্ঘিত করছে কি না এইসব মনোবিজ্ঞানই স্থির করে থাকে।


(২) শিক্ষার বিষয়বস্তু ও মনোবিজ্ঞান শিক্ষার বিষয়বস্তু কী হবে, এটা নির্ভর করে শিক্ষার দ্বারা আমরা কোন উদ্দেশাকে চরিতার্থ করবো তার উপর। শিক্ষাতত্ত্ব শিক্ষাদর্শনের সাহায্যে শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু নির্দিষ্ট করে আর অন্যদিকে শিক্ষার এই বিষয়বস্তু শিশুর মানসিক বিকাশে কতটুকু সহায়ক, শিক্ষার্থীর মানসিক ও দৈহিক বিকাশের স্তর অনুযায়ী কোন কোন বিষয় তাকে শেখাতে হবে, এইসব বিষয় মনোবিজ্ঞানই আলোচনা করে থাকে। 

(৩) শিক্ষার্থী ও মনোবিজ্ঞান: আধুনিক শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশুর করি, আগ্রহ প্রবণতা সামর্থ, বুদ্ধি, অনুরাগ, প্রকৃতি জন্মগত বৈশিষ্ট্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। শিক্ষার্থীকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে অনুশীলন করা হয়। এই সবই মনোবিজ্ঞানের গবেষণা প্রসূত বিষয়। শুধু তাই নয় শিশুতে বৈজ্ঞানিক অনুশীলনের জন্য মনোবিজ্ঞানের শিশু মনোবিজ্ঞান' (Child Psychology) শাখা রয়েছে।


(৪) পাঠদান পদ্ধতি ও মনোবিজ্ঞান। উপযুক্ত শিক্ষণ-গদ্ধতি শ্রেণি শিখনকে সার্থক করে তোলে। স্বল্প সময়ে কীভাবে অধিক বিষয়বস্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা যায়, কীভাবে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠে মনোযোগী করে তোলা যায়, আর কীভাবেই বা পাঠ গ্রহণে সক্রিয় করা যায় তার জন্য মনোবিজ্ঞান নান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন আধুনিক ও গতিশীল পাঠ পদ্ধতির আবিষ্কার করেছে। যেমন-হার্বার্ট এর পঞ্চসোপান পদ্ধতি, প্রজেক্ট পদ্ধতি, ডালটন প্ল্যান, ফ্রয়েবেলের কিন্ডার গার্টেন পদ্ধতি উল্লেখযোগ্য।


(৫) ব্যক্তিবৈষম্য ও মনোবিজ্ঞান। একজন ব্যক্তি, আর একজন ব্যক্তি থেকে দৈহিক, মানসিক প্রস্তুতি বিভিন্ন দিকে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে। ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে এই পার্থক্যকে বল্য হয় ব্যক্তি বৈষম্য। এই বৈষম্য অনুযায়ী শিক্ষা আজ বাক্তিমুখী (individualised)। ডালটন প্লান বাক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষারই এক শিক্ষণ পদ্ধতি। এই সম ধারণা মনোবিজ্ঞানেরই গবেষণা প্রসূত।


(৬) শিখন ও মনোবিজ্ঞান মনোবিজ্ঞান শিশুর প্রকৃতি অনুযায়ী, শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু অনুযায়ী শিখনের বিভিন্ন সূত্র, নীতি-কৌশল আবিষ্কার করেছে আর আমাদের শিক্ষাবিজ্ঞান সেগুলি যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রেণি শিখনকে সার্থক করে তুলছে।


(৭) ব্যক্তির ক্রমবিকাশ ও মনোবিজ্ঞান: শিক্ষা যাক্তির জীবনবিকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মনোবিজ্ঞান জীবনবিকাশের প্রভিটি জ্বরের গ্রহণ ক্ষমতাকে বলে দেয়। আর শিক্ষা এই স্তর অনুযায়ী এগিয়ে যায়। আমরা যদি শিশুর মধ্যে পরিণত মানুষের বুদ্ধিশীলতা আশা করি এবং সেইভাবে যদি শিক্ষাদান করি তবে শিক্ষা সেখানে বার্থ হবে। সুতরাং এই স্তর বিন্যাস অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া মনোবিজ্ঞানের গবেষণা প্রসূত।


প্রশ্ন: শিক্ষামনোবিজ্ঞান কে সমন্বয়ী বিজ্ঞান বলা হয় কেন। শিক্ষামনোবিজ্ঞানের বিকাশমূলক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি (genetic method) এবং মানসিক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করুন।


উত্তরঃ- শিক্ষা মনোবিজ্ঞানকে সমন্বয়ী বিজ্ঞান বলা হয় করণ। সমন্বয় বিজ্ঞান (ECLECTIC SCIENCE) কিন্তু কোন ধারনা বা স্বীকার্য নয়,


এটি কোন দৃষ্টান্ত ভিত্তিক বা উদারন ভিত্তিক তথ্য নয়, এটি হলো অনেকগুলি সূত্র বা ধারনা যা কোন একটি বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রয়োগ করা হয় শুধু মাত্র বিষয় থেকে কাঙ্খিত ফল পাওয়ার জন্য। Pestalozzi, Horbart এই ধরনের মনোবিজ্ঞানীদের মতে একজন শিক্ষার্থীর শারীরিক, মানসিক ও আধাত্মিক উন্নয়ন সর্বোচ্চ সম্ভব মনোবিজ্ঞানের সমন্বয়ী রূপের মধ্য দিয়ে।


ঠিক একই ভাবে, শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের সাহায্যে একজন শিক্ষার্থীর বয়স ও তার ধারন ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে, তার পাঠা বিষয়কে বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন শিক্ষাপদ্ধতি প্রয়োগ মাধ্যমে বোঝানো হয়। যাতে শিক্ষার্থীর কাছে বিষয়বস্তু সবচেয়ে সহজ, সরল ও বোধগম্য হয় এবং কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায়। এই কারনে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানকে সমন্বয়ী বিজ্ঞান বলে। তাই নিম্নে শিক্ষামনোবিজ্ঞান কে যে কারনে সমন্বয়ী বিজ্ঞান বলা হয় তার কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো-


: বিজ্ঞান হিসেবে মনোবিদ্যা বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে। তথ্য সংগ্রহের সময় তার অর্থ, তাৎপর্য, মূল্যবোধ একেবারে অগ্রাহ্য করলে চলবে না কারণ এগুলি মানুষের মনে উৎসাহ যোগায়।


2. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে মনোবিদ্যা যখন প্রগতির পথে অগ্রসর হয়, তখন সে মানসিক ঘটনাগুলি পরিমাপগত ব্যাখ্যা দানের চেষ্টা শুরু করে কিন্তু মন পরিমাপ সাপেক্ষ পদার্থ নয়। এই জন্য মানুষের ঘটনাসমূহকে গুণগত দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকেও ব্যাখ্যা করতে হবে।


3. শিক্ষামনোবিজ্ঞানের সাহায্যে পাঠদান, বিদ্যালয় সাংগঠনিক বিষয়, বিদ্যালয় পরিচালনায় ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক তথ্য পরিবেশন করে শিক্ষার সকল স্তরে উন্নতি সাধন করা যায়।


4. শিক্ষামনোবিজ্ঞান মানুষের শিক্ষাকালীন আচরণের গতিপ্রকৃতি বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে নির্ণয় করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করে আদর্শ পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

বিকাশমূলক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি GENETIC METHOD) পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং সিদ্ধাজ গ্রহণ ছাড়াও শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের নিজস্ব


কতকগুলি পদ্ধতি আছে যার সাহায্যে বিভিন্ন প্রকার মানসিক প্রক্রিয়ার শিক্ষাগত তাৎপর্য অনুশীলন করা হয়। এই পদ্ধতিগুলিকে বলা হয় শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের বিশেষ পদ্ধতি। এইসব পদ্ধতির মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হল-


(১) জেনেটিক বা ক্রমবিকাশ পদ্ধতি (Genetic Method) এই পদ্ধতি অনুকরণ করে মানবমনের কোনো বিশেষ অবস্থাতে


বহুদিন ধরে অনুশীলন করে সেই মানসিক অবস্থার বিকাশের ধরা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই পদ্ধতি একটি মূলত এ যারা ব্যাক্তি-মানের বা একটি জাতি-মনের ক্রমবিকাশ তার শৈশবাবস্থা থেকে পূর্ণতা প্রান্তি পর্যন্ত লক্ষ করা যায় অবধি মনের অপরিণত অবস্থা জীভাবে পরিণত অবস্থায় রূপান্তরিত হয় তারই ক্রমবিকাশের আলচনা 'ক্রমবিকাশ' পদ্ধতির উদ্দেশ্য প্রাণীমন, শিশুমন, প্রাপ্তবয়স্কদের মন সকলের ক্ষেত্রেই ক্রমবিকাশ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। তবে এই পদ্ধতি বিশেষভাবে শিশু মনোবিদ্যায় (Child Psychology) শিশুদের জীবনবিকাশের ধারা অনুশীলন করার জন্য ব্যবহার করা হয়।


ক্রমবিকাশ পদ্ধতির সুবিধা (Advantages of Genetic Method) এই পদ্ধতি মনের সক্রিয়তা ও গতিশীলতার উপর গুরত্ব আরোপ করে এবং মনের যে ক্রমবিকাশ আছে এই বৈজ্ঞানিক সত্যকে স্বীকার করে। কাজেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য এই পদ্ধতি আধুনিক।


ক্রমবিকাশ পদ্ধতির অসুবিধা (Disadvantages of Genetic Method) এই পদ্ধতি পরিবর্তনশীল মানসিক প্রক্রিয়ার অন্তরালে কোনো নির্দিষ্ট মানসিক সত্তার অস্তিত্বের উপর গুরুত্ব আরোপ করে না ফলে এই পদ্ধতি দ্বারা মানবজীবনের ঐকা ও ধারাবাহিকতাকে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।


চিকিৎসামূলক পদ্ধতি (Clinical Method):


চিকিৎসামূলক পদ্ধতি প্রাথমিকভাবে অণসংগতি সম্পন্ন ব্যক্তির সমসা পীড়িত আচরণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই তাপসংগতি সমাজবিরোধীমূলক আচরণ, প্রাক্ষোতিক অস্থিরতা, অথবা শিখনে পশ্চাৎপদতা যে কোনো প্রকারের বৈশিষ্ট্যসূচক হতে পারে। এই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যই হলো অপসংগতিসম্পন্ন ব্যক্তির সমস্যাকে চিহ্নিত করা বা রোগ নির্ণয় করা এবং মনোচিকিৎসার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে জানা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। বিভিন্ন প্রকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভৌশল বা পদ্ধতির সাহায্যে এইসব সমস্যাপীড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এমনকি জন্ম থেকে বর্তমানে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকার অপসংগতিমূলক আচরণ বা কার্যাবলীকে ব্যাপকভাবে অনুশীলন করা হয়। ব্যক্তির অবচেতন মনের বিশ্লেষণ করা হয়। চেষ্টা করা হয় অপসংগতিমূলক আচরণের মূল উৎসগুলিকে খুঁজে বের এবং তার প্রতিকারের ব্যবস্থা করা।


এই ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পন্ন করতে পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎকার, ডাক্তারি পরীক্ষা, মুক্ত অনুষঙ্গ প্রভুতি প্রয়োগ করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার অভীক্ষা যেমন বৃদ্ধি, ব্যক্তিত্ব, আগ্রহ, প্রবণতা, সংগতিবিধান অভীক্ষা প্রভৃতিও প্রয়োগ করা হয়। মক্কেলের অতীত এবং বর্তমান অভিজ্ঞতার উপর যেমন জোর দেওয়া হয় তেমনি গৃহ, বিদ্যালয় এবং সমাজ পরিবেশের উপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমস্যাপীড়িত ব্যক্তির সমস্ত দিকের সকল প্রকার তথ্যকে প্রণালীবদ্ধভাবে সংগ্রহ করা হয় এবং সংহতরূপে একটি জীবন ইতিহাস (case history) তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে গড়ে ওঠা মনোচিকিৎসা বিজ্ঞানেরই সহায়তা নিয়ে থাকেন। ফ্রয়েড (Freud) ইয়া (Yung) এডলার (Adlar) প্রমুখ মনোবিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই এই বিজ্ঞানকে সম্পূর্ণতা প্রণন করেছেন।


প্রশ্ন শিক্ষামনোবিজ্ঞানের কর্মপরিসর সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা করো।।


উত্তরঃ ভূমিকা শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের পরিধি বলতে এই বিজ্ঞানের ক্ষেত্র বা আলোচনার বিষয়বস্তুর পরিসরকে বোঝায়। শিক্ষা মনোবিজ্ঞান মূলত শিখন ও শিক্ষণ নিয়ে আলোচনা করে। কোনো বিষয়ে স্বল্প সময়ে সহজভাবে সার্থক শিক্ষা কীভাবে প্রদান করা যায় এবং সেই শিক্ষা গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীর মনে কেমন প্রতিক্রিনয়া হয় ভার ব্যাখ্যা করাই শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের কাজ। সুতরাং, শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের কর্মসূচি শিক্ষাদানের সমস্যাকে কেন্দ্র করেই বিস্তৃত। বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে শিক্ষা-মনোবিদগণ শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের নিম্নলিখিত পরিধি বা বিষয়বস্তুসমূহ স্থির করেছেন-


(1) শিশু মন- শিখা- মনোবিজ্ঞান মূলত শিশু মনের আলোচনা করে। শিশু মনের নমনীয়তা (Plasticity), তার উপর বংশধারা ও পরিবেশের প্রভাব ইত্যাদি শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে আলোচিত হয়। কারণ, শিশুকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার পরিধি ও সার্থকতা দুই ই ব্যান্ড।


(ঘ) শিখন প্রক্রিয়া


শিখন দ্বারাই ব্যক্তি জীবনবিকাশের পথে এগিয়ে যায়। তাই শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে শিক্ষা প্রক্রিয়ার প্রকৃতি, শিখদের সূত্রাবলি, শিখনে প্রক্ষোভ, প্রেষণা ইত্যাদির ভূমিকা, তথ্য শিখন, ধারণা শিখন, সমস্যা সমাধানে শিখদ, শিখনের বিভিন্ন তত্ত্ব ইত্যাদি আলোচিত হয়।


(ii) প্রাথমিক মানসিক উপাদান। শিশুর সহজাত কর্মপ্রবণতা বা প্রাথমিক মানসিক উপাদানের (Original tendencies) উপর


ভিত্তি করে সম্পূর্ণ শিক্ষা পরিকল্পনা গড়ে ওঠে। প্রকৃতি (Instinct), (Instinctive action), তাৎক্ষণিক জিলা (Reflex action), প্রক্ষোভ (Emotion), চাহিদা (Need), মনোযোগ (Attention), অনুরাগ (Interest), বৃদ্ধি (Intelligence), স্মৃতি (Memory), বিস্মৃতি (Forgetting), সৃজনশীলতা (Creativity) ইত্যাদি বিষয় কীভাবে শিক্ষাকে প্রভাবিত করে যে সম্পর্কে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে আলোচনা করা হয়।


(iv) বিকাশের ধারা


প্রত্যেক শিশুই জন্মের পর থেকে স্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে স্বাভাবিক নিয়মে বিকশিত হয়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে দৈহিক, মানসিক সামাজিক ও প্রাদোয়িক বৈশিষ্টোর পরিবর্তন ঘটে। শিশুর এই পরিবর্তন কীভাবে ঘটে অর্থাৎ জীবনবিকাশের ধারা অনুশীলন করা শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।


(৮) ব্যক্তিসত্তার বিকাশ শিশুর ব্যাক্তিসত্তার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার আগ্রহ, মনোভাব ইত্যাদি বিবেচনা করে শিক্ষার বিষয়বস্তু, পদ্ধতি ইয়ানি নির্বাচিত হয়। তাই শিক্ষা- মনোবিজ্ঞানে ব্যাক্তিসত্তা বিকাশের বিভিন্ন দিকগুলিকে পর্যালোচনা করা হয়।


(vi) শিখন সঞ্চালন বিদ্যালয় শিক্ষাকে বৃহত্তর জীবনে সঞ্চালিত করতে না পারলে প্রথাগত শিক্ষার উদ্দেশ্যই সাধিত হয় না। তাই কোনো বিশেষ পরিস্থিতির শিখন শুন্য পরিস্থিতিতে সঞ্চালিত হয় কিনা, সঞ্চালন হলে তা কী পরিমাণে হয় এবং কীভাবে হয় তারও আলোচনা শিক্ষা- মনোবিদার অন্তর্ভুক্ত।


(vii) যক্তিস্বাতন্ত্র প্রকৃতিক নিয়মে ব্যক্তিতে ব্যাক্তিতে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। এই পার্থক্যকে ভিত্তি করে শিক্ষার বিভিন্ন দিকগুলি বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যাক্তিগত বৈষমাকে ভিত্তি করে ব্যাক্তির বিকাশ ঘটানোই গণতান্ত্রিক শিক্ষার লক্ষ্য। তাই বাক্তিগত বৈষম্য কী, এই বৈষমা জোন কোন দিক থেকে আসে এই বৈষম্যকে ডিরি করে শিক্ষা জীভাবে পরিকল্পিত হবে ইত্যাদি আলোচনা শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু।


(vii) পরীক্ষা ও মূল্যায়ন। শিক্ষার্থী কয়টুকু শিখল, তার মধ্যে আচরণের কতটুকু পরিবর্তন ঘটল, যদি বাঞ্ছিত আচরণের পরিবর্তন না ঘটে তার কারণ কী, জীভাবে সংশোধন করা যায় ইত্যাদি নানা সমস্যা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষ্য শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের বিষয়।


(ix) পরিসংখ্যান/তাশিবিজ্ঞানঃ বর্তমানে শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন কাজে রাশিবিজ্ঞান বা পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয় যেমন-


শিখা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে পরিবেশন করার জন্য।


বিতিয় পরীক্ষামূলক ফলাফলকে বিচার করার জন্য।


বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য।


শিক্ষার্থীর অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য।


কোনো বিষয়কে প্রয়োগ করতে হলে তার তাৎপর্য উপলব্ধি করা প্রয়োজন। তাই আধুনিক শিক্ষা- মনোবিজ্ঞানের একটি আলোচনার ক্ষেত্র হল রাশিবিজ্ঞান বা পরিসংখ্যান যাকে শিক্ষামূলক পরিসংখ্যান (Educational statistics) বলা হয়।


(x) মানসিক স্বাস্থ্য। সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী উভয়েরই প্রয়োজন। তাই মানসিক স্বাস্থ্য কী, মানসিক সু-স্বাস্থ্যের লক্ষণগুলি কী, জীভাবে সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া যায় এসবই শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও শিক্ষা-বিজ্ঞান এদের পারস্পরিক সহযোগিতার দ্বারা বাক্তিজীবনের বিকাশ নির্ণীত হয়। তাই শিক্ষা, মনোবিজ্ঞানে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।


(x1) অপরাধ প্রবণতা শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বা বাইরে নানারকম অপরাধমূলক আচরণ করে থাকে। যেমন চুরি করা, মিথো কথা বলা ইত্যাদি। এই অপরাধগুলি কেন করে, কীভাবে তা দূর করা যায়, এ সমস্ত আলোচনা শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।


(xii) অপসংগতিমূলক আচরণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেসব চাহিদা থাকে বা যে চাহিদার সৃষ্টি হয়, তার যথাযোগ্য পরিতৃপ্তি না করতে পারলে তাদের মধ্যে অপসংগতিমূলক আচরণ দেখা যায়। এই অপসংগতির কারণ কী কী, কোন কোন দিক থেকে বিদ্যালয়ে অপসংগতির সৃষ্টি হয়, কী ধরনের অপসংগতিমূলক আচরণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায়, এ সম্পর্কে আলোচনা শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু।


(xii) অভিযোজন প্রক্রিয়া। শিক্ষাই হল অভিযোজন। শিখন পরিস্থিতি, বিদ্যালয় পরিস্থিতি এবং সামগ্রিকভাবে জীবন পরিস্থিতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিযোজনের জন্য কীভাবে অনুকুল পরিবেশ গড়ে তোলা যায় এবং প্রতিকূল পরিবেশকে প্রতিরোধ করা যায় প্রভৃতি শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়।

xiii) শিখনের প্রতিকূল অবস্থা এমন কিছু অবস্থা আছে যা শিখন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। যেমন অবসাদ (Fatigue), একঘেয়েমি (Monotony), বিরক্তিকর অবস্থা (Boredom) ইত্যাদি। শিখন পরিস্থিতিতে এই অবস্থাগুলি কেন আসে এবং কীভাবে এই অবস্থাগুলি দূর করা যায়, এসবই শিক্ষা- মনোবিজ্ঞানে আলোচনা করা হয়।


প্রশ্ন বিকাশের নির্ণায়ক হিসেবে বংশগতি ও পরিবেশের ভূমিকা আলোচনা করো।


উত্তরঃ শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলি বিকাশকে প্রভাবিত করে বা নির্ধারক হিসেবে কাজ করে বিকাশের ক্ষেত্রে নির্ধারক হিসেবে রয়েছে তিনটি প্রধান উপাদান বংশগতি (fterodity), পরিবেশ (Environment) এবং সময় (Time)। শিশু বা বাক্তির সম্পূর্ণ বিকাশ ঘটা সম্ভব হয় এই তিনটি উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে। অর্থাৎ, বিকাশ বংশগতি পরিবেশ। সময় [Development - HE


তবে, বহুদিন থেকেই 'বংশগতি' ও 'পরিবেশ' এই দুটি উপাদানের অবস্থানগত প্রাধান্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বংশগতি বিশ্বাসীদের মতামত হল, ব্যক্তি/শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে বংশগতির বৈশিষ্টী (Genetic Characteristics) বা পিতা মাতার জিনগত বৈশিষ্টী অধিক প্রভাব বিস্তার করে। এই মতামতকে Natural issue বলা যেতে পারে। অন্যদিকে, পরিবেশ বিশ্বাসীদের মতে, ব্যক্তি/শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবেশের বৈশিষ্ট। (Environmental Characteristics) অধিক প্রভাব বিস্তার করে। এই মতামতকে প্রতিপালন (পরিবেশগত) বা Nurture txtile বলা যেতে পারে। শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে এই দ্বিধাবিভক্ত মতবাদকে Nature Nurture controversy বলা হয়ে থাকে।


বিস্তারিত আলেচনা করা হল। এই উপাদানগুলি ব্যতীত কিছু সামাজিক উপাদান রয়েছে, যেগুলি বিকাশের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। এখানে নির্ধারকসমূহ নিয়ে


বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বংশগতির প্রভাব (Effects of Heredity in Various Stages of Development)-


ব্যক্তির বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রসমূহ হল-


শারীরিক দিক (Physical aspect): বক্তির শারীরিক বিকাশের বা শারীরিক পঠন কাঠামো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি বাক্তি বাশগতি সূত্রেই অর্জন করে। অর্থাৎ, বাক্তির দৈহিক কাঠামো, উচ্চতা, অবয়ব, চুলের রং, চোখের রং, গায়ের রং, চেহারার গঠন ইত্যাদি সকল বৈশিষ্টাই বংশগতি থেকে অর্জিত। শারীরবৃত্তীয় কিছু সমস্যা, যেমন-হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, অ্যাসখামা ইত্যাদি বংশগতির প্রভাবেই ঘটতে দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে। যেমন মা-বাবার কারও ডায়াবেটিস থাকলে তাদের সন্তানদেরও থাকার প্রবণতা দেখা যায়।


বৌদ্ধিক দিক (Intellectual aspect)। বৌদ্ধিক সক্ষমতার কিছু ক্ষেত্র, যেমন-স্মৃতি, ভাষা শেখার বয়স, পড়ার ক্ষেত্রে অক্ষমতা (reading disabilities), মানসিক প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি বিষয়গুলি মা-বাবা থেকে ভাদের সন্তানদের মধ্যে সঞ্চালন ঘটে। Terman পরীক্ষা করে দেখেছেন, পিতা-মাতার বুদ্ধির সঙ্গে তাদের সন্তান-সন্ততির বুদ্ধির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। Goddard-এর মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে মানসিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত মা-বাবার সন্তানদের অধিকাংশই মানসিক প্রতিবন্ধী হয়। (পরীক্ষায় দেখা গেছে মোট ৪৪০ জন ব্যক্তির মধ্যে (মানসিক প্রতিবন্ধী পরিবারের) 143 জন সম্পূর্ণ মানসিক প্রতিবন্ধী, 291 জন গড়ের কাছাকাছি ও ২৫ জন স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্পন্ন। দিক (Emotional aspect) প্রাক্ষোভিক বৈশিষ্টোর ক্ষেত্রে


প্রাক্ষোভিক বংশগতির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যেমন লাজুক ভাব (shyness), বহির্মুখীনতা (extroversion), নিউরোসিস, সিজোফ্রেনিয়া, দুশ্চিন্তা (anxiety) ইত্যাদি ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েরা মা-বাবার বৈশিষ্টাকে বহন করে নিয়ে চলে (তবে এক্ষেত্রে কেবল প্রবণতার সঞ্চালনই হয়, সবক্ষেত্রে একইরকম নাও হতে পারে]।


বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাব (Effects of Environment in Various Stages of Development) সাধারণভাবে পরিবেশ বলতে আমাদের চারপাশের প্রকৃতির যে অংশে অবস্থান করি তাকেই বোঝায়। আমাদের বিকাশ বংশগতির দ্বারা যেমন প্রভাবিত হয়, তেমনি পরিবেশও আমাদের বিকাশকে প্রভাবিত করে। বিকাশের ক্ষেত্রে যে পরিবেশ প্রভাব বিস্তার করে, তাকে দুটি ভাংগ ভাগ করে আলোচনা করা যায়। যেমন-প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সামাজিক পরিবেশ


প্রাকৃতিক পরিবেশ (Physical Environment) ব্যক্তি বা শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে বোঝায় শিশুর দৈহিক বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশকে। শিশুর বিকাশের জন্য যথাযথ প্রাকৃতিক পরিবেশগত সুযোগসুবিধা পাওয়া দরকার। যেমন

10 উপযুক্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা। শিশুর দৈহিক বিকাশ সঠিকভাবে হওয়ায় জন্য জীবন বিকাশের প্রতিটি স্তরে যথোপযুক্ত আলো, বাতাস ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকা দরকার। আলোবাতাসের অভাব থাকলে প্রাকৃতিক পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠয়ে পতে যা অন্যান্য বিকাশকে প্রভাবিত করে ফেলতে পারে।


পুষ্টি। পুষ্টি হল সুষম খাদ্যের জোগান। মানুষের যথাযথ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্যের সরবরাহকেই পুষ্টি বলা যেতে পারে। বিকাশের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান হিসেবে বিকাশের সকল স্তরেই (শৈশর, বলা, কৈশোর) পুষ্ঠির প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয়তাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করার জন্য বিকাশের বিভিন্ন স্বরকে অনুসরণ করে আলোচনা করা যেতে পারে।


সামাজিক পরিবেশ। বিকাশের ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবেশ বলতে বোঝায় শিশুর সামাজিক অবস্থানগত পরিস্থিতিকে। অর্থাৎ পিতা-মাতা লালন। পালন বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক ইত্যাদি হলো সামাজিক পরিবেশের উদাহরণ। এখানে কিছু সামাজিক পরিবেশের উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হলো-


শিশু লালন অনুশীলন (Child-searing Practices) সাধারণ Parenting (child-reating) বা 'অভিভাবক' বলতে বোঝায় শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত শিশুর বিকাশের (দৈহিক, প্রাক্ষোভিক, সামাজিক, বৌদ্ধিক) জন্য উন্নয়নমূলক প্রক্রিয়া বিশেষ। শিশুর সঠিক বিকাশের ক্ষেত্রে 'অভিভাবকত্ব' বিশেষ প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে। সু-অভিভাবকত্বের (good parenting) মাধ্যমে শিশুর বৃদ্ধি সঠিক বা সুষম হতে পারে।


বন্ধুদল বা বন্ধু (Peer Group or Peers) যাক্তি বা শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানের মধ্যে বন্ধুদলের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুদল (peer group) বলতে সম আয়, সমবয়সি ও একই পরিবেশে সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন কিছু ব্যক্তি/শিক্ষার্থীর সমষ্টিবদ্ধতাকে বোঝায়। শিক্ষার্থী বা ব্যক্তির দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, প্রাংক্ষাতিক প্রভৃতি দিকে বিকাশের ক্ষেত্রে বন্ধুদল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।


সহোদর ভাই বা বোন (Siblings) সাধারণত একই মা-বাবার সন্তান-সন্ততিদের সহোদর ভাই-বোন বলা হয়। শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়ের মতো ভাই-বোনের সম্পর্ক বিশেষ প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান হিসেবে গুরুত্ব পেয়ে থাকে।


প্রশ্ন- শিখনের সঞ্চালন প্রসঙ্গে গেস্টালবাদী দ্বারা প্রদত্ত উপস্থাপন তত্ত্বটি বিশ্লেধনী আলোচনা করো।


