Models teaching কি? বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলী আলোচনা করো? এবং এর উপাদান গুলি কি কি রয়েছে সেগুলি উল্লেখ করো।
ভূমিকা:- শিক্ষণ মডেল হল শিক্ষণ সম্পর্কিত একটি আদর্শ নির্দেশ দানের পরিবেশনার নকশা। এর সাহায্যে শিক্ষণ শিখন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের ধারণা পাওয়া যায়। অর্থাৎ শিক্ষণ মডেল হল শিক্ষণ শুরুর পূর্বে সম্ভাব্য শিক্ষণ কাজের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা সহ তার গঠন কাঠামো নির্ধারিত করা হয়। মডেল শব্দটি শিক্ষাবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন।
মডেল টিচিং এর সম্পর্কে বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিজ্ঞানীদের সংজ্ঞা:-
Bruce Royce:- শিক্ষণ মডেল হল এমন একটি পরিকল্পনা বা পদ্ধতি যার সাহায্যে পাঠ্যক্রমের নকশা তৈরি করতে হয়, শিক্ষা সহায়ক উপকরণ নির্ধারণ এবং শ্রেণী বা অন্য পরিবেশ শিক্ষা নির্দেশ দানের সাহায্য করে।
Iyen:- শিক্ষণ মডেল হল শিক্ষণ কৌশল সমূহের নকশার খরসা, যার সাহায্যে বিশেষ নির্দেশ দান লক্ষ্য স্থির করা যায়।
B.k Passi:- শিক্ষাদানের মডেল হল একটি পরিকল্পনা যার সাহায্যে বিষয়বস্তু নির্বাচনে নির্দেশমূলক বাহু নির্বাচন এবং সুষ্ঠুভাবে নির্দেশ দান সম্ভব হয়।
** শিক্ষাক্ষেত্রে মডেল ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীর যে সংযোগ ঘটে তা দৃরতার হয়, ও শিক্ষার্থীর পক্ষে বিষয়বস্তু অনুধাবন করা সহজ হয়। মডেল একটি মেথসক্রিয়ামূলক পরিবেশ রচনা করে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই মডেল সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে শিক্ষার্থীর চাহিদাগুলি পূরণ করা সহজ হয়।
বৈশিষ্ট্য:- আদর্শ শিক্ষণ মডেলের যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য গুলি লক্ষ্য করা যায় সেগুলি হল --
১. আচরণগত পরিবর্তন:- শিক্ষার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে শিক্ষা পরিকল্পনার উদ্দেশ্য গুলো সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিক্ষণগত উদ্দেশ্য পূরণে কি কি আচারন পরিবর্তন সম্ভব সে সম্পর্কে শিক্ষণ মডেলে বিবরণ থাকে।
২. পরিবেশ নির্দিষ্ট:- শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য একজন হয় শিক্ষণ পরিবেশ। অর্থাৎ উদ্দীপক অনুযায়ী যে প্রতিক্রিয়া করা হবে তা ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী সাজানো হয় শিক্ষণ মডেলে।
৩. বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি:- শিক্ষার্থীদের আচরণের পরিবর্তন আনতে হলে যে বিধি কাব্য পদ্ধতির প্রয়োজন তার বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করা হয় শিক্ষণ মডেলে ।
৪. সু-সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য বিন্যাস:- শিক্ষণ মডেল পরীক্ষা লব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর আচরণগত পরিবর্তন ঘটানোর এক সুসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য বিন্যাস থাকে।
৫. কার্যের মান নির্ণয়:- শিক্ষণ মডেল শিক্ষার্থীদের সম্পাদিত কার্যের বিচারকরনে সাহায্য করে থাকে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে কিরকম ফলাফল আশা করা যায় তা নির্দিষ্টভাবে বিচার করতে মডেল গুলি সাহায্য করে থাকে।
৬. পদ্ধতির নির্দিষ্টকরণ:- শিক্ষণ মডেল শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও পরিবেশের সঙ্গে প্রতিক্রিয়ার পদ্ধতিগুলি নির্দিষ্ট করে দেয়।
৭. সক্রিয়তার বিবরণ:- প্রত্যেক শিক্ষণ মডেল শিক্ষক শিক্ষার্থীর ও পরিবেশের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া কিভাবে সংঘটিত হবে তার উল্লেখ থাকে। আবার প্রয়োগ ক্ষেত্রের উপর প্রতিক্রিয়ার ধরনের ও আগাম পূর্বভাস থাকে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে সক্রিয় করতে হবে।
** শিক্ষণ মডেলের কার্যাবলী:- শিক্ষণ মডেলের যে সমস্ত কার্যাবলী গুলির নির্দিষ্ট হয়, সেগুলি হল-
১. লক্ষ্য পূরণের সহায়তা:- শিক্ষণ মডেলের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলে শিক্ষকের শিক্ষনীয় পরিস্থিতি ও বস্তুগুলির সাহায্যে শিক্ষার লক্ষ্য পূরণের সহায়তা করা। এর জন্য সঠিক কৌশল পরিকল্পনা ও পদ্ধতি নির্বাচনে সহায়তা করে থাকে এই শিক্ষণ মডেল।
২. পাঠ্যক্রম নির্ধারণ:- শিক্ষণ মডেল পাঠ্যক্রম নির্ধারণে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে। উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আধুনিক পাঠ্যক্রম তৈরি করা হলো শিক্ষণ-মডেলের অন্যতম কাজ।
৩. শিক্ষণ শিখন:- শিক্ষণ মডেল গুলির শিখন এবং উভয় প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
৪. শিক্ষন তত্ত্ব গঠন:- শিক্ষণ মডেলগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল শিক্ষণতত্ত্ব গঠন।
৫. আচরণগত বিকাশ সাধন:- মডেল গুলি শিক্ষার্থীর আচরণ মুলক দিকের সামাজিক দক্ষতা ব্যক্তিগত ক্ষমতা এবং জ্ঞানমূলক দক্ষতা উৎকর্ষ সাধনে সহায়তা করে।
৬. উপকরণ তৈরিতে:- শিক্ষামুলক যারা উপকরণ প্রস্তুত করেন মডেল গুলি তাদের আকর্ষণীয় ও উপযোগী শিক্ষা উপকরন তৈরীতে সাহায্য করে থাকেন।
৭. শিক্ষক শিক্ষার্থী সম্পর্ক স্থাপন:- শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্পর্ক স্থাপনে পরীক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সহায়তা করে থাকে। আবার শিক্ষণ শিক্ষণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিথস্ক্রিয়া যাতে বাঞ্ছনীয় হয় মডেল এ ব্যাপারে সাহায্য করে।
*_শিক্ষণ মডেলের উদ্দেশ্য_*
১. *তথ্য সরবরাহ:-* শিক্ষার্থীদের তথ্য সরবরাহ করে এই মডেল শিক্ষণ এর মাধ্যমে।
২. *মিথস্ক্রিয়ার উন্নতি ঘটানো:-* শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার উন্নতি ঘটানো মডেল শিক্ষণ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
৩. *ব্যাক্তিগত গুণাবলী:-* শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ব্যাক্তিগত গুণাবলী বিকাশ ঘটিয়ে তথ্য সরবরাহ করা হয়।
৪. *আচরণগত উন্নতিকরণ:* - শিক্ষার্থীদের আচরণধারাকে উন্নত করে। সৃজন ক্ষমতার অধিকারী করে তোলে।
** Factors Teaching Models উপাদান:- শিখন মডেলের উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় প্রসঙ্গ ছাড়া অর্থহীন হয়ে পড়ে। এদিক থেকে শিখন মডেলের 6 টি উপাদানের স্থির করা হয়েছে এগুলি হল--
১. কেন্দ্রবিন্দু:- কেন্দ্রবিন্দু হল শিখন মডেলের মূল ভিত্তি। মডেল লেকেন্দ্র বিন্দু মূলত শিক্ষণের উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতির বাস্তব মূল্যায়ন। এবং সে শিখনের আচরণগত উদ্দেশ্য ও শিক্ষাকালী ন পরিবেশ সংক্রান্ত দিকগুলি ব্যক্ত থাকে।
২. বিন্যাস:- শিক্ষণ মডেলের ব্যবহার ক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষার্থীর কাজের ধরন দেওয়া থাকে বিন্যাসে। শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শিক্ষণ মডেলের বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়। এবং এই কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য কর্মবিন্যাস অনুযায়ী নির্দিষ্ট পর্যায়ে পরস্পর সম্পাদন করার বিবরণ দেওয়া থাকে।
৩. সামাজিক বিকাশ:- শিক্ষণ মডেল সামাজিক পরিবেশ বলতে বোঝায় মডেলের সংগঠনিক অবস্থান। এই মডেলের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা শিক্ষার্থীর শিখন মডেল কি কি ভূমিকা গ্রহণ করেন তাদের সম্পর্কে বিবরণ সম্পর্কে বিশদ উল্লেখ থাকে।
৪. প্রতিক্রিয়ার নীতি:- এই স্তরে শিক্ষক শিক্ষার্থীর আচরণগত প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। এই নীতিতে শিক্ষক কিভাবে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়াগুলি বিবেচনা করবেন তা ঠিক করে দেবেন এবং তারিফ পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি কি ধরনের আচরণ করবেন তা উল্লেখ করে থাকবে। বিভিন্ন শিক্ষণ মডেলের বৈশিষ্ট্য অনেকাংশে এই প্রতিক্রিয়া নীতির দ্বারা নির্বাচিত হয়।
৫. সহযোগী নীতি:- শিক্ষণ মডেলকে কার্যকরী করে তোলার জন্য অতিরিক্ত উপকরণের বাস সামগ্রহীর প্রয়োজন । শিক্ষাকে কার্যকরী করে তোলার জন্য শ্রেণীকক্ষের সাধারণ উপকরণ ছাড়া এক বা একাধিক সহায়ক বা প্রদীপনের সাহায্য গ্রহণ করা হয়। এগুলি সমন্বয় করা নীতি কে বলা হয় সহযোগী নীতি।
৬. প্রয়োগশীলতা :- শিক্ষণ মডেলের প্রয়োগিক দিকের মাধ্যমে মডেলের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রকার মডেল বাছাই করা হয়। শিক্ষণ মডেল গুলি যেহেতু সুপরিকল্পিত সেহেতু তার প্রত্যক্ষ শিক্ষাগত ফল থাকবে। শিক্ষক মডেল তুলনামূলক বিচারে শিক্ষাগত ফলের সঙ্গে সিটির সহায়কফল বেশি সেটিকে গ্রহণ করতে হবে।
** Classification of modern teaching models:- or
Families of Teaching Models
>আধুনিক শিক্ষন মডেল কে এবং আধুনিক পরিবার মডেল কে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। সেই চারটি ভাগ গুলি কে নিম্নে আলোচনা করা হলো।
১.Behavioural Modification Models of Teaching:- উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী আচরণগত পরিবর্তন করাই হলো আচরণগত পরিবর্তন বা পরিমার্জন মডেলের প্রধান উদ্দেশ্য। স্কিনারের সক্রিয় অনুবর্তনের তত্ত্বের ভিত্তিতে এই ধরনের মডেল প্রথম তৈরি করা হয়। এই মডেল গুলি সম্পূর্ণরূপে মনোবৈজ্ঞানিক ও আচরণগত পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই মডেল গুলি হল --
1. প্রোগ্রাম শিখন বা সক্রিয় অনুবর্তন ( B.F Skinner )।
2. পান্ডিত্য শিখন (Bloom )।
3.অনিয়ন্ত্রিত (Skinner ) ।
২. Personal Development of models of Teaching:- ব্যক্তির ব্যক্তিগত এবং প্রক্ষবীক জীবন তার পরিবেশের সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কযুক্ত শিক্ষার্থী তার স্বতন্ত্র ব্যক্তি স্বতন্ত্র অনুভূতি অনুযায়ী পরিবেশের সাথে অভিযোজন করতে গিয়ে শিক্ষা লাভ করে। মডেল গুলি হল-
1. শ্রেণী সম্মিলনী মডেল (william Glasser)।
2. ধারনাগত সিস্টেম ( Devid Hunt)।
3. অনির্দেশিত শিক্ষণ (Carl's Roger)।
৩. Information Processing Models:- শিক্ষণ মডেলের একটি উৎস হলো শিক্ষার্থীর তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সমর্থ্য। এই মডেল গুলি শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক ও সৃজন ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। এর মডেল গুলি হল-
1. অগ্রণী সংগঠন মডেল (ডেভিড আসুবেল)।
2. স্বরণমূলক মডেল (জেবি লুকাস)।
3. ধারণা গঠনের মডেল( ডোরিও ব্লুনের)।
৪. Social Interaction Models:- শিক্ষার্থীরা যাতে সমাজের সকল ব্যক্তির সঙ্গে যথাযথভাবে সম্পর্ক স্থাপন করে গণতান্ত্রিক সমাজ সংস্থা স্থাপন করতে পারে বা গড়ে তুলতে পারে, এই শিখন মডেলের প্রধান উদ্দেশ্য। এই মডেল ব্যক্তির সামাজিক অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। এই models গুলি
1. দলগত অনুসন্ধান মূলক (Robert Holen)।
2. সামাজিক উদ্দীপনা সৃষ্টি ( সেবিন বুকক)।
3. ব্যবহার শাস্ত্র বা আইন বিদ্যাগত মডেল ( ডোনাল্ড অলিভ)।
Q. What is Simulation Teaching? Explain to characterstics of simulation teaching! Advantages and Disadvantage of simulation teaching!
ভূমিকা:- আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় বলা হয় যে " Teacher is a maker of man" ফলে শিক্ষাদান কার্যকে যথাযথভাবে পরিচালনা করার জন্য শিক্ষক মহাশয়দের বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। এই প্রসঙ্গে আমরা simulation teaching এর কথা বলতে পারি।
Simulation teaching:- simulation কথার অর্থ হলো অনুকরণ করা। অর্থাৎ " আসল কোন বিষয়ের অনুকরণে প্রস্তুত করা নকল কোন বিষয়।"সিমুলেশন শিক্ষণ হচ্ছে এমন এক ধরনের অভিনয় দেখানো শেখান কৌশল যার মাধ্যমে আসল শিক্ষা দান পরিস্থিতিতে ব্যবহার ও কতগুলি শিখন কৌশল অভিনয় এর মাধ্যমে শেখানো হয়। তাই অনেকেই শিক্ষণ এই শিখন কৌশলকে বলে থাকেন ভূমিকা পালনের কৌশল।
* এই পদ্ধতিতে student teacher কে শিক্ষক এবং শিক্ষিকাদের শিক্ষার্থীদের ভূমিকায় অভিনয় করতে হয়। যেমন একজন স্টুডেন্ট টিচার যখন শিক্ষকের ভূমিকা অভিনয় করেন ট্রেনিং টিচাররা শ্রেণী ছাত্রদের ভূমিকার অভিনয় করেন। ধরনের টিচিং এর ক্ষেত্রে কোন ছোট বিষয় নির্বাচন করতে হয়। আর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে সময়সীমা রাখতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১০ জন স্টুডেন্ট টিচার নিয়ে এই টিচিং পুনর্গঠন করা হয়। একজন থাকেন শিক্ষকের ভূমিকায় দুজন থাকে পর্যবেক্ষক এর ভূমিকায় ও বাকি সাত জন ছাত্ররূপে অভিনয় করে।
1. উইন (R. Wynn, 1964) বলেছেন, “বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক উপস্থাপনকে ভূমিকায়ন বলা হয় “Simulation an accurate representation of realistic situation."
2. Thomas এবং Deemer এর মতত “ To simulate is to obtain the essence of teaching without the reality”
অনুকৃত শিক্ষণ এর প্রয়োজনীয় উপাদান:-
1. পরিবেশ রচনা:- আনুকৃত উপাদানের সহায়তায় শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ রচনা করা হয়।
2. শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নির্বাচন :- যে কোনো বিষয়কে পাঠদানের জন্য একজন শিক্ষার্থী-শিক্ষককে নির্বাচন করা।
3. অন্যান্য শিক্ষার্থীর ভূমিকা পালন:- অন্যান্য শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের শিক্ষার্থীর ভূমিকা পালন করে।
4. পর্যবেক্ষণের ভূমিকা পালন:- একজন প্রশিক্ষক ও অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী – শিক্ষক পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করে।
5.শিক্ষাদান প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন করা:- পাঠদানের শেষে প্রশিক্ষক ও পর্যবেক্ষকেরা শিক্ষাদান প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন করেন এবং সবল ও দূর্বল দিকগুলোকে চিহ্নিত করেন।
অনুকৃত শিখনের বৈশিষ্ট্য:- অনুকৃত বা ভূমিকায়ন শিখনের যেসব বৈশিষ্ট্যগুলি রয়েছে সেসব বৈশিষ্ট্য গুলিকে নিম্নে আলোচনা করা হলো--
১. শিক্ষণ পরিবেশে তৈরী করা:- এই শিক্ষণ পদ্ধতিতে শ্রেণীর আকার পাঠদানের সময় পরিসর এবং পাঠ্য বিষয়বস্তুকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়। চার থেকে দশজন প্রশিক্ষনার্থী নিয়ে এই পরিবেশ তৈরি হয়।
২. পাঠদানে অল্প সময়:- এই পাঠদানের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প সময়ের জন্য পাঠদান। এই পাঠদানে দুই থেকে পাঁচ মিনিট পড়ানো হয়।
৩. পাঠের দুর্বল ও সবল দিকগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা:- এই পদ্ধতির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময় তাদের দুর্বল ও সবল দিকগুলি সম্পর্কে পরিদর্শন এর সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
৪. পাঠ দানের মূল্যায়ন করা:- এই পদ্ধতিতে সকল শিক্ষার্থীর পাঠদানের মূল্যায়ন করা হয়।
অণুকৃত শিক্ষণ এর সুবিধা : -
1. স্বয়ংশিক্ষণ :- শিক্ষনের একটি বড় সুবিধা হল স্বয়ংশিক্ষণ এখানে ইচ্ছেমতো পাঠদানের সময় বাড়ানো বা কমানো যায়।
2. পদ্ধতিগত ধ্যানধারণার উন্মেষ ঘটানো:- শিক্ষার্থী – শিক্ষকদের মধ্যে পদ্ধতিগত ধ্যানধারণার উন্মেষ ঘটিয়ে থাকে। এটি একটি অনুকৃত শিখন বা ভূমিকায়ন শিখন এর অন্যতম সুবিধা।
3. সরাসরি প্রতিক্রিয়া:- অনুকৃত বা ভূমিকায়ন শিক্ষণে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
4. নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পাঠদান :- এই শিখন টি একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পাঠদান করা যায়।
5. চিত্রায়ণে সাহায্য করা :- বাস্তব শ্রেণীকক্ষের প্রকৃত ধারণাকে চিত্রায়ণে সাহায্য করে, এই অনুকৃত বা ভূমিকায়ন।
6. সিদ্ধান্ত গ্রহণমূলক দক্ষতা বৃদ্ধি করা:- শিক্ষার্থী – শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণমূলক দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
7. শিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ:- প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে শিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ থাকে এই পদ্ধতিতে।
অনুকৃত শিক্ষণ এর অসুবিধা: -
1. কম মনোযোগী:- এই শিখনে শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা কম মনোযোগী হয়৷
2. শিক্ষালাভ সম্ভবপর নয়:- সঠিকভাবে পাঠদান পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষালাভ করা সকল শিক্ষার্থী- সম্ভবপর হয় না ।
3. বিষয়বস্তু উপস্থাপন সম্ভবপর নয়:- এই পদ্ধতিতে শিক্ষকদের পক্ষে সর্বদা বিষয়বস্তুকে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা সম্ভবপর হয় না।
4. বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করা জটিল:- কৃত্রিমভাবে বিষয়বস্তুকে বাস্তবসম্মত করে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জটিল।
5. শিক্ষা লাভ শিক্ষার্থী শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব নয়:- সঠিকভাবে পাঠদান পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষালাভ করা সকল শিক্ষার্থী-শিক্ষকের পক্ষে সম্ভবপর হয় না।
6. অংশগ্রহণকারীর মনে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি:- বাস্তবতাকে কৃত্রিম পরিবেশের মাধ্যমে উপস্থাপনের দরুণ বাস্তবতার কে সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীর মনে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হয়।
অনুকৃত শিক্ষণ এর প্রয়োজনীয়তা:-
1. প্রতিক্রিয়া প্রদান:- এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থী শিক্ষকদের শিক্ষাদান সম্পর্কের সঠিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব হয়।
2. সমালোচকের অভিজ্ঞতা অর্জন:- এই পদ্ধতির সাহায্যে শিক্ষার্থী – শিক্ষকেরা গঠনমূলক সমালোচকের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
3. তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক এর সমন্বয় ঘটানো:- এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিকের সমন্বয়ে ঘটানো সম্ভব হয়।
4.পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি:- শিক্ষার্থী –শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক ও কার্যকরী এই পদ্ধতি।
5. ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ:- এই পদ্ধতির দ্বারা শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকে।
Simulation teaching চক্র
Steps of Simulation Teaching:-
১. শিক্ষার্থী শিক্ষক নির্বাচন:- সিমুলেশন টিচিং এর প্রথম স্তর একটি শিক্ষার্থী শিক্ষকদের দল নির্বাচন করা হয়। এখানে দলের প্রত্যেক আদর্শকে টিচার স্টুডেন্ট এবং পর্যবেক্ষণের ভূমিকা পালন করতে হয়।
২. দক্ষতা সমূহের নির্বাচন:- সিমুলেশন টিচিং এ দ্বিতীয় স্তর হল দক্ষতা সমূহের নির্বাচন। যে সমস্ত দক্ষতাগুলিকে অভ্যাস করতে হবে, সে সমস্ত দক্ষতা গুলিকে নির্বাচন করা হয়।
৩. কর্মপ্রক্রিয়ার ধারা তৈরি:- সিমুলেশন টিচিং এর তৃতীয় ধাপ হলো কর্ম প্রক্রিয়ার ধারা তৌরি। এই শিখন কখন শুরু হবে এবং কখন শেষ করা হবে তা পূর্ব থেকে ঠিক করে নিতে হয়।
৪. মূল্যায়ন পদ্ধতি স্থিতিকরণ:- স্টুডেন্ট টিচারদের টিচিং শিক্ষণ দক্ষতার মূল্যায়ন পদ্ধতি কি হবে এটিকে পূর্ব থেকে ঠিক করে নেওয়া হয়।
৫. অনুশীলন স্তর:- সিমুলেশন টিচিং এর পঞ্চম স্তর হল অনুশীলনের স্তর। এই শিখন স্তরে এক থেকে চার নম্বর পর্যন্ত সমস্ত স্তর গুলিকে প্রয়োগ ঘটানো হয় এবং সেগুলিকে ফিডব্যাক দেওয়া হয়।
৬. পদ্ধতির পরিবর্তন:- পঞ্চম স্তরে যে ফিডব্যাক পাওয়া যায়। সেই ফিডব্যাক যদি কখনো ভুল খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে সেই ভুলগুলি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনের পদ্ধতির পরিবর্তন করা হয়।