উত্তরঃ গেস্টাস্ট তত্ত্ব (Thory of Gestalt) পূর্বে আমরা যে তিনটি শিখন তত্ত্বের (প্যাভলভ, খর্ণডাইক, স্কিনার), আলোচনা করেছি, সেগুলিতে উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সংযোগস্থাপনকেই শিখন বলা হয়েছে। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর গোড়াতে একদল মনোবিদরা এই যান্ত্রিক শিখন তত্ত্বকে সমালোচনা করেন। তারা বলেন উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ায় মাঝে যে মানসিক প্রক্রিয়া কার্যকরী তা উপরের শিখন তত্ত্বগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যে সমস্ত মনোবিজ্ঞানীরা এই যান্ত্রিক উদ্দীপক প্রতিক্রিয়ার তত্ত্ব স্বীকার করেননি তারা হলেন সমগ্রতাবাদী (Gestalt Psychologist)। জার্মান ভাষায় 'Gestalt' কথার অর্থ সমগ্র অবয়ব বা সমগ্ররুণ, সেজন্য এই ধরণের শিখন তত্ত্বকে বলে গেস্টাল্ট তত্ত্ব। গেস্টান্ট তত্ত্বে বিশ্বাসী মনোজ্ঞিানীদের মধ্যে অন্যতম হলেন ওয়ার্নিমার (Wartheimer), কথা (Koffka) এবং কোহলার (Kohlar)


গেস্টান্টবাদী মনোবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে শিখন বিচার বিবেচনাহীন যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়। তাদের মতে সমস্যামূলক পরিস্থিতির সমগ্ররুপকে উপলব্ধি করার পরেই শিখন সম্ভব হয়। এজন্যই এই মতবাদকে সমগ্রতাবাদের তত্ত্ব (Field theory) বলা হয়ে থাকে।


এই শিখন তত্ত্বটি ব্যাখ্যার আগে আমরা কোহলারের দুটি পরীক্ষার আলোচনা করব- কোহলার একটি খাঁচাতে কিছু করা উপর থেকে ঝুলিয়ে দিলেন এবং খাঁচার মধ্যে দুটো কাঠের বাক্স রেখে দিলেন। বাক্স দুটির উচ্চতা এমনই যে কোনো একটির উপরে দাঁড়ালে কলার নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু দুটি বাক্স একটির উপরে আর একটি রাখলে কলার নাগাল পায়া যায়। এই অবস্থায় কোহলার অনেকগুলি শিম্পাঞ্জিকে খাঁচায় ঢোকালেন। কিন্তু কোনো শিম্পাঞ্জিই কলা পাড়তে পারল না। অবশেষে সুলতান নামে একটি বুদ্ধিমান শিম্পাঞ্জিকে খাঁচায় ঢুকিয়ে কোহলার একটি হাতের উপর আর একটি হাত রেখে ইশারা করতেই, সুলতান বাক্সদুটি কলা নামিয়ে নিল। পরবর্তীতে সুলতান কোনো ভুল না করে প্রত্যেকবারই কলা নামাতে পারল বা শিখল।


পরে আর একটি পরীক্ষায় কলা রাখা হল খাঁচার বাইরে আর খাঁচার মধ্যে রাখা হল দুটি লাঠি। দুটি লাঠির কোনটি দিয়েই কলার নাগাল পাওয়া যায় না। কিন্তু লাঠি দুটি একসঙ্গে আটকানো যায় এবং তখন খাঁচার ভেতর থেকে কলা টেনে আন্য হয়। এখানেও সুলতানকে খাঁচার মধ্যে ঢোকানো হল এবং কোলার ইঙ্গিত দেবার চেষ্টা করলেন। সুলতান লাঠি দুটো নিয়ে খেলতে খেলতে হঠাৎ লাঠি দুটো জুড়ে ফেলে এবং সহজেই কলা টেনে নিয়ে আসে।

মুহী ক্ষেত্রেই সুলতান যখন সমগ্র পরিস্থিতিতে বিচার করতে পেরেছে তখনই সে হঠাৎ করে সমস্যা সমাধানের পন্থা খুঁজে বার করতে পেরেছে। হঠাৎ করে এই সমসর সমাধান করে ফেলাকে গেস্টানী মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন অন্তদৃষ্টি (Insight)। এজন্য গোটান্ট শিখন তত্ত্বকে অন্তদৃষ্টিমূলত শিখনও (Insightful learning) বলে।


গেস্ট্যান্ট মতবাদের শিক্ষাগত তাৎপর্য। প্রথমত কোনো বিষয় উপস্থাপনের সময় প্রথমে সমগ্রজপটি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে হবে। পরে প্রতিটি আশের ব্যাখা দেওয়া উচিত। উদাহরণয়তণ কল যেতে পারে-কোনো শিক্ষক/শিক্ষিতা যদি কোনো কবিতা পড়াতে চান তবে প্রথমে কবিতাটির সমস্ত আপ পাঠ করষেন বা কবিতাটির মূল বিষয় আখ্যা করবেন ও পরে প্রতিটি ছত্র বা লাইনের ব্যাখ্যা দেবেন। গেস্টাল্টবাদীদের মতে শিখন হয় অন্তদৃষ্টি থেকে। যখন শিক্ষার্থী কোনো পাঠ্য বিষয়ের বিভিন্ন আশগুলির মধ্যে সম্পর্ক সাধন করতে পারে তখন তার মধ্যে অন্তদৃষ্টি সৃষ্টি হয়। সুতরাং শিক্ষার্থী যেন বিভিন্ন অংশের মধ্যে সম্পর্ক সাধন করতে পারে সেনিকে শিক্ষক/শিক্ষিকাকে দৃষ্টি রাখতে। হবে গেসস্ট্যান্টবানীদের মতে অন্তদৃষ্টি জাগরণের জন্য প্রয়োজন পৃথকীকরণ ও সামানীকরণ। শিক্ষক/শিক্ষিকা যদি বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও পার্থকা চিহ্নিত করতে সাহায্য করেন। তবে শিক্ষার্থীর শিখনে সুবিধা হয়। গেস্টান্ট মতে শিখন যান্ত্রিক প্রচেষ্টা নয়। শিখন হল একধরনের মানসিক উপলব্ধি সুতরাং শিক্ষক/শিক্ষিকা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে শিখন করতে উদ্যোগী না হয়। যে সমস্ত শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু পরস্পর সম্পর্কযুক্ত, সেগুলিকে কম সময়ের বাবধানে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। যদি পূর্ববর্তী পাঠের সঙ্গে পরবর্তী পাঠকে সম্পর্কযুক্ত করে উপস্থাপন করা যায় তবে শিখন সহজ হয়।


প্রশ্ন-তথ্য প্রক্রিয়াকরণ মডেল এর সাহায্যে স্মৃতির ব্যাখ্যা করো।


উত্তরঃ বর্তমানে মানুষের স্মরণক্রিয়াকে কম্পিউটারের সাথে তুলনা করা হয়। কম্পিউটারে যেমন input Process Output রয়েছে তেমনি মানুষের স্মরণক্রিয়াতেও এই তিনটি প্রক্রিয়া কাজ করে বলে এই মতবাদে বিশ্বাস করা হয়।


মানুষের তথা প্রক্রিয়াকরণকে ব্যাখ্য করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মডেলের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেলটি হল অ্যাটকিনসন ও সিফরিনের (Aztkinson & Shiffrin)। এই মডেলে বলা হচ্ছে তথ্য পরিবেশ থেকে আমাদের বিভিন্ন জ্ঞানেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সেসরি রেজিস্টারে (Sensory Register) প্রবেশ করে। সেখান থেকে কিছু তথ্য যেগুলি আমাদের পূর্বপরিচিত ও আগ্রহসম্ভারক (Interesting) সেগুলি পরবর্তী ধাপে যায়, যেটির নাম ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি (Short Term Memory or STM)। এটি প্রথম তথা প্রক্রিয়াকরণের ধাপ। যেগুলি প্রক্রিয়াকরণ হল না সেই তথ্যগুলির বিস্মৃতি ঘটল। এবারে STM থেকে বেশ কিছু তথ্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকরণের ফলে পরবর্তী ধাপে। প্রবেশ করে, যার নাম দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি (Long Term Memory or LTM)। যে কথাগুলি ITM প্রবেশ করল না সেগুলিরও বিস্মৃতি ঘটবে। অর্থাৎ চিত্র আকারে এটিকে প্রকাশ করলে পরের পৃষ্ঠায় চিত্রটি পাব


পরিবেশ


সেনসারি


রেজিস্টার


বিস্মৃতি


তথ্য


কার্যকরী


স্মৃতি


টি


এসটিএম


এম


প্রক্রিয়াকরণ


বিস্মৃতি


তিনটি হল


এই মডেলে তিনটি স্তর বা পর্যায়ের (stage) কথা বলা হয়েছে। শুব


সেন্সরি রেজিস্টার (Sensory Register বা সংবেদনমূলক স্তর)


ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি (Short term Memory বা STM)


দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি (Long term Memory LTM)


সেন্সরি রেজিস্টার পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য প্রথমে মানুষের জানেন্দ্রিয়ে এসে আঘাত করে এই স্তরে পৌছায়। একসাথে অনেক তথা। গ্রহণ করতে পারলেও এই স্তরে তথ্যের স্থায়িত্ব খুব কম (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। সেকেন্ডেরও কম)। অর্থাৎ অধিকাংশ তথ্যই বিস্মৃতিতে চলে যায়। এখানে তথ্যগুলি অর্থহীনভাবে থাকে। এই স্তর থেকে কিছু তথা পরবর্তী পর্যায় বা স্তরে পৌছায়। যে তথ্যগুলি অর্থপূর্ণ এবং যে তথ্যগুলির উপর আমরা বিশেষ মনোযোগ দিই সেগুলিই শুধুমাত্র পরবর্তী STM স্তরে নির্বাচিত হয়। এই তথ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির তথ্য সম্বন্ধে পূর্ব অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি (STM)। সেগতি রেজিস্টার থেকে কিছু নির্বাচিত তথ্য এই পর্যায়ে আসে। এখানেও কিন্তু তথ্য স্থায়ীভাবে থাকে না। এখানে যথা কমবেশি ১১ সেকেন্ডের তামাতারি স্থায়ী হয়। এই ওর থেকে কিছু তথ্য LTM ওরে প্রবেশ করে বাতি তথ্যের সম্পূর্ণ অবলুতি ঘটে। এই পর্যায়ে স্থির হয় কোন তথ্যগুলি LTM-এ যবে এবা জোনগুলি বর্জিত হবে।


দীর্ঘস্থায়ী পুরি (LTM) তথ্য প্রক্রিয়াকরণের এটি শেষ বা অন্তিম পর্যায়। এই স্তরে তথ্য পৌছালে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই পর্যয়ের পরিসর অনেক বেশি। এই স্তরে যেসব তথ্য থাকে সেগুলি সম্পর্কে আমরা সচেতন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে তথ্য দীর্ঘস্থায়ী


তথ্য প্রক্রিয়াকরণ দৃষ্টিভঙ্গীর শিক্ষাগত তাৎপর্য (Educational Implication of nformation Processing Approach)


প্রারম্ভিক পর্যায়ে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য মনোযোগ বিশেষভাবে প্রয়োজন। সেজন্য শিক্ষার্থীর মনোযোগ আকর্ষণের জন্য শিক্ষক/শিক্ষিকাকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।


তথা তখনই অর্থপূর্ণ হয় যখন সেটি শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সুতরাং শিক্ষক/শিক্ষিকাকে শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।


তথ্য যদি সুসংগঠিতভাবে শিক্ষার্থীর সামনে উপস্থাপিত হয় তাহলে তথা প্রক্রিয়াকরণ সহজ হয়। সুতরাং শিক্ষক/শিক্ষিতা শ্রেণিকক্ষে তথ্য সুসংবদ্ধভাবে উপস্থাপন করতেন।


শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক/শিক্ষিকা অনেককিছু আলোচনা করেন সর্বকিছুই হুবহু মনে রাখতে হয় না। শিক্ষক/শিক্ষিকা অবশ্যই যেন গুরুত্বপূর্ণ তথাগুলি আলাদাভাবে চিহ্নিত করেন, তাহলে তথ্য দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে সহজে পৌঁছাতে পাবে।


পূর্বপাঠের যেন মাঝে মাঝে পুনরাবৃত্তি হয় সে ব্যাপারে শিক্ষক/শিক্ষিকার দৃষ্টি রাখা উচিত। এক্ষেত্রে তিনি মাঝে মাঝে পূর্বপাঠ থেকে প্রশ্ন করতে পারেন বা কিছু অনুশীলনী দিতে পারেন।


কোনো তথ্য কীভাবে মনে রাখা সহজ হবে সে ব্যাপারেও শিক্ষক/শিক্ষিকা শিক্ষার্থীকে নির্দেশ দেবেন। যেমন শিক্ষার্থীরা যখন সরল (অঙ্ক) করতে যায়, তখন কখন যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি হবে তা গুলিয়ে ফেলে। যদি তাদের 'BODMAS নীতিটি ভালো করে দেখিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে প্রবেশ করে।


নতুন জান তথ্যকে বাস্তবের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত করা যেতে পারে তা দেখিয়ে দিলে তথ্য সহজে সংরক্ষিত হয়।


প্রশ্ন শিক্ষ মনোবিজ্ঞান কে বর্তমানে কেন স্বাধীন বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করা হয়? শিক্ষার কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগাতে পারেন। বক্তব্যের সমর্থনে যুক্তি দিন।


উত্তরঃ স্বাধীন বিজ্ঞান হিসেবে মনোবিজ্ঞান (Psychology as a Science): মনোবিজ্ঞান আধুনিককালে বিজ্ঞানের একটি বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞান হলো মনোবিজ্ঞান। মূলত শারীরতত্ত্ব ও পরিবেশগত উপাদানদ্বয়ের পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তাই বর্তমানে অনেক বিজ্ঞানী মনোবিজ্ঞানকে জৈব-সামাজিক বিজ্ঞান (Bio-social Science) হিসেবেও চিহ্নিত করতে আগ্রহী হয়েছেন। বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়ের থেকে মানসিক প্রক্রিয়া ও আচতণের প্রকৃতি ভিন্নতর হওয়ায় মনোবিজ্ঞান অন্যান্য বিজ্ঞানের বিষয় থেকে কিছুটা ভিন্নম্নতর প্রকৃতি লাভ করেছে। ফলে এর গবেষণা পদ্ধতিও অন্যদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন রকমের। আবার মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞানের মর্যাদায় লাভ করতে হলে তার মধ্যে কতকগুলি বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্টোর প্রকাশ ঘটাতে হয়। এ প্রসঙ্গে 1933 এ হাইডব্রেডার (Heidbreder) বলেছেন মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞানের মর্যাদা লাভ করতে হলে এর মধ্যে প্রধানত চারটি বৈশিষ্ট থাকা একান্ত আবশ্যক। এগুলো হলে (a) বস্তুবাদিতা (Materialistic), (b) যান্ত্রিকতা (Mechanistic), (c) সিদ্ধান্তমূলক (Deterministic) এবং (d) ব্যক্তিনিরপেক্ষতা (Objective)


প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার সাথে তুলনা করে তবেই মনোবিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক অবস্থান বিচার করতে হয়। আবার মনোবিজ্ঞানকে সামাজিক বিজ্ঞানের সাথেও তুলনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। এখানে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যে সকল বৈশিষ্ট। মনোবিজ্ঞানে বর্তমান তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-


(1) বিষয়বস্তুর সুনির্দিষ্টতা (Specificity of Subject Matter) যেকোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করতে গেলে সর্বপ্রথমেই তার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা একান্ত দরকার। আবার নির্ধারিত বিষয়বস্তুকে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হয়। কাল্পনিক বা অস্পষ্ট কোনো বিষয়কে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয় না। এয়াড়া যে সকল বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা, হিসাবে গ্রহণ করা যায় না। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় শিখন, সংবেদন, প্রত্যক্ষণ ইত্যাদি বিষয়বস্তুগুলি সুনির্দিষ্ট থাকে।


(৫) কার্যকরী সংজ্ঞা (Operational Definition)- বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিষয়বস্তুকে সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত করার পর তার অন্তর্ভুক্ত বিশেষ। বিশেষ ধারণাগুলির (Idea/Term) কার্যকরী সাজা প্রদান করা একান্ত জরুরি। ধারণাগুলিকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যাতে সেই সংজ্ঞার সাথে সমন্বয় করে চুলের ব্যবহার করা এবং পরীক্ষণে তা ভার্যকরীভাবে প্রয়োগ করা যায়। মনোবিজ্ঞানে শিখনের একটি কার্যকরী সংজ্ঞা প্রদান করার পরই শিখবের উপর বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করা যায়। এবে একপ সাজাহান একটি কঠিন কাজ এই ধরনের সংজ্ঞা অবশ্যই বিজ্ঞানভিত্তিক হয়।


(1) ফলাফলের বস্তুনিষ্ঠতা (Objectivity of Results) বাক্তি নিরপেক্ষতাই বস্তুনিষ্ঠতা। এটি বিজ্ঞানের অর এক অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল ব্যক্তিনিরপেক্ষ হলেই বিজ্ঞানভিত্তিক হয়। এক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ফলাফল গবেষকের বাক্তিগত প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হয় না। মনোবিজ্ঞানের ফলাফলের যন্ত্রনিষ্ঠতা বজায় রাখা বেশ কঠিন। তবে আজ কাল বেশ কিছু বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা পদ্ধতি মনোবিজ্ঞানে কার্যকরীভাবে ব্যাবহার হয়ে চলেছে।


(iv) চলের নিয়ন্ত্রণ (Control of Variables)- চলের নিয়ন্ত্রণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পরীক্ষণ পদ্ধতিতে অনিষ্টকর। (Intervening Variables) চলগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সাপেক্ষ (Dependent Variable) হলের উপর স্বাধীন চলের (Independent Variables) প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও পরিমাণ করা হয়। স্বাধীন চলকেও প্রয়োজনমত পরীক্ষকের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হয়। চলের এরূপ নিয়ন্ত্রণ মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও ব্যবহৃত হয়।


(v) যাচাইকরণ (Verification) একটি গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলকে স্থান, কাল ও পাত্রভেদে বার বার পুনরাবৃত্তি করার পর সকল ক্ষেত্রেই ফলাফল প্রায় একই থাকে বা তাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সহ সম্পর্ক (Significant correlation) বর্তমান থাকলে সেই ফলাফলকে নির্ভরযোগ্য ও যথার্থ বলা যায়। এই যাচাইকরণ দুই রকমের হতে পারে যথার্থতা (Validity) এবং নির্ভরযোগ্যতা (Reliability) বিচার। তবে মনোবিজ্ঞানের পরীক্ষণে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য (Individuality) এবং বাক্তিগত বৈষম্যকেও (individual difference) বিবেচনা করা হয়।


(vi) মাপকের ব্যবহার (Use of Scale) বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বিশ্লেষণে মাপকের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কেলের এরূপ ব্যবহার ব্যতীত


বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলের কোনো গুরুত্ব থাকে না। আচরণ পরিমাপেও স্কেলের এ ব্যবহার সম্ভব।


শিক্ষক শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে বক্তব্যের সমর্থনে যুক্তি পূর্বে বিষয়বস্তুর জ্ঞানের দ্বারাই শিক্ষকের যোগ্যতা নিরূপণ করা


হত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থী সম্পর্কে শিক্ষকের জ্ঞান কতখানি তার দ্বারাই তাঁর যোগাতার বিচার করা হয়। স্যার জন অ্যাডাম্প (Sir John Adams)-এর বিখ্যাত উক্তি, 'The master taught John Latin'-এই বাকাটির ক্রিয়াপদের দুটি কর্ম আছে। একটি হল 'জন এবা অপরটি হল 'সরাটিন'। শিক্ষককে শুধু ল্যাটিন' জাললেই চলবে না, তাঁকে জনা-কেও জানতে হবে। আর জোনাকে জানতে হলে শিক্ষককে অবশ্যই


মনোবিজ্ঞানের দ্বারস্থ হতে হবে। পূর্বে জনা অপেক্ষা ল্যাটিনা এর উপরই বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হত। কিন্তু বর্তমানে 'জন কে কেন্দ্র করেই শিক্ষার সমস্ত পরিকল্পনা রচনা করা হয়। আধুনিক শিক্ষার মূল নীতিই হল - Teach the child rather than the subject'। শিক্ষার এই নতুন ভাবধারায় শিক্ষককে শুধু বিষয় পণ্ডিত হলেই চলবে না, সেই সঙ্গে জানতে হবে শিশুকে, জানতে হবে তার কচি, প্রবণতা, সামর্থ্য, জানতে হবে তার মানসিক অবস্থা। এ প্রসঙ্গে রুশো (Rousseau) বলেছেন, "A child is a book, which the teacher is to learn from page


পৃষ্ঠায়


বর্তমানে ক্রমবিকাশের বিভিন্ন বিশেষ বিশেষ আগ্রহ ও প্রতি লক্ষ্য রেখে বিদ্যালয়ের কর্মসূচি, পাঠক্রম, পাঠ্যতালিকা প্রভৃতি রচনা করা হয়। সেজন্য শিক্ষার্থীর ক্রমবিকাশের ধারা তার প্র তার প্রবৃত্তি ও জন্মগত শক্তি সম্ভাবনা, তার ক্রমবর্ধমান।


চাহিদা ও আগ্রহ প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে শিক্ষক যত বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। ততই তিনি তাঁর কাজে সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হবেন। এইসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হলে শিক্ষককে অবশ্যই শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।


শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান শিক্ষককে নিম্নলিখিতভাবে সাহায্য করে-


(1) শিক্ষা-মনোবিজ্ঞান শিক্ষককে পেশাগত দক্ষতা এবং পেশার ক্ষেত্রে যথাযথ বিচার- বৃদ্ধি প্রয়োগ করার ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে।


(ii) যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের ভার শিক্ষকের উপর অর্পণ করা হয়েছে তাদের জানতে ও বুঝতে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শিক্ষককে সাহায্য করে।


(iii) শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার ফলে শিক্ষক শিক্ষার লক্ষ্য অনুযায়ী তাদের চারিত্রিক বিকাশ ঘটাতে পারেন।


) শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শিক্ষককে তাঁর নিজের সম্পর্কে জানতে এবং বিদ্যালয় পরিবেশের সঙ্গে সাগতি স্থাপন করতে সাহায্য করে।


(iv (v) শিক্ষা- মনোবিজ্ঞান শিক্ষককে শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যে শিক্ষা দেয় তার সাহায্যে তিনি অধিকতর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর পেশাগত কাজ সম্পাদন করতে পারেন।


(vi) শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করার ফলে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বৈষমা অনুযায়ী শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে পারেন, বিভিন্ন প্রকার বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উপযোগী শিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুঅভ্যাস ও সেন্টিমেন্ট গড়ে তুলতে পারেন ও ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণের সাহায্যে সঠিকভাবে তাদের চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে পারেন।


(vii) বিজ্ঞানসম্মত সময় প্রত্রিকা রচনা করা, যৌথ কাজকর্ম ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির বাবস্থা করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলা, পরীক্ষাগ্রহণের জন্য বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রভৃতি বিদ্যালয়ের যাবতীয় কাজকর্মে শিক্ষা-মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান শিক্ষককে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

(vi) আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শিক্ষকতে এমন দৃষ্টিরধি দান করেছে যার দ্বারা তাঁর পেশায়ঃ অন্তর্ভুক্ত সমস্ত ক্রিয়াকলাপ প্রভাবিত হতে বাধ্য। শিক্ষকের প্রশ্ন করার পদ্ধতি উত্তর গ্রহণের আছি, পরীক্ষাগ্রহণ ও খেলার মাঠের ভার্যাবলির তত্ত্বাবধান, শ্রেণিকক্ষের কাজকর্মে শিক্ষার্থীকে আপগ্রাহণ করতে উদ্বুদ্ধ করা, অবাধ্য শিয়ার বশে আনা অসামাজিক ও ঘূর্ণিলীর শিশুর প্রতি আচরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শিক্ষককে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নাম রয়েছে যার সাহায্যে তিনি শিক্ষার্থীর চরিত্রের যথাযথ বিকাশ ঘটিয়ে শিক্ষার লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপায়িত করতে পারেন।


(ia) আধুনিক শিক্ষা মনোবিজ্ঞান অন্তহীন গবেষণা করে শিক্ষার্থীর মনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য আবিষ্কার করেছে। শিক্ষার্থীর বৃদ্ধি, অক্তিসত্তার সংলক্ষণ, আগ্রহ, মনোযাণ, মনোভাব, প্রবণতা প্রভৃতি বর্তমানে মনোবিজ্ঞান সম্মতভাবে পরিমাপ করা যায়। এসব পরিমাপ কেবল। শিক্ষার্থীর জীবনের বিভিন্ন স্বার খুলে দেয়নি, শিক্ষকের কাছেও উদ্ঘাটন করেছে শিক্ষার নতুন দিগঞ্জ।


মন্তব্য। সুতরাং, বর্তমান যুগের শিক্ষককে কেবলমাত্র বিষয়বস্তু ও পাঠদান পদ্ধতি আয়ত্ত করলেই চলবে না, মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানও তাঁর কামে অপরিহার্য। মনোবিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যাগুলির সমাধান সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গে ড্রেয়ায় বলেছেন- "We can settle hardly any essential and vital question except in a merely academis way and without reference to practical problems. independently of the scienor of psychology। তাই শিক্ষক শিক্ষণের পাঠ্যসূচিতে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে একথা ঠিক যে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শিক্ষকের সবরকম সমস্যার উত্তর ঠিক করে রাখে না। শিক্ষা। মনোবিজ্ঞান শিক্ষককে এমন কিছু তথ্য সরবরাহ করে যার দ্বারা তিনি নিজেই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এই জাতীয় পেশাগত দক্ষতা দেওয়াই শিক্ষা- মনোবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য।


প্রশ্ন- বিভাগ প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য গুলি তুলে ধরো। শিক্ষায় জ্ঞানমূলক বিকাশ প্রক্রিয়া তাৎপর্য আলোচনা করো।


উত্তরঃ বিকাশ প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে মনোবিজ্ঞান বিকাশ প্রক্রিয়া যে সাধারণ বৈশিষ্ট গুলি নিরুপম করেছেন তা নিম্নরূপ


(১) অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া বিকাশ জীবনকালব্যাপী একটি অধিছির প্রক্রিয়া। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ সঞ্চারের মুহূর্ত থেকে আমৃত্ব। এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। কোনো কেন্যে ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন চোখে পড়ে না। তবে এই পরিবর্তন ব্যক্তির বাক্তিস্বাতন্ত্র্যকে নষ্ট করে না। বিকাশের খারায় এক পর্যায় থেকে আর এক


পর্যায়ে উন্নীত হওয়াটাও কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বিকাশের প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন ভাবেই এগিয়ে চলে। (11) ক্রমসংযোজনশীল প্রক্রিয়া বিকাশ একটি ক্রমসংযোজনশীল প্রক্রিয়া অর্থাৎ ব্যক্তির বিকাশের যে-কোনো একটি পর্যায় তার পূর্ববর্তী সকল পর্যায়ের বিকাশের সমষ্টির ফল। ব্যক্তিজীবনে বিকাশ কোনো বিশেষ মুহূর্তে হঠাৎ করে আসে না। বিকাশের যে কোনো পর্যায় তার পূর্ববর্তী পর্যায় থেকেই আসে।


(a) সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রক্রিয়া বিকাশের ধারা সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ কোনো আচরণের পর কোন্ আচরণ হবে তা মোটামুটি নির্দিষ্ট। যেমন, প্রত্যেক মানবশিশু প্রথমে উপুড় হবে, তারপর বলবে, তারপর হামাগুড়ি দেবে, তারপর হটিবে। এই নিয়মানুবর্তিত। প্রায় প্রত্যেক শিশুর ক্ষেত্রেই


(iv) পৃথকীকরণ অভিমুখী প্রক্রিয়া। বিকাশ পৃথকীকরণ অভিমুখী প্রক্রিয়া অর্থাৎ সাধারণ থেকে বিশেষের দিকে অগ্রসর হয়। যেমন, মানবশিশু জীবনের প্রথম পর্যায়ে যে-কোনো প্রতিক্রিয়া করার জন্য সমগ্র নেহ কাঠামোকে ব্যবহার করে কিন্তু জীবনবিকাশের পথে সে যতই অগ্রসর হয়, ততই সে তার দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য বাবহার করতে পারে।


(v) শৃঙ্খলিত প্রক্রিয়া: মানবজীবনের বিভিন্ন দিকের বিকাশের মধ্যে একটি শৃঙ্খলা বজায় থাকে। একদিকের বিকাশ অপর দিকের বিকাশে সহায়তা করে। যেমন, দৈহিক বিকাশ মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করে, আবার মানসিক বিকাশ সামাজিক বিকাশে সহায়তা করে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে সমস্ত ধরনের বিকাশই ব্যক্তিজীবনে একটি শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলে।


(vi) ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্য অভিমুখী প্রক্রিয়া। বিকাশের প্রক্রিয়া ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য অভিমুখী। সাধারণভাবে বিকাশ বিশেষ বয়সের ক্ষেত্রে কতকগুলি সাধারণ নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু পরিণত ব্যক্তিজীবনে তা বিশেষ রূপ ধারণ করে। অর্থাৎ প্রত্যেকটি শিশুর ক্ষেত্রে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই বিকাশ ঘটে।


(vii) জটিল প্রক্রিয়া। মানবজীবনের বিকাশ একটি উন্নত জটিল প্রক্রিয়া। বিকাশের ধারায় দেখা যায়, কোনো বিশেষ সময়ে মানসিক বিকাশের তুলনায় দৈহিক বিকাশের হার বেশি হয়। আবার কোনো সময় দৈহিক বিকাশের তুলনায় মানসিক বিকাশ অনেক বেশি হয়।


শিক্ষায় জ্ঞানমূলক বিকাশ প্রক্রিয়া তাৎপর্য বয়ঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটে, একথা অনেক মনোবিজ্ঞানীই বলেছেন। কিন্তু পিঁয়াজে সর্বপ্রথম চিত্তন জগতের পুষ্টি কীভাবে সংগঠিত হয়, সে সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন তাঁর জ্ঞানমূলক বিকাশের তত্ত্বে। তিনিই প্রথম বলেন যে, মানসিক পুষ্টি ও সমৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই পুষ্টির একটি আনুপাতিক গাণিতিক এবং বিশ্লেষণায্যক সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট বয়সে মানসিক পুষ্টিও নির্দিষ্ট। সুতরাং, শিশু বিকাশের বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্নভাবে সমস্যার সমাধান করে থাকে। আধুনিক শিক্ষার উদ্দেশ্যই হল শিশুর মধ্যে স্বাধীন চিন্তা ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো এবং শিশু যাতে যুক্তির দ্বারা সমস্যা সমাধান করতে পারে, সে বিষয়ে সহায়ত করা। নিয়াজের তত্ত্ব আধুনিক শিক্ষণের নীতি নির্ধারণে নানাদিক থেকে প্রস্তাব বিস্তার করেছে এবং শিক্ষার প্রগতিশীল আদর্শকে ভার্যকরী করে তুলতে সহায়তা করেছে। পিঁয়াজের তত্ত্ব আধুনিক শিক্ষণের যে নীতিগুলি নির্ধারণ করেছে সেগুলি নিম্নরূপ-


(1) শিক্ষামূলক প্রদীপনের ব্যবহার। পিঁয়াজে হলেছেন, প্ররাক্ষণ যদি অর্থপূর্ণ হয়, তবেই ধারণা সুস্পষ্ট হয়। সুতরাং, শিখন প্রক্রিয়ার শুরুতেই শিশুকে বিভিন্ন রকম প্রদীপন ব্যাবহার করে শিক্ষা দিতে হবে। যে-কোনো বিমূর্ত ধারণার ভিত্তিভূমি হল কোনো না কোনো মূর্ত বস্তুর উপস্থাপন। তাই শিক্ষক পাঠদানের সময় যেমন মূর্ত বস্তু উপস্থাপন করবেন, তেমনভাবেই একই বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনধর্মী, চেনা-পরিচিতি উদাহরণ উপস্থিত করবেন।


(ii) সরল থেকে জটিল। শিক্ষক সর্বব্য শিক্ষার্থীর মানসিক স্তরের কথা মনে রেখে পাঠদান করবেন। তাই পাঠদানের শুরুতে কোনো বিষয়ে প্রবেশের মুহূর্তে তিনি কোনো জটিল ধারণার আশ্রয় নেবেন না। তাহলে শিক্ষার্থী নিভিয়ে পড়তে পারে। শিক্ষক তাই সরল ধারণা দিয়ে শুরু করবেন এবং ক্রমশ তার স্তর উন্নয়ন ঘটিয়ে জটিল ধারণার নিবে নিয়ে যাবেন। তবে শিক্ষার্থীর মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকবে একা সুষ্ঠু শিখদের ফলে মন। ও চিন্তন জগৎ সমৃদ্ধ হবে।


(13) কাজের মাধ্যমে শিক্ষা। শিক্ষকতে একথা অবশ্যই মনে শুধুমাত্র চার দেয়ালের ঘেরাটোপে শিক্ষার্থীকে আবদ্ধ রেখে শিখা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীকে 'কাজের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে। সে শুধু বই পড়েই নয়, দেখেশুনে, নেড়েচেড়ে, পরীক্ষার মাধ্যমেও কিছু শিখবে এবং যাচাই করে নেবে। তাই শিক্ষার্থীকে নিয়ে যেতে হবে শিক্ষামূলক ভ্রমণে। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক নিদর্শন, ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক রীতিনীতি, বিভিন্ন প্রকার প্রাণী ও উদ্ভিদ, ক্ষুদ্র ও ভারী শিল্প ইত্যাদি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়া যায়।


(vii) সাম্যপূর্ণ পাঠক্রম। শিক্ষক শিশুর শিখনকে কার্যকরী করে তোলার জন্য তার জীবনবিকাশের স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠক্রম নির্বাচন করবেন। কারণ প্রত্যেক স্তরের বৌদ্ধিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পাঠক্রমের বিন্যাস ঘটাতে না পারলে শিক্ষা জলপ্রসূ হবে না। পিঁয়াজের জানমূলক বিকাশের তত্ত্ব আধুনিক শিক্ষায় পাঠক্রম নির্ধারণের নীতি নির্বাচনে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।


(v) শিক্ষণ মডেল। পিঁয়াজে তাঁর জ্ঞানমূলক বিকাশের তত্ত্বের জৈবিক ভিত্তি হিসেবে কতকগুলি প্রাথমিক প্রক্রিয়া। যেমন সহযোজন আত্তীকরণ ইত্যাদির কথা বলেছেন, যেগুলি শিশুকে সক্রিয় হয়ে উঠতে সাহায্য করে। এই নীতিতে প্রয়োগ ভার বর্তমানে বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষণের অনেক শিক্ষণ মডেল' তৈরি হয়েছে। এই 'শিক্ষণ মডেল'গুলি শিক্ষককে বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়তা। করে এবং শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহী করে ভোলে। তারা সক্রিয়ভাবে এই বিষয়গুলি শিখনে অংশগ্রহণ করে।


মন্তব্য: পিঁয়াজের তত্ত্ব আধুনিক শিক্ষণের যে নীতিগুলি নির্ধারণ করেছে, তা শিক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকরীভাবে প্রয়োগ করতে হলে উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রয়োজন। তাই পিঁয়াজে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের শিক্ষক প্রশিক্ষন মানুষের জ্ঞানমূলক বিকাশ কীভাবে হয় তা বিশদ আলোচনার কথা বলেছেন এবং এই জাহানকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যাতে বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারেন। তার জন্য উপযুক্ত সুযোগ, পরিবেশ ও শিক্ষামূলক প্রদীপন ব্যবহারের কথা বলেছেন।


প্রশ্ন। বৌদ্ধিক বিকাশ বলতে কী বোঝো ক্রনারের বৌদ্ধিক বিকাশে তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।


উত্তরঃ বিকাশের অর্থ হল প্রজ্ঞার (cognition) প্রজ্ঞার অর্থ জানা প্রয়োজন। প্রথমে প্রজ্ঞার অর্থ হল জানার বিভিন্ন প্রক্রিয়া (process or ways of knowing)। আমরা যেভাবে জানতে পারি না জানার চেষ্টা করি, তাই হল প্রজা। অর্থাৎ, প্রজ্ঞা হল চিন্তন, যুক্তিকরণ, স্মরণক্রিয়া, প্রত্যক্ষণ, সমস্যা সমাধান ইত্যাদির সমন্বয়।


প্রজ্ঞার বিকাশ কীভাবে হয় তা সুন্দরভাবে ব্যক্ত করেছেন জয় পিয়ার্ডে (Jean Plaget)। পিয়ার্জে বলেন, মানুষের চিন্তনের প্রাথমিক উপাদান হল স্কিমা (schema)। অর্থাৎ, মানুষ স্কিমা দিয়েই চিন্তা করে বা কোনো কিছুকে বোঝার চেষ্টা করে। মানুষ যখন কোনো উদ্দীপকের মুখোমুখি হয় তখন সে তার স্কিমা দিয়ে সেই উদ্দীপককে বোঝার চেষ্টা করে। যখন সে উদ্দীপকটিকে বুঝতে পারে তখন বুঝতে হবে তার বর্তমান স্কিমাতে (exisiting schema) এই উদ্দীপক সংক্রান্ত তথ্য বা ধারণা রয়েছে, ফলে স্কিমার কোনো পরিবর্তন হয় না। কিন্তু যখন স্কিমা উদ্দীপককে বুঝতে পারে না তখন তার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা (disequilibrium) তৈরি হয় এবং সে স্বাভাবিকভাবে ভারসামো (equilibrium) ফিরে আসতে চায়। এই ভারসাম্যে ফিরে আসার নীতিকে বলে Equilibrium Principle' বা 'ভারমাসাম্যের নীতি'। এই ভারসাম্যে ফিরে আসার জন্য যে প্রক্রিয়ার সাহায্য দরকার, পিয়ার্জে তার নাম দিয়েছেন 'Adaptation' বা অভিযোজন।


বুনারে বৌদ্ধিক বিকাশের তত্ত্ব- বিশিষ্ট আমেরিকান মনোবিদ ব্রুনার (Jerome 5 Bruner) আনমূলক বা প্রজ্ঞামূলক বিকাশের একটি তত্ত্ব আবিষ্কার করেন যা শিক্ষার্থীদের শিখন ও চিত্তন প্রক্রিয়ার উন্নয়নের কাজে শিক্ষকদের সহায়তা করে। Bruner ই প্রথম এ জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। তাঁর তত্ত্বকে পিয়াজের তত্ত্বের পুনর্গঠন বলা হয়।


কনার-এর (ব্রুনার. ১৯৫৭, পৃ. ২১৪) মতে, "জ্ঞানীয় বিকাশের ফলাফল হল চিন্তাভাবনা। বুদ্ধিমান মন অভিজ্ঞতা থেকে জেনেরিক কোডিং সিস্টেম তৈরি করে যা একজনকে তথ্যের বাইরে নতুন এবং সম্ভাব্য ফলপ্রসূ ভবিষ্যদ্বাণীতে যেতে দেয়।"


জ্ঞানমূলক মনোবিদ শিয়া頃ে (Jean Piaget (1986 1980]) বর্ণনা করেছেন কীভাবে প্রাথমিক স্তর থেকে শিশুর জ্ঞানমূলক বিকাশ ঘটে।


পিয়ার্ডে চারটি স্তরে শিশুর জ্ঞানমূলক বিকাশকে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু Bruner প্রাথমিকভাবে দেখিয়েছেন কীভাবে শিশুর আনমূলক বিকাশ শিখন ও শিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মতে, ব্যক্তি বা শিশু যে-কোনো বিষয় যে-কোনো বয়সে শিখতে পারে, যদি সে সেই বিষয়টিকে উপলব্ধি করতে পারে। অর্থাৎ, বিষয় উপলব্ধির মাধ্যমেই শিখন সম্পন্ন হয়


ক্রনারের তত্ত্বের বিকাশমূলক ক্ষেত্র বৌদ্ধিক বিকাশের স্তরকে বর্ণনা করে যা প্রকৃতপক্ষে পিয়াজের তত্ত্বের প্রতিরূপ। কিন্তু ক্রনারের বৌদ্ধিক বিকাশের স্তর পিয়ার্জের অনুরূপ নয়। ক্রনারের Period বা স্তরে একটি শিশু বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে এবং পৃথিবীতে প্রতিক্রিয়া করে। অথবা রুনরের ভাষায় পৃথিবীতে উপস্থাপন (Representation) করে। ক্রনার উপস্থাপনা' বলতে বুঝিয়েছেন, 'পৃথিবীর মডেল অনুযায়ী অভিজ্ঞতার পরিভাষা (translating experience into a model of the world)


জ্ঞানমূলক বিকাশের স্তর (Stages of Cognitive Development): ব্রুনার জ্ঞানমূলক বিকাশের স্তর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে শিশুর জ্ঞানমূলক বিকাশের জন্য প্রয়োজন কিছু বিশেষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক নিয়মনীতির পুনরানুশীলন করা এবং তিনি এরকম তিনটি Representation Mode'-এর কথা বলেছেন- Enactive stage, Iconic stage এবং Symbolic stage। এই বিকাশমূলক প্তরসমূহ অপরিবর্তনীয় নয় এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ মানুষের জীবনের আলোকেই প্রকাশিত হয়। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্তরগুলিকে অতিক্রম করেই বৃদ্ধি ও বিকাশ সম্পন্ন হয়। স্তরগুলির বিস্তৃত ব্যাখ্যা করা হল-


(0) Enactive stage: এই স্তরের বয়সসীমা জন্ম থেকে ও বহুর পর্যন্ত। বাল্যকাল হল সক্রিয়ভাভিত্তিক স্তর। enactive stage)। এই স্তরে শিশুরা নিজেদের কাজে অন্তর্ভুক্ত করে জ্ঞান অর্জন করে। যদি বাল্যকালে শিশুদের শিখনকে কার্যকারী করতে হয় তবে তাদের বিভিন্ন বিষয়-সংক্রান্ত প্রচুর হাতের কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। অর্থাৎ, শিখন হয় হাতে-কলমে।


(ii) iconic stage এই স্তরের বয়সসীমা ও থেকে ১/৪ বছর। এই বয়সে শিশু দৃষ্টিগতভাবে বা দৃষ্টিমূলক উদ্দীপকের সাহায্যে শিক্ষালাভকরে। এই স্তরে শিশু দৃষ্টিগোচর বিষয় বা বস্তুকে বিশ্বাস/ভরসা করে যা তাকে চিন্তনে সহায়তা করে। শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিমূলক প্রত্যক্ষণই তাদের জগতকে বুঝতে সাহায্য করে। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চিত্র, Visual aid প্রভৃতির ব্যবস্থা করতে পারেন যাতে তাদের শিখন কার্যকারী হয়। উদাহরণ হিসেবে কোনো শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট কোনো পশুর সঙ্গে পরিচিত করাতে তাকে বিভিন্ন ধরনের চিত্র দেখাতে এবং অন্যান্য পশু থেকে আলাদা করতে বাস্তবিকভাবে দেখাতে পারেন শিক্ষক। আবার বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে সেসব দেশের জনগণের ছবির সঙ্গে পরিচয় করাতে পারেন।


(ii) Symbolic stage এই স্তরের বয়সসীমা হল 7/৪ থেকে শেষ পর্যন্ত। এই স্তরে প্রতীকি এবং গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক বিষয় সম্পর্কে বুঝতে পারে। এই স্তরে পৌঁছোলে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে ধারণা হয়। এই স্তরে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কঠিন বিষয়ে শিক্ষা দিতে পারেন।


শিখনের ক্ষেত্রে ক্রনারের জ্ঞানমূলক স্তরের প্রয়োগ (Cognitive Stages of Bruner on Learning) ক্রমার বিকাশের যে স্তরগুলির কথা বলেছেন সেগুলিকে শিখনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। যেমন


(1) আবিষ্কারমূলক শিখন (Discovery learning): 1961 খ্রিস্টাব্দে ব্রুনার ব্যাখ্যা করেন যে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই জ্ঞান অর্জন করে এবং এই জ্ঞান অর্জনের জন্য তারা বিভিন্ন তথাগুলিকে সংগঠিত করে চিহ্ন (symbol) ব্যবহারের মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় যখন শিক্ষার্থী কোনো বিষয়কে নিজে নিজেই আয়ত্ত করে বা শিখে নেয়, তখন সেই শিখনকে ব্রুনার আবিষ্কারমূলক (Discovery) শিখন বলেছেন। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে

কোনো কাজ বা কোনে প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ােগানে শিক্ষার্থী অন্তদৃষ্ঠিীত মাধ্যমে শিখন উপকরণের পুন্যসজ্জিতকরণ ও স্থানান্তরিতকরণের মাধ্যমে টাক বিষয়টি নতুনয়ণে আবিষ্কার করে এয়া শিখা সম্পন্ন করে।


(ii) স্পাইরাল পাঠক্রম (Spiral curriculum) স্পট পাঠক্রম ব্যবহারের কথা বলেন যেখানে শিক্ষার্থীরা পূর্ব অনুশীলিত বিষয়ের পুনর্ব্যবহার করতে পারে যথাসময়ে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন Social studies এর শিক্ষক সমুদ্র চিহ্নিতকরণের বিষয়ে শিক্ষা দেবেন। সেক্ষেত্রে তিনি প্রথমে বর্ণনা করবেন সমুদ্র (Ocean) কীভাবে নদী ও সাগর (১ea) থেকে পৃথক হয়। এক্ষেত্রে তিনি পূর্ব-অনুশীলিত নদী ও সাগরের সম্পর্কে জ্ঞানকে স্থানান্তরিত ও পুনর্ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা নতুন জ্ঞান আহরণের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো জানেরও পুনরালোচনার সুযোগ পাবে।


জনারের তত্ত্বের শিক্ষাগত তাৎপর্য (Educational Implication of Bruner's Theory): ক্রনারের তত্ত্বের শিক্ষাগত তাৎপর্যগুলি হল


( 1) ক্রনারের তত্ত্বানুযায়ী শিক্ষার্থীদের আবিষ্কারমূলক পদ্ধতিতে শিক্ষণের ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীর শিখন দীর্ঘস্থায়ী ও স্বতঃস্ফূর্ত হবে।


(ii) ক্রনার শিক্ষার্থীদের জন্য স্পাইরাল পাঠক্রম প্রয়োগের কথা বলেছেন, যে পাঠক্রমের চর্চায় শিক্ষার্থীদের শিখন বারংবার অনুশীলনের দ্বারা স্থায়ী হবে।


(iii) ক্রনারের মতে, বৌদ্ধিক বিকাশ তিনটি স্তরে ধীরে ধীরে ও ক্রমান্বয়ে অধিক জটিলভার আকার ধারণ করে। ক্রনারের বিকাশমূলক তত্ত্বের অবদান হল শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞানমূলক বা বৌদ্ধিক ক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে পারে এবং শিক্ষায় নিজস্ব কৃতকার্যতা অর্জন করতে পারে।


প্রশ্ন- সক্রিয় অনুবর্তন (operant conditioning) বলতে কী বোঝো। বি.এফ স্কিনারের সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্বটি আলোচনা করো।


উত্তরঃ- Edward Thorndike (1913) অপারেন্ট অনুবর্তন নিয়ে প্রথম পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীকালে বিখ্যাত আমেরিকান মনোবিদ ৪. F. Skinner (1953) তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রকৃতপক্ষে এই অনুবর্তন তত্ত্বের ধারণাকে বিকশিত করেন। তিনি পূর্ববর্তী অনুবর্তন তত্ত্ব সকল পর্যালোচনা করে দেখলেন শুধুমাত্র উদ্দীপকপ্রতিক্রিয়ার সংযোগস্থাপন থেকে শিখন হয়। বাস্তববাদী মনোবিদ স্কিনার তখন নিজে অনুবর্তন নিয়ে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং দেখান যে, শিখন বা আচরণ সৃষ্টি শুধুমাত্র উদ্দীপক প্রতিক্রিয়ার সাযুজোর (contiguity) উপর নির্ভরশীল নয়, শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা ও তার পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীর মানসিক সক্রিয়তা এখানে বিশেষভাবে কাজ করে যা প্যাভলডের অনুবর্তন তত্ত্বে দেখা দেখা যায় না। সেইজন্য স্কিনারের অনুবর্তনকে সক্রিয় (Instrumental conditioning)or (operant conditioning) অনুবর্তনও বলা হয়ে থাকে।


সক্রিয় অনুবর্তন তত্ত্ব: ডিনারের পরীক্ষা (Skirmer's Experiment) -


ডিনার তাঁর পরীক্ষা করার জন্য একটি বিশেষ ধরনের বাক্স বাবহার করেন, যা কিনার বাক্স (Skinner's Box) নামে পরিচিত। স্কিনারের পরীক্ষা বোঝার জন্য স্কিনার বাক্স এর বর্ণনা দেওয়া প্রয়োজন। এটি এক ধরনের বিশেষ


চিত্র স্কিনারের বাক্স


বাক্স যেখানে প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করার জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা থাকে। খাবার উপস্থাপনের জন্য একটি ট্রে বা পাত্র থাকে। আর থাকে একটি লিভার বা বোতাম, যাতে চাপ দিলে খাবার ট্রে-তে এসে পড়ে। স্কিনার যে সমস্ত প্রাণীদের নিয়ে পরীক্ষা করেন, তার মধ্যে ইঁদুরের পরীক্ষাটি এখানে বর্ণনা করা হল।

প্রথমে একটি ক্ষুধার্ত ইঁদুরকে ভিনার বাক্সে ঢোকানো হয় এবং ট্রে-তে খাবার দেওয়া হয়। ইঁদুরটি ট্রে থেকে খাবার খায়। এখানে স্কিনার বা ইঁদুর কেউই খাদ্যবস্তু লিভার টিপে আনেনি। পরবর্তীতে ইঁদুরকে বাক্সে ঢোকানোর পর ডিনার নিজেই লিভার টিপে খাবার ট্রে-তে আনার ব্যবস্থা করেন এবং ইঁদুরটি ওই খাবার খায়। এইভাবে জিনার ইঁদুরটিকে পরীক্ষামূলক পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচয় করান। এরপরে স্কিনার মূল পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শুরু করেন এবার ওই ইদুরটিকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাক্সে ঢোকানো হয় এবং ট্রে তে কোনো খাবার দেওয়া হয় না। ইঁদুরটি খাবার শাকর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া করতে থাকে এবং একসময় হঠাৎ ইঁদুরটি লিভারে চাপ দিয়ে ফেলে এবং ট্রে-তে খাবার এসে পড়ে এবং খাবার খায়। পরে আবার ইঁদুরটিকে বাক্সে ঢুকিয়ে দিলে দেখা যায় ইদুরটি নিজেই লিভারে চাপ দিয়ে খাবার আনতে পারছে। অর্থাৎ ইদুরটির মধ্যে একটি নতুন আচরণ সৃষ্টি হচ্ছে। জিনার এই ধরনের প্রক্রিয়াকে বলেন সক্রিয় অনুবর্তন (Operant Conditioning)। স্কিনার এই ধরনের অনুবর্তনকে 'R-type conditioning' নাম দিয়েছিলেন এবং প্রাচীন অনুবর্তনকে 'S-type conditioning' বলেছিলেন।


শিক্ষায় অপারেন্ট অনুবর্তনের গুরুত্ব (Educational implication of operant conditioning):-অপারেন্ট অনুবর্তনের তত্ত্ব শিখনের ক্ষেত্রে আমাদের গতানুগতিক ধারণায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে শিক্ষা-ব্যবস্থাকে বৈজ্ঞানিক ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত করতে এই শিখন কৌশলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


প্রথমতঃ ফলাফলের উপর গুরুত্ব অপারেন্ট তত্ত্ব অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া বা আচরণ সৃষ্টির জন্য কোনো নির্দিষ্ট উদ্দীপকের প্রয়োজন হয় না। আচরণ বা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি প্রাণীর তৃপ্তিদায়ক ফলাফলের উপর নির্ভর করে। সঠিক আচরণের জন্য সে লাভ করে পুরস্কার বা শক্তিদায়ক সত্তা। এই অনুবর্তনে শিখন পরিবেশ এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীর হতাশাকে ন্যূনতম মাত্রায় নিয়ে এসে সর্বাধিক মাত্রায় তৃপ্তিদায়ক করা হয়। সঠিক আচরণের জন্য সঠিক উদ্দীপক সত্তার নির্বাচন শিখন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।


দ্বিতীয়তঃআচরণের পরিবর্তন অপারেন্ট অনুবর্তন শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ পরিবর্তনে সাহায্য করে। পুরস্কার বা শক্তিদায়ক সত্তার সাহায্যে আমরা প্রাণীর আচরণকে ইচ্ছামত পরিবর্তন করতে পারি। প্রতিক্রিয়ার হারকে ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। অর্থাৎ এই শিখন প্রক্রিয়ায় আমরা ইচ্ছানুযায়ী শিক্ষার্থীর আচরণকে পরিবর্তন করতে পারি।


তৃতীয়তঃ ব্যক্তিত্বের বিকাশ অপারেন্ট অনুবর্তন ব্যক্তিত্বের বিকাশকে সার্থকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। স্কিনারের মতে উপযুক্ত গৃহ পরিবেশ শক্তিদায়ক সত্তার কাজ করে। আর অপারেন্ট তত্ত্ব অনুযায়ী ব্যক্তি সেখান থেকে বিভিন্ন আচার আচরণ-ভাষা প্রভৃতি শিখতে পারে।


চতুর্থতঃ প্রেষণা অপারেন্ট অনুবর্তন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রেষণা আরোপ করা হয় না। আচরণ বা প্রতিক্রিয়ার ফলাফলই আবার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকে নিশ্চিত করে। মৌখিক প্রশংসা, ভালো নম্বর পাওয়া, পুরস্কার, উপহার প্রভৃতি শক্তিদায়ক সত্ত্য শিক্ষার্থীকে ভাল শিখনে উদ্দীপ্ত করে।


প্রশ্ন- স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি ও দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি পার্থক্য-


উত্তরঃ স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি ও দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করার আগে আমাদের জানা প্রয়োজন দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি ও স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি কি।


সংজ্ঞা স্বল্পমেয়াদী মেমরি একটি কম্পিউটারের মেমরির একটি প্রকার যা অস্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণ করতে দেয়। দীর্ঘমেয়াদী মেমরি একটি কম্পিউটারের মেমরির একটি প্রকার যা স্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণের অনুমতি দেয়।


মেমরি টাইপ: স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি উদ্বায়ী। ডিভাইসটি বন্ধ হয়ে গেলে ডেটা মুছে যাবে। দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি অস্থির। সুতরাং, ডিভাইসটি বন্ধ হয়ে গেলে ডেটা মুছে যাবে না।


কার্যকারিতা


স্বল্পমেয়াদী মেমরি অস্থায়ীভাবে ডেটা সঞ্চয় করে। দীর্ঘমেয়াদী মেমরি স্থায়ীভাবে ডেটা সঞ্চয় করে।


দ্রুততা সাধারণত, স্বল্পমেয়াদী মেমরি দীর্ঘমেয়াদী মেমরির চেয়ে দ্রুত হয়।


উদাহরণ। RAM স্বল্পমেয়াদী মেমরির একটি উদাহরণ। হার্ড ড্রাইভ দীর্ঘমেয়াদী মেমরির একটি উদাহরণ।


উপসংহার মেমরি হল কম্পিউটারে ডেটা এবং তথ্য সংরক্ষণের একটি উপাদান। স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী মেমরির মধ্যে পার্থক্য হল যে স্বল্পমেয়াদী মেমরি অস্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণ করে যখন দীর্ঘমেয়াদী মেমরি স্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণ করে।

প্রশ্নঃ প্রাচীন অনুবর্তন ও সক্রিয় অনুবর্তনের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।


উত্তরঃ প্রাচীন অনুবর্তন ও সক্রিয় অনুবর্তনের মৌলিক পার্থক্য গুলি হল


প্রাচীন অনুবর্তন


সক্রিয় অনুবর্তন


১) প্রাচীন অনুবর্তনের সংগঠনটি হল-


51


আর.আই


। ১) সক্রিয় অনুবর্তনের সংগঠনটি হল


৫১-আর১-৫২-আর২


52


R2


২) প্রাচীন অনুবর্তনের প্রবর্তক হলেন রাশীয়ান জীববিজ্ঞানী আইভান প্যাভলভ।


২) সক্রিয় অনুবর্তনের প্রবর্তক হলেন আমেরিকান মনোবিদ বি. এফ, স্কিনার।


৩) প্রাচীন অনুবর্তন প্রত্যাশামূলক।


৩) সক্রিয় অনুবর্তন নির্দেশমূলক।


৪) প্রাচীন অনুবর্তনে উদ্দীপক প্রতিক্রিয়ার সংযোগ তাদের সাযুজ্যের (Contiguity) জনা হয়।


৪) সক্রিয় অনুবর্তনে উদ্দীপক প্রক্রিয়ার সংযোগ ফলের দ্বারা নির্বাচিত হয়।


৫) প্রাচীন অনুবর্তন একটি উদ্দীপক প্রধান প্রক্রিয়া (১-Type)


৫) সক্রিয় অনুবর্তন একটি প্রতিক্রিয়া প্রধান প্রক্রিয়া (৪-Type)


৬) প্রাচীন অনুবর্তনে শক্তিদায়ক উদ্দীপকটিকে প্রতিক্রিয়া ঘটার উপস্থাপন করা হয়।


৬) সক্রিয় অনুবর্তনে শক্তিদায়ক উদ্দীপকটি প্রতিক্রিয়া সম্পাদনের পরে উপস্থিত হয়।


৭) প্রাচীন অনুবর্তনে প্রাণীর স্বয়ংক্রিয়স্নায়ুতন্ত্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।


৭) সক্রিয় অনুবর্তন প্রাণীর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।


৮) প্রাচীন অনুবর্তনে সময় নিয়ন্ত্রনের উপর জোর দেওয়া হয়।


৮) সক্রিয় অনুবর্তনে ফল ও পুরস্কারকে নিয়ন্ত্রণ করা দেওয়া হয়।


৯) প্রাচীন অনুবর্তনের অনুবর্তিত প্রতিক্রিয়াটি কৃত্তিম উদ্দীপক দ্বারা প্রাণীর মধ্যে জোর করে সৃষ্টি করা হয়।


৯) সক্রিয় অনুবর্তনে প্রতিক্রিয়াটি স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রাণীর মধ্যে আসে।


১০) প্রাচীন অনুবর্তনকে Type-1 অনুবর্তন বলা হয়।


১০) সক্রিয় অনুবর্তনকে Type-2 অনুবর্তন বলা হয়।


১১) প্রাচীন অনুবর্তন রেসপন্ডেন্ট জাতীয় আচরণের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত।


১১) সক্রিয় অনুবর্তন অপারেন্ট জাতীয় আচরনের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত।


প্রশ্ন-অনুশীলনের সূত্র।


উত্তর: (ii) অনুশীলনের সূত্র (Law of Exercise) অনুশীলনের সূত্রকে দু ভাগে আগ করা হয়-