Q. Micro Teaching অনুবিক শিক্ষণ কি ? এর বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা অসুবিধা অ্যালোচলা করো!
ভূমিকা:- কোন একজন শিক্ষক মহাশয় কোন শিক্ষা নিয়ে বিষয় শিক্ষার্থীর কাছে বোধগম্যকে সহজ সরল করে তোলার লক্ষ্যে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে থাকেন। কখনো মৌখিকভাবে পদ্ধতিতে, আবার কখনো গল্পের ছলে, শিক্ষনীয় বিষয় বস্তুটিকে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। সুতরাং বলতে পারি যে, যে কৌশলের মধ্য দিয়ে শিক্ষক মহাশয় শিক্ষা নিয়ে বিষয় বা বস্তুটিকে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন তাকে টিচিং Teaching বলে।
শিক্ষণ:- পূর্বের শিক্ষণ কে কলা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে টিচিংকে Teaching কে বিজ্ঞানের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই বলা যায় যে, "teaching was considered action old age but now it also consider as a science "
শিক্ষনের ধরন:- বিভিন্ন শিক্ষাবিদগণ বিভিন্ন ধরনের শিখন এর কথা বলেছেন। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষণ পদ্ধতিগুলি হল
Type of Teaching Methods
আনুবিক শিক্ষণ:- সাধারণত শিক্ষকের শিক্ষণ কর্মসূচিতে আণবিক শিখন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহাবিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক মহাশয়রা রয়েছেন তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য আণবিক শিক্ষনের আয়োজন করা হয়েছে। আণবিক শিক্ষণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে' M.c knight বলেছেন যে " micro teaching is seated down teaching encounter desingned to develop new skills and refine old ones" অর্থাৎ অনুশিক্ষণ হল এমন একটি শিখন কৌশল যার দ্বারা পুনঃ অনুশীলনের মাধ্যমে নতুন শিখন দক্ষতা আয়ত্ত ও পুরনো দক্ষতাকে আরো অন্যতম করা যায়।
Micro Teaching এর বৈশিষ্ট্য :- আণবিক শিক্ষণ সম্পর্কে যেসব বৈশিষ্ট্য গুলি রয়েছে সেগুলি হল-
১. তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া:- অনুবিক শিখনে তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়ার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ তাৎক্ষণিক পদ্ধতি প্রক্রিয়া একটি নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়া।
২. বিশ্লেষনাত্বক প্রক্রিয়া :- অনুশিক্ষণ একটি বিশ্লেষনাত্বক প্রক্রিয়া ।
৩. একত্রে আয়তের উপর জোর:- শিক্ষণের সমস্ত কৌশল একেবারে আয়ত্ব না করে অনুশীলনের মাধ্যমে মাত্র একটি করে কৌশল একত্রে আয়ত্ত করার উপর জোর দেওয়া হয়।
৪. নৈপুণ্য অর্জন:- অনুশিক্ষণ দারা শিক্ষাদান সংক্রান্ত পারদর্শিতা অর্জন করা সম্ভব।
৫. দক্ষতার উন্নয়ন:- আণবিক শিক্ষাদানের দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৬. পাঠদান সীমাবদ্ধ:-অনুশিক্ষণের ক্ষেত্রে যেকোনো একটি পাঠের ক্ষুদ্র অংশের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এই পদ্ধতিতে শ্রেণীর আকার, পড়ানোর সময় , পাঠ্য বিষয় ইত্যাদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা
হয়।
আণবিক শিখনের সুবিধা:- মাইক্রো টিচিং সম্পর্কে যেসব সুবিধা গুলি রয়েছে সেইসব সুবিধা গুলি হল-
১ . সহজ সরল পদ্ধতি:- মাইক্রো টিচিং পদ্ধতির সাধারণত ক্লাসের মধ্যে জটিল পরিবেশ থাকে না। এটি হলো একটি সহজ সরল পদ্ধতি যার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষকের শিক্ষন দক্ষতা বৃদ্ধি।
২. প্রেষণার সঞ্চারক:- এই শিক্ষণ কৌশল শিক্ষকদের শিক্ষণ দক্ষতা ভুল ত্রুটিগুলির সম্পর্কে সচেতন করে। যা শিক্ষকদের আত্ম প্রেষণার সৃষ্টি করে।
৩. বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি:- মাইক্রো টিচিং পদ্ধতি হল একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ দক্ষতা ও আচরণগত পরিবর্তন ঘটাতে সাহায্য করে।
৪. নিয়ন্ত্রণ:- এখানে ছাত্র কম হওয়ায় ক্লাসে নিয়ন্ত্রণ জনিত কোন সমস্যা দেখা যায় না।
৫. সময়ের অপচয় রোধ:- এখানে ক্লাসের সময়সীমা হল ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত। সময়ের অপচয় রোধ কম হয়।
৬ . পরীক্ষামূলক মনোভাব:- মাইক্রো টিচিং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে মনোভাব জাগিয়ে তুলতে পারে কারণ এর অনুশিক্ষণ পরীক্ষামূলক ভাবে করা হয়।
৭. ফিডব্যাক এর সুবিধা:- শিখন পদ্ধতিতে তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক এর সুবিধা রয়েছে।
মাইক্রো টিচিং এর অসুবিধা:- মাইক্রো টিচিং এর যে সব অসুবিধা গুলি রয়েছে সেগুলি হল নিম্নরূপ-
১. প্রশিক্ষণ:- মাইক্রো টিচিং পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ বিশেষভাবে দিতে হয়। যাতে করে শিক্ষকের শিক্ষনে কোন সমস্যা দেখা না দেয়।
২. অনিচ্ছা :- মাত্র ৫ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীদের কে নিয়ে মাইক্রো টিচিং প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয় বলে অনেকেই অনিচ্ছা প্রকাশ করে।
৩. অন উপযোগী:- অনুশিক্ষণ সব বিষয়ে বা সব অধ্যায়নের জন্য উপযোগী নয়।
৪. সংকীর্ণতা:- শিক্ষণ কেবলমাত্র কতগুলি দক্ষতার সঠিক হতে পারে না।
৫. নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ:- যেহেতু এই কৌশলটি মৃত পরিবেশ পরিচালিত হয়। তাই মাইক্রো টিচিং ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিস্থিতির কোন গুরুত্ব থাকে না।
Micro Teaching skills:- শিক্ষণ দক্ষতা হল শিক্ষকের এমন কতগুলি আচরণের সমন্বয়ে যেগুলোর মাধ্যমে তিনি তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন। অ্যালেন এবং রিয়ান ১৪ টি শিখন দক্ষতার কথা বলেছেন।
১. উদ্দীপক পরিবর্তন :- শিক্ষকের গলার স্বর, বাচনভঙ্গি, চালচলন ইত্যাদির প্রয়োজনমতো পরিবর্তন এই শিক্ষণ দক্ষতার অন্তর্ভুক্ত।
২. অবস্থা সৃষ্টি করন:- পাঠদানের প্রস্তুতি পর্বে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্য স্থাপন করে শিক্ষণ অভিমুখী মানসিক অবস্থার সৃষ্টি করা যায়, অর্থাৎ পাঠদানের প্রস্তুতি পর্বে শিক্ষক যে আচরণ গুলি সম্পাদন করেন।
৩. আবদ্ধ করণ দক্ষতা:- পাঠের কিছুটা অগ্রসর হওয়ার পর অথবা পাঠদান শেষে শিক্ষার্থীদের নব নব্য জ্ঞান কে পূর্ব জ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য সুবিধা এ দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত।
৪. ভাষাহীন সহায়ক নির্ধারণ:- উপযুক্ত সময়ে এ বিভিন্ন ভাষায় এন সহায়ক নির্ধারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় করে তোলা অন্তর্ভুক্ত।
৫. শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দান:- উৎসাহদানের জন্য শিক্ষক যে আচরণ গুলি করেন তা হল বেশ বেশ , ভালো বা উৎসাহজনক হাসি ইত্যাদি।
৬. প্রশ্ন করনের দক্ষতা:- শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও প্রয়োগ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন অনুসন্ধান মূলক প্রশ্ন এর অন্তর্ভুক্ত।
৭. প্রশ্ন করনের দ্রুততা:- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেশি সংখ্যক প্রশ্ন যে শিক্ষক করতে পারবেন তিনি তত বেশি সার্থকতা লাভ করবে।
৮. উন্নত ধরনের প্রশ্ন করো:- প্রশ্নের উত্তর দানের জন্য বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের সমন্বয় করা দরকার হয়।
৯. বহুমুখী প্রশ্ন করন:- যে প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোন উত্তর নেই এবং উত্তর দিতে হলে শিক্ষার্থীদের উন্নত স্তরে চিন্তা করতে হয়।
১০. মনোযোগ মূলক আচরণ নির্ণয়:- শিক্ষককে পাঠদানের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করে তুলতে হয়।
১১. উদাহরণের ব্যবহার:- উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োগ ক্ষমতা ও সামান্যীকরণের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
১২. বক্তৃতা দান:- মৌখিক শিক্ষাদান বা বক্তৃতা দানের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করা হয়।
১৩. সংযোগের সম্পূর্ণতা:- শিখন এর ক্ষেত্রে সংযোগকারী হলেন শিক্ষক গ্রাহক হল শিক্ষার্থীর এবং তথ্য হলো বিষয়বস্তু। শিক্ষকই সংযোগ স্থাপনের দায়িত্ব নিতে হয়।
১৪. পুনরাবৃত্তি:- পুনরাবৃত্তির দ্বারা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কোন নব-লম্ব জ্ঞানের স্থায়িত্ব বাড়াতে পারেন।
মাইক্রোটিচিং চক্র:- আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অনুশিক্ষণ বা মাইক্রো টিচিং হল একটি দক্ষতা ভিত্তিক পদ্ধতি। 'micro' শব্দটি গ্রিক শব্দ 'mikros' থেকে এসেছে, যার অর্থ হল ' খুব ছোট ' Teaching শব্দের অর্থ হলো শিক্ষাদান। Micro Teaching এর পদ্ধতিগুলি বিভিন্নভাবে কাজ করে সেই কাজগুলি নিম্নরূপ।