(a) ব্যবহারের সূত্র (Law of use) "When a modifiable connection is other thing being equal, increased." যখন উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সংশোধনযোগ্য বন্ধন তৈরি করা হয় অন্যান্য সবকিছু অপরিবর্তিত থাকলে বন্ধনটি শক্তিশালী হয়।


(b) অব্যবহারের সূত্র (Law of diause): "When a modifiable connection is not being made between a situation and a response over a length of time that connection's strength is decreased." যখন উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সংশোধনযোগ্য। বন্ধন দীর্ঘ সময়ব্যাপী তৈরি করা না হয় সেক্ষেত্রে বন্ধনের শক্তি হ্রাস পায়।


অনুশীলন সূত্রের ব্যাখ্যা: অনুশীলন সূত্রটি জলভোগের সূত্রকে অনুসরণ করে। সাফল্যের প্রতিক্রিয়াটি বার বার করার ফলে সেটি ক্রমশ শক্তিশালী হয় এবং ব্যর্থ প্রতিক্রিয়াগুলি অনুশীলন না হবার ফলে প্রতিক্রিয়াগুলির শক্তি হ্রাস পায়।


শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগ।


(ক) শিক্ষক পাঠদানকালে বিষয়গুলি বিশেষ করে জটিল এবং নতুন অংশগুলি একাধিকবার উপস্থাপন করবেন। তবে অনুশীলনগুলি যাতে যান্ত্রিক না হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন। তাই বর্তমান শিক্ষাবিদগণ যান্ত্রিক অনুশীলনের পরিবর্তে আলোচনা, বিতর্ক সভা, শিক্ষামুলক ভ্রমণ ইত্যাদির মাধ্যমে অনুশীলনের সুপারিশ করেছেন।


(খ) অধীত বিষয়গুলি উপযুক্ত সময়ের ব্যবধানে পুনরালোচনা করা প্রয়োজন।


(গ) স্কুল এবং অপ্রয়োজনীয় অংশগুলি প্রথম সুযোগেই যাতে পরিতাক্ত হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।


(ঘ) শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে অজানা থেকে জান্য নীতি প্রয়োগ করবেন। নতুন কোনো সমস্যা উপস্থাপনে অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করতে চেষ্টা করবেন।


চন্ডিদাস কোচিং সেন্টার


প্রশ্ন -বৌদ্ধিক বা জানীয় মানচিত্র।


ইমান বাতাবলীয়াল মব.-৬২৯৬১৫৮২৩৭


বাঁকুড়া, পশ্চিম বঙ্গ, ৭২২১৩৯


উত্তরঃ জ্ঞানীয় মানচিত্র হল মানসিক মডেলের সমস্ত চাক্ষুষ উপস্থাপনার জন্য ছাতা শব্দ। এই নিবন্ধে বর্ণিত সমস্ত ম্যাপিং কৌশল জানীয় মানচিত্রের উদাহরণ। জ্ঞানীয় মানচিত্রের ধারণাটি মনোবিজ্ঞানী এডওয়ার্ড টলম্যানের কাজ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে, যিনি ইঁদুররা কীভাবে গোলকধাঁধায় নেভিগেট করতে শিখেছিল তার গবেষণার জন্য বিখ্যাত। মনোবিজ্ঞানে, এর একটি শক্তিশালী স্থানিক অর্থ রয়েছে জ্ঞানীয় মানচিত্রগুলি সাধারণত মস্তিষ্কের একটি স্থানের (যেমন, একটি গোলকধাঁধা) উপস্থাপনাকে নির্দেশ করে।


পরিবেশের বিন্যাসের একটি মানসিক চিত্র একটি জানীয় মানচিত্র হিসাবে পরিচিত প্রজ্ঞানীয় মানচিত্রগুলি মানুষকে শারীরিক পরিবেশ সম্পর্কে তথা স্মরণ করতে এবং শিখতে সাহায্য করে এবং পরিবেশগত সংকেত এবং সংকেতগুলিকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয়। জ্ঞানীয় মানচিত্রগুলি মানুষকে পরিচিত এবং অপরিচিত উভয় ক্ষেত্রেই নেভিগেট করতে সহায়তা করে।


সংজ্ঞা: একটি আনীয় মানচিত্র হল একটি প্রদত্ত প্রক্রিয়া বা ধারণার জন্য একজন ব্যাক্তির (বা একটি গোষ্ঠীর) মানসিক মডেলের যে কোনও দৃশ্য উপস্থাপন জ্ঞানীয় মানচিত্রের কোনও চাক্ষুষ নিয়ম নেই যা তাদের মেনে চলতে হবে।


বৈশিষ্টী


প্রকৃতি এবং উদ্দেশ্য বৈচিত্র্যময় জ্ঞানীয় ম্যাপিং বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন শৃঙ্খলার বিস্তৃত পরিসরে ব্যবহৃত হয়। জ্ঞানীয় মানচিত্র হল সবচেয়ে সাধারণ ধরনের মানসিক মডেল ভিজ্যুয়ালাইজেশন।


গঠন বা ফর্ম কোন সীমাবদ্ধতা নেই। জ্ঞানীয় মানচিত্রগুলিকে একটি নির্দিষ্ট বিন্যাস মেনে চলতে হবে না। এইভাবে, তারা প্রায়ই বিমূর্ত হয় এবং কোন সামঞ্জস্যপূর্ণ অনুক্রম নেই। এগুলি নমনীয় এবং একটি বিস্তৃত ধারণা বা পরিস্থিতি মিটমাট করতে পারে যা উপস্থাপন করা দরকার।


প্রশ্ন বৌদ্ধিক বিকাশের প্রথাগত সক্রিয়তার স্তর।

উত্তরঃ গৌক্তিক সক্রিয়তায় অর (Formal Operation Period)


পিয়াজের মতে, 12-15 বৎসর থেকে যুক্তি এবং চিন্তনের কর


শুরু হয়। এই স্তরের বাসরেরা যথার্থ বার্থতারণ ব্যাখা করতে পারে। অনিষৎ সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। যে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নয় তার সম্ভাবনা সম্পর্কেও চিন্তা করতে পারে। এরা বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক অ করে। সম্ভাবনা থেকে প্রকৃত সত্যকে পৃথক করতে পারে। সমস্যাসমাধানে আজো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সংক্ষেপে, এই সময়ে মূর্ত সর্বস্বতা থেকে বেরিয়ে আসাই ভাদের বড়ো পদক্ষেপ (Likend)।


মূর্ত সক্রিয়তার সঙ্গে যৌক্তিক সক্রিয়তা স্তরের পার্থক্য যোগাবার জন্য পিয়াজে এবং ইনহোন্ডারের একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা যায়। মুর্ত সক্রিয়তার অরে অবস্থানরত বাদকদের যদি বলা যায় 'কয়লাকে সাদা হিসেবে অনুমান করো'-ভাতা উত্তর দেবে কয়লা অবশ্যই কালো। কারণ বিমূর্ত চিন্তা করতে তারা পারে না। অপরদিকে যৌক্তিক সক্রিয়তার স্তরের একটি বালক অবাস্তবকে মেনে নিয়ে তাকে যুক্তিপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা করে। কয়লাকে কীভাবে সাদা বলে অনুমান করা যায় তা চিন্তা করবে।

বৈশিষ্ট্য 

(i) এই স্বরে শিশু যে-কোনো কাজের সমগ্র সম্ভাব্যতাই গ্রহণ করে, প্রকল্প গঠন করে, পরীক্ষা করে, বিশ্লেষণ করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং


'প্রয়োজনে তা গ্রহণ বা বর্জন করে।


(ii) এই স্তরে শিশুর মনে যে যুক্তিগ্রাহ্যতা জন্ম নেয় তার মূল কারণ তার মনের মধ্যে কী, কিন্তু, কেন-র মতো প্রশ্ন জাগে। তাই সে বস্তুভিত্তিক চিন্তার বাইরেও বিমূর্ত ভাবনার আশ্রয় নেয়। শুধুমাত্র মূর্ত বস্তু নয়, কোনো বর্ণ বা শব্দও তাকে এক দুর্তেয় বিমূর্ত চিন্তার জগতে নিয়ে যেতে। পারে।


(10) এই ওয়ে সে যৌথ পরিকল্পনার সংমিশ্রণে সাধারণীকরণ করতে পারে। পিঁয়াজে এই অপারেশন'কে বলেছেন, দলগত অপারেশন' এবং এর নাম দিয়েছেন INRC Group


1-identity (সাদৃশ্য), N Negative (নর্থক):


Reciprocity (বিনিময়); Correlation (সহগতি)।


যে-কোনো প্রকল্পকে পরীক্ষা করার জন্য এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য এই অপারেশনগুলির প্রয়োজন হয়।


প্রশ্ন- শিখন সঞ্চালনের মৌলিক নীতি-


উত্তরঃ শেখার স্থানান্তর বলতে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের শিক্ষায় উপর অতীতের শিক্ষার প্রভাব এবং অনুরূপ বা অভিনব পরিস্থিতিতে পূর্ববর্তী বা বর্তমান শিক্ষার প্রয়োগ যা অভিযোজনকে বোঝায় (হাস্কেল, 2001) HASKELL (2001) দ্বারা প্রদত্ত শিক্ষার স্তর এবং ধরনের স্থানান্তর সম্পর্কে আমরা জেনেছ। এখন শেখার স্থানান্তরের নীতিগুলি সম্পর্কে জানব।


স্থানান্তরের নীতি।


১) দুটি শেখার পরিস্থিতির মধ্যে মিল। দুটি পরিস্থিতি যত বেশি একই রকম, একটি পরিস্থিতি থেকে শেখার অন্য পরিস্থিতিতে স্থানান্তরিত


হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।


২) শিক্ষার অর্থপূর্ণতা/প্রাসঙ্গিকতা: অর্থপূর্ণ শিক্ষা রোট লার্নিং (বিচ্ছিন্ন তথা মুখস্থ করা) থেকে বেশি স্থানান্তরের দিকে পরিচালিত করে।


৩) নির্দেশনামূলক সময়ের দৈর্ঘ্য: নির্দেশে যত বেশি সময় ব্যয় করা হবে, স্থানান্তরের সম্ভাবনা তত বেশি। খুব দ্রুত কভার করার প্রচেষ্টা


স্থানান্তরকে কধাগ্রস্ত করতে পারে।


৪) শেখার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা: অনেক এবং বিভিন্ন উদাহরণের এক্সপোজার এবং অনুশীলনের সুযোগ স্থানান্তরকে উৎসাহিত করে।


৫) শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপট শেখার স্থানান্তর সবচেয়ে বেশি ঘটতে পারে যখন শিক্ষার্থীরা আবিষ্কার করে যা শিখেছে তা বিভিন্ন প্রসঙ্গে


প্রযোজা হয়।


৬) কাজের পরিবর্তের নীতির উপর ফোকাস। সত্যের চেয়ে নীতিগুলি সহজে স্থানান্তর করে।


প্রশ্ন- স্মৃতির সংগঠনের আন্তজাল মডেল।


উত্তরঃ দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে সঞ্চিত তথ্য ভাণ্ডারে তথ্যের সঙ্গে পরস্পর সম্পর্কিত আকারে সংযুক্ত হয়ে আয়ে বলে জ্ঞানবাদী মনোবিদগণ (cognitive psychologists) মনে করেন। এই সংযুক্ত অবস্থাকে অনুষঙ্গের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে অথবা অনুষঙ্গেরই নামান্তর। কিন্তু জ্ঞানবাদী মনোবিদগণ একে অনুষঙ্গ না বলে নির্দেশক' (Pointers) বলে অভিহিত করে থাকেন। আঅ্যালান কলিন্স এবং এলিজাবেথ লটাস স্মৃতি সংগঠনের জালসদৃশ একটা মডেল উপস্থাপন করেছেন। এঁরা এই মডেলের মাধ্যমে কোনো বাক্তির কাছে বিভিন্ন শব্দ উপস্থাপন করে ব্যক্তি তা

~তৎপরতার সঙ্গে অতিদ্রুত বীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি থেকে বিশেষ বিশেষ শব্দ স্মরণ করতে পারে বা দেখিয়েছেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, কোন ব্যাক্তির নিকট বাদ' শব্দটি পূর্বে উপস্থাপন না করে যদি 'নাশপাতি কিংবা লাল শব্দটি করা হয় তাহলে আপেল' শখটির প্রত্যভিজ্ঞা (recognition) তার কাছে দ্রুততর হয়। কলিন্স ও লাস-এর মতে বুটো শব্দ বা ধারণা অনুষঙ্গের মাধ্যমে যতবেশি মাত্রায় সংযুক্ত হবে, তাদের একটিকে মনে পড়লে অন্যটিয় মনে পড়ার সম্ভাবনাও তত দ্রুত হবে। দূরের কলিন্স ও ল্যাস এর মডেলটি যথাসম্ভব ইংরেজি থেকে বাংলার রূপান্তর করে উপস্থাপন করা হল।


পরের মডেল-এ দুটো ধারণার (Concept) মধ্যে দূরত্ব যত কম, তাদের মধ্যে অনুষঙ্গ-বন্ধন তাত জোড়ালো। মডেলটি লক্ষ্য করো কেমন করে। বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে সাধারণ ধর্ম (comman properties) এদের দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে পরস্পর সংযুক্ত হতে সাহায্য করে। গোলাপ, চেরিফল, আপেল এবং দমকল এদের প্রত্যেকেই লাল' এই ধারণাটির তথা এটির পুনরুৎপাদনে (Retrieval) বাধার সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন বর্তমান ও অতীত তথ্যের উপস্থিতি স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিতে (STM) তথ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণে যেমন বাধার সৃষ্টি করে তেমনি দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে (LTM) সংরক্ষিত তথ্যের পুনরুৎপাদনেও (retrieval) বাধার সৃষ্টি করে। ধরা যাও তুমি প্রথমে একটি বিদেশি ভাষা শিখেছ এবং তারপর আরেকটা। তা হলে দেখতে পাবে কারও সঙ্গে বাক্যালাপের সময় দ্বিতীয়বার শেখা ভাষাটির পরিবর্ত প্রথম বার শেখা ভাষ্যাট সুন্দরভাবে মনে করতে পারছ এবং তাতেই অনর্গল কথা বলে যাচ্ছ। প্রথমবার শেখা কোন তথ্য দ্বিতীয়বার শেখা কোন তথাকে যদি আংশিক বা পূর্ণ ভুলিয়ে দেয় তাকে আমরা বলে গাকি সম্মুখমুখী বাধা (proactive inhibition)। যদি উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ দ্বিতীয় ধার শেখা তথা প্রথমবারের শেখা তথ্যকে ভুলিয়ে দিলে তাকে আমরা বলে থাকি পশ্চাদমুখী বাধা (retroactive inhibition)


প্রশ্ন- বুদ্ধির সংজ্ঞা লিখুন। স্পিয়ারম্যানের দ্বি উপাদান তত্ত্বটি আলোচনা করো।


উত্তরঃ বুদ্ধি' শব্দটি আমরা প্রাত্যহিক জীবনে প্রায়শই ব্যবহার করি। "এর বৃদ্ধি কম ওর বেশি", "বুদ্ধি দেখেই বোঝা যাচ্ছে তোর দ্বারা কিছু হবে না- ইত্যাদি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারাও প্রায়শই 'বুদ্ধি' নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু আমরা যখন বুদ্ধি নিয়ে কথা বলি তখন এক একজন এক একরকম বিষয়কে বোঝাই। বুদ্ধি কখনও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, আবার কখনও মানিয়ে নেওয়ার শক্তি অথবা অন্য কিছু।


বৃদ্ধি হল জন্মগত মানসিক ক্ষমতা, যা ব্যাক্তিকে জ্ঞান অর্জন ও তা প্রয়োগে সহায়তা করা। এবং যার সাহায্যে ব্যক্তি নতু পরিবেশ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ মাত্রার কার্যকারি অভিযোজনে সম হন।


জে পি গিলফোর্ড (IP Guilford) -এর মতে, "Performing an operation on a specific type of content to produce a particular product অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের উদ্দেশ্যে বিশেষ ক্ষেত্র সাপেক্ষে যে কর্মসম্পাদন করা হয়। আই এম টারম্যান (IM Terman)-এর মতে, "The ability to carry on abstract thinking." অর্থাৎ, বিমূর্ত চিত্তন করার ক্ষমতাই হল বৃদ্ধি। ডি ওয়েলার (D Wechsler)-এর মতে, "The aggregate, or global capacity to act purposefully, think rationally, and deal effectively with the environment অর্থাৎ, পরিবেশের সঙ্গে ব্যক্তির সামগ্রিকভাবে উদ্দেশ্যপূর্ণ কাজ করার ক্ষমতা, যুক্তিমূলক চিন্তন ও যথাযথ কর্মসম্পাদনের ক্ষমতাই হল বুদ্ধি।


স্পিয়ারম্যানের দ্বি-উপাদান তত্ত্ব: ব্রিটিশ মনোনীদ চার্লস স্পিয়ারম্যান 1904 খ্রিঃ সম্পূর্ণ গণিত নির্ভর বুদ্ধির একটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আমেরিকান American journal of Prayehology তে প্রকাশ করেন। তার মতে বৃদ্ধি দুটি উপাদান নিয়ে গঠিত। একটিকে বলা সাধারণ শক্তি (C) অপরটি হল বিশেষ শক্তি (১) স্পিয়ার ম্যানের মতে যেকোনো রকমের বৌদ্ধিক কাজ দুটি ভিন্ন জাতীয় ক্ষমতা বা শক্তির সমন্বয়ে সম্পাদিত হয়ে থাকে। এদের মধ্যে একটি সারকাস বৌদ্ধিক কাজের ক্ষেত্রে সার্ব জনীনভাবে বর্তমান। এই ক্ষমতাকে স্পিয়ারম্যান বলেছেন সাধরণ এই মানসিক ক্ষমতা। আর অপর একটি উপাদান সেটি বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য বুদ্ধিমূলক কাজের করার ক্ষেত্রে বর্তমান সেই উপাদানটি হল বিশেষ মানসিক ক্ষমতা বা Sofaetor। আর তাই কারণেই স্পিয়ারম্যানের এই মানসিক ক্ষমতার মধোবাদকে দ্বি উপাদান বা তত্ত্ব বলা হয়।


স্পিয়ারম্যানের তথ্যানুযায়ী বুদ্ধির উপাদান দুটি। যথা সাধারণ মানসিক ক্ষমতা ('g'-factor) মানুষের সাধারণধর্মী কিছু মানসিক ক্ষমতা থাকে যা সকল রকম বৌদ্ধিক কাজ করার জন্য প্রয়োজন হয়। স্পিয়্যারম্যান এই ধরনের বৌদ্ধিক উপাদানের নাম দিয়েছেন 'g'-factor (general factor) বা সাধারণ মানসিক উপাদান। এই ধরনের উপাদানের বৈশিষ্ট্য হল-


(1) এই ধরনের বৌদ্ধিক উপাদান বাক্তির জন্মগত বা বংশগত। অর্থাৎ, ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করে এই ধরনের বৌদ্ধিক উপাদান নিয়ে।

এই ধরনের উপাদান সর্বজনীন। অর্থাৎ, সরার মধ্যেই বিদ্যমান। কারণ যে-কোনো সাধারণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।


একজন বাক্তির মধ্যে বৃদ্ধির এই উপাদানটি ধ্রুবক অবস্থায় থাকে।


এই উপাদান ব্যক্তিভেদে ভিন্ন রূপে বাড়ির মধ্যে থাকে। (iv)


M ৩টি বাক্তির কার্যগত গুণাবলিকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম।


(vi) এটি মানুষের সব ধরনের কাজেই প্রয়োজন হয়।


বিশেষ মানসিক ক্ষমতা (''-factor): বাক্তির মধ্যে কিছু বিশেষধর্মী মানসিক ক্ষমতা থাকে যা কোনো নির্দিষ্ট যা বিশেষ কাজ করার জন্য প্রয়োজন হয়। যেমন-নৃত্যের জন্য বিশেষ মানসিক ক্ষমতা দরকার হয়। এই খরনের মানসিক ক্ষমতার বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য হল-


(1) এই ধরনের মানসিক ক্ষমতার উপাদান ব্যক্তির জন্মগত নয়, অর্জিত। অর্থাৎ, বাক্তি বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে ও অনুশীলনের দ্বারা এই ক্ষমতা অর্জন করে।


(ii) এই ধরনের মানসিক ক্ষমতা ব্যক্তির মধ্যে একটি নয়, সংখ্যায় একাধিক থাকতে পারে।


(iii) ব্যাক্তির ভিন্ন ভিন্ন কাজে পৃথক পৃথক বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োজন হয় এবং এই ক্ষমতা বাক্তিভেদেও পৃথক হয়।


(iv) এই মানসিক ক্ষমতার পরিমাণ যার মধ্যে যত বেশি সেই বাক্তি তার কাজে তত বেশি সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম।


এই তত্ত্বে পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে স্পিয়ারম্যানের মতে, ব্যক্তির কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য দুটি উপাদানই প্রয়োজন। উদাহরণ


হিসেবে বলা যায় যে, গণিতের কোনো সমস্যাকে সমাধানের জন্য কিছু g-factor (সাধারণ উপাদান) ও অঙ্কের/গণিতের জন্য এক ধরনের factor (বিশেষ উপাদান) (S-factor Mathematics] প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, গণিতের সমস্যা সমাধানকে যদি একটি কাজ বিবেচনা করে W,


ধরি, তাহলে-


W, mgs, m, [W, কাজ, M গণিতের সমস্যা,


৪. সাধারণ বৃদ্ধি, ন, বিশেষ গণিতের বুদ্ধি।


স্পিয়ারম্যানের তত্ত্বকে চিত্রগতভাবে দেখানো যায়-


-21~bq- পার্থক্য ও বাতিল করার মধ্যে সম্পর্ক


aq বিপরীত ও বাতিল করার মধ্যে সম্পর্ক


'bp- পার্থক্য করা ও সম্পূর্ণ করার মধ্যে সম্পর্ক।


স্পিয়ারম্যানের তত্ত্বের শিক্ষাগত তাৎপর্য (Educational implication of Spearman's Theory)


স্পিয়ারমানের তত্ত্বের ব্যবহারের


মাধ্যমে


(1) শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের মানসিক সক্ষমতাকে নির্ণয় করতে পারেন।


শিক্ষার্থীদের মানসিক সক্ষমতাকে বুঝে সেই অনুযায়ী শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োগ ও শিক্ষণ প্রদীপণ ব্যবহার করতে পারেন।


(m) এই তত্ত্বের সাহায্যে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা জেনে প্রয়োজন অনুযায়ী দলে ভাগ করে বা দলগঠন করে বিভিন্ন task বা কাজ দেওয়া যেতে পারে।


(iv) শিক্ষার্থীদের বিশেষ মানসিক সক্ষমতার দিকগুলো জেনে সেই সকল ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিকাশের সুযোগ করা যেতে পারে।


(v) শিক্ষার্থীর মানসিক সক্ষমতার পরিমাপ করে শিক্ষার্থীর চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পেশা নির্বাচনের পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।


[vi] শিক্ষকগণ এই তত্ত্বের ব্যবহারের মাধ্যমে বুদ্ধি অভীক্ষা প্রস্তুত শিক্ষার্থীদের বুদ্ধির পরিমাপ করতে পারে। করে


প্রশ্ন ব্যক্তিত্ব বলতে কী বোঝো। ব্যক্তিত্বের সামাজিক শিখন তত্ত্বটি আলোচনা করো।


উত্তরঃ বাক্তিত্ব' বা 'Personality' শম্বটির সঙ্গে আমরা সকলেই (কম বা বেশি) পরিচিত। কোনো ব্যাক্তি সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অনেক ক্ষেত্রে বলে থাকি-লোকটির দারুণ পার্সোনালিটি' অথবা, 'লোকটির পার্সোনালিটি ভালো না। আমরা এরকম কথা কেন বলি? কারণ, আমরা যখন কোনো লোকের সঙ্গে পরিচিত হই তখন ওই ব্যক্তির আকৃতিগত দর্শন এবং পরিবেশগত বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধান করে তার নিজস্ব বা অন্তর্নিহিত বাক্তিগত কিছু বৈশিষ্ট। বা গুণাবলিকে খোঁজার চেষ্টা করি। যে সমস্ত বাক্তির এই আচরণগত বৈশিষ্ট। বা গুণাবলিকে আমরা পরিবেশ অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করি তাকেই বলি লোকটির দারুণ ব্যক্তিত্ব'। অন্যথায় 'ভালো না' বলে থাকি।


তাহলে 'ব্যক্তিত্ব' বা 'Personality' বিষয়টি কী? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়- ব্যক্তিত্ব হল মানুষের অভ্যন্তরীণ এমন কিছু বৈশিষ্টা, যা প্রত্যেক বাক্তির মধ্যেই বিরাজমান এবং এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে পৃথক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।


ব্যুৎপত্তিগত অর্থ: 'ব্যক্তিত্ব' কথাটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Personality' যা লাতিন শব্দ 'Persona' থেকে উদ্ভূত হয়েছে। 'Persona' শব্দটির অর্থ হল-গ্রিস Sami দেশে নাটক মঞ্চস্থ করার সময় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নাটকের চরিত্র অনুসারে যে মুখোশ ব্যবহার করতেন তাকেই 'Persona' বলা হত। অর্থাৎ, দর্শকরা নাটকের চরিত্রকে যেভাবে দেখে তাই হল 'Persona


ব্যক্তিত্বের সামাজিক শিখন তত্ত্ব। শিখনের এই ধরন অনুযায়ী, প্রাণী বা ব্যক্তি যে পরিবেশে বসবাস করে, সেই পরিবেশের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে পর্যবেক্ষণ করে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর জন্য আচরণের পরিবর্তন করে বা বিষয়কে আয়ত্ব করে এবং এভাবেই ব্যক্তির শিখন হয়। এই ধরনের শিখনের মূল উপাদান হল পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এখানে বান্দুরার সামাজিক প্রজ্ঞামূলক শিখনকে তুলে ধরা হল-


বান্দুরার তত্ত্বের ধারণা ও প্রকৃতি (Bandura's concept and nature of learning) মানুষ তার চারপাশের ঘটনাবলি দেখে অনেক কিছু শেখে। যেমন- যে ব্যক্তি আগে কখনও বুকে (Buffet) সিসেস্টমে খাওয়ার ব্যবস্থাকে দেখেনি, তাকে সে রকম ব্যবস্থায় খেতে বললে প্রথমে সে অন্যদের আচরণ দেখে বিষয়টিকে আয়ত্ত করবে এবং খাওয়া শুরু করবে। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তার আচরণের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোনো বিষয় আয়ত্ত করা বা শিখন হওয়াকে "পর্যবেক্ষণমূলক শিখন" (Observational learning) বলেছেন মনোবিদ Albert Bandura। যেহেতু এই পর্যবেক্ষণমূলক শিখন সামাজিক পরিবেশে জ্ঞানমূলক সংগঠনের মাধ্যমে হয়, তাই একে সামাজিক প্রজ্ঞামূলক শিখনও বলা হয়ে থাকে।


পর্যবেক্ষণ শিখনের মৌলিক উপাদান (Basic elements of Observational learning): Bandura র পর্যবেক্ষণমূলক শিখন তত্ত্বে শিখনের চারটি উপাদানের শর্তের কথা বলা হয়েছে।


Attention চারপাশে ঘটে থাকা ঘটনা সম্পর্কে মনোযোগী না হলে পর্যবেক্ষণ ঘটা সম্ভব নয়। মনোযোগ যত গভীর হবে অভিজ্ঞতা অর্জন বা শিখন তত সহজ হবে। মনোযোগের বিষয়টি বিষয়বস্তু বা মডেলে ওয়েবর উপস্থাপনের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে।

Retention / Memory হয়ে পর্যবেক্ষণমূলক অভিজ্ঞতাগুলিকে সাংকেতিকরণের মাধ্যমে স্মৃতিতে সারক্ষণ করে। এই প্রতি নির্ভর করে পর্যবেক্ষতের স্মরণ রাখার ক্ষমা ও সায়েতিক সংগঠনের প্রকৃতির উপর।


Production of behaviour / Initiation পূর্বের পর্যবেক্ষণমূলক অভিজ্ঞতাকে পরিস্থিতির পায়জাগ্যতা রেখে তিষয়কে পুনরুৎপাদন করে। বিষয়য়ত্বর পুনরুৎপাদন প্রক্তির পর্যবেক্ষণ দক্ষতায় উপর নির্ভর করে।


Motivation/Reinforcement বিষয়বস্তুর প্রতি মনোযোগী হয়ে পর্যবেক্ষণমূলক অভিজ্ঞয়াতে সংরক্ষণ ও যথাযথ পুনরুৎপাদনের জন্য প্রয়োজন যথাযথ প্রেষণা বা reinforcement বাক্তি তিনভাবে কাজে উদ্বুদ্ধ হতে পারে


অন্য কাউকে ফোনো আচরণ করতে দেখে নিজের কাজে উদ্বুদ্ধ হতে পারে।


ব্যক্তির নিজের কাজের কেউ প্রশংসা করলে আরও বেশি করে কাজ করতে বক্তি উদ্বুদ্ধ হয়।


পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলে বাক্তি কাজে উদ্বুদ্ধ হতে পারে।


মোনো কাজে reinforcement পেলে শিক্ষার্থীর শিখনের ক্ষেত্রে


মনোযোগকে নির্দিষ্ট জায়গায় হয়ে রাখতে সুবিধা হয়।


নতুন আচরণ বা বিষয় আয়ত্ত করতে সহজ হয়।


আয়ত্ত করা আচরণ বা শিখনের উন্নতিতে সহায়ক হয়।


বান্দুরার তত্ত্বের শিক্ষাগত তাৎপর্য (Educational implication of Bandura's Observational Learning)


Bandura র পর্যবেক্ষণমূলক শিখনের প্রয়োগ দেখা যায় মাইক্রোটিচিং এর ক্ষেত্রে। মাইক্রোটিচিং এ প্রথমে বিডিয় শিক্ষণ দক্ষতার পর্যবেক্ষণ করানোর পর শিক্ষার্থীদের অনুশীলন করতে দেওয়া হয়। এই ধরনের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিখনে শিক্ষকশিক্ষার্থীরা দ্রুত শিক্ষণ দক্ষতা অর্জন করতে পারে।


পাঠ্যক্রমের নির্ধারিত বিষয়ের সঙ্গে সাদৃশাযুক্ত model শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ করানো গেলে তাদের মধ্যে বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধনাত্মক reinforcement -এর সংখ্যা বাড়বে এবং তাদের শিখনে আগ্রহ তৈরি হবে।


পর্যবেক্ষণমূলক শিখদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিমূলক মনে (Collaborative learning) উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব হয়।


পর্যবেক্ষণমূলক পদ্ধতি শিক্ষককে যথাযথভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের কাজে সহায়ক করে।


প্রশ্ন- গিলফোর্ড এর বুদ্ধিশঠন তত্ত্ব টি আলোচনা করো।


উত্তরঃ বিশিষ্ট মনোবিদ জে পি গিলফোর্ড-এর মতে, সমস্ত কাজই কোনো-না-কোনো বৌদ্ধিক কাজ এবং প্রতিটি বৌদ্ধিক কাজের তিনটি মাত্রা। বা দিক রয়েছে। এইজন্য তাঁর তত্ত্বকে 'বৃদ্ধির ত্রিমাত্রিক তত্ত্ব' বলে। গিলফোর্ডের মতে-বৃদ্ধির এই তিনটি মাত্রা (dimension) fas


বৃদ্ধির বিভিন্ন মাত্রা


প্রক্রিয়াগত মাত্রা


(অপারেশনের মাত্রা)


বিষয়বস্তুগত মাত্রা


(সামগ্রীর মাত্রা)


(পণ্যের মাত্রা!