অনুশিক্ষণ:- Micro Teaching প্রসঙ্গে MC. Kight বলেছেন -- micro teaching is a sclead down teaching encounter designed today block new skill and refine old ones " অনুশিক্ষণ হল এমন একটি শিখন কৌশল যার দ্বারা পুনঃ অনুশীলনের মাধ্যমে নতুন শিখন দক্ষতা আয়ত্ত ও পুরনো দক্ষতাকে আরো অন্যতম করা যায়।
Micro teaching চক্র
১. দক্ষতা নির্বাচন:- মাইক্রো টিচিং এর প্রথম স্তরে কোন দক্ষতার বিশ্লেষণ করা হবে তা ঠিক করা বা নির্বাচন করা হয়।
২. পাঠ পরিকল্পনা:- মাইক্রো টিচিং এর দ্বিতীয় স্তর হল পাঠ পরিকল্পনা। এই স্তরে কোন দক্ষতার বিশ্লেষণ গুলি পাঠ পরিকল্পনা করে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা।
৩. শিক্ষণ:- পূর্ববর্তী স্তর গুলিতে শিক্ষার্থীর শিক্ষকের ধারা গৃহীত পরিকল্পনা অনুসারে দক্ষতার মাধ্যমে বিভিন্ন উপাদান গুলি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় এই স্তরে।
৪. দক্ষতার বিশ্লেষণ:- শিক্ষার্থী পাঠ পরিকল্পনা করার পর যেসব জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন করে সেইসব জ্ঞান বা দক্ষতা গুলিকে বিশ্লেষণ করা হয়।
৫. পুনঃ পরিকল্পনা:- শিক্ষকের দ্বারা শিক্ষার্থী কতখানি জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন করে পরিকল্পনা করতে পারে, এবং সেই দক্ষতা বা পরিকল্পনা গুলির মধ্যে ত্রুটি কতটা রয়েছে সেই সব ত্রুটি গুলি কোন পুনঃ পরিকল্পনা করে স্তরে।
৬. পুনঃশিক্ষণ :- শিক্ষার্থী শিক্ষক মহাশয় মাধ্যমে প্রথম শিক্ষণ পর্যায় কতটা শিক্ষণ অর্জন করে, সেইগুলি পুনরায় শিক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা হয়।
৭. দক্ষতার পুনঃ বিশ্লেষণ:- শিক্ষার্থী পাঠ পরিকল্পনা করার পর যেসব দক্ষতা ,জ্ঞান অর্জন করেছে সেই সব জ্ঞানগুলি কতটা অর্জন করেছে সে গুলির দক্ষতা পুনঃ বিশ্লেষণ করা হয় এই স্তরে।
৮. দক্ষতা অর্জন:- মাইক্রোটেচিং পদ্ধতিগুলির বা কাজ দ্বারা শিক্ষার্থী শিক্ষক মহাশয়ের মাধ্যমে কতটা জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন করেছে সেগুলি বিশেষভাবে অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ।
Q. Demonstration Method , Advantage and Disadvantage, Important of Demonstration Method?
প্রদর্শন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য, সুবিধা অসুবিধা এবং গুরুত্ব আলোচনা করো!
ভূমিকা:- প্রাচীনতম পদ্ধতি হিসেবে প্রদর্শন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, তবে এরা রয়েছে সুবিধা অসুবিধা যা প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী শিক্ষক জানতে হয় ও নির্ধারণ করতে হয়। পরিকল্পনা মত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপকরণ ব্যবহার করে হাতে-কলমে পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে বা ব্যবহারিকভাবে কোন ঘটনা অথবা বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করার পদ্ধতি এটি। প্রদর্শন পদ্ধতি এমন একটি প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট যেখানে কোন কিছু প্রদর্শন, বর্ণনামূলক এবং অনু
শীলনের সুযোগ বিদ্যমান।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক মহাশয় তাত্বিক জ্ঞানগুলোকে ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করেন তাকে উপপাদন বা প্রদর্শন পদ্ধতি বলা হয়।
এই পদ্ধতিতে শিক্ষক মহাশয় বিভিন্ন শিক্ষণ উপকরণ ব্যবহার করেন, প্রয়োজনীয় চিত্র অঙ্কন করেন, বিভিন্ন রকম উদাহরণ ও ব্যাখ্যা দিয়ে কোন একটি বিষয়কে ছাত্রছাত্রীদের সামনে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করেন।
প্রদর্শন পদ্ধতি:- প্রদর্শন পদ্ধতির মূল কথা বিষয়বস্তু সম্পর্কিত উপস্থাপন ও প্রদর্শন মাধ্যমিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে সঠিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা।
প্রদর্শন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য:- প্রদর্শন পদ্ধতির যেসব বৈশিষ্ট্য গুলি রয়েছে সেগুলি হল নিম্নরূপ--
১. উপকরণ সংগ্রহ:- প্রদর্শন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ বা যন্ত্রপাতি সঞ্চিত করে সহজ ভাবে পাঠদানের বিষয়টি হাতে-কলমে দেখানো এবং পরীক্ষার সময় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীর নিকটর ব্যাখ্যা করা, ইত্যাদি এই পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য।
২. শিক্ষার্থীর হৃদয় মম:- প্রদর্শন পদ্ধতি যদিও শিক্ষক কেন্দ্রিক তথা প্রাচীনতম পদ্ধতি পাঠদান পদ্ধতির অন্তর্গত একটি পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হয়ে এসেছে, তবু এই পদ্ধতিতে শিক্ষকই উপস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে, বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীর কাছে হৃদয় মম হয়।
৩. শিক্ষার্থী শ্রোতা ও দর্শক:- প্রদর্শন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিষ্ক্রিয় শ্রোতা ও দর্শক ( বক্তৃতা পদ্ধতির মতোই) হিসেবে শ্রেণীকক্ষে উপস্থাপিত থাকলেও পাঠ্যবিষয় অনুধাবন করতে অপেক্ষাকৃত বেশি তৎপর হয়।
৪. বাস্তব জ্ঞান আহরণ:- এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যে জ্ঞান আহরণ করে তা বাস্তব।
প্রদর্শন পদ্ধতির গুরুত্ব:- প্রদর্শন পদ্ধতির যেসব গুরুত্ব রয়েছে সেগুলিকে আলোচনা করা হলো
১. সকল শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দান:- এই প্রদর্শন পদ্ধতির মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান দেওয়া সম্ভব। এই পদ্ধতি সকল শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান দিতে সাহায্য করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি :- এই প্রদর্শন পদ্ধতি শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন:- এ পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকে। বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে প্রদান করে থাকে এই পদ্ধতি।
৪. শিক্ষার্থী শ্রোতা:- এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী শ্রোতা ও দর্শকের মত ভূমিকা পালন করে।
৫. অল্প সময় অধিক জ্ঞান অর্জন:- এই ডেমোস্ট্রেশন বা প্রদর্শন পদ্ধতি মাধ্যমে বা উপপাদন পদ্ধতি দ্বারা অল্প সময়ে শিক্ষার্থীরা অধিক জ্ঞান অর্জন করে থাকে।
প্রদর্শন পদ্ধতির সুবিধা/উপযোগিতা:- প্রদর্শন ও উপপাদন পদ্ধতির যেসব সুবিধা গুলি রয়েছে সেগুলি হল-
১. বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন:- এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। এটি একটি প্রাচীনতম পদ্ধতি।
২. অল্প সংখ্যক যন্ত্রপাত:- যেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম ,যন্ত্রপাতি ও উপকরণের অভাব সেখানেই এই প্রদর্শন পদ্ধতিতে স্বল্প সংখ্যক যন্ত্রপাতি ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে বেশি সংখ্যা শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দেওয়া হয়।
৩. একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান:- এ পদ্ধতির অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দেওয়া। এই পদ্ধতির মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক অংক শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দেওয়া যায়।
৪. কার্যকর পদ্ধতি:- সাধারণ শিক্ষার্থীরদের জন্য এই পদ্ধতি বিশেষ বা বেশি কার্যকর একটি পদ্ধতি।
৫. সকল শিক্ষার্থীর সুযোগ:-এই পদ্ধতিতে সাভার অংশগ্রহণ ও অনুশীলনের সুযোগ থাকে।
৬. স্থায়ী আসন প্রতিষ্ঠিত:- প্রদর্শন পদ্ধতির একটি সবচেয়ে ভালো দিক হলো, শিক্ষার্থীর মনে এর দ্বারা শিক্ষার বিষয়বস্তুর একটি স্থায়ী আসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
৭. সকল শিক্ষার্থীর পক্ষে কার্যকরী :- এই প্রদর্শন পদ্ধতির সকল শিক্ষার্থীর পক্ষে কার্যকরী হয়।
৮. সক্রিয়তা বৃদ্ধি করা:- এ পদ্ধতি সকল শিক্ষার্থীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
৯. বিষয়বস্তুর উপস্থাপন:- এই পদ্ধতির মাধ্যমে যে কোন বিষয়বস্তুকে সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়।
১০. মনোবিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি:- এ পদ্ধতি হল একটি মনোবিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি।
প্রদর্শন পদ্ধতির অসুবিধা/সীমাবদ্ধতা/ত্রুটি/সমস্যা:- এই প্রদর্শন পদ্ধতির যেসব অসুবিধা গুলি রয়েছে সেগুলিকে আলোচনা করা হলো -
১. হাতে কলমের শিক্ষার অভাব:-এই প্রদর্শন পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দানের অভাব রয়ে যায়।
২. ব্যক্তিগত পার্থক্যের উপর গুরুত্ব না দেওয়া:- প্রদর্শন পদ্ধতি হলে এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত পার্থক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
৩. উপকরণ অপ্রতুল:-যদি শিক্ষা উপকরণ অপ্রতুল হয় তবে, এই পদ্ধতি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত করা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয় না।
৪. শিক্ষক অপ্রস্তুত:- প্রাচীনতম পদ্ধতি বাস শিক্ষক কেন্দ্রিক পদ্ধতির ত্রুটি এখানে থেকেই যায়, কেননা এখানে শিক্ষকের সক্রিয়তা প্রস্তুত থাকে।
৫. শ্রেণী বৃব্শৃঙ্খলা:- উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেক শ্রেণীতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকে বলে প্রদর্শন পদ্ধতি পাঠ দানে সমস্যা হয়ে ওঠে। শিক্ষকের একধারে মৌখিক বিবৃতি, উপকরণ ব্যবহার এবং শ্রেণি-শৃংখলার প্রতি সজাগ দৃষ্টি।
৬. হাতি কলমে শিক্ষা না দেওয়া:- শিক্ষার্থীর নিজের হাতে কাজ করার সুযোগ এখানে নেই, তাই প্রদর্শন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা তেমন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে না।
৭. দক্ষতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন:-এখানে শিক্ষকের যথেষ্ট দক্ষতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন, যার সুযোগ সব সময় তার থাকেনা।
প্রদর্শন বা উপপাদন পদ্ধতির স্তর:-
১) পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি পর্ব :- প্রদর্শন পদ্ধতি পাঠ করার আগে বা কোন ক্লিনিক পক্ষে আলোচনা করার আগে একটি পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি তৈরি করবে এই স্তরে।
২) পাঠ সূচনা পর্ব:- এই স্তরে পাঠ সূচনা করবে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্য সূচনা করে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করবে।
৩) উপস্থাপন পর্ব:- এই স্তরের পদ্ধতির পরিকল্পনা ও পার্টস ঘোষণা করার পর যেকোনো বিষয় নিয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবে।
৪. ব্ল্যাক বোর্ডের ব্যবহার:- বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করার জন্য ব্ল্যাকবোর্ড এর ব্যবহার করবেন। আর স্তরে ব্লাক বোর্ডের ব্যবহারে কথা বলা হয়েছে।
Q. Teaching Skills শিক্ষণ দক্ষতা!
ভূমিকা:- শিক্ষা কোন একক দক্ষতা নয়। বহু মৌলিক দক্ষতার সমন্বয়ে শিক্ষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। শিক্ষনের এই মৌলিক দক্ষতা গুলিকে বিচ্ছিন্নভাবে অনুশীলন করা যায় এবং পরিমাপ করা যায়। সেই অনুসারে শিখনের দক্ষতার সংজ্ঞায় বলা হয় যে -
✓শিক্ষণ দক্ষতা হল শিক্ষকের এমন কতগুলি আচরণের সমবায় যেগুলির মাধ্যমে তিনি তার শিক্ষার্থীদের আচরণের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।" The skill of teaching is the association of some habits of a teacher which may change some essential step of his /her pupil "
Teaching Skills শিক্ষণ দক্ষতা:- শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে কার্যকরী ও সাফল্যমণ্ডিত করতে শিক্ষকগণের যে সকল দক্ষতার প্রয়োজন সেগুলিকে শিক্ষণ দক্ষতা বা Teaching skill বলা হয়। অন্যভাবে বললে, শিক্ষণ দক্ষতা হল কিছু সংখ্যক শিখন কার্য অথবা আচরণের সমন্বয় যা শিক্ষার্থীর শিখনকে প্রভাবিত করে।
একজন শিক্ষকের যেসব শিক্ষণ দক্ষতা গুলি থাকা প্রয়োজন সেই সব শিক্ষণ দক্ষতা গুলি কে নিম্নে আলোচনা করা হলো :-
১. উদ্দীপক পরিবর্তন:- শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা শিক্ষকের কাজ। উদ্দীপক পরিস্থিতির পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তাই শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি দূর করতে শিক্ষকের গলার স্বর, বাচনভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি, চালচলন ইত্যাদির প্রয়োজনমতো পরিবর্তন শিক্ষণ দক্ষতার অন্তর্গত।
২. স্তব্ধতা বা ভাষাহীন সহায়ক নির্ধারণ:- শ্রেণীতে পাঠদান কালে সর্বদা কথা না বলে মাঝে মাঝে বক্তব্য বন্ধ রেখে অঙ্গভঙ্গি বা বিভিন্ন সক্রিয়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় করে তোলার আচরণ।
৩. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থাকা:- একজন শিক্ষককে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থাকা আবশ্যক এটি শিক্ষণ দক্ষতার অন্যতম উপাদান।
৪. অপসংগতিমূলক আচরণ না থাকা:- একজন শিক্ষকের অপসংগতি মূলক আচরণ না থাকা সুদক্ষ শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য । কারণ একজন যখন পড়াবেন পড়ানোর সময় সে ক্লাসের মধ্যে ঘুমিয়ে না না পরা শিক্ষণ দক্ষতার মধ্যে অন্তর্গত।
৫. শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দান:- প্রশংসা সূচক শব্দ, উৎসাহ ব্যঞ্জক কথা বা উৎসাহজনক হাসি দিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দান করা শিক্ষকের একটি বিশেষ দক্ষতা।
৬. প্রশ্নের দ্রুততা:- পাঠদান কালে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা একটি শিক্ষণ দক্ষতার পরিচয়
৭. উন্নত ধরনের প্রশ্ন করন:- যে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে স্মৃতি ছাড়াও বিভিন্ন জ্ঞানের সমন্বয় করা দরকার সেই রূপ উন্নত প্রশ্ন করা একটি বিশেষ শিখন দক্ষতা।
৮. মনোযোগ মূলক আচরণ নির্ণয়:- শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করতে এবং অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে শিক্ষককে বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়।
৯. উদাহরণের ব্যবহার:- শ্রেণীতে পাঠদান কালে প্রদত্ত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্য গড়ে তুলতে শিক্ষককে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রাসঙ্গিক উদাহরণ ব্যবহারের দক্ষতা দেখাতে হবে।
১০. বক্তিতা দান:- আধুনিক শিক্ষণে বিভিন্ন শিখন সহায়ক প্রদীপন এর ব্যবহার হলেও বক্তৃতার একটা বিশেষ স্থান রয়েছে। কেননা সমস্ত প্রদীপন বা সহায়ক যথাযথ বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়।
১১. ব্যাখ্যা করার দক্ষতা:- পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বিবৃতির মাধ্যমে উপস্থাপিত বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা শিখনের একটি বিশেষ দক্ষতা বলে বিবেচিত হয়।
১২. শ্রেণী পরিচালন দক্ষতা:- একজন শিক্ষককে শ্রেণীকক্ষে পরিচালনা করার দক্ষতা থাকতে হবে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
১৩. গৃহ কাজ দানের দক্ষতা:- শ্রেণী শিখনের পর শিক্ষার্থীদের গৃহ কাজ দেওয়া শিক্ষকের একটি অবশ্য করণীয় কাজ।
১৪.শিক্ষামূলক প্রদীপন ব্যবহার:- শিক্ষামূলক প্রদীপন ব্যবহার আধুনিক শিখনের একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি। ঠিক কোন সময়ে, কিভাবে, কি ধরনের প্রদীপন ব্যবহার করতে হবে ওই সময় নির্দেশনা দিতে হবে, এসব কৌশল শিক্ষকের জানা দরকার।
১৫. চক বোর্ড ব্যবহারের দক্ষতা:- এগুলি শ্রেণীকক্ষের সাধারণ উপাদান। শিক্ষণ কালে প্রয়োজন মত বিশেষভাবে ব্যবহার করা সুদক্ষ তারই পরিচয়ক। রঙিন চক ইত্যাদি।
Q. Discuss the disvantage of teacher education
ভূমিকা:- শিক্ষার্থীদের পড়ানো শিক্ষকের কাজ এবং সেই কাজ যথাসময়ে পাঠ্যসূচি পড়িয়ে শেষ করা তাদের গুরুত্ব। বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ানোর সময় খুব কম, তাই শিক্ষক শিক্ষিকাদের শিক্ষার্থীকে সময়মতো পড়িয়ে শেষ করতে পারেনা, তাই শিক্ষক শিক্ষার যেসব অসুবিধা রয়েছে সেগুলি হল নিম্নরূপ।
১. শিক্ষক-শিক্ষার সময় কম:- বর্তমানে শিক্ষক শিক্ষার সময় কাল সাড়ে দশ মাস। এত কম সময়ে বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি শেষ করা খুব অসুবিধা জনক।
২.Practice Teaching -এ সময় কম দেওয়া:- প্র্যাক্টিস টিচিং এর জন্য বিদ্যালয় গুলি বেশি সময় দিতে চায় না। তাই শিক্ষক শিক্ষার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় প্রাক্টিক টিচিং এর পক্ষে।
৩. Tutorial class এর সংখ্যা কম:- একটি শিক্ষাবর্ষে টিউটোরিয়াল ক্লাসের সংখ্যা খুবই কম হয়। তাই শিক্ষক শিক্ষার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
৪. শ্রেণীতে শিক্ষার্থীর অনুপস্থিত থাকা:- ডাক্তার যেমন রোগীর প্রতি আগ্রহী ঠিক তেমনি প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আগ্রহী। শিক্ষার্থী শ্রেণীতে অনুপস্থিত থাকে ফলে শিক্ষা দান কাজটি ব্যাহত হয়।
৫. গবেষণার সুযোগ কম:- শিক্ষক শিক্ষার গবেষণা সুযোগ কম থাকায় একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
৬. শিক্ষাক্রম উন্নয়নের গতি কম:- শিক্ষক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষাক্রম উন্নয়নের গতি অনেক কম।
৭. শিক্ষক শিক্ষিকার উদাসীনতা :- শিক্ষক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকার ক্রমবর্ধমান উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়।
৮. গতানুগতিক একঘেয়েমি:- শ্রেণী কক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকার পাঠদান অনেক সময় গতানুগতিক মনে হয়।
৯. প্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিক কিছু চাপ:- শিক্ষক শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিক কিছু চাপ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে তোলে অনেক সময়।