এটি হল ব্যক্তির প্রাথমিক মানসিক উপাদান যার সাহায্যে সে মানসিক বৌদ্ধিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করে লক্ষ্যের দিকে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। গিলফোর্ডের মত অনুযায়ী প্রক্রিয়াগত মাত্রা পাঁচ ধরনের হতে পারে


প্রক্রিয়াগত মাত্রা (Operation dimension)


1. বোধগম্যতা/প্রত্যাভিজ্ঞা (Cognition): এই প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যাক্তি বিষয়বস্তুর অন্তর্নিহিত অর্থ বোঝার চেষ্টা করে।


2. স্মৃতি (Memory): এই প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যক্তি শুধুমাত্র তথ্য পুনরুত্থাপন করতে পারে।


3. অভিসারী উৎপাদন (Convergent production): এই প্রক্রিয়ার দ্বারা বাক্তি কোনো সমস্যার একটি নির্দিষ্ট সমাধান উদ্ভাবন করতে পারে।

4. অপসারী উৎপাদন (Divergent production)


উপায় খুঁজতে চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়ায় সঙ্গে বাক্তির সৃজনশীলয়া যুক্ত। দ্বারা বাকি কোনো সমস্যার সমাধানের জন্য বিভিন্ন ও গয়ী সমাধানের


5. মূলায়ন (Evaluation) এই প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যক্তি কোনো বিষয়ের বা সিদ্ধান্তের গুণমান বিচার করে, অর্থাৎ, বক্তি বিষয়যন্ত্রর উপযোগিতা, কার্যকারিতা ভালোমন্দ বিচার করে।


বিষয়বস্তুগত মাত্রা (Content Dimension) নিলিয় উদ্দীপকের ওপরই বাক্তি তার মানসিক প্রক্রিয়া কার্যকারী করে। এই উদ্দীপককে বলে বিষয়বস্তুগত মাত্রা। অর্থাৎ, বাক্তি বিষয়বস্তুগত মাত্রার ওপর মানসিক প্রক্রিয়া করে থাকে। শিলফোর্ডের মতে, পাঁচ ধরনের বিষয়বস্তু হতে পারে-


1. দৃশ্যগত (Visual) চক্ষু ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে বিষয়গুলি গৃহীত হয় সেগুলিই দৃশ্যগত বস্তু যেমন-যে-কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য যখন বাক্তি দেখছে সেই দৃশ্য।


2. শ্রবণণত (Auditory) কর্ণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিষয়গুলি শ্রবণণত মাত্রা, যেমন-সংগীতের শিক্ষার্থী সুর কর্ণের মাধ্যামে শোনে। এই সুর প্রবণণত মাত্রা।


1. সাংকেতিক (Symbolic) চিহ্নসমূহ যা নিজে কোনো অর্থবহন করে না। যেমন ক্রম হলে পরের ছবিটি কী হবে? এই গ্রন্থে চিকগুলি অর্থহীন কিন্তু বিষয়টি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্ত।


অর্থগত (Semantic)। যে-কোনো যোগাযোগ ও ভাষাগত বিষয়গুলি ২'-এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন-শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মথো আদানপ্রদান প্রধানত এই শ্রেণির অন্তর্গত।


5. আচরণগত (Behavioural) বাক্তির মানসিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আচরণ এই শ্রেণির অন্তর্গত। যেমন-শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলাজনিত বা অপসাগতিমূলক আচরণসমূহ পর্যবেক্ষণ করা।


ফলাফলগত মাত্রা (Product Dimension- নির্দিষ্ট উদ্দীপক অর্থাৎ বিষয়বস্তুর ওপর উপযুক্ত বৌদ্ধিক প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে যে লক্ষ্য অর্জিত হয় তাই হল ফলাফলগত মাত্রা। এটি ছয় ধরনের হতে পারে-


1.


একক (Unit) একটিমাত্র তথ্যের ধারণা তৈরিকে বোঝায়। যেমন- নির্দিষ্ট বস্তু, ব্যক্তি প্রভৃতির ধারণা।


2. শ্রেণি (Class): একাধিক ধারণা বা বৈশিষ্ট। একত্রিত করে যখন কোনো সাধারণ ধারণার জ্ঞান অর্জিত হয়, তখন তাকে শ্রেণি সম্বন্ধীয় ধারণা বলে। যেমন-ফল (fruit)-এর ধারণা, বিদ্যালয়ের ধারণা প্রভৃতি।


13. সম্পর্ক (Relation): একাধিক ধারণার মধ্যে সম্বন্ধ বা সম্পর্ক নির্ণয়ের ধারণাকে এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


4. সিস্টেম (System): বিভিন্ন ধারণার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত সংগঠিত রূপ হল সিস্টেম। এর মাধ্যমে কোনো একটি ধারণার বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারি।


5. রুপান্তর/পরিবর্তন (Transformation) অর্জিত তথ্য বা ধারণার বিভিন্ন প্রকার পরিবর্তনকে বলে রূপান্তর। এই রূপান্তর অর্থগত, কার্যগত বা গুণগত হতে পারে।


6. তাৎপর্য নির্ণয় (Calculation implication): বা পরবর্তীতে কী ঘটতে পারে বলে অনুসিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি অর্জিত জ্ঞান, ধারণা বা তথ্য দিয়ে যখন আমরা কোনো কিছুর তাৎপর্য নির্ণয় করি তখন সেটি এই পর্যায়ভুক্ত হয়।


গিলফোর্ড তিনটি মাত্রা ও প্রত্যেকটির অন্তর্ণত বিভিন্ন বা SOI মডেল নামে পরিচিত। নীচে মডেলটি দেখানো হল-পর্যায়কে একটি মডেলের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা Structure of Intellect

ওপরের ঘনকের তিনটি তলে তিনটি মাত্রা (বিষয়বস্তু, প্রক্রিয়াগত ও টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ঘনকটির মধ্যে মোট ১-১০৩ বাক্তির সম্পূর্ণ বৃদ্ধি, যা মোট ১১০টি উপমান নিয়ে গঠিত। অর্থাৎ উপাদান প্রয়োজন। ফলাফল) প্রতিস্থাপিত হয়েছে। প্রতিটি ভলকে যথাক্রমে-পাঁচটি, পাঁচটি ও ও ১১০টি ছোটো ছোটো ঘনক রয়েছে। গিলফোর্ডের মতে, বড়ো ঘনকটি হল মানুষের সব ধরনের বৌদ্ধিক কার্যাবলির সংখ্যা ১৭০টি, যার জন্য ১৩০টি


প্রশ্ন- weiner ভাবধারা অনুসারে প্রেষণার ধারণা এটি পরিস্ফুটন করো। Weiner কারণ নির্দেশক তত্ত্বটি আলোচনা করো।


উত্তরঃ যখন কোনো শিক্ষার্থী কোনো পরীক্ষায় বা কোনো ব্যক্তি কোনো কিছুতে সাফল্যলাভের চেষ্টা করে, তখন দু-ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।


(1) পরীক্ষার্থী বা ব্যক্তি সফল হতে পারে।


(2) পরীক্ষার্থী বা বাক্তি বার্থও হতে পারে।


সফল বা ব্যর্থ যা হোক না কেন প্রত্যেক ব্যক্তি বা শিক্ষার্থী এই সাফল্য বা ব্যার্থতার কারণ অনুসন্ধান করে। যেমন সফলতা লাভ করলে শিক্ষার্থী মনে করে তার পরীক্ষা ভালো হয়েছিল, শিক্ষক তার উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছেন, বেশিরভাগ প্রশ্নের সঠিক উত্তর সে করতে পেরেছে ইত্যাদি। আবার ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থী এর কারণ হিসাবে বিভিন্ন যুক্তির অবতারণা করে। যেমন কঠিন প্রশ্ন, সঠিক মূল্যায়নের অভাব, পরীক্ষা চলাকালীন শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি। যে ব্যক্তি বা শিক্ষার্থী কাজ বা পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করে, সে পরবর্তী কাজে বা পরীক্ষায় প্রেষণা লাভ করে। অপরদিকে যে পরীক্ষার্থী বা বাক্তি বারবার যার্থ হচ্ছে তার কোনো কাজে বা পরীক্ষাতে প্রেষণা বা উৎসাহ কমে যায়। এটিই হল ওয়াইনারের কারণ নির্দেশক তত্ত্বের মূলকথা।


এই তত্ত্বটি এটি মৌলিক ধারণার উপর নির্ভর করে-


(1) যেসব আচরণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তার কারণগুলি জানার প্রতি সবাই আগ্রহী হয়। কোনো ব্যক্তি নিজের আচরণ সম্বন্ধে জানতে যেমন আগ্রহী তেমনি অন্যের আচরণ জানতেও আগ্রহী হয়। যেমন-একজন শিক্ষার্থী যদি বারবার অঙ্কে ফেল করতে থাকে, তখন তার মধো অঙ্কের ভীতি জন্মায় এবং সে নিজেকে অঙ্ক থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে এবা যেসব শিক্ষার্থী অঙ্কে ভালো নম্বর পায়, তাদের প্রতি তার বিশেষ মনোভাব গড়ে ওঠে।


(2) এই তত্ত্ব অনুযায়ী ব্যক্তি তার সাফলা বা ব্যর্থতাকে যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা করে তার কারণগুলি নির্দিষ্ট করার চেষ্টা করে। যেমন-কোনো শিক্ষার্থী বারবার অঙ্কে ব্যর্থ হলে সে মনে করে, সে অন্তু শিখতে অক্ষম, এই বিষয় শিখবার মতো যথাযথ যোগ্যতা তার নেই বা শিক্ষক তাকে অঙ্ক শেখানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারেননি। ফলে ওই বিষয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়নি। এই সমস্ত কারণ দেখিয়ে অঙ্কে ব্যর্থতা ব্যাপারটিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।


(3) কোনো ব্যক্তি তার সাফল্য বা ব্যর্থতার জন্য যে সমস্ত কারণ নির্দেশ করে, তা ওই ব্যক্তির পরবর্তী আচরণে প্রভাব ফেলে। যেমন-যে পরীক্ষার্থী বারবার অঙ্কে ব্যর্থ হচ্ছে, সে পরবর্তী ক্ষেত্রে অঙ্ককে পছন্দ করে না বা যেসব শিক্ষক তাকে অঙ্ক শিখিয়েছিলেন, তাঁদেরকেও অপছন্দ করতে শুরু করে, কারণ তার মধ্যে ধারণা জন্মায় ওইসব শিক্ষকদের জন্যই সে অন্তে বারবার ব্যার্থ হচ্ছে।


Weiner কারণ নির্দেশক তত্ত্ব


ওয়াইনারের প্রেষণার তত্ত্ব (Weiner's Theory of Motivation) যখন কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল ভালো হয় না বা সে অকৃতকার্য হয়, তখন তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নীচের কোনো একটি উত্তর দেবার সে চেষ্টা করে (1) প্রশ্ন খুব জটিল হয়েছিল। (ii) ভালোই পড়েছিলাম, কিন্তু ভাগ্য খারাপ ছিল বলে প্রত্যেকবার যেমন প্রশ্ন হয় তেমন হয়নি। (iii) যেভাবে পড়া উচিত ছিল তা করতে পারিনি (iv) আমার দ্বারা এর থেকে ভালো করা সম্ভব নয় (এ ছাড়া আরও উত্তর হতে পারে, কিন্তু আমরা এখানে ওপরের উত্তরগুলোকেই বেছে নিলাম)।


ওয়াইনার বলেছেন-কোনো মানুষ যখন জোনো আচরণ ও কার্য সম্পাদন করে তখন সে কাজের সাফল্য বা ব্যার্থতার জন্য কিছু উপাদানকে (lactor) কারণ হিসেবে দেখায়। অর্থাৎ, কাজের ফলাফলের জন্য সে কতকগুলি কারণতে উপলব্ধি বা মনে করে-এগুলিকেই ডিনি কারণ ও নির্দেশক (attribution) বলেছেন।


এই তত্বে এরকম চারটি উপাদানের কথা বলা হয়েছে বা সাফল্ড বা বার্থতার কারণ/নির্দেশক হিসেবে কাজ করে-


1. ক্ষমতা (Ability) ব্যক্তি কাজটি করছে।


২. প্রচেষ্টা (Effort) কাজটি করার জন্য সে তার ক্ষমতার করটা প্রয়োগ করছে।


1. কাজের কাঠিন্য (Task difficulty) যে কাজটি সে করছে সেটি করাটা কঠিন।


4. অগ্য (Luck): যেটি ব্যাক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইতে।


প্রথমে যে উত্তরগুলোকে বেছে নিয়েছিলাম, তার মধ্যে প্রথমটি ছিল-কাজের কাঠিন্যকেন্দ্রিক, দ্বিতীয় উত্তরটি হল- অগ্যকেন্দ্রিক, তৃতীয়টি ছিল-প্রচেষ্টাকেন্দ্রিক ও শেষ উত্তরটি ছিল- ক্ষমতাকেন্দ্রিক।


ওয়াইন্যার প্রতিটি নির্দেশের আবার তিনটি মাত্রায় (dimension) কথা বলেছেন। সেগুলি হল-


1. নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র (Locus of control) বাক্তি তার সাফল্য বা বার্থতার কারণ। হিসেবে জোন কারণকে বিশ্বাস করে। এটি বাহ্যিক (external) এ অন্তর্নিহিত linternal) হতে পারে। যেমন সে ভাবতে পারে ভাগ্য (বাহ্যিক) বা ক্ষমতাই (অন্তর্নিহিত) কারণ।


2. স্থায়িত্ব (Stability): যে কারণের জন্য ব্যক্তি সফল বা ব্যর্থ হয়েছে সেটির সম্বন্ধে ওই বাক্তির উপলব্ধি কী ধরনের। সেই কারণটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে বা একই থাকবে। এটি স্থায়ী বা অস্থায়ী (পরিবর্তনশীল) হতে পারে। যদি সে ভাবে ক্ষমতা তাহলে স্থায়ী কারণকে ভাবছে, আব যদি ভাবে প্রচেরী তাহলে অস্থায়ী কারণকে ভাবছে।


3. নিয়ন্ত্রণযোগ্যতা (Controllability) যে কারণটির কথা ব্যক্তি ভাবত্বে সেটিকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি? না পারে না। এটি সু-রকম হতে পারে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও নিয়ন্ত্রণহীন।


এবারে যদি আমরা ওয়াইনারের তত্ত্বকে একত্র করার চেষ্টা করি তাহলে যা পাব তাকে টেরিল আকারে প্রকাশ করতে পারি


নির্দেশক উপাদান


নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র


ক্ষমতা


নিয়ন্ত্রণযোগ্যতা


অভ্যন্তরীন


স্থায়িত্ব


স্থায়ী


নিয়ন্ত্রণহীন


প্রচেষ্টা


কাজের কাঠিন্য


অভ্যন্তরীণ


অস্থায়ী


নিয়ন্ত্রণযোগ্য


বাহ্যিক


অস্থায়ী


নিয়ন্ত্রণহীন


নিয়ন্ত্রণহীন


বাহ্যিক


ওয়াইনারের তত্ত্বের শিক্ষাগত তাৎপর্য (Educational Implication of Weiner's Theory): সাধারণভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যর্থতার জন্য নির্দিষ্ট কারণের কথা চিন্তা করে। কিন্তু যদি সে কারণগুলোকে স্থায়ী এবং নিয়ন্ত্রণাধীন মনে করে, তবে তার কাজের প্রতি। শ্রেষণ্য তৈরি হবে না। আবার যদি সে ভাবে কারণগুলি বাহ্যিক, তাহলেও তার প্রেষণা সৃষ্টি হবে না। সুতরাং, শিক্ষকের দায়িত্ব হবে অভ্যন্তরীণ, পরিবর্তনশীল ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণগুলিকে শিক্ষার্থীর সামনে তুলে ধরা, যাতে সে কোনো বিষয়বস্তু বা কাজ বা আচরণের প্রতি আকর্ষণবোধ করে ও প্রেষণার সৃষ্টি হয়। সুতরাং, একথা বলা যেতে পারে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন।


সুতরাং, ওপরের আলোচনা থেকে এটা বোঝা যায় যে শিক্ষার্থীর প্রচেষ্টাকে বাড়ানোই মূল কথা। শিক্ষার্থীর প্রচেষ্টা বাড়াতে শিক্ষক/শিক্ষিতা নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করবেন-


1. শিক্ষার্থীর প্রচেষ্টাকে শিক্ষক/শিক্ষিকা অবশ্যই প্রশংসা করবেন। যেমন-কোনো শিক্ষার্থী কোনো কাজে যদি কঠোর পরিশ্রম করে, তবে অবশ্যই তাকে ওই পরিশ্রমের জন্য বাহবা দিতে হবে।

২. শিক্ষক/শিক্ষিতা শিক্ষার্থীদের এমনভাবে কাজ বণ্টন করবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজটিকে শেষ করতে পারে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচেষ্টা বাড়ানোর প্রবণতা বাড়বে।


১. শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টা বাড়ানোর জন্য শিক্ষক/শিক্ষিকা আর একটি পন্থা নিতে পারেন। কোনো শিক্ষার্থী পূর্বে কোনো কাজ প্রচণ পরিশ্রম করে শেষ করেছিল, পরবর্তী ক্ষেত্রে শিক্ষক/শিক্ষিতা ঘনি সেই পরিশ্রম বা প্রচেষ্ঠার কথা শিক্ষার্থীকে মনে করিয়ে দেন, কতে সেই শিক্ষার্থীর পুনরায় প্রচেষ্টা করার প্রবণতা বাড়বে।


২. কম পারদর্শিতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়িয়ে যাওয়া ভালো। তাহলে তারা নিজেদের মতো করে লক্ষ্য স্থির কররে এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছোনোর চেষ্টা করবে।


5. শিক্ষক যেন কোনো কাজের ফলাফলের জন্য ভাগ্যকে দায়ী না করেন, ভারণ ভাগ্যকে কারণ হিসেবে গণ্য করলে শিক্ষার্থীর কর্মপ্রচেষ্টা কমবে।


প্রশ্ন। মনোযোগী নির্বাচনধর্মীতা এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রকৃতি আলোচনা করো। ব্রডব্যান্ড (broadbent) প্রদত্ত মনোযোগী তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।


উত্তরঃ আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা মনোযোগের প্রধান দুটি ধর্ম চিহ্নিত করেছেন নির্বাচনধর্মিতা ও বিভক্ত মনোযোগ।


(ক) নির্বাচনধর্মিতা। মনোযোগ এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে আমাদের বিশেষ বিশেষ সংবেদনমূলক তথ্যগুলিই সংগৃহীত যা আমাদের কাষে গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনধর্মিতার জন্যই আমাদের মানসিক প্রক্রিয়াগত এমন কি দৈহিক সঞ্চালনগত পরিবর্তন ঘটে থাকে। আমাদের ইন্দ্রিয় উদ্দীপনা কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রান্তরে সঞ্চালিত হয়। উদ্দীপকের তীব্রতার হ্রাসবৃদ্ধির জন্য নির্বাচনধর্মিতা প্রভাবিত হয়। মনোযোগের উদ্দীপক নির্বাচন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত গবেষণা করেছিলেন Cherry (1953)। এখানে মূলত শ্রবণ মাধ্যমের উদ্দীপক প্রয়োগ করা হয়েছিল। এখানে "dichotic listening" পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছিল। এখানে পরীক্ষার্থীর দুই কানে সু-ধরনের তথ্য প্রদান করা হয়। এবং তার পুনরাবৃত্তি করতে বলা হয়। এখানে চেনা তথ্য বা উপস্থাপন মনোযোগ আকর্ষণ করে। অপরপক্ষে অচেনা তথ্যকে পুনরোগস্থাপন করা যথেষ্ট কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ কোনো কোনো তথ্য চেতনার কেন্দ্রে না এসে ছায়াচ্ছন্ন ক্ষেত্রে অবস্থান করে। এই বিষয়টিকে ছায়াচ্ছাদন (Shadowing) বলা হয়। পদ্যরূপ বিষয়বস্তু কবিতা এবং অন্যান্য সম্পর্কযুক্ত শব্দের তুলনায় অধিকতর ছায়াচ্ছাদিত হয়। ছায়াচ্ছাদন প্রক্রিয়াটি যদি কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয় তবে মনোযোগ দেওয়া হয়নি এমন কোনো কোনো স্মৃতির পুনরুদ্রেক ঘটে। এর থেকে বোঝা যায় বিষয়টি কোনোভাবে গল্পস্থায়ী স্মৃতিতে সঞ্চিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে তা থাকতে পারে না। অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতির জন্য মনোযোগের প্রয়োজন। এইভাবে দর্শনমূলক দুটি সংবেদনকে একাধিক্রমে ব্যবহার করেও মনোযোগের নির্বাচনধর্মিতা প্রমাণ করা হয়েছে।


অক্ষিগোলকের সঞ্চালনের ভিত্তিতে আমরা মনোযোগের নির্বাচনধর্মিতা তথা দর্শনমূলক সংবেদনজ্ঞাত মনোযোগের প্রকৃতি বিচার করতে পারি। এই পদ্ধতিটি অনুসন্ধান (searching) বলে প্রচলিত। অনুসন্ধান পদ্ধতিতে বিশেষ বিশেষ বস্তু সম্পর্কে নিরস্তর অনুসন্ধান অর্থাৎ মনোযোগের মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সঞ্চালিত হয়।


মনোযোগের নির্বাচনধর্মিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপকের প্রকৃতি ও মানুষের/বাক্তির প্রকৃতিগত বৈশিষ্টা (আগ্রহ, অনুরাগ, চাহিদা) ইত্যাদি। আবার উদ্দীপকের তীব্রতা যত বেশিই হোক।


সংশ্লেষণাত্মক ও বিশ্লেষণাত্মক মনোযোগের মাধ্যমে আমরা বিষয়বস্তুর বিশ্লেষণও সংশ্লেষণ করি। যেমন- কোন একটা গাছের দিকে মনোযোগ দিয়ে ফুল, ফল, পাতা, কাণ্ড প্রভৃতি বিষয়ের প্রতি যেমন মনোযোগী হই তেমনি গাছটাকে সামগ্রিকভাবেও মনোযোগ দিতে পারি এইভাবে সংশ্লেষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়বস্তুর সামগ্রিক একক বস্তুধর্মী অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকি।


Broadbent-এর প্রাথমিক পরিস্রবণ তত্ত্ব (Primary Filtration):-


ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী Donald Broadbent (1958)-এর মনোযোগ সম্পর্কিত তত্ত্বটি মনোযোগের প্রথম তত্ত্ব হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর তত্ত্বটি শ্রবণ ভিত্তিক দ্বৈত কর্মের (Dichetic Listening Task)-এর উপর প্রতিষ্ঠিত। এই পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর দুই কানে দু-রকম তথা প্রদান করা হয়েছিল। যেমন তিনজোড়া সংখ্যা একবার ডান কানে একবার বাম কানে প্রদান করা হয়। এরপর যখন পুনরুদ্রেক করানো হয় তখন দেখা যায় ব্যক্তি একটি কানে সংগৃহীত তথাকে একবারে পুনরুদ্রেক করছে। অর্থাৎ একটি ক্ষেত্রে 496 অন্য কানে ৪52 শোনানো হয়েছে। বাক্তি যখন পুনরুদ্রেক ঘটাচ্ছে তখন নম্বরটি 489562 (যে ভাবে তার দুই কানে শোনানো হয়েছিল) এর বদলে 496852 বলে পুনরুৎপাদিত হয়। এই পরীক্ষণ ভিত্তিক যে তত্ত্ব তিনি প্রদান করেছিলেন তার নাম-প্রাথমিক পরিস্রবণ তত্ত্ব (Primary Filtration Theory)। এই তত্ত্বের মূল কথাগুলি হল।


(ক) দুটি একই সঙ্গে উপস্থাপিত উদ্দীপক একই সময়ে সংবেদক প্রান্তে উপস্থিত হয়। এই সংবেদীর প্রান্তে উদ্দীপকটি কিছুক্ষণ সময়ের জন্য থাকে। প্রয়োজনীয় তথাগুলি হয় মনোযোগ আকর্ষণ করে অথবা মিলিয়ে যায়।

খ) প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি চেতনার কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু সবগুলি একসঙ্গে প্রবেশ করতে পারে না। কিছু কিছু তথ্য মাঝপথে ছাঁকনির মতো আটকে যায় এবং বিশেষ নির্বাচিত তথ্যটিই চেতনার ক্ষেত্রে পৌঁছতে পারে।


(গ) যে তথ্যগুলি মূলত চেতনার কেন্দ্রে পৌঁছয় তার কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য বর্তমান।


(ঘ) ছাঁকনিতে আটকে খাওয়া তথ্যগুলি সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হয় না। অনেক সময় পরে এগুলি কেন্দ্রে আসতে পারে।


(৩) এইভাবে পরিস্রবণের ফলে সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যে তথ্যগুলিই শুধু সংগৃহীত হয়।


Broadbent-এর পরিস্রবণ কত্ত্বে চেতনার কেন্দ্র বহির্ভূত বিষয়গুলি কোনোভাবেই পরবর্তীকালে অর্থবহ হয় না বলে মনে করা হয়। যদিও সম্পর্কে বহু বিতর্ক রয়েছে। এই অত্ত্বটি মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ


১। তথ্য প্রক্রিয়াকরণ তত্ত্বর বিভিন্ন প্রক্রিয়াগুলি যে পরস্পর সংযুক্ত যে বিষয়টি প্রথম রূপ পরিগ্রহ করল এর মাধ্যমে।


২। নির্বাচিত মনোযোগ (Selective atterition) সম্পর্কে এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব।


৩। এর মধ্যে এক ধরনের অনমনীয়তা প্রত্যক্ষ করা যায়, কারণ এই তত্ত্বে পরিশ্রুত না হওয়া তথ্যগুলির


প্রশ্ন ব্যক্তিত্বের মনোবৈজ্ঞানিক রুপটি পরিস্ফুটন করো। বাক্তিত্বের মনঃসমীক্ষণ তত্ত্বটি সংক্ষেপে আলোচনা।


উত্তরঃ মাক্তিত্ব' বা 'Personality' শব্থটির সঙ্গে আমরা সকলেই (কম বা বেশি) পরিচিত। কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অনেক ক্ষেত্রে বলে থাকি-লোকটির দারুণ পার্সোনালিটি অথবা, 'লোকটির পার্সোনালিটি ভালো না। আমরা এরকম কথা কেন বলি? কারণ, আমরা যখন কোনো লোকের সঙ্গে পরিচিত হই তখন ওই ব্যক্তির আকৃতিগত দর্শন এবং পরিবেশগত বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধান করে তার নিজস্ব বা অন্তর্নিহিত বাক্তিগত কিছু বৈশিষ্ঠী বা গুণাবলিকে খোঁজার চেষ্টা করি। যে সমস্ত ব্যক্তির এই আচরণগত বৈশিষ্টা বা গুণাবলিকে আমরা পরিবেশ অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করি তাকেই বলি 'লোকটির দারুণ ব্যক্তিত্ব'। অন্যথায় ভালো না' বলে থাকি।


তাহলে 'ব্যক্তিত্ব' বা 'Personality' বিষয়টি কী? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়- ব্যক্তিত্ব হল মানুষের অভ্যন্তরীণ এমন কিছু বৈশিষ্টা, যা প্রত্যেক ব্যাক্তির মধ্যেই বিরাজমান এবং এই বৈশিষ্টোর কারণেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অনাদের থেকে পৃথক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।