১০. অহেতুক ও অপ্রাসঙ্গিক প্রবণতা:- শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনেক সময় অহেতুক ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে খাটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা প্রতিষ্ঠানগুলিতে লক্ষণীয় ।
Q. শিক্ষণ (Teaching):
ভূমিকা:- অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের ফলে আচারনের যে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন হয় তাকে শিক্ষণ বলে। শিক্ষণ বলতে সেই পেশাকে বোঝায় যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান প্রদান করা হয়। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করা হয়। একজন শিক্ষককে সঠিকভাবে শেখানোর জন্য নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষিত এবং জ্ঞানী হতে হবে। এটি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা এবং নির্দেশনা প্রদান করে। এতে একজন ব্যক্তির চিন্তাভাবনা, কাজ করার পদ্ধতি, এবং ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রিত হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে একজন ভাল এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
প্রশিক্ষণ (Training):
প্রশিক্ষণ হচ্ছে একটি পরিকল্পিত কার্যক্রম। প্রশিক্ষণ গ্রহণের ফলে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করা হয়। প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হচ্ছে কোন ব্যক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন সাধন করে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে তার যোগ্যতার উন্নতি ও সমৃদ্ধি সাধন করা। প্রশিক্ষণটি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ দ্বারা সরবরাহ করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা অর্পিত কার্যগুলিতে ভাল সম্পাদন করার জন্য জ্ঞান অর্জন করে, তাদের দক্ষ দক্ষতা তীক্ষ্ণ করে তোলে, তাদের মনোভাব এবং দক্ষতার উন্নতি করে।
এর উদ্দেশ্য কারও ক্ষেত্রে দক্ষতা এবং দক্ষতার উন্নতি করা বা তাকে পছন্দসই জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করা। প্রশিক্ষণ নতুন স্নাতকদের কর্মজীবন, অফিস সংস্কৃতি, কারখানার পরিবেশ ইত্যাদির প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে প্রশিক্ষণ হ’ল মানবসম্পদ পরিচালনার একটি সরঞ্জাম, যা কর্মীদের বুনিয়াদি উন্নত করতে পারে এবং তাদের উন্নত করতে পারে এমন একটি উপায় যাতে তারা তাদের দায়িত্ব ও কাজগুলি কার্যকরভাবে সম্পাদন করতে পারে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু হলো প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতার সাথে কার্য সম্পাদন করা।
শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের মধ্যে পার্থক্যঃ
অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের ফলে আচারনের যে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন হয় তাকে শিক্ষণ বলে। শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের মধ্যে পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হয়েছে-
১। অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের ফলে আচারনের যে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন হয় তাকে শিক্ষণ বলে। অন্যদিকে, প্রশিক্ষণ হচ্ছে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করা হয়।
২। শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞান দেওয়া হয়। অন্যদিকে, প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক জ্ঞান সরবরাহ করা হয়, কীভাবে কার্য সম্পাদন করতে হয়, কীভাবে সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করতে হয়, নির্দেশাবলী কী এক অনুসরণ এবং আরও এগিয়ে প্রয়োজন।
৩। শিক্ষণে, একটি নতুন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দ্বারা সরবরাহ করে। অন্যদিকে, প্রশিক্ষণে, একজন ব্যক্তি ইতিমধ্যে যা জানেন তার ব্যবহারিক প্রয়োগ জানতে পারবেন।
৪। পাঠদান প্রায়ই শ্রেণিকক্ষের পরিবেশে পরিচালিত হয়, যেমন স্কুল, কলেজ, গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিশেষ স্কুল ইত্যাদির। অন্যদিকে, প্রশিক্ষণ বেশিরভাগ অফিসগুলিতে, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশে দেওয়া হয়।
৫। শিক্ষক হ’ল সেই ব্যক্তি যিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চ স্তরের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অন্যদিকে, প্রশিক্ষক এমন কেউ যিনি নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতায় দক্ষতা অর্জন করেন, যার উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
Q. What is Teaching? Differentiate between methods of teaching and models of teaching?
ভূমিকা:- শিক্ষণ হল একটি সামাজিক প্রক্রিয়া। তাই কোনো নির্দিষ্ট একটি শব্দ দ্বারা শিক্ষণের ধারণা প্রদান করা সম্ভবপর নয়। এর কারণ হল শিক্ষণ একদিকে সামাজিক নির্ধারক এবং অপরদিকে মানবীয় উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়। 'শিক্ষণ' শব্দটি ধারণা দিতে গেলেই 'শিখন' শব্দটি এসে পড়ে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক যা বলেন বা করেন তা হল শিক্ষণ। শিক্ষার্থীরা যা গ্রহণ করে তা হল শিখন। শিক্ষণে একটি প্রক্রিয়া যার একদিকে থাকেন শিক্ষক এবং অন্যদিকে থাকে শিক্ষার্থী।
শিক্ষণ হল একটি প্রক্রিয়া যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পাঠ্য বিষয়কে একত্র করে। শিক্ষণ শিখন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই সক্রিয় হয়—শিক্ষণ কার্যটি করেন শিক্ষক, শিখন কার্যটি করে শিক্ষার্থী।
সংজ্ঞা : শিক্ষণ-এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন—
Albert Einstein (এলবার্ট আইনস্টাইন-এর মতে, “The supreme art of teaching is to awaken joy in creative and knowledge."
‘Skinner'-(স্কিনার)-এর মতে- “Theaching is the arrengements of contingenies of re-inforcement."
উপরের সংজ্ঞাগুলি আলোচনা করলে দেখা যায় যে, শিক্ষণ একাধারে একটি প্রক্রিয়া এবং একটি কৌশল। আবার এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গিও বটে। শিক্ষণ প্রক্রিয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পাঠ্য বিষয়কে একত্রিত করতে সহায়তা করে।
Q. 1.What is team teaching? Describe the adventages and Limitation at team. Teaching
ভূমিকাঃ - শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষানীয় বিষয় বস্তুকে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরতে না পারলে শিক্ষার যে, আসল উদ্দেশ্য তা ব্যহত হবে। যেহেতু শিক্ষা জীবন বিকাশের প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক মহাশয় এই প্রক্রিয়ার অন্যতম পরিচালক তার ফলে শিক্ষা ও জীবনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলার ক্ষেত্রে শিক্ষক মহাশয় কতগুলি পদ্ধতি অবলম্বন করেন। যেমন বক্তৃতাদানের মাধ্যমে, গল্পের মাধ্যমে, আলোচনার মাধ্যমে শ্রেণীকখে বা অনুষ্ঠানিক পরিবেশে শিক্ষার্থী ও বিষয় বস্তুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের প্রক্রিয়াকে বলা হয় শিক্ষন।
শিক্ষন: শিক্ষনকে পূর্বে কলার সঙ্গে তুলনা করা হলে বর্তমানে শিক্ষাকে বিজ্ঞান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রসঙ্গে তাই বলা হয় যে, The art of teaching was considered as art in old age but now it aso consider as science.
শিক্ষণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে GG Stern বলেছেন (T" The art of teaching lise in the Communica- tion on Projection of an essentially privat experince.
শিক্ষানের ধরনঃ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষন বা শিক্ষাদান পদ্ধতির কথা আমরা জানি যেমন, Lecture method, Story telling method, Kindergarten Syestem, term teaching এর কথা বলতে পারি।
© Team Teaching:- আমেরিকায় ১৯৫৪ সালে এর প্রথম উদ্ভব ঘটে। ১৯৫৬ সালে এটি পায়লট প্রজেক্ট হিসাবে সাফল্য লাভকরলে বিশ্বের উন্নত দেশ গুলিতে এই শিক্ষা পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। 'Team) বলতে মূলত কতগুলি ক্লাস একত্রে কয়েক জন শিক্ষক মহাশয়ের দ্বায়িত্বে পরিচালিত হওয়াকেই বোঝানো হয়।
টিম টিচিং এম. বি নায়েক বলেছেন, "আটম পাঠদান পদ্ধতিতে দুই বা ততোধিক শিক্ষক বিষয় বা বিষয়ের একটি পরিকল্পনা তৈরি করে সমবায়ভাবে পরিচালনা করে এবং সর্বদা শিক্ষার্থীদের উপর এর প্রভাবগুলি পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করে।
আবার টিমটিচিং প্রসঙ্গে মানকেল আক্তার বলেছেন যে, “Team teaching involves bringing together a number of classes whosereset ponsibility of the teacher of these classes who now Constitute a team.