বাক্তিত্ব ব্যক্তিত্ব বলতে বোঝায় ব্যক্তির নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলিকে, যার ব্যক্তি তার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধান করে এবং এই বৈশিষ্ট্য দ্বারাই ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে পৃথক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।


ব্যক্তিত্বের মনোবৈজ্ঞানিক রূপ বিভিন্ন মনোবিদ ব্যক্তিত্বকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ব্যাখ্যা গুলিকে Allport বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন।


(ক) উদ্দীপক হিসাবে ব্যক্তিত্ব [Personality as a Stimulus] এই ধরনের ধারণায় অন্যদের সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্কের প্রেক্ষিতে ব্যাক্তিত্বকে বিচার করা হয়। যেমনন-ব্যক্তি শীঘ্র বশ্যতাপরায়ণ কিনা বা বদমেজাজি কিনা ইত্যাদি।


(খ) সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গি [Summative Approach]-এই দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যক্তিত্বের ব্যাখ্যা হিসাবে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তির বিভিন্ন সহজাত ও অর্জিত বৈশিষ্ট্যাবলির সমষ্টিই হল তার বাক্তিত্ব।


মটন প্রিন্স (Morton Prince) মনে করেন, ব্যক্তিসত্তা হল বাক্তির সাধারণ জৈবিক আকাঙ্ক্ষা এবং অর্জিত প্রবণতার সমষ্টি।


(গ) সমন্বয়মূলক দৃষ্টিভঙ্গি (Integrative Approach] এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তিত্বের সমন্বয়মূলক ও নির্দিষ্ট সংগঠনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। ওয়ারেন [Warren]-এর অভিধানে বলা হয়েছে, ব্যক্তির বৌদ্ধিক, অনুভূতিমূলক, মনপালকমূলক এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যাবলির সমন্বয়ই হল ব্যক্তিত্ব। এই সমন্বয় প্রকাশের মাধ্যমেই বিভিন্ন ব্যাক্তির বাক্তিত্বের পার্থক্য ঘটে।


(ঘ) সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি Totality Approach] এই ধরনের ব্যাখ্যার মধ্যে সমন্বয়ের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তি কীভাবে সমগ্র পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করে তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাক্তির আচরণের সামগ্রিক রূপটির উপর এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


খ) অভিযোজনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি (Adjustment Approach]াগের পর থেকেই শিশু পরিবেশের সঙ্গে অরিযোজন শুরু করে। প্রতিটি বাক্তিই নিজের মতো করে নিজের সঙ্গে এবং সময়ের সঙ্গে অভিযোজন করে। এই অভিযোজনের ধারা অনুযায়ী বাক্তির বাক্তিত্ব সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। এই মতানুযায়ী বক্তিত্ব হল বাতির রণগত বৈশিষ্টোর বিন্যাস এবং তার ভিত্তিতেই তাক্তি নিতবমিন্নতাবে পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনে সচেষ্ট হয়। এইভাবে বলা যায়, পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের সমন্বিত রূপই হল ব্যক্তির বাক্তিত্ব।


ব্যতিত্ব সম্পর্কে উপরিউক্ত দৃষ্টিভঙ্গিগুলিকে বিশ্লেষণ ভয়ে ফ্রেডেনবার্গ (Fredenburg) এবা আলপোর্ট (Allport) পৃথকভাবে বাক্তিত্বের দুটি সারা দিয়েছেন। যার মূল বক্তব্য একই। অলপোর্টের মতে, বক্তিত্ব হল বাক্তির জটিল বৈশিষ্ট্যাবলির একটি স্থায়ী ব্যাবস্থা এর সাহায়ে বাক্তির জীবনবিন্যাসের পরিচয় পাওয়া যায়। আলপোর্টের মতে, বাক্তির মধ্যে যেসব জৈব মানসিক সত্তা পরিবেশের সঙ্গে অনন্য সংগতিবিখানে সাজাও করে তারই প্রগতিশীল সংগঠনের নাম বাক্তিত্ব [Personality is the dynamic organisation within the individual of those psycho physical systems that determine his unique adjustment to his environment) অলপোর্টের দেয় সংজ্ঞাটি মনস্তত্ব জগতে যথেষ্ট সমাদৃত।


ব্যক্তিত্বের মনঃসমীক্ষণ তত্ত্ব ভিয়েনা দেশীয় চিকিৎসক সিগমুন্ড ফ্রয়েডের ভাবনা প্রসূত মৌলিক মতবাদ হলো মনঃসমীক্ষণবাদ। মানুষের আচরণ বর্ণনার ক্ষেত্রে এই মতবাদ গঠনবাদ (structuralism) ব্যবহারিক উপযোগিতাবাদ (functionalium), আচরণবাদ (behaviourism) অথবা সমগ্রতাবাদের (gestaltism) সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করে। এই মতবাদের মধ্যে আমরা ভল্লু (theory) এবং প্রয়োগের (practical) এক সুন্দর সংমিশ্রণ দেখতে পাই। তাত্ত্বিক দিক দিয়ে এটা মানুষের মনকে অনুশীলন করা, বোঝা এবং বর্ণনা করা যায় এবং মনঃসমীক্ষণ হিসাবে ব্যবহারিক দিকে এটি মানুষের আচরণ অনুশীলন করার একটি পদ্ধতি এবং মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এখানে আমরা প্রথমে মনঃসমীক্ষণবাদের তাত্ত্বিক দিক (paychoanalytic theory) সম্পর্কে কিছু মৌলিক ধারণার কথা আলোচনা করবো। এবং তারপরে মনঃসমীক্ষণবাদের পদ্ধতি (psychoanalytic method) দিয়ে আলোচনা করা হবে।


মানব মনের গঠন (Structure of the mind): ফ্রয়েড যখন মানবমনের গঠন ব্যাখ্যা করেছেন, তখন এটাকে প্রথমে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন ক্ষেত্রগত দিক (topological aspect) এবং গতিশীলতার দিক (dynamic aspect)। ক্ষেত্রগত দিককে আবার তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন যথা চেতনমন (Conscious mind), প্রাক চেতন মন (preconscious mind) এবং অবচেতন মন (unconscious mind)। অর গতিশীলতার দিক থেকে মানবমনের আবার তিনটি উপাদানকে স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নিয়েছেন, যেগুলি হলো অদস (id), অহম (ego) এবং অদিশান্তা (super ego)


এখন আমরা এই গঠনগুলোকে নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা করবো।


যদি আমরা চেতন, প্রাক চেতন ও অবচেতন মনের ধারণা (The concept of conscious, preconscious and unconscious mind) মানুষের মনকে সমুদ্র, নদী বা পুকুরের সঙ্গে তুলনা করি তাহলে তার সবচেয়ে উপরের স্তর হলো চেতন মন, মাঝের যে স্তর সেটাকে প্রাকচেতন হিসাবে চিহ্নিত করা হয় এবং একেবারে নীচের স্তর হলো অবচেতন মন। চেতন মন জলের উপরের স্তরে বরফখন্ডের মত ভেসে বেড়ায়। এটি সমগ্র মনের মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ জুড়ে থাকে। কোনও মুহূর্তে আমাদের মনোজগতে কোনো চিন্তা, ধারণা বা প্রতিচ্ছবি সম্পর্কে অবগত হওয়া, যেগুলিকে নিয়ে মনের উপরের স্তর গঠিত। এই চেতন স্তরের নীচে আছে প্রাক চেতন স্তর। আমাদের মনের এই মাঝের স্তরে সমস্ত রকমের তথ্য অব্যবহৃত অবস্থায় জমা থাকে যা ঠিক আমাদের সচেতন মনের নীচেই অবস্থান করে এবং প্রয়োজনে মুহূর্তের চেষ্টায় আমরা সহজেই সচেতন মনে নিয়ে আসতে পারি। এইভাবে মানুষের মনের মাঝের স্তরে সমস্ত রকমের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান সঞ্চিত থাকে যেগুলি ব্যক্তি তার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে অর্জন করে থাকে।

অধিশান্তা হল্যে অনসের সম্পূর্ণ বিরোধী একটি সত্ত্বা। সামাজিক নীতি, আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। একে আমরা বিবেক (cm) মীমাংসা (judgement) বসে থাকি। এই সত্ত্বা সাধারণত শিশুর পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে গাড় ওঠে। অধিশান্তা মূলত অবচেতন জয়ের অধিবাসী, আশর সচেতন ওয়ে অবস্থান করে। মানুষের সর আলিম প্রস্তুতিকে চালনা করে না। প্রকৃতির নিয় থেকে এই সত্ত্বা আদর্শবানী সমাজ সংস্কৃতির দ্বারা পরিচালিত হয়। সুখ যোগ বা ধ্বংসাত্মক প্রফায়ার চেয়ে লক্ষ্যের প্রতি অবিচল বেশি।


অহম অংশত সচেতন ও অংশত অবচেতন মনের অধিবাসী, ফলত উভয় গুয়ের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষাকারী সত্ত্বা। অহম্ বাস্তবনীতি (Reality principle) মেনে চলে এবং বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলে। সমাজের ন্যায়-নীতি মেনে চলে। অহদ যুক্তিবাদী। কোনো অবস্থিত কামনা, বাসনাগুলি অহম পূরণ করতে পারে না। অদসের আদিম প্রবৃত্তি ও অর্থৌক্তিক গ্রহিদা, বাহ্যিক জগজের বাস্তবতা এবং অধিশাস্তার নীতি, আদর্শ ও নৈতিক চাহিদার মধ্যস্থতাকারী হিসাবে অয়মের উৎপত্তি। অয়ম এই তিন সন্তার মধ্যে সাম্য রক্ষা করে চলে, সমন্বয় সাধন করে সুসংগঠিত বাক্তিত্ব (integrated personality) গঠনে সাহায্য করে।


মানসিক সক্রিয়তা ও আচরণগত প্রক্রিয়া (Psychodynamics and behavioural procesa) কীভাবে বাক্তির মানসিক প্রক্রিয়া (psyche system) গড়ে ওঠে, একজন ব্যক্তির বাক্তিত্ব এবং আচার-আচরণ কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এইসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় ফ্রয়েডের বর্ণিত কিছু ধারণা ও মতবাদ থেকে।


জীবন প্রবৃত্তি ও মরণ প্রবৃত্তি (Life instinct and death instinct): ফ্রয়েড মানুষের আচার-আচরণকে চালিত করার ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মূলত মানুষের দুটি প্রবৃত্তির কথা বলেন, একটি হলো জীবন প্রবৃত্তি (life instinct or eros) এবং অন্যটি হলো মরণ প্রবৃত্তি (death instinct or thanatos), যেগুলি হলো সকল মানসিক শক্তির উৎস।


কোনো মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হলো অন্যের সেবায় নিজেকে যুক্ত করা, সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও রক্ষা করা অর্থাৎ এর মূল লক্ষ্য হলো বেঁচে থাকা। এবং উন্নত প্রজাতির জন্ম দেওয়া। এটা প্রকাশ পায় ব্যাক্তির যৌনতা (sex) এবং ভালোবাসার (love) মধ্য দিয়ে। ফ্রয়েড এই জীবন প্রবৃত্তির চালিকা শক্তির নাম দিয়েছেন লিবিডো (libido) যা যৌন তাড়না (sexual urge) এবং মানুষের যৌনতারই সমার্থক শব্দ। এই লিবিডো বা যৌন মানস শক্তি (psycho-sexual energy) সুখ ভোগের নীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের শারীরিক সুখ, আনন্দ তা সে যে কোনো অঙ্গ বা কাজের মধ্য দিয়ে আসুক না কেন ফ্রয়েডের মতানুসারে সবকিছুর মূলেই আছে এই যৌন-মানস শক্তি। এই যৌন তাড়না বা আবেগকেই ব্যক্তির সক্রিয়তার শক্তি (dynamic force) বলেছেন এবং যে কোনো বয়সে মানুষের সকল প্রকার আচরণ সম্পাদনের কেন্দ্রবিন্দু হলো এই শক্তি। ফ্রয়েড 'যৌন' শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, আসক্তি সবকিছুকেই যৌনশক্তির বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। পিতামাতা, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজন সকলের প্রতি ভালোবাসা, এমনকি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের প্রতি আসক্তি সবই যৌনতার প্রকাশ। আনন্দ উপভোগ, সুখ আহরণ এইসব আকাঙ্ক্ষাও যৌন-মানসশক্তি থেকেই জন্মায়। স্ত্রী-পুরুষের মিলনেচ্ছা এবং বংশবিস্তার সব কিছু যৌনশক্তিরই প্রয়াস।


যৌনতার ব্যাখ্যায় অনাদিকে যে মরণ প্রবৃত্তির কথা বলা হয়েছে, সেটা হলো পাংসাত্মক প্রকৃতির আক্রমণাত্মক, নিষ্ঠুর কাজকর্ম এবং আত্মহত্যার মতো কাজের মধ্য দিয়ে এই প্রবৃত্তির প্রকাশ পায়। ফ্রয়েড বলেছেন যে যখন কারও জীবন প্রবৃত্তি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না বা কারও আচরণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সক্ষম হয় না, তখনই মরণ প্রবৃত্তি সামনে এসে পড়ে। যা আমাদের আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণস্বরূপ যখন কোনো ব্যক্তির যৌন চাহিদা পরিপূর্ণ হয় না তখন সে তার ভারসাম্য হারাতে বাধ্য হয় এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং ব্যক্তিকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

ফ্রয়েডের মতে জীবন প্রাবৃত্তি ও মরণ প্রবৃত্তি দুটি বিপরীতধর্মী হালও তারা একসঙ্গে কাজ করে থাকে। ভালোবাসা ও দৃপ্ত বা পানমূলক ও কাসাত্মক প্রবৃত্তি একই ব্যক্তির মধ্যে অবস্থান করে। ফ্রয়েড এই ধরনের বিপরীত মনোভাবকে দ্বৈত মনোভাষ (ambiyalance) বলেছেন।


প্রায়- মানসিক স্বাস্থ্যের ধারণাটি স্পষ্ট করো। ছেলেমেয়েদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যহানি কেন ঘটে সে কারণ গুলি নির্দেশ করো।


উত্তরঃ মানসিক স্বাস্থ্যের ধারণা (Concept of Mental Healthy) মানসিক স্বাস্থ্য হল বাক্তির জীবনের সকল ক্ষেত্রে সোমাজিক, দৈহিক আধ্যাত্মিক, প্রগ্রাক্ষোতিক) আরসামাযুক্ত অবস্থা। অর্থাৎ মানসিক স্বাস্থ্য হল বাক্তির মানসিক দিক থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থা যার প্রেক্ষিতে ব্যাক্তি তার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আচরণ করতে পারে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ বাক্তি নিজেকে সমস্ত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং সমস্ত খয়নের সামাজিক সম্পর্কগুলোকে তৃপ্তিদায়কভাবে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।


বাক্তির মানসিক স্বাস্থ্যহকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন ব্যাক্তির মৌলিক চাহিদাগুলোর পরিপূরণ। অর্থাৎ, পরিবেশের মধ্যে ব্যক্তির চাহিদা তখন তৃপ্ত হয়, তখন ব্যক্তি তায় পরিবেশের সঙ্গে সংগতিবিধানে সামর্থ্য হয় এবং তার মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে।


মানসিক স্বাস্থ্যের সংভ (Definition of Mental Health):


মানসিক স্বাস্থ্যকে অলোভাবে বোঝানোর জন্য কিছু সংজ্ঞার উল্লেখ করা হল


WHO (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)-8, "মানসিক স্বাস্থ্য হল সুস্থতার একটি অবস্থা যেখানে ব্যক্তি উপলব্ধি করে


his or her own abilities, can cope with the normal streises of life, can work producthoty and an we fruitfully and is able to make a contribution to his or her community" অর্থাৎ, মানসিক স্বাস্থ্য হল বাক্তির এক ধরনের অবস্থা যার সাহায্যে ব্যক্তি তার নিজস্ব সক্ষমতাকে উপলব্ধি করতে পারে। জীবনের স্বাভাবিক চাপ (stress)-কে সামলায়ে পাত্রে, কার্যকরীভাবে কাজ করতে সক্ষম এবং সে তার সম্প্রদায়ের বা সমাজের জন্য অবদান রাখতে পারে।


ব্যামফিল্ড (Hadfield) বলেছেন "Mental health is the full and harmonious functioning of the whole personality" অর্থাৎ, মানসিক স্বাস্থ্য হল সমগ্র ব্যক্তিসত্তার সুষ্ঠু ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ভর্মপ্রক্রিয়া।


কাটস্ এবং মোসলে (Cutts & Moslay)-র মতে, "Mental health is the ability which helps us to seek adjustment in the difficult situation in our life" অর্থাৎ, মানসিক স্বাস্থ্য হল এক ধরনের সক্ষমতা যা আমাদেরকে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সংগতিবিধান করতে সাহায্য করে।


মানসিক স্বাস্থ্যহানি কেন ঘটে সে কারণ আমাদের প্রকৃতিগত ও অর্জিত সবরকমের মানসিক সম্মাননাসমূহের মুক্ত ও পুনঃপ্রকাশের ক্ষমতায় মানসিক সুস্বাস্থোর পরিচায়ক। এই মানসিক সুস্বাস্থ্য ছেলেমেয়েরা সব সময় ধরে রাখতে পারে। তাই যে কারণে এই স্বাস্থ্যহানি ঘটে সেগুলি হল-


১) শৈশব নির্যাতন ও অবহেলা।


২) সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা একাকীত্ব।


৩) বর্ণবাদ সহ বৈষম্য এবং কলঙ্কের সম্মুখীন হওয়া।


৪) সামজিক প্রতিবয়কতা, দারিদ্রা বা ঋণ।


৫) শোক (আপনার কাছের কাউকে হারনো)


৬) গুরুতর বা দীর্ঘমেয়াদী চাপ।


৭) দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি।


৮) বেকারত্ব বা আপনার চাকরি হারান।


৯) গৃহহীনতা বা দরিদ্র আবাসন।


১০) কারো জন্য দীর্ঘমেয়াদী যত্নশীল হওয়া।


১১) ড্রাগ এবং অ্যালকোহল অপব্যবহার।


১২) একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে গার্হস্থ্য সহিংসতা, তর্জনি বা অন্যান্য অপব্যবহার।


প্রশ্ন প্রতিভাবান শিশুদের বৈশিষ্টঃ গুলি কি কি। প্রতিভাবান শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অপরেখা প্রণয়ন করো।


উত্তর: Fleigher and Bish (1959) প্রতিভাবান শব্দটি দ্বারা সেইসব শিশুদেরকে বুঝিয়েছেন যাদের যৌদ্ধিক আগ্রাম এবং তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং তারা বিদ্যালয়ের মোট শিশুদের 15 থেকে 20 শতাংশের মধ্যে পড়ে। তাদের যে মেধা সেটা বিশেষ করে গণিয়, বিজ্ঞান, যন্ত্রবিদ্যা, শিল্পকলা, সৃজনীমূলক নেতৃত্বদান এবং তার পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক সৃজনীমূলক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায়।


বৈশিষ্ট্য গুলি: প্রতিভাবান শিশুদের প্রকৃতি এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কতকগুলি ধারণা পাই


(1) প্রতিভাবান শিশুরা অবশ্যই ব্যতিক্রমী শিশু।


(2) তার নিজের দলের অন্যান্যদের থেকে যে উন্নততর।


(3) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতিভাবান শিশুরা বিশেষ ক্ষেত্রে উন্নততর পারদর্শিতা দেখায়।


(4) প্রতিভাবান শিশুরা শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই বুদ্ধিমান ভাই নয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের বুদ্ধিময়া প্রকাশ পায় যেমন-


(a) গান, নাচ, নাটক, গ্রাঁকা, লেখা অথবা অন্যান্য সৃষ্টিশীল কাজ প্রভৃতি।


(b) যান্ত্রিক কাজকর্মে দক্ষতার প্রকাশ পায়।


(c) সামাজিক নেতৃত্ব এবং মানুষের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নেয়।


(d) সৃষ্টিশীল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় পারদর্শিতা দেখায়।


(৫) শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন খেলাধুলা, জিমন্যাস্টিক প্রভৃতিতে পারদর্শিতা দেখায়।


(5) প্রতিভাবান শিশুদেরকে খুব বেশি মাত্রায় বুদ্ধিমান হতে হবে এমন নয়।


(৩) প্রতিভাবান শিশুরা যদি সঠিক যত্ন এবং সুযোগ পায় তাহলে সমাজের, দেশের এবং মানব কল্যাণের জন্য অনেক অবদান রেখে যেতে পারে।


প্রতিভাবান শিশুদের শিক্ষা (Education of the Gifted Chil dren): বর্তমানে সংকটকালের যুগে গোটা পৃথিবীতে ছাত্ররা বিদ্রোহ যোষণা করছে। তারা মনে করছে যে, জীবন উদ্দেশ্যহীন। এটা সতর্ক হওয়ার মতো বিষয় যে এই সমস্ত বিদ্রোহকারী যুবকদের যারা নেতৃত্ব দেয় প্রায়শ তারা মেধাবী ছাত্র।


নিশ্চিতভাবে এই সমস্ত প্রতিভাবান শিশুদের বিশেষভাবে শিক্ষা দেবার জন্য বিশেষ চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন চিন্তাবিদেরা নিম্নলিখিত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন-


1) পৃথক স্কুলের ব্যবস্থা (Separate schools) করা।


চন্ডিদাস কোচিং সেন্টার


2) কর্মক্ষমদের নিয়ে আলাদা দল (Ability grouping) বা শ্রেণি তৈরি করা।


ইমান বাতাবয়াল


১) দ্বিগুণ উত্তরণ (Double promotion)


মব.-৬২৯৬১৫৮২৩৭


২) উৎকর্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম (Enrichment programmes)


বাঁকুড়া, পশ্চিম বঙ্গ, ৭২২১৩৯


পৃথক স্কুলের ব্যবস্থা পৃথক স্কুল হলো প্রতিভাবান শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা স্কুলের ব্যবস্থা করা যেখানে পর্যাপ্ত মাত্রায় সুযোগ সুবিধা থাকবে যাতে তাদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষতা এবং কর্মশক্তি বৃদ্ধি পায়। যদিও এই ধরনের স্বাতন্ত্রীকরণ সবসময়ই সমালোচিত হয় এবং অগণতান্ত্রিক ব্যাপার হিসাবে গণ্য করা হয়। যে সমস্ত সরকারি স্কুলে এই ধরনের সুবিধা আছে অর্থাৎ বিশেষ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা আছে, তার মধ্যেও আমাদের ভয় ও সন্দেহ থেকেই যায়। এইসব স্কুলে পড়াশোনা করা ছেলেমেয়েদের সাথে সাধারণ স্কুলের ছেলেমেয়েদের একটা বিরাট পার্থক্য সৃষ্টি করে


পৃথক শ্রেণিকরণ: প্রতিভাবান শিশুদের একই স্কুলে আলাদা বিভাগ তৈরি করে তাদেরকে পৃথকীকরণ করা হয়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় কর্মক্ষম গোষ্ঠী (ability grouping)। বিভিন্ন বিভাগে দক্ষতা অনুযায়ী গ্রেড দেওয়া হয় যার পরিধি খুব ছোট। ভারতবর্ষের মতো দেশে এই ধরনের পৃথকীকরণের জন্য যে বিরাট অর্থের প্রয়োজন হয় তা করা সম্ভব হয় না আবার ফলও খুব একটা ভাল হয় না। প্রতিভাবান শিশুরা শুধুমাত্র তাদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই প্রতিভার প্রকাশ করতে পারে। এবং এই ধরনের ছাত্র শ্রেণির মোট ছাত্রসংখ্যার এক শতাংশ বা তারও কম হয়। সুতরাং এই সামান্য কয়েকটা ছাত্রকে নিয়ে আলাদা বিভাগ তৈরি করার ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়। আরো ভালো ভাবে বলতে গেলে ছাত্রদের IQ-এর ভিত্তিতে পৃথকীকরণ তাদের সমগোত্রীয়তা বজায় (homogeneity maintain) রাখতে কোনো নিশ্চয়তা প্রদান করে না।


দ্বিগুণ উত্তরণ: অন্য আর একটি চিন্তাভাবনা এইসব শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায় সেটা হলো উৎকর্ষসাধন বা দ্বিগুণ উত্তরণ। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রমশ অধিকতর দ্রুতগামী শিশুদেরকে একই শিক্ষাবর্ষের কোর্স সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই উচ্চ গ্রেড'-এ উন্নীত করা হয়। এই বাংপারটির মধ্যে যেটা সমস্যা দেখা যায় সেটা হলো শিশুর মধ্যে শিক্ষাগত দক্ষতা এবং অভিজ্ঞয়ার মাকে বিরাট ফাঁক থেকে যায়। যে সমস্ত শিশুকে শিক্ষাবর্ষ শেষের আগেই অন্য শ্রেণিতে উত্তরণ করা হচ্ছে তারা উঁচু শ্রেণির, বয়সেও বড় এবং তাদের মধ্যে সংগতিবিধানের সমস্যা দেখা দেয়। যদিও বৌদ্ধিক নিক থেকে তারা তাদের সমান কিন্তু প্রক্ষোভিক দিক থেকে তারা পিছিয়ে পড়ে।


উৎকর্ষসাধক কার্যক্রম। অন্য আর একটি প্রস্তাব হলো সাধারণভাবে শিক্ষার অভিজ্ঞতা এবং ক্রিয়াকর্মকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে শিশুর পর্যাপ্ত উন্নয়নের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করা। এইভাবে শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন করা সমস্ত ছাত্রদের পক্ষেই আবশ্যিক। কিন্তু প্রতিভাবান শিশুদের ক্ষেত্রে এর আশু প্রয়োজনীয়তা আছে যাতে তারা উন্নত স্তরে (advanced stage) বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে পারে। এইভাবে উৎকর্ষসাধক কার্যক্রমগুলির লক্ষ্য হলো প্রতিড্রাবাস শিশুদের অতিরিক্ত শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। উদাহরণ স্বরূপ-

২) পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত বা বহিঃস্থ বিশেষ নির্ধারিত কার্যক্রম।


৬) স্বনির্ভর প্রকল্পের উপর ভাজ করা।


c) প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে (Patiel discussion) যোগদান করা এবং রিপোর্ট তৈরি করা।


১) স্বাধীনভাবে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করা।


৫) প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের জন্য ভ্রমণের ব্যবস্থা করা।


'Model' তৈরি করা।


g) কোনো সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীতে আশগ্রহণ করা।


৮) স্বাধীনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দেওয়া।


প্রশ্ন মানসিক সুস্বাস্থ্যের সাধারণ লক্ষণ গুলি লেখ।


উত্তরঃ আমাদের প্রভৃতিপাত ও অগ্নিতি সবরকমের মানসিক সম্ভাবনাসমূহের মুক্ত ও পূর্ণ প্রকাশের ক্ষমতাই মানসিক সুস্বাস্থ্যের পরিচায়ক। বাড়ির মানসিক সুস্বাস্থ্যের পরিচয় আমরা কিছু বৈশিষ্টের মাধ্যমে পেতে পারি। যেমন


জীবনকে উপভোগ করার সক্ষমতা। একজন মানসিক সুস্বাস্থ্যসম্পন্ন ব্যাক্তির প্রধান বৈশিষ্টাই হল জীবনকে উপভোগ করার সক্ষমতা। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি অবশ্যই ভবিষ্যতের কথা ভেবে চিন্তিত না হয়ে বর্তমানকে উপভোগ করতে সক্ষম হবে।


স্থিতিস্থাপকতা প্রতিকূলতা থেকে সহজেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসাতে স্থিতিস্থাপকতা (Resilience) বলা হয়। এটা সত্য যে, মানুষকে কখনো কখনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কিন্তু ভালো মানসিক স্বাস্থ্যসম্পন্ন ব্যাক্তি দ্রুত প্রতিকূলতা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।


সামঞ্জস্যতা: প্রতিটি মানুষকে সমাজে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করতে হয়। যেমন শ্রেণিকক্ষে যে শিক্ষার্থী, সে আবার বাড়িতে কারো ছেলে রা মেয়ে, ভাই বা বোন, দাদা বা নিনি। একইভাবে একজন শিক্ষক/শিক্ষিকা বাড়িতে কারো বাবা বা মা, কাকা বা কাকিমা ইত্যাদি। মানসিক স্বাস্থ্যসম্পন্ন ব্যক্তি তার সমস্ত ভূমিকার মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে পারে অর্থাৎ সব ভূমিকাই ঠিকভাবে পালন করতে পারে। একেই বলে সামঞ্জস্যতা ক Balance


দমনীয়তা। মানসিক সুস্বাস্থ্যসম্পন্ন ব্যক্তির ব্যাক্তিত্বে নমনীয়তা (Flexibility) থাকে। তারা আনার মতামতকে যেমন গ্রহণ করতে পারে, তেমনি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতেও অবিচল থাকতে পারে। এরা যথাযথভাবে প্রক্ষোভের ব্যবহার করতে সক্ষম হয়।


আত্মসন্তুষ্টি: মানসিক স্বাস্থ্যসম্পন্ন ব্যক্তির চাহিলার নিয়ন্ত্রণ থাকে বলে তার আত্মসন্তুটি (Self-actualization)-র উপলব্ধি অর্জিত হয়। সে নিজের দুর্বলতা ও সবলতা বুঝতে সক্ষম হয়।