Team teaching এর সুবিধা: টিমটিচিং এর কতগুলি সুবিধা রয়েছে। যথা:-
1. নমনীয়তাঃ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্বার্থে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি শ্রেণী দল, সময়, তালিকা, নির্ধারিত পাঠ্যক্রম ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। ফলে আলোচনা অর্থ তাৎপর্য পূর্ণ হয়ে ওঠে।
2. দলগঠন: এই ধরনের শিক্ষনে, ছোট, বড়, দল গঠন করা সম্ভব হয়। ফলে পাচ পরিচালনার কাজটা অনেক সহজ হয়ে পড়ে।
3. সাহায্য গ্রহনঃ এই ধরনের শিক্ষণে টিমের নেতারা বাইরের কোন কারানী গুনি ব্যক্তি কিংবা অন্যকোন শিক্ষক মহাশয় অথবা জবানী গুলি মারেকের কাছ থেকে সাহায্যে গ্রহণ করে শিক্ষাদান পদ্ধতিটিকে সমৃদ্ধ করে তুলতে পারেন।
4. আচরণগত পরিবর্তন: শিক্ষক মহাশয়কের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া করার সুযোগ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের আচরন যেমন পরিবর্তন করা সম্ভব হয়। তেমনিই অনুকরণ ও অনুসরণ ও শিক্ষাগত মনস্তাত্বিক উপাদান তুমি ও প্রিয়াশীল করা যায়।
5. শিক্ষক মহাশয়ের আত্মউন্নতি: দলগত শিক্ষণে একজন শিক্ষক অপর একজন শিক্ষকের শিক্ষাদান পদ্ধতিকে দেখতে পায় বলে নিজেদের শিক্ষাদান পদ্ধতির ভুলত্রুটি সংশোধন করা এবং অন্যের শিক্ষাদান পদ্ধতির ভালো দিক গুলি গ্রহণ করার সুযোগ পান। এছাড়াও,
(১) সমমেধা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করতে।
2 ) প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকের অপর দূরিভূত হয়।
অসুবিধাঃ টিমটি চিং এর ক্ষেত্রে যে সমস্ত গুলি দেখতে পাওয়া যায় সেগুলি নিম্নরূপ
1. শিক্ষাকের মানসিকতাঃ এই ধরনের শিক্ষনে যেহেতু একাধিক শিশুকে এক সাথে কাজ করতে হয় তার মানে বহুসময় Ego গত সংখ্যাত দেখা যায়। যার ফলে টিমটিচিং এবং আসল উদ্দেশ্য ব্যহত হয়।
2. দুর্বলতা প্রকাশঃ এই ধরনের মধ্য দিয়ে শিক্ষাদান কালে একজন শিক্ষক মহাশয়ের দুর্বলতা অন্যশিক্ষক মহাশযের সামনে ফুটে ওঠার সম্ভাবনা থাকে বলে শিক্ষকমহা শশুরা নিজ, নিজ, ত্রুটির পরিচয় দিয়ে নারাজ হন।
3. গোলমাল বা বাধাবিপত্তি : প্রত্যেক শিক্ষক মহাশয় যেহেতু নিজস্ব দিক থেকে নিজেকে সমৃদ্ধ বলে মনে করেন। তার মাঝে অন্যের স্থিতিত্ব মেনে নিতে পারেন না। মানে একজন শিক্ষকের সাথে, অপর একজন শিক্ষকের মতের পার্থক্য গড়ে ওঠে।
4. শিক্ষার্থীদের বোঝার অসুবিধা: এক একজন শিক্ষক এক এক জন রকম পদ্ধতি অনুযায়ী শিক্ষাদান করেন। ফলে পাঠ্যবিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বুঝে ওঠতে অসুবিধা হয়।
5. আয়জনের ব্যবস্থা: বহুশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দলগত ভাবে শিক্ষন কার্য পরিচালনাকার জন্য যে ধরনের ঘরবাড়ি আসবার তাত্রের দরকার হয় তা আয়োজন করতে পারেনা। ফলে দলগত শিক্ষণ তাৎপর্য পূর্ণ হয়ে উঠতে পরে না।
মন্তব্যঃ পরিশেষে বলা যায় যে, এই দলগত শিক্ষকের ভগুলি সুবিধ যেমন রয়েছে, তেমনি এর অসুভিধাও রয়েছে। তা সত্যেও দলগত শিক্ষনের মত এক নতুন শিক্ষা পদ্ধতির প্রবর্তন থাকা ভালো ।
Q. Aims and Objective of Teacher Education in respect to different levels ?
ভূমিকা:- প্রাচীনকাল থেকে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া মধ্য দিয়ে যে সব জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, সব জ্ঞান অর্জনে সমাজে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে Teaching বা শিক্ষন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। বর্তমানে শিক্ষণ কে বিজ্ঞান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে তাই তো বলা হয় যে, teaching was consider as art in old age, but now it also considered as a science. ।
Teacher Education:- শিক্ষকদের শিখন দক্ষতার ( Devlopment of Teaching skills)বিকাশ ঘটানোর জন্য, যে শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়, তাকে বলে Teacher Education।
**এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট কয়েকজন শিক্ষাবিদের দেওয়া সংজ্ঞাগুলোকে নিম্নে তুলে ধরলাম**
According to c.v good:- Teacher Education হল সকল প্রকার প্রথাগত ও অপ্রথাগত প্রাক অভিজ্ঞতার সমন্বয়, যা একজন ব্যক্তিকে শিক্ষাগত পেশায় নিযুক্ত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নীতি এবং সেগুলিকে অত্যন্ত কার্যকরীভাবে পালন করতে সাহায্য করে।
শিক্ষক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:- শিক্ষক শিক্ষার যেসব উদ্দেশ্য গুলি রয়েছে সেইসব উদ্দেশ্য গুলিকে নিয়ে আলোচনা করা হলো:-
১. দক্ষতা ও মনোভাব জাগ্রত করা:- শিক্ষক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অন্যতম লক্ষ্য হলো দক্ষতা ও মনোভাব জাগ্রত করা।
২. বাচনিক যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো:- শিক্ষক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাচনিক যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো এই শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিকাশ ঘটাতে ধারণা প্রদান:- শিক্ষক শিক্ষিকাদের শিক্ষার্থীর মধ্যে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিকাশ ঘটাতে ধারণা প্রদানের অভিহিত করা শিক্ষক শিক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
৪. বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটাতে ধারণা প্রদান :- শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটাতে ধারণা প্রদান করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিহিত করা Teacher Education এর একটি অন্যতম লক্ষ্য।
৫. শারীরিক ও প্রক্ষোভিক বিকাশ ঘটাতে অভিহিত করা:- শিক্ষার্থীর শারীরিক ও প্রক্ষভিক বিকাশ ঘটানো যায় কিভাবে সে বিষয়ে অভিহিত করা শিক্ষক শিক্ষার প্রধানতম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।
৬. পন্থা সম্পর্কে অভিহিত করা:-
Different level of teacher education :- ভারতবর্ষের যে নিয়ম তান্ত্রিক প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলিকে নিম্নে ছকের সাহায্যে দেখানো হলো :-
Objective and ends of teacher education in eairly childhood stage
Or:- AIIMS and objectives pre-primary education of teacher education
=> প্রাক-প্রাথমিক স্তর হল প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের ঠিক পূর্ববর্তী শিক্ষা। এই ইফতারের বাচ্চাদের কাছে মা সবথেকে ভালো শিক্ষিকা বা শিক্ষক। এই ইফতারের বাচ্চাদের পড়াতে গেলে শিক্ষক শিক্ষিকাকে অনেক বেশি ধৈর্যশীল ও নমনীয় হতে হবে। বিষয়ের জ্ঞানের অপেক্ষা বাচ্চাদের লালন পালনের দিকে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:- প্রাক- প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষক শিক্ষার এর যেসব উদ্দেশ্যগুলি রয়েছে সেগুলিকে নিম্নে আমরা আলোচনা করলাম:-
১. ভাষা শিক্ষণ:- প্রাক- প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রশিক্ষণ কেমন হবে, সে বিষয়ে দক্ষতা প্রদান করা Teacher Education এর একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
২. আদর্শ অভ্যাস গঠনের প্রশিক্ষণ দান :- প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে ছেলেমেয়েদের মধ্যে আদর্শ অভ্যাস কিভাবে গঠন করা যায়, বিষয়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা প্রদান করে Teacher Education।
৩. মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক জ্ঞান:- শিক্ষণের উপযোগী শিক্ষকদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক্জ্ঞান সরবরাহ করা Teacher Education এর অন্যতম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।
৪. Teaching aids এর ব্যবহার:- প্রাক- প্রাথমিক ছাত্রীদের পড়ানোর জন্য Teaching ফোরকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিহিত করা শিক্ষক শিক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
৫. শিক্ষা মনোবিদ্যা জ্ঞানের প্রয়োগ:- প্রাক - শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা মনোবিদ্যার জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটানো শিক্ষক শিক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।
৬. কার্যকরী শিখন:- প্রাক -প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাকে কার্যকরীভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এ বিষয়ে অভিহিত করে থাকেন শিক্ষক শিক্ষা। এটি একটি অন্যতম লক্ষ ।
৭. দৈহিক ও মানসিক বিকাশের কর্মসূচি গ্রহণ :- প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং করতে হয় সে বিষয়ে অভিহিত করা শিক্ষক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
৮. সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী কে পরিচালনা করা:- প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা ও স্তরের শিক্ষার্থীদের যে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী রয়েছে সেগুলিকে কিভাবে পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে অভিহিত করে থাকেন শিক্ষক শিক্ষা বা টিচার এডুকেশন।
৯. অর্জিত জ্ঞান এর মূল্যায়ন:- প্রাক -প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানের মূল্যায়ন করা টিচার এডুকেশনের একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
** প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষক শিক্ষার বা টিচার এডুকেশনের ও উদ্দেশ্য :-
প্রাক প্রাথমিক স্তরের পর বা মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের ঠিক পূর্ববর্তী যে শিক্ষায় স্তর তাই হল প্রাথমিক শিক্ষা। এই ইফতারের শিক্ষার্থীর বয়স হবে ১৩ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষক শিক্ষার বা শিখনের যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য গুলি রয়েছে সেগুলি হল নিম্ন আলোচনা করা হলো:-
১. ভাষা শিক্ষণ:- প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রশিক্ষণ কেমন হবে, সে বিষয়ে দক্ষতা প্রদান করা Teacher Education এর একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
২. আদর্শ অভ্যাস গঠনের প্রশিক্ষণ দান :- প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে ছেলেমেয়েদের মধ্যে আদর্শ অভ্যাস কিভাবে গঠন করা যায়, বিষয়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা প্রদান করে Teacher Education।
৩. মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক জ্ঞান:- প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষণের উপযোগী শিক্ষকদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক্জ্ঞান সরবরাহ করা Teacher Education এর অন্যতম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।
৪. Teaching aids এর ব্যবহার:- প্রাথমিক ছাত্রীদের পড়ানোর জন্য Teaching ফোরকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিহিত করা শিক্ষক শিক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
৫. শিক্ষা মনোবিদ্যা জ্ঞানের প্রয়োগ:- প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা মনোবিদ্যার জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটানো শিক্ষক শিক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।
৬. কার্যকরী শিখন:- -প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাকে কার্যকরীভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এ বিষয়ে অভিহিত করে থাকেন শিক্ষক শিক্ষা। এটি একটি অন্যতম লক্ষ ।
৭. দৈহিক ও মানসিক বিকাশের কর্মসূচি গ্রহণ :- প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং করতে হয় সে বিষয়ে অভিহিত করা শিক্ষক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
৮. সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী কে পরিচালনা করা:- প্রাথমিক শিক্ষা ও স্তরের শিক্ষার্থীদের যে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী রয়েছে সেগুলিকে কিভাবে পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে অভিহিত করে থাকেন শিক্ষক শিক্ষা বা টিচার এডুকেশন।
৯. অর্জিত জ্ঞান এর মূল্যায়ন:- -প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানের মূল্যায়ন করা টিচার এডুকেশনের একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
Discuss the aims and objective of teacher education in secondary and senior secondary level
ভূমিকা :- ভারতীয় প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের পরবর্তী ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে ঠিক পূর্ববর্তীর যে শিক্ষা স্তর তাই হল মাধ্যমিক শিক্ষা। এবং মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে ঠিক পরবর্তী যে শিক্ষা স্তর তাই হল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষক শিখনের জন্য NCTE B.E.D কোর্স প্রবর্তন করেছে। বর্তমানে এসে শিক্ষা স্তরে ২ বছরের , এই B.E.D স্তরের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা মূলত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য উপযোগী হয়ে থাকে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য গুলি রয়েছে সেগুলি কে নিম্নে আলোচনা করা হলো:-
১. বৃদ্ধি ও বিকাশ সম্পর্কে ধারণা প্রদান:- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধি ও বিকাশ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে থাকেন এই শিক্ষক শিক্ষা। এটি হল শিক্ষক শিক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
২. শিক্ষণ দক্ষতার বিকাশ:- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য যেসব শিক্ষণ দক্ষতার প্রয়োজন সেসব শিখন দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে থাকে এই শিক্ষক শিক্ষা।
৩. Teaching aids এর ব্যাবহার:- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য যেসব শিখন উপকরণের প্রয়োজন সেই সব উপকরণগুলোকে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেই বিষয়ে অভিহিত করে এই শিক্ষক শিক্ষা, এবং এটি হল একটি অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
৪. অর্জিত জ্ঞানের মূল্যায়ন:- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীরা যেসব জ্ঞান অর্জিত করে সেই সব জ্ঞানের মূল্যায়ন করা শিক্ষক শিক্ষিকাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আর এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন টিচার এডুকেশন।
৫. শিক্ষা মনোবিদ্যার জ্ঞান প্রদান:- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মনোবিদ্যার জ্ঞান প্রদান করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে অভিহিত করা শিক্ষক শিক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ্য।
উপসংহার :- অবশেষে বলা যায় যে উপরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের যে সব উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য গুলি আলোচনা করা হয়েছে, এগুলিকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিয়ে, শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষা শিক্ষক শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
Q. What is the skills of Teaching? Characteristics of Teaching skills ?
শিখন দক্ষতা কাকে বলে ? শিখন দক্ষতার বৈশিষ্ট্য ও যে নীতিগুলি রয়েছে তা আলোচনা করো!
ভূমিকা:- মূলত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে একজন শিক্ষককে বিষয় অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের আচরণ করতে হয়। আচরণগুলিকে শিক্ষাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় আচরণাঙ্গ (Component)। যেমন, শিক্ষক কোনো পাঠ্য বিষয় যখন শ্রেণিতে উপস্থাপন করেন তখন তিনি বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেন, মাঝে মাঝে প্রশ্ন করেন, উৎসাহ দেন, শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করেন, শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং শিক্ষার্থীরা উত্তর দিলে তাদের উৎসাহ দেন। এইগুলিকে বলা হয় Components বা আচরণাঙ্গ। একজন শিক্ষকের পেশাগত সাফল্য নির্ভর করে শ্রেণিতে পাঠদানকালে তিনি এই Component-গুলি কতখানি দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপন করতে পারেন তার উপর।
শিক্ষণ দক্ষতা :- শিক্ষণ দক্ষতার উপর একাধিক সংজ্ঞা দেখা যায়। নিম্নে দুটি সংজ্ঞা দেওয়া হল- শিখন দক্ষতা হল এমন একটি কার্যাবলী এবং পদ্ধতি যা শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করেন।
N L Gaze (1968)-এর মতে—শিক্ষণ দক্ষতা হল পাঠদানের জন্য নির্দিষ্ট কার্যাবলি এবং পদ্ধতি যা যা শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে ব্যবহার করেন। শিক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে এইগুলি করা হয় যা শিক্ষক তাঁর কাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করেন, তাই হল শিক্ষণ দক্ষতা (Teaching skills) ।
বৈশিষ্ট্য:- শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষণ দক্ষতার যেসব বৈশিষ্ট্য গুলি রয়েছে সেসব বৈশিষ্ট্য গুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো
১. কর্মের সমষ্টি : -শিক্ষণ দক্ষতা শিক্ষণসংক্রান্ত কতকগুলি কর্মের সমষ্টি।
2. শিক্ষণ প্রভাবিত :- এটি শিক্ষার্থীর শিখনকে প্রভাবিত করে।
৩. নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ :- শিক্ষণ সম্পাদনের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ বজায় রাখার সঙ্গে শিক্ষণ দক্ষতাগুলি সম্পর্কিত।
৪. সুদক্ষ শিক্ষণ :- শিক্ষণ দক্ষতার সাহায্যে কার্যকরী এবং সুদক্ষ শিক্ষণ পরিচালিত হয়।
👉 এছাড়াও আরো কতগুলি বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেগুলি হল
৫. Allen এবং Ryan থেকে শুরু করে Jangira এবং Singh (1982)-এ গবেষণা পর্যন্ত আমরা 14টি থেকে 21টি শিক্ষণ দক্ষতার পরিচয় পাই।
৬. 40 মিনিটের একটি Macro-lesson-এর ক্ষেত্রে সব সময়ই সব কটি দক্ষতা একসঙ্গে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। শিক্ষণের পরিস্থিতি বিচারে 7/8টি অতি প্রয়োজনীয় দক্ষতা ব্যবহার করা সম্ভব।
৭. অণুশিক্ষণ পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী-শিক্ষকগণ এই দক্ষতাগুলি অর্জন করতে পারেন।
.শিক্ষণ দক্ষতার নীতিসমূহ (Principles of Skills of Teaching)
শিক্ষণবিজ্ঞানের মাধ্যমে দক্ষতা বিকাশের মূল নীতিগুলি হল—
১. প্রজ্ঞা অর্জনে উৎসাহ:- শ্রেণিকক্ষে বৌদ্ধিক উৎসাহব্যঞ্জক একটি পরিবেশ সৃষ্টি যাতে শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা অর্জনে উৎসাহী হয়।
২ .বৈজ্ঞানিক জ্ঞানসমৃদ্ধতার নীতি :- সমস্ত রকম শিক্ষণ ও শিখন প্রক্রিয়ার যে ক্রিয়াকর্মগুলি যুক্ত তা উপযুক্ত গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানসমৃদ্ধ হবে।
৩. সাংস্কৃতিক পরিবেশে সৃষ্টি:- একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশে বৈচিত্র্যমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা।
৪.শিক্ষার যথাযথ মান বজায় :- শিক্ষার্থীদের শিক্ষার যথাযথ মান বজায় থাকবে এবং শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যগুলি সু-স্পষ্ট হবে।
৫. ব্যাক্তিগত বিকাশের সহায়তার নীতি:- এই নীতিতে ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তাদানের ব্যবস্থা থাকবে।
৬. সামাজিক ব্যবস্থা:- উপযুক্ত সাড়া জাগানো সামাজিক প্রেক্ষাপট-এর ব্যবস্থা থাকবে।
৭.প্রতিসংকেত ও মূল্যায়নের ব্যবস্থার নীতি:- শিখনের উপযোগী পরীক্ষা, প্রতিসংকেত ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে।
৮. প্রযুক্তির ব্যবহার :- উন্নতমানের শিখন সম্পদ ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। এবং একটি গ্রহণযোগ্য পাঠক্রম থাকবে।
👉📩সুতরাং এই সমস্ত নীতিগুলির ভিত্তিতে শিক্ষণবিজ্ঞানের উপযোগী শিক্ষণ দক্ষতা নির্মাণ করা হবে। শ্রেণিকক্ষে আদর্শ শিক্ষণ পরিবেশ নির্মাণের জন্য এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষণ হল পারস্পরিক সংযোগসাধনের একটি প্রক্রিয়া যার মূল ভিত্তি হল প্রশিক্ষণ শিক্ষণবিজ্ঞান। আর শিক্ষক হলেন এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু। বিষয়বস্তুর লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যগুলিকে যথাযথভাবে নির্মাণের জন্য, উপযুক্ত শিখন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য শিক্ষক যথাযথ বিষয়বস্তু, শিখন কৌশল ও শিখন ক্রিয়াগুলিকে নির্বাচন করেন এবং বিষয়বস্তু কর্মপ্রক্রিয়া, কৌশলগুলির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন পরিবেশে অভিযোজনে সাহায্য করবেন। এই কারণে তাঁকে শিক্ষণ দক্ষতাগুলি যথাযথভাবে অর্জন করতে হবে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you