এই বৈশিষ্টগুলি দেখে আমরা কোনো ব্যক্তির মানসিক সুস্থতার পরিচয় পেতে পারি। তবে, বর্তমান সমাজ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ (stress), হতাশা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদির কারণে মানুষের মানসিক স্থিতাবস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। যার ফলে, আমরা প্রায়শই আত্মহত্যা, খুন বা অসামাজিক কাজে মানুষকে লিপ্ত হতে দেখি। এই পরিস্থিতিকে কাটিয়ে ওঠার জন্য দরকার ছোটোবেলা থেকেই শিশুশিক্ষার্থীকে যথাযথভাবে লালনপালন করা, যাতে সে বড়ো হয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসম্পন্ন সুস্থ মানুষ হতে পারে। শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে বিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।


প্রশ্ন- মানসিক প্রতিবন্ধকতা অর্থ লেখ। মানসিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করো।


উত্তরঃ- mental retardation বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বা মানসিক প্রতিবন্ধী সংজ্ঞা (Definit) কোনো ব্যক্তি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বা স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন বলতে আমরা কী বুঝি? বৃদ্ধিপ্রতিবন্ধী হল, জীবনের শুরু থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক দৌর্বল্য, বাড়ন্ত বয়সে বুদ্ধি বিকাশের ধীরগতি, শিক্ষা গ্রহণে অক্ষমতা এবং সামাজিক ও আচরণগত সামঞ্জস্যতা সাধনের অভাব।


আমেরিকান এসোসিয়েশন অন মেন্টাল ডেফিসিয়েন্সি American Association on Mental Deficiency (AAMD), ১৯৫৯ সালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার বিষয়ক পরিভাষা ও শ্রেণীকরণ সম্বলিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। এতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার একটি সংজ্ঞাও দেয়া হয়। ঐ সংজ্ঞাটি ১৯৬১ সালে সংশোধন করে নিম্নলিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়


"বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা বলতে সাধারণত গড় মানের চেয়ে কম বুদ্ধি নির্দেশ করে যা বাড়ন্ত বয়সে সূচিত হয় এবং এই অবস্থানটি আচরণের অক্ষমতার সাথে সম্পর্ক যুক্ত (Herber, 1961-p-3)।" এর প্রায় বারো বছর পরে AAMD প্রদত্ত পুনঃ শোধিত সংজ্ঞাটি এরকম

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা বলতে সাধারণত গড় বৃদ্ধির চেয়ে সুষ্পষ্টভাবে কম বৃদ্ধি অভিযোজনমূলক আচরণের স্বপ্নতার সাথে সংযুক্ত থাকে এবা অবস্থাটি বিকাশমূলক পর্যায়ে বা বাড়ন্ত বয়সে প্রকাশ পায় (Gronaman, 1983-p-5)"। পারলিক আম ১০১-৪৭০, The individuals with Disabilities Education Act (IDEA) 1990-সনে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার সংজ্ঞা দেয় Mental retardation means significantly sub average general intellectual functioning existing concurrently with deficits in adaptive behaviour and manifested during the developmental period that adversely affects a childs educational Performance


সংজ্ঞানুসারে প্রতিবন্ধিতার অর্থ- সাধারণ জ্ঞানীয়/বৌদ্ধিক কার্যাবলী তাৎপর্যপূর্ণভাবে গড় মানের চেয়ে (নিচে অবস্থা) কম বা উপযোজনশীল আচরণের স্বল্পতার সাথে সংযুক্ত থাকে এবং বিক লক পর্যায়ে হয় যা কি না শিশুর শিক্ষাকার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।


মানসিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের জন্য নির্দিষ্ট বিদ্যালয় কিংবা সাধারণ সমন্বিত বিদ্যালয় যেখানেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হোক না কেন, এদের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষকদের নিম্নলিখিত পাঠ্যক্রমিক পরিবর্তনগুলো মেনে চলতে হবে।


১. শ্রেণীকক্ষে শুধু মৌখিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করলে তা শিশুর পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। বরঞ্চ শিক্ষণীয় বিষয়বস্তুকে যতো বেশি সম্ভব বাস্তব উদাহরণ ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দিতে হবে। যেমন শিক্ষক যখন পড়াবেন,


অজগর আসছে তেড়ে,


'আ' আমটি আমি খাব পেড়ে।


তখন বাস্তবে অভিনয় করে তাকে দেখাতে হবে অজগর সাপ (এখানে যে কোনো সাপ) কীভাবে তেড়ে আসে এবং গাছ থেকে কীভাবে আম পেড়ে খাওয়া হয়। এর জন্য কৃত্রিম সাপ এবং কৃত্রিমভাবে গাছে স্কুলে-থাকা আম ইত্যাদি শিক্ষোপকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।


২. শিশু যে সকল শব্দের সঙ্গে পরিচিত কেবল সেই শব্দগুলোকে শিক্ষাদানকালে শিক্ষক ব্যবহার করবেন। হঠাৎ করে নতুন শব্দের ব্যবহারে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের পক্ষে শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু বোধগম্যতার বাইরে থেকে যাবে। শিক্ষক নতুন শব্দ ব্যবহার করতে চাইলে পূর্বেই বাস্তব উদাহরণের সহায়তায় এবং বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ক্রমাগত অনুশীলনের মাধ্যমে শিশুকে ঐ নতুন শব্দটির অর্থ ও তার ব্যবহার সম্বন্ধে ধারণা দেবেন।


৩. শিক্ষাদানকালে যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষণ সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। উপকরণগুলো উজ্জ্বল রঙের এবং অল্পদামের হওয়াই বাঞ্ছনীয়।


৪. শিক্ষক কর্ম বিশ্লেষণ (Task analysis) পদ্ধতিতে প্রতিটি শিক্ষণীয় বিষয়কে ছোটো ছোটো পরিমাপযোগ্যা এককে ভাগ করে শিক্ষার্থীর সামনে পর্যায়ক্রমে উপস্থিত করবেন। কী ধরনের বিষয়বস্তু শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে শিক্ষক সামনের সারি থেকে পেছনের সারির একক বা বিপরীতক্রমে শিক্ষার্থীকে বিষয়বস্তু শেখাতে পারেন।


৫. শিক্ষাদানকালে শিক্ষক শিশুর পরিবেশে পরিচিত অভিজ্ঞতা দিয়েই শিক্ষাদান শুরু করবেন। একটি শিক্ষনীয় দক্ষতা শিশু অর্জন করার পরও বারবার উক্ত দক্ষতাটিকে শিশুকে দিয়ে অনুশীলন করাতে হবে।


৬. বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখবার ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। তাই এদেরকে একটানা বেশি সময় ধরে কোনো বিষয়ে শিক্ষাদান করলে তা কার্যকর হয় না।


৭. অন্যান্য সাধারণ শিশুদের ন্যায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের খেলার মাধ্যমে শিক্ষাদান করলে তা বেশি কার্যকর হয়। কোনো কিছু লিখতে দিলে ছবি অআঁকা, রঙ করা ইত্যাদির মাধ্যমে বিষয়ের জ্ঞানকে প্রকাশ করার সুযোগ বেশি করে তৈরি করে দিতে হবে। হাত ও চোখের ক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য কাঁচি দিয়ে কাগজ কাটা, আঠা দিয়ে কাগজ জুড়ে দেয়া, কাগজের ফুল বা খেলনা বানানো ইত্যাদি দক্ষতা শিশুকে শেখানো যেতে পারে।


৮. শিশু যাতে পর্যায়ক্রমে এবং সুসংবদ্ধভাবে বিভিন্ন কাজ করতে পারে তার জন্য শিশুকে দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষণীয় দক্ষতাগুলোকে যতোটা সম্ভব সহজ ও সরলভাবে শিশুর সামনে উপস্থিত করতে হবে। শিশু যাতে একক বা দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় কাজ করতে পারে এবং শিক্ষকের সঙ্গে ও নিজেদের মধ্যে মৌখিক ভাষার মাধ্যমে যোগাযোগ গড়ে তুলতে ও মনোভাব প্রকাশ করতে পারে তার জান্য সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।


৯. শিশু যাতে সাধারণভাবে জীবন-যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলোকে অর্জন করতে এবং বিভিন্ন কর্ম পরিবেশে সেগুলোকে ব্যবহার করতে পারে তার জন্য শিশুকে সহায়তা করতে হবে। এ ছাড়াও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়মিত পরামর্শদান ও বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ দেয়া অত্যন্ত জরুরি।

১০. সাধারণ বিদ্যালয়ে সমন্বিত শিক্ষায় মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুতে শিক্ষকের নিকটে এবং সামনের সারিতে বসাতে হবে। শিশুর প্রতিটি সঠিক উত্তর বা প্রদর্শিত কর্মদক্ষতাকে তাৎক্ষণিক পুরস্কৃত করতে হবে।


১১. প্রতিবন্ধী শিশুর পিতা-মাতার সঙ্গে শিক্ষককে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং পিতামাতাকে শিশুর বিকাশ, পরিচর্যা, শিক্ষা ও পুনর্বাসন সম্বন্ধে নিয়মিত পরামর্শদান করতে হবে।


বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানে যুক্ত প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষিকাকে হতে হবে বুদ্ধিদীপ্ত, সৃজনশীল, ধৈর্য্যশীল, অধ্যবসায়ী এক নিরলস গবেষক। তার গবেষণার ক্ষেত্র শিল্পমনস্তত্ত্ব, গবেষণার বিষয় মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু এবং গবেষণাগার হল শিশুর চারিদিকের সমাজ এবং বিদ্যালয়। যে-সকল নাক্তি নিরন্তর গবেষণাতে আগ্রহী নন, তারা অপারগ। কারণ কোনো সুজন বৃদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর প্রতিবন্ধকতার কারণ, প্রকৃতি, প্রতিবক্তিতাজনিত সমস্যা বা সামাজিক পারিবারিক প্রেক্ষাপট এক নয়। সুতরাং একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর ক্ষেত্রে যে নিয়ম নীতি সুফল দেয় তা অন্যের ক্ষেত্রে একেবারেই নাও প্রযোজ্য হতে পরে।


প্রশ্ন- মনোযোগের বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ণায়ক গুলি কিকি। মনোযোগের আধুনিক মতবাদ গুলি লেখ।


মনোযোগের নির্ধারক (Determinants of Attention) মনোযোগ একটি নির্বাচনধর্মী প্রক্রিয়া। যে শর্তগুলি মনোযোগের বস্তু নির্বাচনে সহায়তা করে সেইগুলিকেই সাধারণভাবে মনোযোগের নির্ধারক বলা হয়ে থাকে। সাধারণত মনোযোগের দু প্রকার নির্ধারক দেখা যায়


(১) বস্তুগত নির্ধারক (Material or Objective Determinants)


(2) বাক্তিগত নির্ধারক (Personal or Subjective Determinants)


কস্তু বা উদ্দীপকের কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্য যখন আমরা মনোযোগী হই (1) বস্তুগত নির্ধারক (Material or Objective Determinarits) তখন সেগুলিকে বলা হয় বস্তুগত নির্ধারক। এই বস্তুগত নির্ধারকগুলি নিম্নরূপ-


(1) তীব্রতা (Intensity)। সবচেয়ে তীব্র উদ্দীপক আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। যেমন তীব্র আলো, গাঢ় রং, প্রচণ্ড শব্দ ইত্যাদি। অর্থাৎ বস্তু তার হিসাব উদ্দীপনার তীব্রতার দরুন মনোযোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


(ii) বিস্তৃতি (Extensity) উদ্দীপকের বিস্তৃতির জন্যও আমরা কোনো বস্তুর প্রতি মনোযোগী হই। যেমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ যা অস্বাভাবিক ক্ষুদ্র বস্তুর প্রতি আমরা মনোযোগী হই।


(i) পুনরাবৃতি (Repitition) কম তীব্র উদ্দীপকও বার বার পুনরাবৃত্তির ফলে ক্ষীণ কান্নার আওয়াজও বার বার মনোযোগের কারণ হতে


পারে। যেমনপুনরাবৃত্তির জন্য মনোযোগী হতে বাধ্য করে।


(iv) অভিনবত্ব (Novelty): অভিনবত্ব বস্তুর একটি নিজস্ব ধর্ম। তাই অভিনব কোনো বিষয় আমাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করে। যেমন-অভিনব পোশাক পরিহিত কোনো ব্যক্তির প্রতি আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই মনোযোগ দিয়ে থাকি।


(v) গতিশীলতা (Movement) স্থির বস্তুর চেয়ে গতিশীল বস্তু আমাদের দৃষ্টি বেশি আকর্ষণ করে। হাঁটতে হটিতে কোনো বালক যদি হঠাৎ দৌড়োতে শুরু করে তাহলে তার প্রতি আমরা বিশেষভাবে আকৃষ্ট হই।


(vi) পরিবর্তন (Change) উদ্দীপকের মধ্যে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। শান্ত পরিবেশে কেউ উচ্চস্বরে কথা বলে উঠলে আমরা তার প্রতি মনোযোগী হই।


(vii) স্থায়িত্ব (Duration)


উদ্দীপকের স্থায়িত্বের উপরও আমাদের মনোযোগ নির্ভর করে। যেমন কোনো গান যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে তাহলে তার প্রতি আমরা মনোযোগী হই।


(vii) অবস্থিতি (Position): কোনো বস্তুর বিশেষ অবস্থানও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। খবরের কাগজের ভিতরের পাতাগুলি থেকে আমরা


প্রথম পাতার উপরই বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকি।


(ix) বিচ্ছিন্নতা (Isolation) একটি বস্তুকে যদি অন্যান্য বস্তু থেকে পৃথক করে রাখা হয় তাহলে সেটির প্রতি আমাদের নজর পড়ে। অর্থাৎ কোনো বিচ্ছিন্ন বস্তু আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

মনোযোগের আধুনিক মতবাদ।


মনোযোগ কথার অর্থ হল মনকে একান্তারাবে যুক্ত করা। সাধারণতঃ মনোনিবেশ কথাটির সমার্থক হিসেবে ব্যবহার কয়ে থাকি। অর্থাৎ, মনোযোগ বলতে, কোন বস্তু সম্পর্কে একান্তাবে সচেতন হওয়াকে যুক্তি। কিন্তু শুধুমাত্র সচেতনাত মনোযোগ নয়। আধুনিক মনোবিদগণ প্রত্যেকেই মনোযোগের ক্রিয়াশীলতার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তবে তাঁরা তার সচেতনতার দিকতে উপেক্ষা করেননি। মনোবিদ ম্যাণ্ডুপাল (McDougall)। বলেন, 'যে মানসিক সক্রিয়য়া আমাদের প্রত্যাক্ষণের উপর প্রভাব বিস্তার করে, তাই হল মনোযোগ। মনোবিদ সীগউট (Stout) একই ভাবে মনোযোগের সংজ্ঞা দিয়েছেন, মানুষের জ্ঞানমূলক প্রক্রিয়ার পেছনে যে মানসিক সক্রিয়ায়া কাজ করে, তাই মনোযোগ (Attention is conation determining cognition)। এই মানসিক সক্রিয়তা (Conation) যত বেশী হবে মনোযোগও তত তীব্র হবে। এই ধরনের বন্ধু সংজ্ঞা মন্যেবিদগণ নিয়েছেন। কিন্তু এই সংজ্ঞা থেকে তার প্রকৃত রূপ সম্পর্কে আমাদের ধারণা হয় না। তা ছাড়া, লক্ষ্য করা গেছে, কোন সংজ্ঞার মধ্যেই মনোযোগ প্রক্রিয়ার সব বৈশিষ্টাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সুতরাং, এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হলে তার বৈশিষ্ট্যগুলি বিশ্লেষণ করা দরকার।


মনযোগের বৈশিষ্ট্য। Characteristics of Attention):-এক। আধুনিক মনোবিদগণ এ বিষয়ে একমত যে, মনোযোগ (Attention) মনের একটি কেন্দ্রানুর প্রক্রিয়া (Central process) অর্থাৎ, এই প্রক্রিয়ার ফলে উদ্দিষ্ট বস্তু আমাদের চেতনার কেন্দ্রস্থলে অবচেতন মন চেতনার ক্ষেত্র চেতনার কেন্দ্র


উপস্থাপিত হয়। এই সংখ্যাখ্যান অনুযায়ী মনের বিভিন্ন স্তরকে দুটি এককেন্দ্রীয় বৃত্তের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যার বাইরের বড় অংশটি হল অবচেতন মন (Unconscious mind) আর কেন্দ্রটি হল চেতন মনের কেন্দ্রস্থল (Core of consciousness)। ভেতরের ছোট বৃত্তটি হল চেতনার বিস্তৃতি। অর্থাৎ, ঐ ক্ষেত্রের অন্তর্গত যে কোন বস্তু সম্বন্ধে আমরা সচেতন। কিন্তু ঐ চেতনায় উপস্থিত বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে কোন বিশেষ মুহূর্তে কোন একটি সম্পর্কে অমেরা বিশেষভাবে সচেতন। এঐ বস্তু তখন চেতনার কেন্দ্রস্থলে। এই অবস্থায় আমরা বলি, ঐ বস্তুর প্রতি আমরা মনোযোগী। সুতরাং, মনোযোগের একটি বৈশিষ্ট্য হল যে, এই প্রক্রিয়ার ফলে কোন বিশেষ প্রত্যক্ষণের বস্তু আমাদের চেতনার কেন্দ্রস্থলে উপস্থাপিত হয়। ফলে, এই বস্তু সম্পর্কে আমরা বিশেষভাবে সচেতন হই। মনোবিদ টিয়েনার (Tichner)। মনোযোগের এই বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তাঁর সংজ্ঞা নিরূপণ করেছেন। তিনি বলেছেন, চেতনার যে স্তরে আমরা বস্তু সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করি, তাই মনোযোগ। মানুষের জ্ঞানমূলক প্রচেষ্টায় সহায়তা করাই হল মনোযোগের কাজ। বস্তু সম্পর্কে সচেতনতার তারতম্য ভেদে, টিয়েনার তাই মনোযোগকে দু'ভাবে ভাগ করেছেন। কেন্দ্রীয় মনোযোগ (Focal attention) এবং প্রান্তীয় মনোযোগ (Peripherial or Marginal attention)। তবে এ ধরনের শ্রেণীবিভাগ আধুনিক মনোবিদগণ পরিত্যাগ করেছেন।


দুই। মনোযোগের প্রথম বৈশিষ্ট্য থেকে লক্ষ্য করা গেল, চেতনার ক্ষেত্রের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে একটিকে বেছে নিয়ে আমরা কেন্দ্রস্থলে উপস্থাপিত করি। অর্থাৎ, চেতন মনে অবস্থিত বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে কোন বিশেষ মুহূর্তে আমরা বিশেষ একটি অংশের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছি। সুতরাং, মনোযোগ প্রক্রিয়ায় বস্তুর নির্বাচন (Selection) একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বিপরীত ক্রমে, মনোযোগের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল তার নির্বাচনী ক্ষমতা (Selective capacity)। এখন, এই বস্তু নির্বাচন দু'ভাবে হতে পারে। বিভিন্ন বস্তু তার নিজস্ব বৈশিষ্টোর জন্য তাকে নির্বাচনে, আমাদের বাধ্য করে এবং চেতনার কেন্দ্রে স্থান করে নেয়, অথবা, আমরা কোন আন্তরিক চাহিদার দরুন অনেক সময় বস্তু নির্বাচন করে থাকি। এই বৈশিষ্টোর দিক থেকে অনেকে মনোযোগকে দুই শ্রেণীতে ভাগ করেছেন ঐচ্ছিক মনোযোগ (Voluntary attention) এবং অনৈচ্ছিক মনোযোগ (Non Voluntary attention)। এ প্রসঙ্গে আমরা পরে আলোচনা করব। তবে ড্রিভার (Drever), স্টাউট (Stout) প্রভৃতি মনোবিদ বলেছেন, মনোযোগের মধ্যে পরিত্যাগ (Rejection) এবং নির্বাচন (Selection) দুই প্রক্রিয়াই বর্তমান। কিন্তু, পরিত্যাগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমরা সচেতন নই। অন্য দিকে তাই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আমরা অবশান্তাবী হিসেবে বিবেচনা করি। মনোবিদ ফ্লেচার (Fletcher) তাই মনোযোগের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তার এই দিকটির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।


।। তিন ।। মনোযোগের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর মধ্যে প্রকৃতপক্ষে দুই ধরনের মানসিক প্রক্রিয়া কাজ করে। মনোযোগের মাধ্যমে আমাদের জ্ঞানমূলক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। আমরা যখন কোন বস্তুর প্রতি মনোযোগ দিই, তখন তার সমস্ত রকম দোষ-গুণ-আমাদের সামনে ফুটে ওঠে। অর্থাৎ, আমরা বস্তুকে বিশ্লেষণ করে দেখি। কিন্তু বিশ্লেষণাত্মক (Analytical) সংবেদনের মাধ্যমে বস্তুমুখী জান আমাদের হয় না। বস্তুধর্মী জ্ঞান একক এবং সামগ্রিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই আসে। তাই মনোযোগেই বস্তু যখন চেতনার কেন্দ্রস্থলে থাকে, তখনই আমরা তার সম্পর্কে বিশ্লেষণাত্মক অভিজ্ঞতাকে সংশ্লেষণ (Synthesis) বতি এই সংশ্লেষণের মাধ্যমেই সামগ্রিক একক বস্তুধর্মী অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে থাকি এই কারণে আধুনিক মনোবিদগণ মান করেন, মনোযোগের মাধ্য বিশ্লেষণাযয়াজ (Analytical) এবং সংশ্লেষণাত্মক (Synthetic) প্রতিন্য, উভয়ই কাজ করে। আমরা কোন বিশেষ ব্যাক্তির প্রতি মনোযোগ দিলে তার দৈহিক বিভিন্ন অংশগুল্যে আমাদের চোখে পড়ে, কিন্তু একই সঙ্গে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আমাদের একটি সামগ্রিক ধারণা জন্মে।


এ চার। মনোযোগ কোন বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে খুব বেশী সময় স্থির থাকতে পারে না, সব সময় এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয়। মনোযোগের এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় পরিবর্তনশীলতা (shift of attention)। কোন বিশেষ বস্তুর প্রতি মনোযোগ দিতে গেলে লক্ষ্য করা গেছে কিছু সময় অন্তর তার পার্শ্ববর্তী অন্য বস্তুর প্রতি আমাদের মনোযোগ চলে যায়। অর্থাৎ, আমাদের পরিপূর্ণ মানসিক ইচ্ছা (will) সত্ত্বেও আমরা কোন বস্তুকে ইচ্ছামত সময় চেতনার কেন্দ্রস্থলে ধরে রাখতে পারি না। স্বাভাবিক নিয়মেই মনোযোগ অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয়। নীচে প্রদত্ত ছবিতে কিছুক্ষণ সৃষ্টি নিবন্ধ করলে এটি পরিষ্কার বোয়া যাবে। আমরা যদি লম্বালম্বি নাগ টানা অংশটির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি কিছুক্ষণ পরে লক্ষ্য করা যাবে আমাদের মনোযোগ অন্য আশটির প্রতি চলে যাবে। মনোযোগের এই প্রকৃতিকে পরিবর্তনশীলতা (shifting of attention) বল্য হয়ে থাকে। পরীক্ষার দ্বারা দেখা গেছে গড়ে প্রায় দু' সেকেন্ড অন্তর এই পরিবর্তন হয়ে থাকে। তবে এর তাৎপর্য এই নয় যে, সাধারণ জীবনে আমরা কোন বস্তুর প্রতি দুই সেকেন্ডের বেশী মনোযোগ দিতে পারি না। এই পরিবর্তনশীলতা অন্যান্য বস্তুগত ও ব্যক্তিগত অবস্থার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তা ছাড়া, বিশুদ্ধ মানসিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ্য করছি, দৈনন্দিন জীবনে সে সম্পর্কে আমরা সচেতন থাকি না কেবলমাত্র সম্পূর্ণভাবে বিষয়ান্তর হলে এই পরিবর্তনকে আমরা বুঝতে পারি।


প্রশ্ন প্রেষণা প্রসঙ্গে আত্মপ্রতিষ্ঠা তত্ত্বটি আলোচনা করো।


উত্তরঃ- ম্যাসলোর প্রেষণার তত্ত্ব (Maslow's Theory of Motivation) মনোবিদ ম্যাসলো বলেছেন মানুষ তার চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে একটি নির্দিষ্ট ক্রমে। চাহিদা একটি নির্দিষ্ট ক্রমিক স্তরে সজ্জিত থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি জ্বরের চাহিদা পূরণ না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই বাক্তি সেই স্তরের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে। পূরণ হলে পরবর্তী উচ্চস্তরের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে।


এবার আমরা ম্যাসলো যে চাহিদাগুলি উল্লেখ করেছেন সেগুলি আলোচনা করব।


ম্যাসলোর তত্ত্বে উল্লেখিত চাহিদাগুলিকে দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়-


অভাবজনিত চাহিদা (Deficiency need) এই চাহিদাগুলি পূরণ না হলে মানুষের শারীরবৃত্তীয় যা জৈবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এই চাহিদা তৈরি হলে মানুষ সেই চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে এবং চাহিদা পূরণ হলে আর কাজটি করতে প্রেষণা যোষ করে না। অর্থাৎ, এই ধরনের চাহিদা সীমিত। ম্যাসলোর তত্ত্বের প্রথম চারটি চাহিদা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত শারীরবৃত্তীয় চাহিদা, নিরাপত্তার চাহিদা, অন্তর্ভুক্তির চাহিদা ও আন্তশ্রদ্ধার


বৃদ্ধিজনিত চাহিদা (Growth of meta need): এই চাহিদাগুলির ব্যক্তি অপরিসীম অর্থাৎ, এই চাহিদাগুলি একবার পূরণ হলেও কাজটি করার প্রেষণা থেমে যায় না, বরং এটি আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেমন-জানার চাহিদা (need to understand)। এই চাহিদার কোনো সীমা নেই এবং এটি ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ম্যাসলোর তত্ত্বের শেষ তিনটি চাহিদা এই শ্রেণিভুক্ত-আনের চাহিদা, নান্দনিক চাহিদা ও আত্মপ্রকাশের চাহিদা।


শারীরবৃত্তীয় চাহিদা (Physiological need): এই চাহিদাগুলি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজন, যেমন-খানা, আলে, বাতাস, জল, ঘুম ইত্যাদি। যে ব্যক্তির এই চাহিদাগুলি পূরণ হয় না, তার জন্য চাহিদা সৃষ্টি হবে না। এই ধরনের চাহিদা পূরণের জন্যই বিদালয়ে mid-day meal-এর ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা, বাথরুমের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়।


নিরাপত্তার চাহিদা (Safety need) শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণের পর এই চাহিদা সৃষ্টি হয়। যেমন-সুরক্ষা, ভয় বা উদবেগ থেকে মুক্তি, সংহতি, সুস্পষ্টতা ইত্যাদির চাহিদা। যদি কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায় বা কোনো শিক্ষকের ক্লাসে যেতে ভয় পায় তাহলে বুঝতে হবে তার নিরাপত্তার চাহিদা বিঘ্নিত হচ্ছে।


অন্তর্ভুক্তির চাহিদা (Love & Belongingness need) পূর্বের চাহিদাগুলি পূরণ হবার পর এই চাহিদা সৃষ্টি হয়। মানুষ স্বাভাবিকভাবে


সমাজবদ্ধ জীব, তাই সে দলবদ্ধভাবে বা তার পরিবারের সঙ্গে থাকতে চায় ও ভাদের ভালোবাসা পেতে চায়। এই চাহিনাগুলি হল অন্তর্ভুক্তির চাহিদা।


বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীরা পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে ও সময় কাটাতে চায়। এটাই স্বাভাবিক, না হলে বুঝতে হবে পূর্ণের চাহিদা পূরণে কোনো সমস্যা রয়েছে।

আত্ম্যশ্রদ্ধার চাহিদা (Self-esteem need) এ চাহিদার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের সম্বন্ধে সচেতন হয়, অর্থাৎ, আত্মমর্যাদার চাহিদা তৈরি হ সে চায় অন্যরা তাকে শ্রদ্ধা করুক বা গুরুত্ব দিক। সেজন্য সে নিজের যোগাতা অনুসারে এমন ধরনের আচরণ করে যাতে অন্যরা তাকে সম্ভ্রম দেখায় বা সম্মান করে।


বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে দিলে এই ধরনের চাহিদা পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়।


জনের চাহিদা (Cognitive need or need to understand) সমস্যা সমাধানের কিংবা নতুন কিছু করার চাহিদার পরিতৃপ্তি ঘটে। এই স্তরের চাহিদার মাধ্যমে মানুষের জানায়, কৌতূহল নিবৃত্তির, কোনো


বিদ্যালয়ে এই ধরনের চাহিনার সৃষ্টি ও তা পুরণ করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও অন্যান্য বই, খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন ইত্যাদি পড়ার প্রবণতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায়। সুতরাং, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই স্তরের চাহিদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে অনেক সময় 'known need' ও বলে।


নান্দনিক চাহিদা (Aesthetic need)। এটি হল সৌন্দর্থবোধের ও সৌন্দর্যভোগের চাহিদা।


আত্মপ্রকাশের চাহিদা (Self-actualization need) ম্যাসলোর মত অনুসারে এটি মানুষের সর্বোচ্চ স্তরের চাহিদা। প্রতিটি মানুষের কিছু সক্ষমতা ও দুর্বলতা রয়েছে। এগুলি বুঝে মানুষ যখন নিজেকে প্রকাশ করতে চায় তখন বুঝতে হবে তার মধ্যে আত্মপ্রকাশের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো মানুষ যা হতে চায় তা হবার চাহিদা অর্থাৎ পরিপূর্ণ হবার চাহিদাকে বলে আত্মপ্রকাশের চাহিদা। এই ধরনের চাহিদার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারদর্শিতার প্রেষণ তৈরি হয়।


প্রশ্ন বুদ্ধির সম্পাদনী অভিক্ষা।


উত্তরঃ কার্যসম্পাদনী অভীক্ষাও এক ধরনের ভাষাবিহীন অভীক্ষা। তবে ভাষাবিহীন অভীক্ষার সঙ্গে এর কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কার্যসম্পাদনী অভীক্ষায় হাতে কলমে বাস্তবে কাজ করতে হয় এবং তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। ভাষাবিহীন সব অভীক্ষায় হাতে-কলমে কাজ না করলেও হয়। কার্যসম্পাদনী অভীক্ষা ব্যক্তিকে দৈহিক দিক থেকে সক্রিয় করে। অর্থাৎ, যে অভীক্ষার দ্বারা ব্যক্তির ব্যাবহারিক কার্যধারার মূল্যায়নের মাধ্যমে বুদ্ধির পরিমাপ করা হয়, তাকে কার্যসম্পাদনী অভীক্ষা বলা হয়। এই ধরনের অভীক্ষার বৈশিষ্ট্যসমূহ হল-


কার্যসম্পাদনী অভীক্ষা ব্যক্তির বৃদ্ধি পরিমাপের যে ধরনের অভীক্ষায় বাক্তিকে হাতে-কলমে কাজ করানো হয় এবং কাজের দক্ষতার বিচারে বুদ্ধির পরিমাপ করা হয়, তাকে কার্যসম্পাদনী বৃদ্ধির অভীক্ষা বলা হয়।


(১) এটি এক ধরনের ভাষাবিহীন অভীক্ষা।


(ii) এই ধরনের অভীক্ষায় বাস্তব বিষয়ে হাতে কলমে কাজ করতে দেওয়া হয়।


(iii) এই অভীক্ষায় ব্যবহৃত পদগুলিকে কাঠিন্যের ক্রম অনুসারে স্থাপন করা হয়।


(iv) এই ধরনের অভীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।


(v) এই ধরনের অভীক্ষার মূল্যায়নকে সংখ্যামান দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

এগুলিই হল কার্যসম্পাদনী অভীক্ষার বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সাভারণত বাক্তির বৌদ্ধিক ক্ষমতাকে নির্ণয় করার জন্য বা পরিমাপ করার জন্য। ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের অভীক্ষার বিভিন্ন ভাগ রয়েছে। যেমন-


প্রশ্ন সাফল্য লাভের প্রেষণা।


উত্তরঃ- স্বাভাবিকভাবেই এটা দেখা যায় কোন শিক্ষার্থী অন্যদের থেকে বেশি পরিশ্রম করছে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য সাফল্য লাভের এইযে চাহিদা কি বলা হয় সাফল্য লাভের প্রেষণা প্রত্যেকের মধ্যেই কমবেশি এই প্রেষণা থাকে। যাদের এই প্রেষণা বেশি তারা কঠিন কাজকে শেষ করতে বা কাজের মানকে উন্নত করতে খুব গুরুত্ব দেয়। ম্যাকক্লিলান্ড এই প্রেষণাকে গাণিতিক আকারে প্রকাশ করেছেন n-Ach T T


এখানে, n Ach সাফল্যলাভের প্রেষণা (Acheivement motive)


1. লক্ষ্যের সম্মুখীন হওয়ার প্রবণতা (Tendency to approach achievement goall


1. ব্যর্থতা এড়িয়ে যাবার প্রবণতা


(ব্যর্থতা এড়ানোর প্রবণতা)


অর্থাৎ, যে ব্যক্তির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবার প্রবণতা বেশি এবং ব্যর্থতা এড়িয়ে যাবার প্রবণতা কম তার সাফল্যের প্রেষণা বেশি।


যে ব্যক্তির এই প্রেষণা বেশি সে জীবনে সাফল্য পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। এই ধরনের প্রেষণাসম্পন্ন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে পায়ে ও করে। এয়া তুলনামূলক কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কাজ পছন্দ করে। এর তাদের কাজের মূল্যায়নও করে। এরা কাজ করার সঙ্গে সঙ্গেই ফললাভের আশা অনেকসময় করে না অর্থাৎ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা মনে রেখেও কাজ করে।


McClelland & Winter (1969) এবং Hoyenga & Hoyenga (1984) এঁদের মত অনুসারে সাফল্যলাভের প্রেষণা যে ব্যক্তিদের বেশি থাকে তাদের নিম্নলিখিত বৈশিষ্টাগুলি দেখা যায়-


(i) এরা সেই সমস্ত কাজকেই পছন্দ করে যেগুলি মাঝারি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক (rmoderately challenging) এবং যেগুলিতে বাক্তি সাফল্যলাভপ্রত্যাশা (promisesuccesss) করে। এজন্য এই ধরনের বাক্তিরা খুব সহজ কাজ পছন্দ করে না,কারণ এ ধরনের কাজ তাদের সাফল্য লাভের চাহিনাকে পূরণ করে না। আবার খুব কঠিন কাজও এরা পছন্দ করে না, কারণ সেগুলিতে তাদের সাফল্যের প্রত্যাশা কম থাকে। অর্থাৎ, এবা বাস্তবসম্মতভাবে কাজ বাছাই করে।


(ii) এই ধরনের ব্যক্তিরা সেই ধরনের কাজ পছন্দ করে, যেখানে তাদের পারদর্শিতা অন্যের সঙ্গে তুলনা করা যাবে। অর্থাৎ, তারা তাদের কাজের ফিডব্যাক পেতে পছন্দ করে।


প্রশ্ন- জীবন প্রবৃত্তি ও মরণ প্রবৃত্তি।


উত্তরঃ মানসিক সক্রিয়তা ও আচরণগত প্রক্রিয়া (Psychodynamics and behavioural process) কীভাবে ব্যক্তির মানসিক প্রক্রিয়া (psyche system) গড়ে ওঠে, একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব এবং আচার-আচরণ কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এইসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় ফ্রয়েডের বর্ণিত কিছু ধারণা ও মতবাদ থেকে।


জীবন প্রবৃত্তি ও মরণ প্রবৃত্তি (Life Instinct and death Instinct):-

প্রায়ও মানুষের আচার-আচরণকে চালিত করার ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব নিয়েছেন। তিনি মুলত মানুষের দুটি প্রবৃত্তির কথা বলেন একটি হলো জীবন প্রবৃত্তি (life auctor eros instinct or thanatod, লি হলো সকল মানসিক শক্তির উৎস।


কোনো মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হলো অন্যের সেখ্যয় নিয়েকে যুক্ত করা, সঙ্গে সঙ্গে নিয়েকেও রক্ষা করা অথচ এর মূল লক্ষ্য হলো বেঁচে থাকা এবং উন্নত প্রজাতির জন্ম দেওয়া। এটা প্রকাশ পায় ব্যাক্তির যৌনতা (sex) এবং ভালোবাসার (love) যথা দিয়ে। ফ্লয়েড এ চালিকা শক্তির নাম দিয়েছেন দিবিয়ো (libido) যা যৌন আড়না (sexuale) এমনুনতাহাই সমার্থক শব্দ। এইপিবিয়ো বা চৌদ মানস শক্তি (psycho-sexual energy) সুখ ভোগের নীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের শারীরিক সুখ, আনন্দ বা সে যে কোনো অঙ্গ বা করে য দিয়ে আসুক না কেন ফ্রয়েডের মতানুসারে সবকিছুর মূলেই আছে এই যৌন হানাস শক্তি। এই যৌন তাড়না যা আবেগকেই বাক্তিত্ব পতিতার শক্তি (dynamic force) বলেছেন এবং যে কোনো বয়সে মানুষের সকল প্রকার আচরণ সম্পাদনের কেন্দ্রবিন্দু হলো এই শক্তি। ব্লয়েড 'কৌন' শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, আসক্তি সবকিছুকেই যৌনশক্তির বহিঃপ্রকাশ হলে অভিহিত করেছেন। পিতামাতা, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজন সকলের প্রতি ভালোবাসা, এমনকি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের প্রতি আসক্তি সবই যৌনতার প্রকাশ। আনন্দ, উপভোগ, সুখ-আহরণ এইসব আকাঙ্ক্ষাও যৌন-মানসশক্তি থেকেই জন্মায়। স্ত্রী-পুরুষের মিলনেচ্ছা এবং বংশবিস্তার সব কিছু যৌনশক্তিরই প্রয়াস।


যৌনতার ব্যাখ্যায় অন্যদিকে যে মরণ প্রবৃত্তির কথা বলা হয়েছে, সেটি হলো ধ্বংসাত্মক প্রকৃতির আক্রমণাত্মক, নিষ্ঠুর কাজকর্ম এবং আত্মহত্যার মতো কাজের মধ্য দিয়ে এই প্রবৃত্তির প্রকাশ পায়। ড্রয়েড বলেছেন যে যখন কারও জীবন প্রবৃত্তি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না বা কারও আচরণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সক্ষম হয় না, তখনই মরণ প্রবৃত্তি সামনে এসে পড়ে। যা আমাদের আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণস্বরূপ যখন কোনো ব্যক্তির যৌন চাহিদা পরিপূর্ণ হয় না তখন সে তার ভারসাম্য হারাতে বাধ্য হয় এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবা ব্যক্তিকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।


ফ্রয়েডের মতে জীবন প্রবৃত্তি ও মরণ প্রযুক্তি দুটি বিপরীতধর্মী হলেও তারা একসঙ্গে কাজ করে থাকে। ভালোবাসা ও ঘৃণ্য বা গঠনমূলক ও ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি একই ব্যাক্তির মধ্যে অবস্থান করে। ফ্রয়েড এই ধরনের বিপরীত মনোভাবকে দ্বৈত মনোভাব (ambivalance) বলেছেন।


প্রশ্ন- প্রতিরক্ষণ কৌশল।


উত্তরঃ প্রতিক্ষরণ ভৌশল হল এক ধরনের আত্মরক্ষার ধাতা, যা আমরা অস্বীকার করি এবং আমাদের আচরণের প্রকৃত কারণকে বিশ্লেষণ করি আমাদের বাক্তিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। তবে এই সপ্তা ব্যতিরেকেও বলা যায় এই ধরনের একটি পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া আমাদের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। না হলে বাক্তি দীর্ঘ সময় ধরে অপসংগতির মধ্যে থাকবে।


কতকগুলি প্রতিরক্ষণ কৌশল হল নিম্নরূপ-


(1) প্রত্যাখ্যান। কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া থেকে নিজেকে স্বেচ্ছায় বিরত রাখা। এর ফলে মনে কোনো সংঘাত স্থান পায় না। যেমন-কারও ডাকে সাড়া না দেওয়া এবা পরবর্তীকালে সে জিজ্ঞাসা করাতে এই কারণ দর্শানো যে থাকে ডাকা হয়েছে সে শুনতে পায়নি।


(2) আগ্রাসী ভাব। এটি হল এমন এক ধরনের প্রতিরক্ষণ প্রক্রিয়া যার ফলে ব্যাক্তি হয় নিজেকে অথবা যে বিষয়টি তার সমস্যার কারণ তার প্রতি আগ্রাসী তাব গ্ররণ করে এবং যাকে নির্মূল করতে চায়। এটি সর্বনাই প্রচণ্ড উত্তেজনা, রাগ বা গভীর অবসাদকে নির্দেশ করে। যেমন কারও উপর প্রতিশোধের জন্য উত্তেজনাবশত খারাপ কথা বলা।


(3) ক্ষতিপুরণ এটি মানুষের স্বাভাবিক আচরণ। যখন মানুষ একটি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে বা উপযুক্ত কার্যকারিতা প্রদর্শনে অক্ষম হয় তখন সেই অন্য ক্ষেত্রগুলিতে প্রশংসনীয় কিছু করে সেই ফাঁকগুলি পূরণের চেষ্টা করে। যেমন যে শিশু পড়াশোনার দিকে দুর্বল সে খেলা বা অন্য কোনো কজে সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করে।


(4) উন্নীতকরণ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাক্তি তার অবদমিত কামনাটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো ভিন্ন পথে চালনা করে। যেমন কেউ ভালোবাসায় ব্যর্থ হলে সে শিল্প, সাহিত্য বা কবিতা রচনার মাধ্যমে তার চাহিদার পরিতৃপ্তি ঘটায়। এভাবে ব্যক্তির মানসিক ভারসাম্য বল্লায় থাকে।


(5) অভেদীকরণ/চিহ্নিতকরণ। এই পদ্ধতি ব্যক্তির বাহ্যিক পছন্দকে নির্দেশ করে এবং এক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষ ক্ষেত্রের অন্য কোনো ব্যক্তির মধ্যে দিয়ে নিজেকে চিহ্নিত করতে চায়। এই বিষয়ের পিছনে যে উপদানগুলি কাজ করে সেগুলি হল-কিছু চিন্তা বা আদর্শ, আচার-আচরণ, চারিত্রিক নিক, বিভিন্ন কাজকর্ম ইত্যাদি। যেমন কৈশোরে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের কোনো চলচ্চিত্রের ন্যয়ক বা নায়িকা অথবা সাহিত্যের কোনো বিশেষ চরিত্রের প্রেক্ষিতে চিহ্নিত করতে পছন্দ করে।

(৫) প্রতিক্ষেপণ ফ্রয়েডকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, প্রতিক্ষেপণ হল সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে ব্যক্তি বহির্জগতের উপর তার অবচেতন মনের অতৃপ্ত কামনাটিকে প্রতিলিও করে থাকে। যেমন আমরা নিজেদের অপরাধবোধকে অনেক সময় অন্য বস্তুর মধ্যে সন্ধানের চেষ্টা করি। যেমন শ্রেণিকক্ষে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা খারাপ ফল করে তারা অনেক সময় খুব বেশি মাত্রায় শিক্ষকের সমালোচনা করে।


(১) অপব্যাখ্যান। এটি হল সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে য ব্যক্তি তার আচরণ, চিন্তাভাবনা ও বিশ্বাসগুলির যুক্তিযুক্ততা বিচার করে। এর মাধ্যমে বাক্তি তার অবসাদকে অনেকটা হ্রাস করতে পারে। এক্ষেত্রে বাক্তি তার কার্যাবলির যা আচরণের মূল ভারণের পরিবর্তে কোনো প্রান্ত বা মনগড়া কারণ উপস্থিত করে এবং তার ফলে মনে মনে সান্ত্বনা পায়। যেমন পরীক্ষার ফল খারাপ হলে শিক্ষার্থীরা যিনি প্রশ্ন করেছেন তার উপর বা যে শিক্ষক খাতা দেখেছেন তার উপর দোষারোপ করে অথবা পরীক্ষার সময় তার শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেখায়।


(৪) প্রত্যাবৃদ্ধি, এই প্রক্রিয়াতে ব্যক্তি বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধান করতে পারে না এবং অখন সে অতীতে ফিরে যায় এবং অতীতে যে ধরনের। আচার আচরণ করেছিল সেই খরনের আচার আচরণ করতে থাকে। অল্পমাত্রায় প্রতরবৃত্তি মানসিক চাপ থেকে মানুষকে নিবৃতি দেয়। যেমন-একজন শিক্ষক অনেক সময় ছাত্রদের মধ্যে তাদের একজন হয়ে মেলামেশা করেন এবং নিজের অতীত ছাত্রজীবনকে ফিরে পেতে চান। এই পদ্ধতিতে শিক্ষক ছাত্রদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। কিন্তু কোনো বাক্তি যদি সর্বদাই এই ধরনের আচরণ করেন তাহলে তা মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।


প্রশ্ন- মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সনাক্তকরণ।


উত্তরঃ কোন শিশুর বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী বা মানসিক প্রতিবন্ধী কিনা তা জানার জন্য যেমন শিশুর বুদ্ধাপ্ত পরিমাণ করা উচিত তেমনই শিশুর আচরণ তার বয়সোপযোগী কিনা তাও নির্ণয় করা দরকার। শিশুর বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য যেমন যেকোনো একটি আদর্শ বুদ্ধির অতিক্ষা।


ব্যবহার করা যায় তেমনি শিশুর আচরণ তার বয়সোপযোগী কি না তা নির্ণয় করার জন্য ডেনভার ডেভেলপমেন্টাল স্ক্রিনিং টেস্ট (DOST), মাজা ডেভেলপমেন্টাল প্রোগ্রামিং সিস্টেম (MDPS), ভাইনল্যান্ড সোশ্যাল ম্যাচুরিটি স্কেল (VSMS), বিহেভিয়ার আসেসমেন্ট স্কেল ফর ইন্ডিয়ান চিলড্রেন উইথ মেন্টাল রিটারডেশন (BASIC-MR) ইত্যাদি অভীক্ষা ব্যবহার করা যায়। তবে শিশুর মধ্যে নিম্নলিখিত কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্টী দেখা গেলে প্রাথমিকভাবে শিশুকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়


ক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরা তার সমবয়সী অন্যান্য শিশুদের তুলনায় শিক্ষণের ব্যাপারে যথেষ্ট পিছিয়ে থাকে।


খ এই সকল শিশুরা কোনো বিষয়ে অধিক সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।


গ কোনো নির্দেশ দিলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরা সহজে বুঝতে পারে না।


ঘ শিশুর হাঁটা, বসা, কথা বলা প্রভৃতি শারীরিক বিকাশগুলো বয়সের তুলনায় পিছিয়ে যায়।


ও শিশুকে মলমূত্র ত্যাগের প্রশিক্ষণ দিতে সমস্যা হয়।


১ এই সকল শিশুকে একই বিষয়ে বার বার নির্দেশ দিতে হয়।


ছ কোনো বিমূর্ত বিষয়ে ধারণা দিলে বৌদ্ধিক দুর্বল শিশুরা সহজে তা বুঝতে পারে না।


এই সকল শিশুকে কোনো বিষয়ের ধারণা দিতে হলে বার বার বিষয়টিকে মূর্ত বস্তুর সহায়তায় শিক্ষা দিতে হবে।


জ কোনো একটি বিষয়ের প্রশিক্ষণ দিতে শিশুকে বিষয়টি ছোটো ছোটো পর্যায়ে ভাগ করে শিক্ষা দিতে হবে।


এএ এই সকল অক্ষম শিশুরা কোনো সুক্ষ্ম কাজ করতে পারে না।


ট. এই ধরনের শিশুরা বয়সোচিত সামাজিক আচরণ প্রদর্শন করতে পারে না।


১. বৌদ্ধিক দুর্বল শিশুরা সমবয়সী বন্ধুদের সাথে উপযুক্ত মেলামেশায় অক্ষম।


ড বয়সের তুলনায় এই সকল শিশুদের ভাষার বিকাশ কম হয়।


ঢ এরা দেরিতে কথা বলতে শেখে।


৭ প্রাত্যহিক জীবনের বয়সোপযোগী কাজকর্ম করতে এদের অসুবিধা হয়।


ত শিশুর সমস্যাসমূহ ১৮ বছর বয়সের পূর্বেই প্রকাশ পায়


প্রশ্ন মনযোগের নির্ণায়ক।


উত্তরঃ মনোযোগের নির্ধারক (Determinants of Attention) মনোযোগ একটি নির্বাচনধর্মী প্রক্রিয়া। যে শর্তগুলি মনোযোগের বস্তু নির্বাচনে সহায়তা করে সেইগুলিকেই সাধারণভাবে মনোযোগের নির্ধারক বলা হয়ে থাকে। সাধারণত মনোযোগের দু-প্রকার নির্ধারক দেখা যায়-


(1) বস্তুগত নির্ধারক (Material or Objective Determinants) ও


(2) ব্যক্তিগত নির্ধারক (Personal or Subjective Determinants)

1) বস্তুগত নির্ধারক (Material or Objective Determinants)। বস্তু বা উদ্দীপকের কোনো বৈশিষ্টোর জন্য যখন আমরা মনোযোগী হই তখন সেগুলিকে বলা হয় বস্তুগত নির্ধারক। এই বস্তুগত নির্ধারকগুলি নিম্নরূপ


() তীব্রতা (Intensity)। সবচেয়ে তীব্র উদ্দীপক আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। যেমন-তীব্র আলো, গাঢ় রং, প্রচণ্ড শব্দ ইতাদি। অর্থাৎ বস্তু তার উদ্দীপনার তীব্রতার দরুন মনোযোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


(11) বিস্তৃতি (Extensity) উদ্দীপকের বিস্তৃতির জন্যও আমরা কোনো বস্তুর প্রতি মনোযোগী হই। যেমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ বা অস্বাভাবিক ক্ষুদ্র বস্তুর প্রতি আমরা মনোযোগী হই।


(ii) পুনরাবৃত্তি (Repitition) কম তীব্র উদ্দীপকও বার বার পুনরাবৃত্তির ফলে মনোযোগের কারণ হতে পারে। যেমন ক্ষীণ কান্নার আওয়াজও বার বার পুনরাবৃত্তির জন্য মনোযোগী হতে বাধ্য করে।


(iv) অভিনবত্ব (Novelty) অভিনবত্ব বস্তুর একটি নিজস্ব ধর্ম। তাই অভিনব কোনো বিষয় আমাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করে। যেমন-অভিনব পোশাক পরিহিত কোনো বাক্তির প্রতি আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই মনোযোগ দিয়ে থাকি।


(v) গতিশীলতা (Movement)। স্থির বস্তুর চেয়ে গতিশীল বস্তু আমাদের দৃষ্টি বেশি আকর্ষণ করে। হাঁটতে হাঁটতে কোনো বালক যদি হঠাৎ দৌড়োতে শুরু করে তাহলে তার প্রতি আমরা বিশেষভাবে আকৃষ্ট হই।


(2) ব্যক্তিগত নির্ধারক (Personal or Subjective Determinants): বস্তু বা উদ্দীপকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছাড়াও আমাদের মানসিক অবস্থা এবং চাহিদাও মনোযোগের বস্তু নির্বাচনে সহায়তা করে। যে মানসিক অবস্থাগুলি মনোযোগের নির্ধারক হিসাবে কাজ করে সেগুলিকে বলা হয় ব্যক্তিগত নির্ধারক। এই ব্যক্তিগত নিধারকগুলি হল.


(1) আগ্রহ (Interest): আগ্রহ মনোযোগের প্রধান নির্ধারক। যেসব বিষয়ে আমাদের আগ্রহ আছে আমরা সেগুলির প্রতি মনোযোগী হই। যাদের খেলার প্রতি আগ্রহ আছে তারা সংবাদপত্রের খেলার পৃষ্ঠর প্রতিই আগে মনোযোগ দেয়।


(11) প্রবৃত্তি (Instincts) আমরা খাদ্যবস্তুর প্রতি মনোযোগী হই। প্রবৃত্তির তাড়নায় আমরা বিশেষ কোনো বস্তুর প্রতি মনোযোগ দিতে বাধ্য হই। যেমন- খিদের তাড়নায়


(il) প্রদোষ (Emotion) বিশেষ প্রাক্ষোভিক অবস্থা কোনো বস্তুর প্রতি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। যেমন- ভয়ে দৌড়ে পালানোর সময় কোনো নিরাপদ জায়গা আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।


iv) মনঃপ্রকৃতি (Temperament) বিভিন্ন মনঃপ্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য বা মেজাজগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যক্তি বিভিন্ন বস্তুর প্রতি মনোযোগ দেয়। যারা ধার্মিক তারা ধর্মীয় আলোচনা, ধর্মীয় পুস্তক বা ধর্মস্থানের প্রতি মনোযোগী হয়। আবার যারা অল্পেই উত্তেজিত হয়, তারা বিশেষভাবে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বস্তুগুলির প্রতিই আকৃষ্ট হয়।


প্রশ্ন Atkinson's প্রদত্ত প্রেষণার সাফল্য লাভের তত্ত্বটি আলোচনা করুন।


উত্তরঃ সাফল্যলাভে প্রেষণার তত্ত (Achievement Motivation):


C. McClelland David (1953) এবং Atkinson W. John


(1958) মনে করেন যে সাফল্যলাভের জন্য বাক্তি মাত্রেই একটা চাহিদার প্রয়োজন হয়। আর এই সাফল্যলাভের চাহিদার মাত্রার তীব্রতা অনুযায়ী সে সমস্ত সমস্যা এবং বাধা বিপত্তিকে চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে। এ তত্ত্ব অনুযায়ী পারদর্শিতামূলক প্রেরণার শক্তির পার্থক্যজনিত কারণে একজন মানুষ অপর একজনের থেকে পৃথক হয়। পারদর্শিতা বা সাফল্যলাভের ক্ষেত্রে এই প্রেষণা শক্তির পার্থক্য যেটা কোনো ব্যক্তির বিকাশকে বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অতি শৈশবকাল থেকেই সাফল্যলাভের চাহিদা জন্মায়। এটি বাড়ির মধ্যে নিয়মানুবর্তিতার উপর নির্ভরশীল। পিতামাতার প্রত্যাশা এবং সঠিক নির্দেশ একটি শিশুর জীবনে উচ্চাকাঙ্ক্ষার (high achievement) জন্য চাহিদার বিকাশ ঘটায়। অর্থাৎ, যার মধ্যে সাফল্যলাভের আকাঙ্ক্ষা যত বেশি মাত্রায় জাগিয়ে তোলা যাবে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি হবে।


(১) মহান ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রেষিত হওয়া এবং সিদ্ধিলাভের বিষয়টি বর্ণনা করার মাধ্যমে একজন শিক্ষক প্রেষণার গুরুত্বটি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন। অর্থাৎ বিখ্যাত ব্যক্তিদের পদান্ত অনুসরণ করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রেষিত করতে হবে।


(২) শিক্ষক শিশুদের উৎসাহ প্রদান, বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্মে তৎপরতার মাধ্যমে সাফল্যলাভের প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করবেন।


(৩) বাস্তবসম্মত সাফল্যলাভের প্রেষণাগুলিকে বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেবেন।

(৪) নতুন প্রেষণা যেগুলি শিক্ষার্থীদের আত্মভাবমূর্তিকে আরও বেশি স্বচ্ছ করে এবং যা তাদের মধ্যে বিদ্যমান সেগুলিকেও আরো বেশি উন্নত করতে হবে ঐ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বাস জাগানোর চেষ্টা করতে হবে


(৫) শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্ম পাঠ অভ্যাসের বিকাশঘটিরতে হবে।


(৬) নির্দিষ্ট সময় অন্তর শিক্ষকের উচিত শিক্ষার্থীদের আত্ম মূল্যায়নে উৎসাহিত করা।


প্রশ্ন- বিস্মৃতির কারণসমূহ।


উত্তরঃ আমাদের ভুলে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ বর্তমান। যে অবস্থাগুলি স্মৃতির সহায়ক, সেগুলির অভাবই বিস্মৃতির কারণ। যেমন-উদ্দীপক যদি তীব্র, সুস্পষ্ট, নির্দিষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী, সাম্প্রতিক ও পুনরাবৃত্ত হয় এবং তা এনি আমাদের মনোযোগ ও আগ্রহ সৃষ্টি করে, অর্থবোধক হয়, আকর্ষণীয় হয় এবং কোনো কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ হয়। যেহেতু এই অবস্থাগুলি স্মৃতির সহায়ক সুতরাং, এই অবস্থাগুলির অভাব ঘটলে বিস্মৃতির সম্ভবনা থাকে। উদ্দীপকের এইসব বিভিন্ন অবস্থা ছাড়াও আর যেসব কারণে বিস্মৃতি ঘটে সেগুলি নিম্নরূপ


(1) বিষয়বস্তুর বৈশিষ্ট্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় যেসব বিষয়বস্তু শিখতে দেরি হয়, সেগুলির বিস্মৃতি ঘটে তাড়াতাড়ি। বিষয়বস্তুর


অর্থ, হল ইত্যাদির জন্য এই বিশ্বরণ ঘটে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বিষয়বস্তু শিখতে দেরি হলেও পুনরাবৃক্তির জন্য সেই বিষয়ের বিস্মৃতির হার কম হয়।


(11) ত্রুটিপূর্ণ শিখন। কোনো বিষয় শেখার ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকলে বা বোঝার ভুল থাকলে সেই বিষয়বস্তুর বিস্মৃতি তাড়াতাড়ি ঘটে।


(iii) আলোচনার অভাব। কোনো বিষয়ে শিখন ঘটার পর তা যদি আর কোনো দিন আলোচনা না হয় তাহলে বিষয়টি ধীরে ধীরে


শিক্ষার্থী ভুলে যায়।


(iv) পশ্চাদমুখী প্রতিরোধ। শিক্ষার্থী যদি একটি বিষয় শেখার পর পরই অপর একটি বিষয় শিখতে যায় তাহলে দ্বিতীয় বিষয়টি শিখতে শুরু করার কিছুক্ষণ পর দেখা যায় যে, সে প্রথম বিষয়টির খানিকটা ভুলে গেছে। কারণ দ্বিতীয় বিষয়টি প্রথম বিষয়টি মনে রাখার ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে এবং পেছন থেকে এসে প্রথম বিষয়টি ভুলিয়ে দিচ্ছে। এই জাতীয় প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় পশ্চামুখী প্রতিরোধ।


(v) মস্তিষ্কে আঘাত দুর্ঘটনা, খেলাধুলা, বিস্ফোরণ বা অন্য কোনো কারণে মস্তিতে আঘাত লাগলে মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে


বিস্মৃতি ঘটে।


(vi) অবদমন: অনেক সময় মনে করার অনিচ্ছা থেকেই বিস্মৃতি আসে। অর্থাৎ আমরা কিছু ভুলতে চাই বলেই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলে


যাই। একে বলা হয় অবদমন। অবদমন মনকে বেদনাদায়ক ও অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে রক্ষা করে।


-44~


ইমান

~42~

39~

-38-


~

~35



-33-

-32-

~28-


-24-

-14-


-12-


~

~7~

-6-


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